Articlesবাংলায় আপনাকে স্বাগত! এই ওয়েবসাইট আধুনিকতার আলোয় মুড়ে, আপনাদের জন্য একটু ভিন্ন ভাবনায়, একটু নতুন ধাঁচে সাজানো চিন্তার এক নতুন সৃষ্ট দ্বীপ। এই একই ওয়েবসাইটে আপনি খুঁজে পাবেন নানান বিষয়ের উপর দুর্দান্ত, ব্যতিক্রমী ও প্রশ্ন ছুঁড়ে দেওয়া সব লেখা—যেখানে প্রতিটা শব্দ কেবল পড়ে ফেলার জন্য নয়, বরং ভাবনার গভীরে নেমে যাওয়ার এক নীরব আহ্বান। এখানে রহস্য-রোমাঞ্চ যেমন হাত ধরাধরি করে হাঁটে, তেমনই প্রেম আর বিরহ মিশে যায় দর্শন ও বিজ্ঞানের এক অপূর্ব মেলবন্ধনে। আইন, সমাজ, রাজনীতি ও প্রযুক্তির কঠিন প্রশ্নগুলো এখানে মুখোশ পরে না— সংযত গভীরতায়, বাস্তবতার ভাষায় নিজেকে প্রকাশ করে। গদ্য কবিতা আর কোটেশনের শেষে লুকিয়ে থাকে অজানা অনুভূতি, হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া মনস্তত্ত্ব আর নীরব উপলব্ধির ছায়া। একজন প্রকৃত বাঙালি হয়ে, যদি বাংলা শব্দের সেই অনন্ত শক্তিকে জানতে চান, চিনতে চান তার গভীরতা, আর মন-প্রাণ দিয়ে অনুভব করতে চান বাংলা ভাষার আত্মাকে— তাহলে আপনি একদম ঠিক জায়গাতেই এসেছেন। তাই পাশে থাকুন, সাথে থাকুন— আমাদের সঙ্গে জুড়ে ‘বাঙালির পরিবার’ হয়ে এক আত্মায়, এক চেতনায়। ইমেইল আইডি দিয়ে Articlesবাংলায় বাঙালির পরিবারের ঘরের মানুষ হয়ে উঠুন। চলুন বাঙালিকে বিশ্বের দরবারে বারবার তুলে ধরি— চিন্তা, চেতনা আর শব্দের শক্তিতে— একসাথে, সবাই মিলে। বিশ্ব জানুক— আমাদের ভারত কি? বাঙালি কি? 🙏 🙋‍♂️ 🙏
Breaking News

কঙ্কালের রাজধানী: ব্রিটিশ সাম্রাজ্যে হাড় ও লাশের বিভীষিকা!

যেখানে মৃতেরও দাম ছিলো:

ইতিহাস সাধারণত রাজা-বাদশা, যুদ্ধ-জয় আর সাম্রাজ্যের উত্থানের গল্প বলে।
কিন্তু ইতিহাসের অন্ধকার ঘরে পড়ে থাকে এমন কিছু সত্য—
যেখানে বিভৎস সেই কঙ্কাল ব্যবসা-এর মতো ঘটনাগুলো জানলে বিজয়ীদের মুখোশ খুলে যায়।

ব্রিটিশ শাসনের অধীনে ভারত শুধু কর আর কাঁচামালই দেয়নি,
দিয়েছে মানুষের শরীর— হাড় পর্যন্ত।

কিন্তু মাটির নিচে এবং গঙ্গার পাড়ে এমন এক পৈশাচিক ব্যবসার দানা বেঁধেছিল,
যার খবর ইতিহাসের বইয়ে আপনি খুঁজে পাবেন না।

আর না পাওয়াটাই স্বাভাবিক।
কারণ বিজয়ীরা কখনো নিজেদের অপরাধ লিপিবদ্ধ করে না।

১৮ শতকের শেষ ভাগ থেকে ১৯ শতকের মাঝামাঝি— সেই সময় একটা শহর ছিলো,
যেখানে মৃত মানুষের দেহও শান্তিতে মাটি পেত না।

নিশ্চই ভাবছেন, কোন সেই শহর?

