গ্ল্যামারের হাটে
এক ‘অপ্রাসঙ্গিক’ সততা:
জুবিন গর্গ এই সময়ের সেই বিরল শিল্পী, যখন তারকা হওয়া অপেক্ষাকৃত সহজ।
বিশেষত একটু মেকআপ, দামি ব্র্যান্ডের প্রচার আর ক্ষমতার তল্পিবাহকতা করলেই
কপালে জুটে যায় খ্যাতির মুকুট।
এই চকচকে দুনিয়ায় আমরা এমন এক শ্রেণীর শিল্পী বা সেলিব্রিটি দেখতে অভ্যস্ত,
যারা মেরুদণ্ডকে আলমারিতে তুলে রেখে সাধারণ মানুষের স্বার্থের চেয়ে
নিজের ব্যাঙ্ক-ব্যালেন্সের সুরক্ষাকে বেশি প্রাধান্য দেয়।

সুবিধাবাদ যখন সাফল্যের চাবিকাঠি, ঠিক তখনই জুবিন গর্গ নামক এক
‘অবাধ্য’ মানুষের গল্প বারবার বলা প্রয়োজন।
তিনি প্রমাণ করেছিলেন—
- শিল্পী হওয়ার চেয়ে মানুষের ‘সাহস’ হওয়া অনেক বেশি কঠিন এবং সম্মানের।
- রাজার মুকুট পরে সিংহাসনে বসার চেয়ে,
ধুলোবালি মাখা সাধারণ মানুষের ঘরের অঘোষিত ‘অভিভাবক’ হওয়া
অনেক বেশি গৌরবের। - ক্ষমতার অন্ধগলিতে মাথা নত করে দীর্ঘজীবী হওয়ার চেয়ে,
নিজের সত্যের ওপর দাঁড়িয়ে অকালপ্রয়াণও একজন প্রকৃত শিল্পীর বড় সার্থকতা। - দামী ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপনী মডেল হওয়া খুব সহজ,
কিন্তু একটা জাতির দীর্ঘশ্বাসের ভাষা হয়ে ওঠা হিমালয় জয়ের মতই কঠিন। - জনপ্রিয়তার জোয়ারে ভেসে যাওয়া তো সহজ,
কিন্তু জনস্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়ে ধ্রুবতারার মত স্থির থাকাটাই আসল লড়াই। - শিল্পী মানে কেবল পর্দার জাদুকর নয়;
শিল্পী মানে সেই মানুষ, যার শিরদাঁড়া কোনও দামি উপহার বা ক্ষমতার কাছে
কোনদিন বিক্রি হয় না।
এটাই আজ স্বাভাবিক হয়ে দাঁড়িয়েছে, আমরা এতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি।
খ্যাতি মানুষকে দুটো জিনিস দেয়—
আলো আর নীরবতা।
আলোটা সবাই দেখে, নীরবতাটা কেউ দেখে না।
যে শিল্পী একদিন অন্যায়ের বিরুদ্ধে গান গাইত,
সেই শিল্পীকেই একসময় দেখা যায় ক্ষমতার পাশে দাঁড়িয়ে হাসতে।
কারণ খ্যাতির সঙ্গে আসে নিরাপত্তা, টাকা, প্রভাব—
আর সেই সব আরামের লোভ ধীরে ধীরে কণ্ঠস্বরকে শুকিয়ে দেয়।
মেরুদণ্ডকে গুটিয়ে দেয় শামুকের মত।
এক বিষন্ন সেপ্টেম্বর এবং
একটা জাতির হাহাকার:
১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫.
সময়টা যেন হঠাৎ করেই থমকে গিয়েছিল।
ভারতের উত্তর-পূর্বের একটা রাজ্য সেদিন স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল
কোনও রাজনৈতিক নির্দেশে নয়, বরং এক গভীর ব্যক্তিগত শোকের নিদারুণ ধাক্কায়!
