Articlesবাংলায় আপনাকে স্বাগত! এই ওয়েবসাইট আধুনিকতার আলোয় মুড়ে, আপনাদের জন্য একটু ভিন্ন ভাবনায়, একটু নতুন ধাঁচে সাজানো চিন্তার এক নতুন সৃষ্ট দ্বীপ। এই একই ওয়েবসাইটে আপনি খুঁজে পাবেন নানান বিষয়ের উপর দুর্দান্ত, ব্যতিক্রমী ও প্রশ্ন ছুঁড়ে দেওয়া সব লেখা—যেখানে প্রতিটা শব্দ কেবল পড়ে ফেলার জন্য নয়, বরং ভাবনার গভীরে নেমে যাওয়ার এক নীরব আহ্বান। এখানে রহস্য-রোমাঞ্চ যেমন হাত ধরাধরি করে হাঁটে, তেমনই প্রেম আর বিরহ মিশে যায় দর্শন ও বিজ্ঞানের এক অপূর্ব মেলবন্ধনে। আইন, সমাজ, রাজনীতি ও প্রযুক্তির কঠিন প্রশ্নগুলো এখানে মুখোশ পরে না— সংযত গভীরতায়, বাস্তবতার ভাষায় নিজেকে প্রকাশ করে। গদ্য কবিতা আর কোটেশনের শেষে লুকিয়ে থাকে অজানা অনুভূতি, হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া মনস্তত্ত্ব আর নীরব উপলব্ধির ছায়া। একজন প্রকৃত বাঙালি হয়ে, যদি বাংলা শব্দের সেই অনন্ত শক্তিকে জানতে চান, চিনতে চান তার গভীরতা, আর মন-প্রাণ দিয়ে অনুভব করতে চান বাংলা ভাষার আত্মাকে— তাহলে আপনি একদম ঠিক জায়গাতেই এসেছেন। তাই পাশে থাকুন, সাথে থাকুন— আমাদের সঙ্গে জুড়ে ‘বাঙালির পরিবার’ হয়ে এক আত্মায়, এক চেতনায়। ইমেইল আইডি দিয়ে Articlesবাংলায় বাঙালির পরিবারের ঘরের মানুষ হয়ে উঠুন। চলুন বাঙালিকে বিশ্বের দরবারে বারবার তুলে ধরি— চিন্তা, চেতনা আর শব্দের শক্তিতে— একসাথে, সবাই মিলে। বিশ্ব জানুক— আমাদের ভারত কি? বাঙালি কি? 🙏 🙋‍♂️ 🙏
Breaking News

ভারতের ইতিহাস: বারংবার বিদেশী আক্রমণে জর্জরিত সেই সোনার পাখি!

ভারত: সোনার পাখি,

প্রাচুর্য থেকে আক্রমণ,

ভারতের পরিণতি

প্রাচীনকাল থেকেই বিদেশি পর্যটক, ঐতিহাসিক ও রোমানদের দ্বারা
ভারত: সোনার পাখি বলে প্রায় সমগ্র বিশ্বব্যাপী পরিচিতি অর্জন করেছিলো।

সিন্ধু নদের অববাহিকা থেকে শুরু করে দাক্ষিণাত্যের মালভূমি পর্যন্ত বিস্তৃত
এই ভূখণ্ড তার অতুলনীয় ধন-সম্পদ মশলা, রেশম, মনি-মানিক্য এবং সংস্কৃতির জন্য
বিশ্বের কাছে ছিলো চিরন্তন আকর্ষণের এক কেন্দ্রবিন্দু।

কিন্তু এই প্রাচুর্যই ভারতের জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছিলো।

হিমালয়ের দুর্ভেদ্য প্রাচীর আর মহাসাগরের বেষ্টনী সত্ত্বেও,
(দেখুন) উত্তর-পশ্চিমের গিরিপথ দিয়ে যুগে যুগে ধেয়ে এসেছে বিদেশি লুণ্ঠনকারী,
দ্বিগবিজয়ী বীর এবং ঔপনিবেশিক শক্তি।

ভারতের ইতিহাস কেবল বীরত্বের কাহিনী নয়,
বরং এটা বারবার আক্রান্ত হওয়া এবং সেই ধ্বংসস্তুপ থেকে ফিনিক্স পাখির মত
জেগে ওঠার এক মহাকাব্য।

চলুন আজকে জেনে নিই—
ভারতের প্রধান বিদেশি আক্রমণগুলোর একটা পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ:

আর্য বিতর্ক: আক্রমণ

নাকি অভিবাসন?

(১৮০০-১৫০০ খ্রীস্টপূর্বাব্দ)

ইতিহাসের পাতায় এক সময় ‘আর্য আক্রমণ’ তত্ত্বটা অত্যন্ত প্রবল ছিলো।

বলা হত, মধ্য এশিয়া থেকে আসা এক দুর্ধর্ষ জাতি সিন্ধু সভ্যতার পতন ঘটিয়ে
ভারতে বৈদিক যুগের সূচনা করে।

তারা তাদের সঙ্গে নিয়ে এসেছিলো সংস্কৃত ভাষা, ঘোড়া এবং চতুর্বর্ণ ভিত্তিক সামাজিক কাঠামো।
ভারত: সোনার পাখি— এই উপমার শিকড়ে পৌঁছাতে গেলে ভারতের মূল সামাজিক ভিত
তৈরিতে এই সময়ের গুরুত্ব অপরিসীম।

তবে আধুনিক প্রত্নতাত্ত্বিক ও জিনতাত্ত্বিক গবেষণা (যেমন রাখিগড়ি খনন ও DNA পরীক্ষা)
এখন এই ‘আক্রমণ’ বা ‘অভিবাসন’— উভয় তত্ত্বকেই বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।

অনেক আধুনিক ঐতিহাসিক এখন মনে করেন,
আর্যরা আসলে বহিরাগত কোনো জাতি নয়, বরং তারা এই ভারতবর্ষেরই আদি নিবাসী
বা ভূমিপুত্র (Indo-Aryan-Indigenous Theory).