ব্রিটিশ রাজত্বের অধীনে আজকের মহানগর ‘কোলকাতা’
পরিচিতি পেয়েছিলো এক ভয়ংকর নামে—
“পৃথিবীর কঙ্কালের রাজধানী” (Skeleton Capital of the World).

যেখানে জীবন্ত বাঙালির জীবনের মূল্য না থাকলেও,
মৃত্যুর পর তাদের হাড়ের দাম ছিল আকাশছোঁয়া।

ইউরোপে আধুনিক চিকিৎসা,

কিন্তু লাশের সংকট:

১৮ শতকের শেষ ভাগে ইউরোপে চিকিৎসাশাস্ত্র এক নতুন মোড় নেয়।
এই সংকটের কথা সে সময়ের ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালের পুরনো
রেকর্ডেও
উল্লেখ রয়েছে।

অ্যানাটমি, সার্জারি, হাড় জোড়ার গঠন—
এসব শেখা ছাড়া আধুনিক ডাক্তার হওয়া সম্ভব ছিলো না।

কিন্তু সমস্যা ছিলো একটাই—
শেখার জন্য প্রয়োজন ছিলো বাস্তব মানব দেহ, অথচ ইউরোপে লাশ পাওয়া যাচ্ছিল না।
ফলে মেডিকেল কলেজগুলোতে মানুষের কঙ্কালের চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

খ্রিস্টান সমাজে মৃতদেহ কাটাছেঁড়া ছিলো সামাজিক ও ধর্মীয়ভাবে নিষিদ্ধ।

অর্থাৎ ধর্মীয় অনুশাসন এবং সামাজিক বাধার কারণে
সেখানে মৃতদেহ পাওয়া ছিলো প্রায় একপ্রকার অসম্ভব একটা বিষয়।

সেখানকার আইন অনুযায়ী— কেবলমাত্র ফাঁসিতে ঝোলানো অপরাধীদের দেহ
অ্যানাটমির জন্য ব্যবহার করা যেত।

কিন্তু সে সংখ্যাটা ছিলো প্রয়োজনের তুলনায় নগণ্য।

চাহিদা ছিলো হাজার হাজার কঙ্কালের।
আর সরবরাহ ছিলো হাতে গোনা।

চাহিদা ইউরোপে,

যোগান উপনিবেশে:

এমন একটা মুহূর্তে, এই গুরুতর সংকটের সমাধান খুঁজতে শকুনরূপে
ব্রিটিশ বণিকদের নজর পড়ে তাদের জবরদখল করা উপনিবেশ ভারতের উপর।
বিশেষ করে বাংলার কেন্দ্রবিন্দু কোলকাতার দিকে।

কারণ ভারতের ভিতরে সবচেয়ে সুবিধাজনক কেন্দ্র ছিলো কোলকাতা।

কারণ স্পষ্ট—

  • ব্রিটিশদের প্রশাসনিক রাজধানী।
  • বড় বন্দর।
  • ইউরোপের সঙ্গে সরাসরি জাহাজ যোগাযোগ।
  • চারপাশে দুর্ভিক্ষ, দারিদ্র আর মৃত্যুর ছায়া।

এখানে মানুষের জীবনের মূল্য ছিলো তুচ্ছ।
আর মৃত মানুষের শরীর হয়ে উঠল এক নিখুঁত রপ্তানি পণ্য—
কঙ্কাল ব্যবসা-এর জন্য আদর্শ কাঁচামাল।

এভাবেই বাংলা হয়ে উঠেছিলো— ‘হাড়ের সস্তা খনি।’

কিভাবে চলত কঙ্কাল ব্যবসা?