কলেজ পড়ুয়া, অফিসগামী মানুষ, পুলিশ, মহিলা—
অর্থাৎ আবালবৃদ্ধবনিতা সবাই যেন ব্যক্তিগতভাবে কোনও অমূল্য সম্পদ হারিয়েছে।
কারণ জুবিন শুধু একজন গায়ক ছিলেন না।
তিনি ছিলেন অস্বস্তির শিল্পী।
তাঁর গান শুধু প্রেম শেখায়নি,
শিখিয়েছে প্রশ্ন করতে, অন্যায়ের সামনে দাঁড়াতে।
যখন মানুষ চুপ ছিল, তাঁর গানে উঠেছিল ক্ষোভ।
যখন ভয় ছিল বাতাসে, তাঁর সুরে ছিল সাহস।
তিনি মঞ্চে দাঁড়িয়ে শুধু সুর তোলেননি—
সময়ের অস্বস্তিকর সত্যগুলো উচ্চারণ করেছেন।
তাঁর গান অনেকের কাছে বিনোদন ছিল, কিন্তু আরও অনেকের কাছে তা ছিল অবস্থান।
বিদায় জুবিন:
২৩শে সেপ্টেম্বর ২০২৫—
ঠিক সেদিনই বিশেষ করে আপামর দেশবাসী দেখতে পায়
একজন মহামানবের ভেতরের সেই রূপ!
তাঁর শেষকৃত্যে যে (দেখুন) জনসমুদ্র দেখা গিয়েছিল—
- তা কোনও সংঘটিত জমায়েত ছিল না।
- সেখানে কোনও বিভেদ ছিল না।
- কোনও রাজনীতি বা অভিনয় ছিল না।
- ছিল শুধু চোখের জল, হৃদয় ফাটা নিঃশব্দ আর্তনাদ, মাটির তীব্র গন্ধ
আর আজীবনের আফসোস!
আপনি যদি সেই মাটির সন্তান না হন, তবে অবাক হয়ে ভাববেন—
একজন গায়কের জন্য কেন আস্ত একটা রাজ্য এভাবে ডুকরে কেঁদে ওঠে?
উত্তরটা কিন্তু সহজ—
তাঁরা কেবল একজন গায়ককে হারায়নি,
তাঁরা হারিয়েছিল তাঁদের অস্তিত্বের এক পরম নির্ভরযোগ্য অভিভাবককে।

অশান্তির ভেতরে
জন্ম নেওয়া সুর:
৯০-এর দশকের শুরুতে অসম ছিল অস্থির।
- আলাদা রাষ্ট্রের দাবি।
- সশস্ত্র আন্দোলন।
- সেনা অভিযান।
- চারিদিকে ভয় আর অনিশ্চয়তা।
এই অন্ধকার সময়েই ১৯৯২ সালে বের হল তাঁর প্রথম রক অ্যালবাম—
‘অনামিকা।’
এই অ্যালবামের পেটের গানগুলো ছিল এক টুকরো বিশুদ্ধ বাঁচার রসদ।
হতাশার ভেতর এক ঝলক আশা।
প্রেম, বেদনা, স্বপ্ন—
সব কিছুকে গানের ভাষায় তুলে তিনি মানুষের বুকের ভেতরের
কথাগুলো প্রকাশ করেছিলেন।
আর এই অ্যালবাম মুক্তির পরেই তিনি হয়ে ওঠেন তরুণ প্রজন্মের আইকন।
অসমের পাহাড়, মাঠ, চা-বাগান,
এমনকি মানুষের বুকেও প্রতিধ্বনিত হত তাঁর কণ্ঠ।
যে সময়ে গ্লোবালাইজেশনের চাপে মানুষ নিজের ভাষাকে পুরনো ভাবতে শুরু করেছিল,
জুবিন তখন নিজের শেকড়কে আধুনিক রক সংগীতের মোড়কে নতুন করে চিনিয়েছিলেন।
তিনি শিখিয়েছিলেন নিজের মাটি আর সংস্কৃতিকে ভালোবেসেও আধুনিক হওয়া যায়।
———————
( কেন্দ্র বলে— আমরা নীতি দিয়েছি।
রাজ্য বলে— আমরা টাকা কম পাচ্ছি।
মাঝখানে রোগী বলে— আমার জ্বর ১০৩.
এ কেমন কাণ্ড?