সিন্ধু সভ্যতা ও বৈদিক সংস্কৃতি আসলে একই নিরবচ্ছিন্ন সভ্যতার দুটো ভিন্ন পর্যায় মাত্র।
তারা তাদের নিজস্ব জ্ঞান, সংস্কৃত ভাষা এবং উন্নত সামাজিক কাঠামো দিয়ে ভারতকে
সমৃদ্ধ করেছিলো।

অর্থাৎ, ভারতের ইতিহাসের শুরুটা কোনো বিদেশি শক্তি দিয়ে নয়,
বরং নিজেদের ঘরের মানুষের হাত ধরেই হয়েছিলো।

এক সময় যা ‘রক্তক্ষয়ী আক্রমণ’ বলে ভাবা হত,
তা আসলে ছিলো ভারতের নিজস্ব সংস্কৃতির এক সুদীর্ঘ বিবর্তন ও রূপান্তর।

পারস্য আক্রমণ:

সাম্রাজ্যের হাতছানি

(৫৩৫ খ্রিস্টপূর্বাব্দ)

ভারতের ঐশ্বর্যের খবর প্রথম বিশ্বজয়ী পারস্য সম্রাটদের কানে পৌঁছায়।

ভারত: সোনার পাখি— এই খ্যাতিই সম্রাট সাইরাস এবং পরবর্তীতে প্রথম দারিয়ুস
উত্তর-পশ্চিম ভারতের সিন্ধু ও পাঞ্জাব অঞ্চলের দিকে আকর্ষণ করে।

এই আক্রমণের মূল উদ্দেশ্য ছিলো রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার এবং কর আদায়।

এই যোগাযোগের ফলেই ভারত প্রথম আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের স্বাদ পায়,
এবং খরোষ্ঠী লিপির মতো প্রশাসনিক কৌশল এর সঙ্গে পরিচিত হয়।

পারস্য সম্রাট দারিউস ভারতের উত্তর-পশ্চিম অংশ দখল করে,
একে তাঁর সাম্রাজ্যের ২০তম প্রদেশে পরিণত করে।

ঐতিহাসিকদের মতে, এই ১টা প্রদেশ থেকেই সে সবচেয়ে বেশি কর আদায় করতো,
যার পরিমাণ ছিলো বছরে প্রায় ৯ টন স্বর্ণরেণু।

যুদ্ধের মাধ্যমে তারা ভারতের ছোটো ছোটো রাজ্যগুলোর স্বাধীনতা কেড়ে নেয়,
এবং ভারতীয় বীরদের জোরপূর্বক পারস্যের সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করে
গ্রীসসহ অন্যান্য দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধে পাঠাতো।

এতে ভারতের প্রচুর ধনসম্পদ দেশের বাইরে চলে যায়,
ফলে স্থানীয় অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

পাশাপাশি রাজনৈতিক ঐক্য ভেঙে পড়ায় এই অঞ্চলটা দুর্বল হয়ে পড়ে,
যার সুযোগ নিয়ে পরবর্তীতে আলেকজান্ডার সহজেই ভারত আক্রমণ করতে পেরেছিলো।

আলেকজান্ডারের অভিযান:

প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মিলন

(৩২৬ খ্রিস্টপূর্বাব্দ)

আলেকজান্ডার যখন বিশ্বজয়ের নেশায় ভারত সীমান্তে এসে পৌঁছায়,
তখন ভারতের উত্তর-পশ্চিম অংশ ছিল খণ্ড-বিখণ্ড।

ঝিলামের যুদ্ধে রাজা পুরুর বীরত্ব আলেকজান্ডারকে মুগ্ধ করলেও,
গ্রীক বাহিনীর ক্লান্তিতে তিনি ফিরে যেতে বাধ্য হন।

আলেকজান্ডারের এই সংক্ষিপ্ত অবস্থান ভারতে গ্রীক-বৌদ্ধ শিল্পের (গান্ধার শিল্প) জন্ম দেয়,
এবং ইউরোপের সঙ্গে ভারতের সরাসরি স্থলপথ উন্মুক্ত হয়।

আলেকজান্ডার যখন ভারত আক্রমণ করে,
তখন তাঁর বিশাল বাহিনীর তাণ্ডবে উত্তর-পশ্চিম ভারতের অসংখ্য জনপদ ও গ্রাম
পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গিয়েছিলো।

বিশেষ করে মাসাগা ও সাঙ্গালের মত শহরগুলোতে সে কঠোর দমননীতি চালিয়ে
হাজার হাজার মানুষকে হত্যা ও বন্দী করে।

যদিও সে এখানে দীর্ঘস্থায়ী শাসন করতে পারেনি।

কিন্তু যুদ্ধের প্রয়োজনে সে স্থানীয় কৃষিজাত পণ্য এবং গবাদি পশু বড় পরিসরে লুণ্ঠন করেছিলো,
যা ভারতের সীমান্ত অঞ্চলের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দেয়।