গঙ্গার ঘাট থেকে লন্ডনের ল্যাব:

এই ব্যবসা কোনো গুজব নয়।
এটা ছিল সুসংগঠিত, লাভজনক এবং দীর্ঘদিন চলা এক শিল্প।

আমাদের কাছে এই ব্যবসার প্রক্রিয়াটা অত্যন্ত বীভৎস মনে হলেও,
তাদের কাছে ছিলো এটা একটা শিল্প।

স্কট কার্নি তাঁর বিখ্যাত বই—
‘দ্য রেড মার্কেট’ দেখুন– (The Red Market)-এ বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন
কিভাবে এই ‘কঙ্কাল ব্যবসা’ কারবার চলত।

কঙ্কাল ব্যবসা:

লাশ সংগ্রহ

গঙ্গার ঘাটে শ্মশানের ডোম বা কবরস্থানের পাহারাদারদের হাত করে চলতো লাশ চুরি।

এমনকি গঙ্গার জলে ভাসিয়ে দেওয়া বেওয়ারিশ লাশগুলোকেও টেনে তোলা হত।
দালালরা গঙ্গার ঘাটে ও শ্মশানে যেন ওৎ পেতে বসে থাকত।

বেওয়ারিশ লাশ, দুর্ভিক্ষে অনাহারে মরে যাওয়া মানুষ, পথে-ঘাটে পড়ে থাকা মৃতদেহ—
কিছুই বাদ যেত না।

অনেক ক্ষেত্রে তো এমনও শোনা যায়—
রাতের অন্ধকারে কবর খুঁড়ে লাশ চুরিও হত।
এরপর মৃতদেহগুলোকে নিয়ে যাওয়া হত নির্জন ও গোপন আস্তানায়।

মাংস গলানো:

এরপর সংগৃহীত দেহগুলো সেই আস্তানায় নিয়ে এসে,
বড় বড় ড্রামে অ্যাসিড বা ফুটন্ত জলে ডুবিয়ে হাড় থেকে মাংস ও চামড়া আলাদা করা হত।

ব্লিচিং ও অ্যাসেমব্লিং:

মাংস পরিষ্কার করার পর হাড়গুলোকে রোদে শুকিয়ে ব্লিচ করা হত,
যাতে সেগুলো চকচকে সাদা দেখায়।

এরপর সূক্ষ্ম তার দিয়ে হাড়গুলো জোড়া লাগিয়ে পূর্ণাঙ্গ মানবকঙ্কাল তৈরি করা হত।
আর এই একটা পূর্ণাঙ্গ কঙ্কাল মানেই ইউরোপে মোটা টাকা।

রপ্তানি:

সবশেষে এই কঙ্কালগুলো বড় বড় কাঠের বাক্সে ভরে জাহাজ যোগে পাচার করা হত
লন্ডনের নামি-দামি মেডিকেল কলেজ, সার্জিক্যাল স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়তে।

এই রপ্তানির উল্লেখ পাওয়া যায় কোলকাতা বন্দরের শিপিং ম্যানিফেস্ট
ও বাণিজ্যিক নথিতে।

লন্ডন, এডিনবরা, অক্সফোর্ড—
ইউরোপের নামী মেডিকেল প্রতিষ্ঠানে ছাত্ররা যে সব কঙ্কাল দিয়ে
অ্যানাটমি শিখেছে, তার বড় অংশই এসেছে কোলকাতা থেকে।

রপ্তানি ছিলো এতটাই নিয়মিত যে,
একসময় ইউরোপীয় চিকিৎসা মহলে কোলকাতা ভীষণ পরিচিত হয়ে ওঠে
বিশ্বের সবচেয়ে বড় ‘কঙ্কাল সরবরাহকারী কেন্দ্র’ হিসেবে।

শুরুর দিকে কঙ্কাল ব্যবসা চলতো মৃতদেহ নিয়ে।
কিন্তু চাহিদা বাড়তে বাড়তে এমন জায়গায় পৌঁছায়— যেখানে মৃত মানুষও কম পড়ে যায়।
চাহিদা যখন যোগানের চেয়ে বেড়ে যায়, তখন জন্মায় অপরাধ।