পড়ুন ভেতরের বাস্তবতা, জেনে রাখুন।
Click: সরকারি হাসপাতাল: সাধারণ মানুষের চিকিৎসা কি সত্যিই নিরাপদ? )
অসমের সাংস্কৃতিক প্রতীক:
২০০০ সালের মধ্যে তিনি হয়ে ওঠেন অসমের এক জীবন্ত প্রতীক।
বিহু উৎসব মানেই তাঁর গান।
এরপর অসমের গণ্ডি পেরিয়ে তিনি জাতীয় স্তরে কাজ শুরু করেন—
- মুম্বাই ডাকছিল।
- সিনেমার জগৎ দরজা খুলে দিয়েছিল।

২০০৬ সালে গ্যাংস্টার ছবিতে তাঁর গাওয়া (দেখুন) ‘ইয়া আলী র্যাহেম আলী’ গান
সারা দেশ জুড়ে আলোড়ন তোলে।
ফলে সে সময়ে তিনি শুধু আঞ্চলিক তারকা নন, হয়ে ওঠেন জাতীয় কণ্ঠ।
এরপর বড় বাজেটের ছবিতেও তিনি কাজ করেন।
জনপ্রিয় গান গেয়ে তিনি প্রমাণ করেন—
তিনি কেবল অসমের শিল্পী নন, তিনি ‘অল ইন্ডিয়া লেভেল’-এর ভয়েস।
মুম্বাইয়ের গ্ল্যামার, আলো, অর্থ— সবকিছু তখন তাঁর নাগালে।
তিনি চাইলে সেখানেই থেকে যেতে পারতেন।
নিয়মিত হিন্দি সিনেমার গান, বড় প্রযোজনা সংস্থা, বড় মঞ্চ—
সবকিছু তাঁকে ঘিরে ধরেছিল।
অর্থাৎ তখন বলিউডের বড় বড় লবি তাঁর সামনে রেড কার্পেট বিছিয়ে দিয়েছিল।
কিন্তু জুবিন ছিলেন অন্য ধাতুতে গড়া।
একটা ইন্টারভিউতে জুবিন বলেছিলেন—
“বলিউডে অনেক অ্যাটিচুড আছে, অসমে তিনি একজন রাজার মতন,
আর একজন রাজার কখনও তাঁর রাজ্য ত্যাগ করা উচিৎ নয়।”
আর সে কারণেই সাফল্যের চূড়ায় বসেও তিনি ফিরে এসেছিলেন নিজের রাজ্যে।
এটা তাঁর কোনও অহংকারের পরিচয় ছিল না, ছিল অবস্থান।
বলিউডের গ্ল্যামার
বনাম নিজের মাটি:
(পড়ুন) তিনি বহু ভাষায় গান গেয়েছেন—
অসমীয়া, হিন্দি, বাংলা, তামিল, তেলেগু, নেপালি, ভোজপুরি।
প্রায় ৪০ হাজারের কাছে মোট গান
গাইলেও, তিনি কখনই মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির দাসে পরিণত হননি।
যেখানে অন্য তারকারা আরও টাকার আন্তরিক আশায় ক্ষতিকর পণ্যের বিজ্ঞাপন করেন,
জুবিন সেখানে সাধারণ মানুষের বিপদে নিজের ঘর খুলে দিতে দ্বিধা করেননি,
দুবার ভাবেননি রাস্তায় নেমে মানুষের পাশে দাঁড়াতে।

বিভিন্ন মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিও তাঁকে ব্যাপক ঠকিয়েছে।
তাঁর অধিকাংশ গানের কপিরাইট ছিল মিউজিক কোম্পানির হাতে।
তিনি পেতেন এককালীন রেকর্ডিং ফি।
গান হিট হোক, কোটি ভিউ হোক, রয়্যালটির ধারে কাছেও তিনি অনেক সময় থাকতেন না।
এটাই আমাদের সংগীত জগতের এক নির্মম সত্য।
যারা সৃষ্টি করে তাঁরা সব সময় মালিক হয় না।
- খ্যাতি ছিল।
- জনপ্রিয়তা ছিল।
- মঞ্চ ভরা মানুষ ছিল।
কিন্তু প্রাপ্য আর্থিক নিরাপত্তা ও স্বীকৃতি সেই অনুপাতে ছিল না।
এখানেই জুবিনের গল্প শুধু একজন শিল্পীর সাফল্যের গল্প থাকে না—
এটা হয়ে ওঠে এক শিল্প ব্যবস্থার গল্প, যেখানে সুরের মালিক অনেক সময় সুরকার নয়।
মানুষের শিল্পী:
তাঁর জনপ্রিয়তার আসল কারণ ছিল তার গান নয়—
ভেতরের সত্তা।
তিনি দূরের কোনও তারকা ছিলেন না, তিনি ছিলেন পাশের বাড়ির মানুষ।
- কারো চিকিৎসার টাকা নেই— তিনি পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছেন।
- কারো বিয়ে হচ্ছে না— তিনি যথাসাধ্য সাহায্য করেছেন।
- বন্যা হলে— ত্রাণ নিয়ে তিনি রাস্তায় বেরিয়ে পড়েছেন।
এই কাজগুলো তিনি ক্যামেরার সামনে করেননি।
অনেক কিছুই মানুষ পরে জেনেছে।
এই কারণেই মানুষ তাঁকে শুধু ভালবাসেনি, নিজেকে বিশ্বাস করার মত বিশ্বাস করত।
প্রকৃত শিল্পী কাদের বলা যায়?