এছাড়া তাঁর আক্রমণের ফলে উত্তর-পশ্চিম ভারতের ছোটো ছোটো স্বাধীন রাজ্যগুলোর
সামরিক শক্তি পুরোপুরি ভেঙে পড়ে।

এই রাজনৈতিক শূন্যতার সুযোগ নিয়েই পরবর্তীতে ভারতের মৌর্য সাম্রাজ্যের বিস্তার সহজ হয়েছিলো।

সেলিউসিড ইন্দো-গ্রীক আক্রমণ:

(৩০৫ – ১৮০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ)

আলেকজান্ডারের মৃত্যুর পর তার সেনাপতি সেলিউকাস ভারত দখলের চেষ্টা করে,

কিন্তু সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের বিশাল বাহিনীর কাছে পরাজিত হয়,
এর ফলে ভারতে মৌর্য সাম্রাজ্যের ভিত আরো শক্ত হয়।

ভারত: সোনার পাখি— এই ঐশ্বর্যের আকর্ষণই পরবর্তীকালে গ্রিক শক্তিগুলোকেও
বারবার উত্তর ভারতের দিকে টেনে এনেছিলো।

পরবর্তীতে ইন্দো-গ্রীক ডেমেট্রিয়াস এবং মিনান্দার উত্তর ভারত আক্রমণ করে।
তাদের মুদ্রাশৈলী এবং জ্যোতির্বিজ্ঞান ভারতের জ্ঞানভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করেছিলো।

এই আক্রমণের ফলে উত্তর-পশ্চিম ভারতের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা
বারবার বিঘ্নিত হয়েছিলো।

অর্থাৎ সেলিউকাস যখন ভারত আক্রমণ করে,
তখন দীর্ঘ যুদ্ধের ফলে সীমান্ত অঞ্চলের সাধারণ মানুষের জীবন ও সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষতি হয়।

যদিও চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের কাছে পরাজিত হয়ে সে সন্ধি করতে বাধ্য হয়,
কিন্তু এই যুদ্ধের খরচ মেটাতে এবং সীমান্ত রক্ষা করতে মৌর্যদের বিশাল সামরিক শক্তি
মোতায়েন রাখতে হয়েছিলো।

পরবর্তীতে ইন্দো-গ্রীক রাজারা যখন পাটলিপুত্র পর্যন্ত হানা দেয়,
তখন তাঁরা ভারতের প্রধান বাণিজ্য পথগুলো দখল করে নেয়।

এতে স্থানীয় বণিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, এবং যুদ্ধের কারণে অনেক বৌদ্ধ মঠ ও জনপদ লুণ্ঠিত হয়।

তবে এই আক্রমণের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক প্রভাব ছিলো ভারতের উত্তর-পশ্চিম সীমান্তে
এক অস্থির পরিবেশ তৈরি হওয়া।

এই পরিবেশ পরবর্তী কয়েকশো বছর ধরে বিদেশি শক্তিদের ভারতে প্রবেশের পথকে খুলে দিয়েছিলো।

শক ও হুন আক্রমণ:

যাযাবর শক্তির তান্ডব

(খ্রিস্টীয় ১ম ও ৫ম শতাব্দী)

মধ্য এশিয়ার দুর্ধর্ষ যাযাবর জাতির শক এবং পরবর্তীতে হুনরা ভারতে আক্রমণ চালায়।

বিশেষ করে শ্বেতাঙ্গ হুনদের (হেফথালাইট) আক্রমণে শক্তিশালী গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতন ত্বরান্বিত হয়।

(দেখুন) হুনরা ছিলো মূলত ধ্বংসাত্মক লুণ্ঠনকারী, যুদ্ধ প্রিয় জাতি। 

তাদের আক্রমণের ফলে ভারতের প্রাচীন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নষ্ট হয় এবং ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র
সামন্ততান্ত্রিক রাজ্যের উদ্ভব ঘটে।

শক আক্রমণের ফলে ভারতের পশ্চিম এবং উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলের বাণিজ্য পথগুলো
তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়, যার ফলে স্থানীয় রাজাদের রাজস্ব কমে যায়।

তবে সবচেয়ে ভয়াবহ ছিল হুন আক্রমণ।
তারা দেশের মধ্যে কোনো দেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে আসেনি, তাদের একমাত্র লক্ষ্য ছিলো ধ্বংস।

হুন নেতা মিহিরকুলের নিষ্ঠুরতায় উত্তর ভারতের অসংখ্য গ্রাম জনশূন্য হয়ে পড়েছিল।
তারা কেবল মানুষের প্রাণই নেয়নি,

বরং হুন আক্রমণের ফলে বহু মঠ, শিক্ষাকেন্দ্র ও জনপদ ধ্বংস হয়,
যার ফলে ভারতের জ্ঞানচর্চা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। 

এই বিশাল ধ্বংসযজ্ঞের কারণে ভারতের কেন্দ্রীয় শাসন ব্যবস্থা
এতটাই দুর্বল হয়ে পড়ে যে, দেশ ছোটো ছোটো রাজ্যে বিভক্ত হয়ে যায়—

যা পরবর্তীতে তুর্কি আক্রমণকারীদের কাজ অনেক সহজ করে দিয়েছিলো।


( ভুল কি শুধু মানুষই করে?

না– ভুল ইতিহাসও করে।

সময়ের পুরু চাদরের নিচে চাপা পড়ে থাকে অনেক সত্যি।

কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে ওপরে উঠে আসে এমন সব নাম,

যাদের সঙ্গে সেই সত্যির সম্পর্ক খুবই সামান্য।

পড়ুন আমাদের ভারতেরই কোন কোন সেই আবিষ্কার,
যা চুরি হয়েছে। 

Click:
ভারতের প্রাচীন আবিষ্কার: যেগুলোর কৃতিত্ব লুঠ করা হয়েছে! )

———————————-

আরব আক্রমণ:

মোহাম্মদ বিন কাসিম (৭১২)

ভারতের ইতিহাসে ইসলামিক শাসনের প্রথম পদধ্বনি শোনা যায়
আরব সেনাপতি মোহাম্মদ বিন কাসিমের সিন্ধু জয়ের মাধ্যমে।

এই অভিযানের পিছনে যেমন ছিলো রাজনৈতিক কারণ,
তেমনই ছিলো আরব বণিকদের নিরাপত্তার প্রশ্ন।

তবে এই শাসনের শুরুটা ছিলো মিশ্র অভিজ্ঞতার।

প্রাথমিক পর্যায়ে কাসিমের সেনাবাহিনী যখন সিন্ধুর দেবল বন্দর
এবং একের পর এক শহর জয় করে, তখন তারা স্থানীয় রাজকোষ থেকে
বিপুল পরিমাণ সোনা ও মণিমাণিক্য হস্তগত করে।

ঐতিহাসিক তথ্য মতে, লুটের মালের একটা বিশাল অংশ সরাসরি দামেস্কে
খলিফার দরবারে পাঠানো হয়েছিলো, যা ভারতের সম্পদ বিদেশে পাচারের অন্যতম প্রাচীন উদাহরণ।

এই যুদ্ধে প্রচুর স্থানীয় সৈন্য ও সাধারণ মানুষ প্রাণ হারায় এবং সিন্ধুর প্রশাসনিক কাঠামো ভেঙে পড়ে।

যুদ্ধের প্রাথমিক ধাক্কায় সিন্ধু ও পাঞ্জাবের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়েছিলো।

জিজিয়া কর আরোপ এবং কিছু ক্ষেত্রে মন্দির ধ্বংসের মতো ঘটনা ঘটলেও,
কাসেম প্রশাসনিক প্রয়োজনে স্থানীয়দের নিয়োগ দিয়েছিলেন।

তবে যে ‘ধর্মীয় সহাবস্থানের’ কথা বলা হয়, তা এই প্রাথমিক রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অনেক পরে,
বিশেষ করে সুফি সাধকদের প্রভাব এবং সম্রাট আকবরের উদারনীতির ফলে পূর্ণতা পেয়েছিলো।

কিন্তু জ্ঞান-বিজ্ঞানের দিক থেকে এই যোগাযোগ ছিল গুরুত্বপূর্ণ;
কারন সিন্ধু জয়ের মাধ্যমে আরবরা ভারতের গণিত,
চিকিৎসাশাস্ত্র এবং দর্শন গ্রহণ করে তা ইউরোপে ছড়িয়ে দিয়েছিলো।

সুলতান মাহমুদ:

মন্দিরের ধন-সম্পদ

ও ১৭ বার আক্রমণ

(১০০০-১০২৭ খ্রিষ্টাব্দ)

গজনীর সুলতান মাহমুদের ভারত আক্রমণের মূল উদ্দেশ্য ছিলো নিছক লুণ্ঠন।
ভারত: সোনার পাখি— এই পরিচয়েই সে দেশটাকে দেখত, এক অশেষ সম্পদের ভান্ডার হিসেবে।

সে বিপুল পরিমাণ সোনা, হীরে ও জহরত আফগানিস্তানে নিয়ে যায়।

যদিও সে ভারতে কোনো স্থায়ী শাসন প্রতিষ্ঠা করেনি,
তবে তাঁর আক্রমণ ভারতের পরবর্তী মুসলিম শাসনের পথ প্রশস্ত করে দেয়।

সুলতান মাহমুদ ভারতকে কেবল সম্পদের ভান্ডার হিসেবে দেখত।

তাঁর ১৭ বার আক্রমণের ফলে উত্তর ভারতের প্রতিটা বড় শহরের রাজকোষ

শূন্য হয়ে গিয়েছিলো।

বিশেষ করে সোমনাথ মন্দির থেকে সেই ব্যক্তি তৎকালীন হিসেবে
বিপুল, কল্পনাতীত সোনা ও অলঙ্কার লুট করে।

এই সম্পদ দিয়ে সে গজনীতে বিশাল প্রাসাদ ও গ্রন্থাগার তৈরি করেছিলো,

যার অর্থ মূলত ছিলো ভারতের সাধারণ মানুষের করের টাকা।

যুদ্ধের সময় সে হাজার হাজার নিরীহ মানুষকে হত্যা করে,
এবং প্রায় ৫০ হাজার মানুষকে দাস হিসেবে আফগানিস্তানে নিয়ে যায়।

তাঁর এই ধ্বংসাত্মক অভিযানের ফলে ভারতের সামরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ মুখ থুবড়ে পড়ে,
যা পরবর্তীকালে বিদেশি শক্তির জন্য দিল্লি পর্যন্ত রাস্তা পরিষ্কার করে দিয়েছিলো।

মুহাম্মদ ঘুরি:

দিল্লি সালতানাতের ভিত্তি

(১১৭৫-১২০৬ খ্রিষ্টাব্দ)