আর সেই সময় থেকেই ওঠে ভয়ংকর অভিযোগ, জন্ম নেয় ক্রাইম। 
কঙ্কাল ব্যবসার মুনাফা এতই বেশি ছিলো যে,
কেবল বেওয়ারিশ লাশ দিয়ে চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছিল না।

(লোভ প্রতিটা মানুষের ভিতরেই কম-বেশি থাকে,
কিন্তু যখন সেই লোভ, এর সীমা ভেঙে অমানবিক হয়ে ওঠে।
যখন ক্ষমতার নেশা সম্পদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।
যখন অন্যের ঘর, জমি, শিল্প, সভ্যতা– সবই কেবল দখলের লক্ষ্য হয়ে যায়,
ঠিক তখনই ইতিহাস জন্ম দেয় পোশাকে উন্নত,
অথচ ভিতরে ভয়াবহ এক বিদেশি জাতিকে–(Click:) ব্রিটিশ

কি সাংঘাতিক ক্ষতি করে দিয়ে গেছে ব্রিটিশরা।
কি হতে পারত ভারত যদি ইংরেজরা ভারতে না আসত,
জানুন ভিতরের সেই আসল রহস্য!

পড়ুন– Click: ইংরেজ ভারতে না আসলে, আজ বিশ্বের সুপার পাওয়ার হতো ভারত!)

—————————

ঔপনিবেশিক রিপোর্ট ও সমকালীন লেখায় অভিযোগ উঠেছিল যে—
কেবল কঙ্কালের লোভে অনেক সময় জ্যান্ত মানুষকে অপহরণ করে হত্যা করা হত।

দরিদ্র মানুষ, ভবঘুরে, অনাথ—
যাদের খোঁজ রাখার কেউ ছিলো না।
তারাই ছিলো সবচেয়ে সহজ শিকার।

হাড়ের মান ভালো রাখার জন্য এবং রোগমুক্ত কঙ্কাল পাওয়ার আশায় অনেক সময়
সুস্থ সবল মানুষদেরও টার্গেট করত দালাল চক্র।

বাংলার মানুষের রক্ত মাংস ছাপিয়ে তাদের কঙ্কাল তখন ব্রিটিশ কোষাগরের
অন্যতম বড় আয়ের উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছিলো।

কঙ্কাল ব্যবসা:

কারা লাভবান হয়েছিল?

এই ব্যবসা শুধু দালালদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিলো না।

  • স্থানীয় মধ্যস্বত্বভোগী।
  • ইউরোপীয় রপ্তানিকারক।
  • মেডিকেল কলেজ।
  • ব্রিটিশ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান।

সবাই এই অমানবিক বাণিজ্য থেকে লাভ তুলেছে।

বছরের পর বছর ধরে ভারতীয়দের শরীরের অংশ বিক্রি করে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য
বিপুল অঙ্কের টাকা আয় করেছে।

ডমিনিক ল্যাপিয়ের

ও স্কট কার্নির সাক্ষ্য:

বিখ্যাত লেখক ডমিনিক ল্যাপিয়ের এবং সমসাময়িক অনুসন্ধানী সাংবাদিক স্কট কার্নি
এই অন্ধকার ব্যবসার অনেক অজানাকে সামনে এনেছেন।

ল্যাপিয়ের তাঁর (দেখুন) ‘the City of Joy’-তে লিখেছেন উপনিবেশিক কোলকাতার
মানবিক বিপর্যয়ের কথা ও কার্নি দেখিয়েছেন কিভাবে দশকের পর দশক ধরে ভারত থেকে
কঙ্কাল রপ্তানির একটা আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছিল।

এমনকি বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ভারত ছিলো
বিশ্বের বৃহত্তম কঙ্কাল রপ্তানিকারক দেশ।