- নিজেদের স্বার্থে শুধুমাত্র বিনোদনের সামান্য টুকরো ছুঁড়ে দিলেই কি প্রকৃত
শিল্পী হওয়া যায়? - শুধু আলোয় দাঁড়িয়ে হাততালি আর প্রশংসা কুড়লেই কি দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়?
- শুধু ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স, আরও যশ-খ্যাতির হিসেব দিবারাত্রি মনে মনে কষে গেলেই
কি তাঁকে শিল্পী বলা যায়? - নিজের নিরাপত্তার জন্য অন্যায় দেখেও চুপ থাকলেই কি শিল্পীর কাজ সেরে ফেলা হয়?
- ক্ষমতার প্রশংসা গাইতে গাইতে সাধারণ মানুষের দীর্ঘশ্বাস ভুলে গেলে,
সে কি আর সত্যিই মানুষের কণ্ঠস্বর থাকে?
না, একে শিল্পী হওয়া বলে না।
একে বলা হয় “সুবিধাবাদ।”
রূপালি পর্দার মেকআপ ধুয়ে ফেললেই যে মুখটা বেরিয়ে আসে,
সেখানে যদি সাধারণ মানুষের যন্ত্রণার প্রতি কোনও সহমর্মিতা না আসে,
তবে সেই মুখ স্রেফ একটা ‘মুখোশ’ মাত্র।

প্রকৃত শিল্পী তো সেই, যিনি—
আঁধারে আলো জ্বেলে দেন:
যখন চারপাশে অন্যায় ঘিরে ধরে,
তখন শিল্পী তাঁর সৃষ্টির মাধ্যমে প্রতিবাদের ভাষা হয়ে ওঠেন।
ক্ষমতার সামনে সত্য বলেন:
রাজার পোশাক নেই, রাজা উলঙ্গ—
এই কথাটুকু বলার সাহস যে রাখে, সেই তো প্রকৃত শিল্পী।
যশে নয়, মানুষের হৃদয়ে থাকেন:
শিল্পীর স্বার্থকতা ব্যাঙ্ক ব্যালেন্সের অঙ্কে নয়,
বরং মানুষের বিপদে তাঁদের চোখে জল মোছানোর সাহসে।
নিজের নিরাপত্তা দেখেন না:
শিল্পী তো সেই, যে নিজের নিরাপত্তার চেয়ে মানুষের আস্থাকে বড় করে দেখে।
ভেতরের মানুষটার মৃত্যু হয় না:
একজন আসল শিল্পী তাকেই বলা যায়, যার কণ্ঠস্বর বিক্রি হয় না, সুবিধায় নত হয় না।
বিদ্রোহী সত্তা:
যখন কণ্ঠ হয়ে ওঠে হাতিয়ার
- জুবিন স্পষ্ট কথা বলতেন।
- অন্যায় দেখলে চুপ থাকতেন না।
- ধর্মের নামে কুসংস্কার, বিভেদ।
- রাজনীতির নামে দুর্নীতি।
- সমাজের নামে বৈষম্য।
সব কিছুর বিরুদ্ধেই তিনি কথা বলেছেন।
তিনি বলতেন, “আমি রাজনীতিবিদ নই, একজন যোদ্ধা।”
এমনই ছিল তাঁর জীবন দর্শন।
জুবিন গর্গ হওয়া
কেন প্রাসঙ্গিক ও কঠিন?
আজকের দিনে যখন চেনা দায় হয়ে পড়েছে—
কে শিল্পী আর কে ক্ষমতার দাস, তখন জুবিন এক জ্বলন্ত ধ্রুবতারা।
তিনি ক্ষমতার পায়ের কাছে বসে প্রসাদ ভিক্ষা করেন নি,
বরং মানুষের চোখের জল আর হাসিকেই সবচেয়ে বড় সম্মান মনে করেছেন।
যারা নিজেদের ভোগ-বিলাসিতা, যশ, খ্যাতি, অর্থ আর নিরাপত্তার সুবিধার জন্য
তুচ্ছ মানসিকতা বুকে আঁকড়ে নিয়ে নিজের মেরুদণ্ড মাটিতে পুঁতে রেখে দেয়,
সময় ঠিকই তাঁদের ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে ছুঁড়ে ফেলে দেয়।
কিন্তু যারা জুবিনের মত মানুষ হয়ে বুক চিতিয়ে দাঁড়ায়,
মৃত্যুও তাঁদের নাম মুছতে পারে না—
কারণ জুবিনরা প্রজন্মের পর প্রজন্ম মানুষের হৃদপিণ্ডে ঘুরে ঘুরে বেড়ায়।
তিনি শিখিয়ে দিয়ে গেছেন—
জনপ্রিয়তা হয়ত সস্তা বিজ্ঞাপনেও পাওয়া যায়,
কিন্তু মানুষের শ্রদ্ধা অর্জন করতে হয় লড়াইয়ের ময়দানে।
খ্যাতি খুব অস্থায়ী জিনিস:
আজ যার পোস্টারে শহরের দেওয়াল ঢাকা, কাল তাকে কেউ চিনতেও চাইবে না।
কিন্তু যারা মানুষের পাশে দাঁড়ায়, অন্যায়ের মুখে সরাসরি প্রশ্ন ছুঁড়ে দেয়—
তাঁদের নাম সময়ের বুক চিরে বেঁচে থাকে।
জুবিন গর্গ সশরীরে হয়ত আর নেই,
কিন্তু তাঁর কণ্ঠস্বর আজও প্রতিটা অন্যায়ের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠে।
আর সত্যিকারের শিল্পী কোনোদিন মরে না,
সে বেঁচে থাকে মানুষের স্মৃতির প্রতিটা ভাঁজে,
প্রতিবার যখন কেউ ভয়কে জয় করে সত্য কথা বলে।

আজকের দিনে দাঁড়িয়ে জুবিন গর্গ হওয়ার শুধু কঠিনই নয়,
এক অবিশ্বাস্য ব্যাপার।
কারণ আজকের এই ঝকঝকে স্বার্থপর দুনিয়ায় জুবিন গর্গ হওয়া মানে—
বোকা, আবেগপ্রবণ আর নির্বোধ হওয়া।
- তিনি বোকা ছিলেন, কারণ ক্ষমতার ছায়ায় রাজকীয় আরাম ছেড়ে
তিনি মানুষের জন্য রাজপথ বেছে নিয়েছিলেন। - তিনি আবেগপ্রবণ ছিলেন,
কারণ লাভ-ক্ষতির অঙ্ক কষে কোনোদিন তিনি নিজের শব্দগুলো সাজাননি,
যা বলেছেন সরাসরি বুক থেকে বলেছেন। - তিনি নির্বোধ ছিলেন বলেই,
নিজের ক্যারিয়ার বা ভালোমন্দের তোয়াক্কা না করে একাই একটা আস্ত ব্যবস্থার
কলার ধরতে জানতেন।
কিন্তু সত্যিটা হল—
এই দুনিয়াটা ওই বুদ্ধিমান চাটুকাররা বদলাতে পারে না।
জুবিনের মত এই নির্বোধ মানুষগুলোই এই পৃথিবীটাকে নতুন করে দেখার সাহস জোগায়,
আর স্বার্থপর, লোভী ও ভীতুরা সেই পৃথিবীতেই বুক উঁচিয়ে চলে।
জুবিনের দেহ আজ নেই ঠিকই, কিন্তু—
- যেখানে লড়াই আছে।
- যেখানে স্পর্ধা আছে।
- মেরুদন্ড সোজা বা অবিক্রীত আছে।
জুবিন ঠিক সেখানেই বেঁচে আছেন, থাকবেন।
( কোথায় ছিলেন হে মহানুভব,
যখন জ্বলন্ত সূর্য মেঘে ঢাকা ছিল?
যে দিন সে শিল্পী একা হেঁটেছেন আগুনপথে?
সেদিন সে পথে ছিল শুধুই মানুষ।
জুবিনের মৃত্যুতে যে সমস্ত সেলিব্রিটিরা গভীর শোক প্রকাশ
করেছেন, তাঁদের জুবিনের পথে হাঁটতে বলুন,
৯৫% এর ওপরে সেলিব্রিটি তা করবে না ভুলেও।
কিন্তু শোক প্রকাশ আর অনুতাপের বহর দেখলে আপনার
মনে আসবে একটাই কথা—
এনারা শুধু শিল্প বিক্রির জন্যে মানুষের মাঝে হাসে।
এরাও এক ধরণের রাজনীতিবিদ।
তাই জানুন ভেতরের কাহিনী।
পড়ুন– Click: জুবিন গর্গ হওয়া কঠিন, সেলিব্রিটি সোজা! )
Articlesবাংলা Bangla Articles, Quotes & Prose-Poetry / বাংলা প্রবন্ধ, উক্তি ও গদ্য-কবিতা।