মাহমুদ এসেছিলেন লুণ্ঠন করতে, কিন্তু মুহাম্মদ ঘুরি এসেছিলেন সাম্রাজ্য স্থাপন করতে।

তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধে পৃথ্বীরাজ চৌহানকে পরাজিত করার মাধ্যমে সে ভারতে
স্থায়ী মুসলিম শাসনের বীজ বপন করে।

তাঁর সেনাপতি কুতুবউদ্দিন আইবকের হাত ধরেই দিল্লিতে সুলতানি আমল শুরু হয়।

মুহাম্মদ ঘুরির সাথে ভারতীয় রাজাদের যুদ্ধগুলো ছিলো অত্যন্ত ভয়াবহ এবং রক্তক্ষয়ী।

তাঁর এই অভিযানের ফলে ভারতের প্রাচীন হিন্দু ও বৌদ্ধ রাজবংশগুলোর পতন ঘটে।

তবে সবচেয়ে বড় সাংস্কৃতিক আঘাত ছিলো তাঁর সেনাপতি বখতিয়ার খলজির হাতে
নালন্দা ও বিক্রমশিলা বিশ্ববিদ্যালয়ের ধ্বংস।

কয়েক লক্ষ দুষ্প্রাপ্য পান্ডুলিপি পুড়িয়ে দেওয়া হয়,
যা ভারতের জ্ঞান চর্চাকে কয়েক হাজার বছর পিছিয়ে দিয়েছিলো।

যদিও ঐতিহাসিকদের মতে, নালন্দা কেবল এক দিনের আক্রমণে ধ্বংস হয়নি;
দীর্ঘকাল ধরে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা, হিন্দু ও বৌদ্ধ রাজাদের দ্বন্দ্ব
এবং তিব্বতি আক্রমণের ফলে এটা আগে থেকেই কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছিলো।

তবে খলজির আক্রমণ ছিলো সেই সমৃদ্ধ জ্ঞানভাণ্ডারের জন্য ‘মড়ার উপরে খাঁড়ার ঘা।’

এই যুদ্ধের ফলে উত্তর ভারতের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নষ্ট হয়,
এবং বহু ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য ও মন্দির ভেঙে ফেলা হয়।

সাধারণ মানুষের উপর যুদ্ধের বিশাল খরচ মেটাতে গিয়ে করের বোঝা বেড়ে গিয়েছিল,
যা জনজীবনকে অতিষ্ঠ করে তোলে।

মঙ্গোল ও তৈমুর লং:

রক্তক্ষয়ী দিল্লী লুণ্ঠন

(১৩৯৮ খ্রিষ্টাব্দ)

চেঙ্গিস খানের মঙ্গোল বাহিনী বারবার সীমান্তে হানা দিলেও,
তৈমুর লংয়ের আক্রমণ ছিল বিধ্বংসী।

তুঘলক বংশের পতনের সময় সে দিল্লি আক্রমণ করে।

ঐতিহাসিকদের মতে তৈমুর দিল্লির রাজকোষ সম্পূর্ণ খালি করে দিয়েছিলো,
এবং কয়েক দিন ধরে চলা হত্যাযজ্ঞে শহরটা মৃত নগরীতে পরিণত হয়েছিলো।

তার এই লুণ্ঠন ছিলো ইতিহাসের অন্যতম নিষ্ঠুর অধ্যায়।

(পড়ুন) তৈমুর লং যখন দিল্লি আক্রমণ করে,
তখন সে যে পরিমাণ ধ্বংসলীলা চালিয়েছিলেন তা বর্ণনার অতীত।

মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে সে দিল্লির কয়েক লক্ষ (আনুমানিক) মানুষকে
পাইকারি হারে হত্যা করেছিলো,

যার ফলে শহরের বাতাস লাশের গন্ধে বিষিয়ে উঠেছিলো।

সে দিল্লির রাজকোষ থেকে কয়েক হাজার উট বোঝাই করে,
হীরে, জহরত এবং সোনা লুট করে সমরখন্দে নিয়ে যায়।

তাঁর আক্রমণের ফলে দিল্লিতে এমন দুর্ভিক্ষ ও মহামারী দেখা দিয়েছিলো যে,
প্রায় ২ মাস শহরটা সম্পূর্ণ জনমানবশূন্য হয়ে গিয়েছিলো।

এই লুণ্ঠন ও হত্যাযজ্ঞ তুঘলক বংশের মেরুদন্ড ভেঙে দেয়,
এবং ভারতের কেন্দ্রীয় শাসনব্যবস্থাকে চূড়ান্তভাবে দুর্বল করে ফেলে।

মুঘল আক্রমণ:

বাবর ও এক নতুন সাম্রাজ্য

(১৫২৬ খ্রিষ্টাব্দ)

জহিরুদ্দিন মুহাম্মদ বাবর পানিপথের প্রথম যুদ্ধে ইব্রাহিম লোদীকে পরাজিত করে
মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে।

মুঘলরা লুণ্ঠনকারী হিসেবে এলেও তারা ভারতকে নিজেদের মাতৃভূমি হিসেবে গ্রহণ করে।

তারা ভারতের সম্পদ বাইরে পাচার না করে এখানেই স্থাপত্য,
শিল্প এবং সংস্কৃতিতে বিনিয়োগ করে,
যা ভারতকে বিশ্বের অন্যতম ধনী রাষ্ট্রের পরিণত করেছিলো।