১৯৮৫ সালে ভারত সরকার কঙ্কাল রপ্তানি নিষিদ্ধ করার আগে পর্যন্ত,
বিশ্বের প্রায় প্রতিটা মেডিকেল কলেজের ল্যাবে ঝুলে থাকা কঙ্কালগুলো ছিলো
কোনো না কোনো অভাগা বাঙালির।

এই অধ্যায় কোনো কল্পকাহিনী নয়।
এই তথ্যগুলোর উল্লেখ পাওয়া যায় ঔপনিবেশিক মেডিকেল আর্কাইভে।

অনুসন্ধানী সাংবাদিক স্কট কার্নি তার বিখ্যাত বই— ‘The Red Market’-
এই কঙ্কাল বাণিজ্যের প্রামাণ্য ইতিহাস তুলে ধরেছেন।

ব্রিটিশ মেডিকেল আর্কাইভ, শিপিং রেকর্ড, কলেজের ইনভেন্টরি—
সব জায়গাতেই কোলকাতা থেকে আসা কঙ্কালের উল্লেখ পাওয়া যায়।
এটা ইতিহাসের নথিভুক্ত সত্য।

সাম্রাজ্যবাদের চূড়ান্ত নিদর্শন:

এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, উপনিবেশবাদ কেবল জমি বা সম্পদ দখল নয়।
বরং মানুষের অস্তিত্বকেও পণ্য করে তুলেছিল।

ব্রিটিশরা আমাদের পূর্বপুরুষদের হাড় বিক্রি করে কোটি কোটি পাউন্ড আয় করেছে,
অথচ সেই মানুষগুলো অনাহারে,
অর্ধাহারে মারা গিয়েছিলেন তাদেরই তৈরি করা দুর্ভিক্ষে।

লন্ডনের যে ডাক্তাররা সেই কঙ্কাল দেখে মানুষের শরীরের গঠন শিখতেন,
তারা হয়তো কোনোদিন জানতেও পারেননি সেই হাড়ের পিছনে লুকিয়ে থাকা
হাহাকার আর আর্তনাদের গল্প।

কঙ্কাল ব্যবসা:

মানুষের দেহ যখন কাঁচামাল

ব্রিটিশদের কাছে জ্যান্ত বাঙালির কোনো দাম ছিল না।
কিন্তু মরা বাঙালির হাড় ছিলো মূল্যবান সম্পদ।

এই সত্য আমাদের বুঝিয়ে দেয়—
উপনিবেশিক শাসন কেবল রাজনৈতিক দাসত্ব নয়,
এটা ছিলো মানবতার সম্পূর্ণ অবমূল্যায়ন।

একটা সভ্যতার অগ্রগতির জন্য আরেকটা সভ্যতার মানুষের শরীরকে
কাঁচামাল বানানো হয়েছিলো।

শেষ কথা:

আজ আমরা যখন আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের সাফল্য নিয়ে গর্ব করি,
তখন এই প্রশ্নটা উঠতেই পারে—

এই অগ্রগতির মূল্য কে দিয়েছে?

কোলকাতার সেই নামহীন মৃত মানুষগুলো,
যাদের হাড় ইউরোপের শ্রেণীকক্ষে নীরবে পড়েছিল।

তারা ইতিহাস বইয়ে কোনো জায়গা পায়নি ঠিকই,
কিন্তু সত্যটা দিগভ্রান্ত হয়ে ঘুরে বেড়িয়েছে পৃথিবীর আকাশে, বাতাসে।

কোলকাতা শুধু একসময়ের রাজধানী নয়—
এক সময় ছিলো সাম্রাজ্যবাদী লোভের সবচেয়ে নির্মম পরীক্ষাগার।

আর সেই ইতিহাস মনে রাখাই
এই মৃতদের প্রতি আমাদের ন্যূনতম দায় ও সম্মান।

আজকের কোলকাতা অনেক আধুনিক,
কিন্তু এই শহরের মাটির নিচে এবং গঙ্গার পলিস্তরে আজও মিশে আছে
সেই নাম না জানা হাজার হাজার মানুষের স্মৃতি।

ব্রিটিশরা চলে গেছে ঠিকই, কিন্তু তাদের সেই ‘কঙ্কাল রাজধানী’র কলঙ্কিত ইতিহাস
আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, শোষণ কতটা ভয়াবহ হতে পারে।

এটা কেবল একটা ব্যবসা ছিলো না।
এটা ছিলো মানব সভ্যতার ইতিহাসে এক চরম নির্লজ্জ অপরাধ।

বাঙালির হাড় দিয়ে গড়া সেই সাম্রাজ্যের ইমারত আজ হয়তো ধুলোয় মিশেছে,
কিন্তু ইতিহাস ক্ষমা করেনি।

——————————-

(ভারতবর্ষ যুগে যুগে বিশ্বাস করে এসেছে ‘পুরো বিশ্বই একটা পরিবার।’
এদেশের সংস্কৃতি আমাদের শিখিয়েছে— 

‘অতিথিকে দেবতার মত সম্মান করতে।’

ইতিহাসের নির্মম পরিহাস হলো,
ভারতের এই উদারতাকেই আক্রমণকারীরা আমাদের দুর্বলতা ভেবেছে।

যাদের আমরা অতিথি হিসেবে জায়গা দিয়েছি,
তারাই নেকড়ের মত এদেশের বুক চিরে সম্পদ লুট করে নিয়ে গেছে।

জানুন সেই নির্মম ও বাস্তব ইতিহাস।

পড়ুন– Click: ভারতের ইতিহাস: বারংবার বিদেশী আক্রমণে জর্জরিত
সেই সোনার পাখির বুক আজও কি রেহাই পাচ্ছে?)

—————————–

এ বিষয়ে আপনি কি মনে করেন?

অবশ্যই জানাবেন আপনার মূল্যবান মন্তব্যে।

[লেখাটা প্রয়োজনীয় মনে হলে অবশ্যই শেয়ার করে
সমাজের অন্যদেরও পড়তে, জানতে সুযোগ করে দেবেন।

ইমেইল আইডি দিয়ে আমাদের বাঙালির পরিবারের একজন
প্রিয় মানুষ হয়ে উঠুন।

চলুন বাঙালিকে বিশ্বের দরবারে বারবার তুলে ধরি—
চিন্তা, চেতনা আর শব্দের শক্তিতে— একসাথে, সবাই মিলে।

বিশ্ব জানুক—
আমাদের ভারত কি?
বাঙালি কি?
বাংলা শব্দের ক্ষমতাই বা কি?]

ইমেইল আইডি দিয়ে যুক্ত হন

We don’t spam! Read our privacy policy for more info.

About Articlesবাংলা

Articlesবাংলা
Welcome to Articlesবাংলা – a vibrant hub of words, ideas, and creativity. This website is the personal archive and creative expression of Tanmoy Sinha Roy, a passionate writer who has been exploring the art of writing for more than seven years. Every article, prose-poem, and quotation you find here reflects his journey, experiences, and dedication to the written word. Articlesবাংলা aims to inspire readers by offering thought-provoking insights, celebrating the richness of Bengali language and literature, and creating a space where ideas, imagination, and culture connect. Whether you are seeking literary reflections, prose-poems, diverse articles, or meaningful quotations, you are invited to explore, reflect, and be inspired.

Check Also

সুভাষচন্দ্র বসু এবং আজাদ হিন্দ ফৌজের লুণ্ঠিত রাজকোষ ও ঐতিহাসিক ষড়যন্ত্রের প্রতীকী চিত্র।

নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু: আজাদ হিন্দ ফৌজের সম্পত্তি লুটের ভয়ঙ্কর সত্য!

সুভাষচন্দ্র বসু প্রতিষ্ঠিত আজাদ হিন্দ ফৌজ থেকে লুট করা জনগণের সম্পদ ঠিক কি হয়েছিলো শেষ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *