Prose Poetry

দশ বছর!

বিষণ্ণ যুবক সমুদ্রের ধারে নোঙরের পাশে বসে আছে, হাতে লাল গোলাপ। আকাশে অপেক্ষার প্রতীক ঘড়ি ও নিচে কাগজের নৌকা। দীর্ঘ অপেক্ষা এবং বিরহ।

সময়ের ভার দশ বছর– সময় কি সত্যিই এত দীর্ঘ? অথবা অপেক্ষার ভিতরে ঢুকলেই– (Click:) ঘড়ির কাঁটা ধীর হয়ে পড়ে? একটা বাক্যের ওজন তুমি বলেছিলেঃ “ফিরে আসবো”– শব্দ মাত্র দুটো, কিন্তু, এত ওজন মানুষের বুক ধারণ করতে পারে, আসলে ভাবিনি কখনও। স্মৃতির ঘর আমি সেই বাক্যটাকেই একটা ঘর বানিয়ে রেখেছি। যদিও …

Read More »

প্রেমের দ্বৈত নীতি– এক মহাজাগতিক পরিহাস!

প্রেমের দ্বৈত নীতি, প্রেম ভাঙার যন্ত্রণা। বিষণ্ণ প্রমিকা বেঞ্চে বসে আছে, গলায় কাঁটার মালা, যে প্রেম একদিন ছিল জীবনের সবকিছু, সেই প্রেমই যেন আজ কাঁটা হয়ে গলায় জড়িয়ে শ্বাসরোধ করে দিচ্ছে। হাতে প্রেমিকার ছবি, তার মুখ থেকে একটি হাসির ভূতের মতো এক্সপ্রেশন বেরিয়ে আসছে। এটি প্রেম ভাঙার যন্ত্রণা ও একাকীত্ব ফুটিয়ে তোলে।

প্রেমের দ্বৈত নীতি প্রেম মানুষকে পরিপূর্ণ করে, আবার ভেঙেও দেয়– এটাই প্রেমের দ্বৈত নীতি। সব প্রেম তোমার জীবনের জন্য তৈরি নয়, কিছু প্রেম, শুধু শেখাতে আসে। পরিচিত যখন অচেনা হয় একসময় যার কণ্ঠস্বর ছিল তোমার প্রিয় সকালের প্রথম আলো; আজ সেই মানুষটাই হয়ে দাঁড়ায় তোমার নীরবতার ঘন অন্ধকার। কি অদ্ভুত …

Read More »

অভয়া নয়, মারা গেছে রাষ্ট্রের বিবেক!

একটি অন্ধকার উঠানে একটি অগ্নি-অনুষ্ঠানের দৃশ্য, যেখানে আগুনের শিখা থেকে একজন দৃঢ়চেতা নারীর (অভয়ার) মুখমণ্ডল উপরের দিকে উঠছে। কয়েকজন পুরোহিতরূপে সেই সমস্ত অন্যায়কারীরা সাদা ধুতি পরিহিত অবস্থায় আগুনের চারপাশে দাঁড়িয়ে আছে, কেউ প্রণাম করছে, কেউ হাত তুলে আছে। বজ্রপাত সহ একটি মেঘলা এবং অন্ধকার আকাশ দেখা যাচ্ছে। এটি অভয়া নামের একজন ব্যক্তির প্রতীকী অর্থে রাষ্ট্রের বিবেক হারানোর একটি চিত্র।

অভয়ার মৃত্যু নয়, বিবেকের অন্ত্যেষ্টি অভয়া কি মারা গেছে? না, যায় নি, মারা গেছে রাষ্ট্রের বিবেক। আর আমরা একে নাম দিয়েছি– “দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা।” ফুলে ঢাকা অপরাধ যারা খুন করেছে, তাঁদের মুখে এখন শোকের ছায়া, হাতে পুষ্পস্তবক; কিন্তু চোখে ঘুরে বেড়াচ্ছে পরিকল্পনার ধুলো। যেন অপরাধের উপর ফুল দিলেই ন্যায় ফিরে আসে। …

Read More »

জুবিন গার্গ হওয়া কঠিন, সেলিব্রিটি সোজা!

একটা মহাজাগতিক পটভূমিতে উজ্জ্বল নক্ষত্রসম সঙ্গীতশিল্পী, মানবতার প্রতীক জুবিন গার্গ দাঁড়িয়ে আছেন সুরের চিহ্নের ভেলার উপরে। যেন অনিচ্ছাকৃতভাবে ধীরে ধীরে বিদায় জানাচ্ছেন সবাইকে। সামনে তাঁর অগণিত ভক্তের হাহাকার, কারো চোখের জলে বিদায়, দৃশ্যটাকে এক অনন্য মাত্রা প্রদান করেছে।

আজ দেশ জুড়ে কান্নার বন্যা। শব্দ, সুর আর শ্রদ্ধার ঢেউ আছড়ে ভাঙছে আকাশ-মাটি। হঠাৎ সব মহীরুহ জেগে উঠেছেন যেন, নিথর দেহে লেগেছে তাঁদের উষ্ণ নিঃশ্বাস। কোথায় ছিলেন হে মহানুভব, যখন জ্বলন্ত সূর্য মেঘে ঢাকা ছিল? যে দিন সে শিল্পী একা হেঁটেছেন আগুনপথে? সেদিন সে পথে ছিল শুধুই মানুষ। তাঁর কণ্ঠস্বর …

Read More »

যাদের পাপেই পৃথিবী পবিত্র থাকে!

একটা অন্ধকার গলিতে সমাজের নিষিদ্ধ নারী ও কিছু পুরুষ দাঁড়িয়ে আছে, যা কোলকাতার সোনাগাছির এক প্রতীকী ছবি।

গলির নারী শহরের এক গলিতে, যেখানে আলোরও লজ্জা লাগে ঢুকতে, বসে থাকে কিছু নারী– যেন ইতিহাসের মুখে পাউডার ঢাকা এক দাগ। যেন ভদ্রলোকের পৃথিবীর গোপন বৈধতা। এদের মুখে লিপস্টিক নয়, সময়ের কালি লেগে আছে। চোখে আলো নেই, আছে ক্লান্ত অপেক্ষা, আছে বেঁচে থাকার অভিশাপ! সমাজের বিচিত্র সমীকরণ মানুষ তাঁদের ঘৃণা …

Read More »

দুই নেকড়ে!

দুই নেকড়ে (ধর্ম ও রাজনীতি) একটা থালা থেকে রক্ত খাচ্ছে , সেই রক্তে পৃথিবীর প্রতিচ্ছবি। তাদের পিছনে দুটো পতাকার একটায় লেখা– "বিশ্বাসে বাঁচো," অন্যটায় লেখা– "আমায় মানো।" আর সামনে রক্তের স্রোত বয়ে চলেছে পথের মতো, যাতে অসংখ্য মানুষের ভিড়।

নেকড়ের যুগে হারানো মানবতা দুজন যেন দুই নেকড়ে, একই থালায় রক্ত খায়। একজন বলে, “বিশ্বাসে বাঁচো।” অন্যজন বলে, “আমায় মানো।” তারপর তারা মিলেমিশে, মানুষকে ভাগ করে নেয়। মন্দির-মসজিদ, পতাকা, আর মৃতদেহের ওপর দাঁড়িয়ে, উৎসব করে সভ্যতার নামে। থমকে থাকা পৃথিবী আজ পৃথিবীর মুখে বারোটা বাজে, সময় থেমে যায় সভ্যতার কানে, …

Read More »

ভালোবাসা বেঁচে থাক ছদ্মবেশেই!

বিষণ্ণ এক পুরুষ বিছানায় বসে আছেন, পিছনে তাঁর প্রেমিকার আত্মার মতো স্বচ্ছ, আলোকিত প্রতিচ্ছবি ধোঁয়ার মধ্যে দিয়ে উপরে উঠছে। এটা স্মৃতি ও অনুপস্থিতিকে তুলে ধরে।

শুনেছি চেষ্টা যদি চেষ্টার মতো হয়, সফল হওয়া যায়। আজ পাঁচ বছর ধরে চেষ্টা করছি, ভুলেছি কই? হেরে গিয়ে তাই আজ অভ্যেস করেছি, তোমাকে না ভাবার। যেমন নদী একসময় শিখে যায়, পাথরের দেহ ঘেঁষে বয়ে যেতে, এটা জেনেও যে– পাথর নড়বে না কোনও দিন। তুমি ছিলে আমার সব যুক্তির বাইরে, …

Read More »

সেন বাড়ির ছেলেটা আজ “মানুষ” হয়েছে !

সবুজ, দামী শাড়ি ও অলঙ্কার পরে, রাজকীয় ভাইফোঁটার আয়োজন। টেবিলে সাজানো ১১ রকমের মিষ্টি, কচি পাঁঠা , বাগদা ইত্যাদি। বোন বড়লোক দাদার আসার অপেক্ষায় মিষ্টি মুখের হাসিতে দাঁড়িয়ে অপেক্ষারত। ছবিটা প্রাচুর্য ও আড়ম্বরপূর্ণ এক অনুষ্ঠানের প্রতীক।

মানুষ হিসেবে রেজিস্ট্রেশন বাবা-মা গর্বে কাঁপেন, প্রতিবেশী চিৎকার, তোয়াজে মত্ত। সমাজ হাততালি দেয় লম্বা করে, যেন এই মুহূর্তে জন্মেছে এক মহামানব। আসলে জন্মেছিল ৩৭ বছর আগে, কিন্তু ইদানিং তাঁকে রেজিস্টার করা হল “মানুষ” হিসেবে। মানুষঃ যখন সুবর্ণযুগ রাস্তা দিয়ে হাঁটলে মনে হয়, কোনও ফেরারি ধুলো তুলছে। অথবা গুটি গুটি পায়ে …

Read More »

সম্মানীয় ধর্ষকের দর্শনঃ যখন রাজনীতিতে!

রাতের গ্রামের রাস্তায় একজন পুরুষ রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে, যার চোখ আনন্দে বিস্ফোরিত। পটভূমিতে কিছু ঘরবাড়ি, গাছপালা, ও একটা বাঁকা চাঁদ দৃশ্যমান।

সাধারণ মানুষ ছিল সে। চা খেত, খবর পড়ত। বলে রাখত, “আমি কিন্তু মেয়েদের খুব সম্মান করি।” এরপর একদিন রাতের রাস্তায় হঠাৎ তাঁর মগজে হেঁচকি ওঠে, আর বেরিয়ে আসে সেই ভেতরের দার্শনিক, যে ভাবে, ‘সম্মতি তো দুর্বলতার ইঙ্গিত, না থাকলেই তো রোমাঞ্চ, আমি পুরুষ।’ এখন সে বড় ব্যস্ত। নারীর স্বাধীনতা বোঝায় …

Read More »

দাউ দাউ করে জ্বলছে বিবেক!

প্রলয়ংকারী দৃশ্য, যেখানে দেখা যাচ্ছে নিউ ইয়র্কের স্ট্যাচু অব লিবার্টি গলিত হিমবাহ ও ফুঁসতে থাকা সমুদ্রের গর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে। পিছনে বজ্রপাত ও আগ্নেয়গিরি থেকে অগ্নুৎপাত দেখা যাচ্ছে।

বিজ্ঞানীরা বলেন, পৃথিবী নাকি গরম হয়ে যাচ্ছে। আমি বলি, পৃথিবী নয়, দাউ দাউ করে জ্বলছে মানুষের বিবেকটাই। অন্যের দুঃখের আগুনে আমরা সেঁকে নিই আমাদের নির্লিপ্ততা। পরিবেশ ক্ষয়ের উপরে বানাই ক্যাপশন– #SaveEarth, #GoGreen, আর ফেসবুকে ঈশ্বরকে ট্যাগ করে পাঠাই প্রার্থনা, কিন্তু নিজেদের অভ্যেসটুকু বদলাই না একটুও। নদী শুকিয়ে যায়, কেউ বলে জলবায়ুর …

Read More »

Join Our Newsletter

We don’t spam! Read our privacy policy for more info.