মুঘলরা অন্যান্য আক্রমণকারীদের মত ভারতের সম্পদ লুট করে নিজের দেশে পালিয়ে যায়নি,
বরং তারা ভারতের অংশ হিসেবেই থেকে গিয়েছিলো।

বাবরের পানিপথ অভিযানের সময় যুদ্ধে নতুন প্রযুক্তির (কামান ও বারুদ) ব্যবহারে
জীবন ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হলেও, পরবর্তীতে আকবর ও শাহজাহানের আমলে
ভারত বিশ্বের সবচেয়ে সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হয়।

তবে মুঘল শাসনের শেষ দিকে উত্তরসূরীদের দুর্বলতার সুযোগে বারবার বিদ্রোহ
ও গৃহযুদ্ধ শুরু হয়, যা ভারতের অভ্যন্তরীণ শান্তি ও শৃঙ্খলা নষ্ট করে দেয়।

মুঘলদের এই ঐশ্বর্যই পরবর্তীতে ইউরোপীয় বণিকদের এদেশে আসার আরেক

মূল প্রলোভন হিসেবে কাজ করেছিলো।

নাদির শাহ ও আহমদ শাহ আবদালি:

মুঘল সাম্রাজ্যের কফিনের

শেষ পেরেক (১৭৩৯-১৭৬১)

মোগল শক্তি যখন দুর্বল হতে শুরু করে তখন পারস্যের নাদির শাহ দিল্লি আক্রমণ করে বসে।

সে সম্রাট শাহজাহানের অমর সৃষ্টি ‘ময়ূর সিংহাসন’ এবং বিশ্ববিখ্যাত ‘কোহিনূর হিরে’ লুট করে নিয়ে যায়।

এরপর আফগান শাসক আহমেদ সহ আবদালি বার বার আক্রমণ চালিয়ে
ভারতের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দেন।

নাদির শাহের দিল্লি আক্রমণ ছিলো ভারতের ইতিহাসের অন্যতম কালো অধ্যায়।
মাত্র ১ দিনের ‘কতল-এ-আম’ বা সাধারণ হত্যাকাণ্ডে সে দিল্লির প্রায় ৩০ হাজার মানুষকে হত্যা করেছিলো।

সে মুঘল সম্রাট মুহাম্মদ শাহুকে পরাজিত করে দিল্লির রাজকোষ থেকে
প্রায় ৭০ কোটি টাকা মূল্যের সম্পদ লুট করে।

এর মধ্যে ছিল শাহজাহানের রত্নখচিত ‘ময়ূর সিংহাসন’ এবং জগৎবিখ্যাত ‘কোহিনূর’ হীরে।

এই ব্যক্তি এতটাই সম্পদ লুট করেছিলো যে, পারস্যে ফিরে গিয়ে সে তাঁর দেশের মানুষের
৩ বছরের সমস্ত কর মওকুফ করে দিয়েছিলো।

এই লুণ্ঠন মুঘল সাম্রাজ্যের অর্থনৈতিক মেরুদন্ড টুকরো টুকরো করে দিয়েছিল,
এবং ভারতকে বিদেশিদের কাছে একটা ‘অরক্ষিত সম্পদের ভাণ্ডার’ হিসেবে তুলে ধরে।

ইউরোপীয় শক্তি ও ব্রিটিশ শোষণ:

ধূর্ত লুণ্ঠনের ইতিহাস

পর্তুগিজ, ওলন্দাজ এবং ফরাসিদের পথ ধরে ব্রিটিশরা ভারতে আসে।

ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কোনো দস্যুর মত তলোয়ার নিয়ে আসেনি,

তারা এসেছিল বাণিজ্যের ছদ্মবেশে।

১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধের পর তারা ভারতের শাসনভার দখল করে।
ব্রিটিশরা ছিলো ভারতের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ‘অর্থনৈতিক লুণ্ঠনকারী।’

আধুনিক অর্থনীতিবিদ উৎসা পটনাইকের হিসেব অনুযায়ী—

তারা প্রায় ১৯০ বছরে ভারত থেকে বর্তমান মূল্যে প্রায় ৪৫ ট্রিলিয়ন ডলার
সমপরিমাণ সম্পদ ব্রিটেনে পাচার করেছে।

তাদের শোষণে ভারতের সমৃদ্ধ কুটির শিল্প ধ্বংস হয় এবং দেশটাতে বারবার দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়।

ব্রিটিশদের লুণ্ঠন ছিলো অন্য সবার চেয়ে আলাদা এবং অত্যন্ত ধূর্ত।

সুলতান মাহমুদ বা নাদির শাহ সম্পদ নিয়েছিলেন তলোয়ারের জোরে,

কিন্তু ব্রিটিশরা সম্পদ নিয়েছে আইনের মার-প্যাঁচে এবং শুল্কনীতির মাধ্যমে।

পলাশীর যুদ্ধের পর থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত তারা ভারত থেকে প্রায় রাশি রাশি সম্পদ
নিয়ে গিয়ে নিজেদের দেশের পেট ফুলিয়েছে।

ব্রিটিশদের জোরপূর্বক নীল চাষ এবং উচ্চ হারে খাজনা আদায়ের ফলে
‘ছিয়াত্তরের মন্বন্তর’ এর মত দুর্ভিক্ষে কোটি কোটি মানুষ প্রাণ হারায়।

ভারতের সমৃদ্ধ মসলিন ও বস্ত্র শিল্পকে তাঁরা পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করে দেয়,
যাতে বৃটেনের কারখানার পণ্য এখানে বিক্রি করা যায়।

ব্রিটিশদের এই দীর্ঘমেয়াদী শোষণ ভারতকে বিশ্বের অন্যতম ধনী দেশ থেকে একটা দরিদ্র
ও দুর্ভিক্ষপীড়িত দেশে পরিণত করেছিলো।

ভারতের আদর্শের উচ্চতা:

“বসুধৈব কুটুম্বকম”
“অতিথি দেবো ভবঃ”

অর্থাৎ ভারতবর্ষ যুগে যুগে বিশ্বাস করে এসেছে ‘পুরো বিশ্বই একটা পরিবার।’
এদেশের সংস্কৃতি আমাদের শিখিয়েছে— ‘অতিথিকে দেবতার মত সম্মান করতে।’

ইতিহাসের নির্মম পরিহাস হলো,
ভারতের এই উদারতাকেই আক্রমণকারীরা আমাদের দুর্বলতা ভেবেছে।

যাদের আমরা অতিথি হিসেবে জায়গা দিয়েছি,
তারাই নেকড়ের মত এদেশের বুক চিরে সম্পদ লুট করে নিয়ে গেছে।

ভারতের উপর যুগে যুগে বিদেশী নেকড়েদের এই যে সীমাহীন লোভ লালসা
আর উন্মত্ত আকাঙ্ক্ষার ইতিহাস আপনি জানলেন— তা এক কথায় শিউরে ওঠার মত।

হাজার বছর ধরে একটা দেশ কিভাবে বার বার ক্ষতবিক্ষত হয়েও টিকে আছে,
তা ভাবলে অবাক হতে হয়।

এই বিশাল ভূখণ্ড হাজার হাজার বছর ধরে অসংখ্যবার আক্রান্ত হলেও,

ভারতবর্ষ তার সুদীর্ঘ ইতিহাসে কখনো কোনো ভিনদেশী ভূখণ্ডে গিয়ে

সেখানকার মানুষের উপর এমন পাশবিক বা নৃশংস অত্যাচার চালায়নি,
বা পরিকল্পিত লুণ্ঠন ও দাস ব্যবস্থার উপরে গিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলো না। 

মূল কারণ আসলে ভারতের তা করার কোনোদিন কোনো প্রয়োজনই পড়েনি—

সভ্যতা, সংস্কৃতি ঐতিহ্য, জ্ঞান-বিজ্ঞান,ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প আর শিক্ষায় ছিলো

মহাসমুদ্রের চেয়েও গভীর ও হিমালয়ের চেয়েও উন্নত ও দৃঢ়।

যেখানে আমাদের জ্ঞানভাণ্ডার আর আত্মিক ঐশ্বর্য গোটা বিশ্বকে পথ দেখাতো,
সেখানে অন্যের ধূলোকণা পরিমাণ সম্পদের প্রতি লোভ করার কোনো প্রশ্নই আসে না।

ভারত লুণ্ঠন করে নয়, বরং নিজের শ্রেষ্ঠত্ব ও গভীরতা দিয়ে গোটা বিশ্বকে ঋণী করে রেখেছিলো।


( আর এই চার দিকের প্রতিটা শ্বাসকে নিরাপদ রাখতে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে,

যে মানুষগুলো নিজেদের ঘুম, আরাম, স্বপ্ন– সব কবরে মাটি চাপা দিয়ে রাখে,

তারা সাধারণ সৈনিক নয়, তারা সেই দুর্ধর্ষ বিশেষ মানুষ, যাদের আমরা গর্বের সাথে

চিনে নিই ভারতের Top 10 কমান্ডো বাহিনী হিসেবে।

তাদের প্রতিটা পদক্ষেপই একেকটা সতর্কতা।
প্রতিটা নিঃশ্বাসই একেকটা অঙ্গীকার–

“কেউ থাকবে না, কিছু থাকবে না, তবুও আমরা থাকব–
দেশের শেষে দাঁড়িয়ে, শত্রুর মৃত্যুর দূত হয়ে।”

এরা দেশের সবচেয়ে দুর্ধর্ষ, নিঃশব্দ, ভয়হীন, সর্বোচ্চ প্রশিক্ষিত যোদ্ধা।
যাদের মুল মন্ত্র– “Mission First. Failure Never.”

জেনে নিন ভারতের সেই Top 10 কমান্ডো বাহিনী।
Click: ভারতের Top 10 কমান্ডো বাহিনী, মৃত্যুকে যারা পায়ের নিচে পিষে দেয়! )

——————————-

ভারত: সোনার পাখি,

সম্পদ যদি হারানো না যেত

এবারে ভাবুন…সেই প্রাচীনকাল থেকে যদি ভারতের লুণ্ঠনের শিকার না হতো,
আর রাজনীতির পেটে স্বচ্ছতা থাকতো, তবে আজকের ভারতের চিত্রটা কেমন হতো?

ভারতের সম্পদ কোনো সাধারণ অঙ্ক ছিলো না।

সুদূর অতিতে যখন বিশ্বের অনেক দেশ সভ্যতার পাঠ শিখছে,
তখন ভারত ছিলো জ্ঞান-বিজ্ঞান আর সম্পদের এক মহাসমুদ্র।

ব্রিটিশ অর্থনীতিবিদ অ্যাঙ্গাস ম্যাডিসিনের তথ্য অনুযায়ী,
১৭০০ সাল পর্যন্ত বিশ্ব অর্থনীতির প্রায় ২৫% থেকে ২৭% একা ভারতের হাতে ছিলো।

অর্থাৎ পৃথিবীর মোট সম্পদের ৪ ভাগের ১ ভাগই ছিলো এই ভূখণ্ডের।

যদি সুলতান মাহমুদ থেকে শুরু করে নাদির শাহ বা ব্রিটিশরা ভারতের এই হাজার হাজার
লক্ষ কোটি টাকার সম্পদ বাইরে পাচার না করতো,

তবে আজকের ভারত কোনো উন্নয়নশীল দেশ নয়, বরং হতো বিশ্বের একমাত্র “অর্থনৈতিক পরাশক্তি।” 

আমাদের নালন্দা, তক্ষশীলার জ্ঞানভাণ্ডার যদি পুড়িয়ে দেওয়া না হতো,
তবে আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রতিটা বড় আবিষ্কারের পেটেন্ট থাকতো ভারতের নামে।

ভারত: সোনার পাখি,

বর্তমান ও আগামীর সম্ভাবনা

দুর্ভাগ্যবশতঃ ভারতের ঘাড় থেকে শত্রু বোধহয় আর কোনোদিনও নামবে না।

আগে ছিলো বাইরের শত্রু বেশি, এখন হয়েছে ঘরের শত্রু বিভীষণ।

ভারত: সোনার পাখি
যে দেশ একদিন বহিঃশক্তির লোভের কেন্দ্র ছিলো, স্বাধীনতার পরও সেই লুণ্ঠন অব্যহত।
বিদেশীরা চলে যাওয়ার পরও আধুনিক ভারতের একশ্রেণীর স্বার্থান্বেষী মানুষ
ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব সেই লুণ্ঠনের ধারা বজায় রেখেছে।

বিদেশের ব্যাঙ্কে ভারতের যে পরিমাণ কালো টাকা আজ জমে আছে,

তা যদি দেশের অবকাঠামো, চিকিৎসা আর শিক্ষায় সঠিকভাবে ব্যবহৃত হতো,

তবে ভারত আজ ১৯৫ টা দেশের শীর্ষে বসে বিশ্বকে নেতৃত্ব দিত।

দারিদ্র্য বা বেকারত্ব কেবল ইতিহাসের পাতায় থাকতো।

তবে তিক্ত সত্য হলো, নাঢ্য বা স্বার্থান্বেষী প্রভাবশালীরা কখনোই চায়না
ভারতের সাধারণ মানুষ আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হোক;

কারণ সবাই সমান বিত্তশালী হয়ে গেলে,
তাদের শাসন ও শোষণের জন্য আর কোনো ভেদাভেদ বা নিচু শ্রেণী অবশিষ্ট থাকবে না।

পরিশেষে বলা যায়, ভারতকে কেবল একটা ভূখণ্ড নয়, এটা একটা অমর সভ্যতা।

ইতিহাস আমাদের বারবার মনে করিয়ে দেয়—

আমরা যখনই আমাদের নিজেদের একতা হারিয়েছি,

তখনই বাইরের নেকড়েরা আমাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে।

আজ সেই ভুল শুধরে নিয়ে এগোতে পারলেই ভারত আবার
তার হারানো মুকুট ও গৌরব ফিরে পাবে।

——————————-

( সুভাষচন্দ্র বসু প্রতিষ্ঠিত আজাদ হিন্দ ফৌজ থেকে
লুট করা জনগণের সম্পদ ঠিক কি হয়েছিলো শেষ পর্যন্ত?

কারা আত্মসাৎ বা তছনছ করেছিলো এই টাকা?

১৯৪৫ সালের সেই তপ্ত অগাস্টে যখন ভারতবর্ষ
স্বাধীনতার প্রহর গুনছে,

ঠিক তখনই এক গভীর ষড়যন্ত্রের মেঘ
ঘনিয়ে এসেছিলো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আকাশে।

পড়ুন– Click: নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু:
আজাদ হিন্দ ফৌজের বিপুল সম্পত্তি তবে কারা লুট করেছিলো– ভয়ঙ্কর সত্য! )

এ বিষয়ে আপনি কি বলেন?
আমার সাথে কি আপনি একমত?

ইমেইল আইডি দিয়ে যুক্ত হন

We don’t spam! Read our privacy policy for more info.

About Articlesবাংলা

Articlesবাংলা
Welcome to Articlesবাংলা – a vibrant hub of words, ideas, and creativity. This website is the personal archive and creative expression of Tanmoy Sinha Roy, a passionate writer who has been exploring the art of writing for more than seven years. Every article, prose-poem, and quotation you find here reflects his journey, experiences, and dedication to the written word. Articlesবাংলা aims to inspire readers by offering thought-provoking insights, celebrating the richness of Bengali language and literature, and creating a space where ideas, imagination, and culture connect. Whether you are seeking literary reflections, prose-poems, diverse articles, or meaningful quotations, you are invited to explore, reflect, and be inspired.

Check Also

সুভাষচন্দ্র বসু এবং আজাদ হিন্দ ফৌজের লুণ্ঠিত রাজকোষ ও ঐতিহাসিক ষড়যন্ত্রের প্রতীকী চিত্র।

নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু: আজাদ হিন্দ ফৌজের সম্পত্তি লুটের ভয়ঙ্কর সত্য!

সুভাষচন্দ্র বসু প্রতিষ্ঠিত আজাদ হিন্দ ফৌজ থেকে লুট করা জনগণের সম্পদ ঠিক কি হয়েছিলো শেষ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *