Articlesবাংলায় আপনাকে স্বাগত! এই ওয়েবসাইট আধুনিকতার আলোয় মুড়ে, আপনাদের জন্য একটু ভিন্ন ভাবনায়, একটু নতুন ধাঁচে সাজানো চিন্তার এক নতুন সৃষ্ট দ্বীপ। এই একই ওয়েবসাইটে আপনি খুঁজে পাবেন নানান বিষয়ের উপর দুর্দান্ত, ব্যতিক্রমী ও প্রশ্ন ছুঁড়ে দেওয়া সব লেখা—যেখানে প্রতিটা শব্দ কেবল পড়ে ফেলার জন্য নয়, বরং ভাবনার গভীরে নেমে যাওয়ার এক নীরব আহ্বান। এখানে রহস্য-রোমাঞ্চ যেমন হাত ধরাধরি করে হাঁটে, তেমনই প্রেম আর বিরহ মিশে যায় দর্শন ও বিজ্ঞানের এক অপূর্ব মেলবন্ধনে। আইন, সমাজ, রাজনীতি ও প্রযুক্তির কঠিন প্রশ্নগুলো এখানে মুখোশ পরে না— সংযত গভীরতায়, বাস্তবতার ভাষায় নিজেকে প্রকাশ করে। গদ্য কবিতা আর কোটেশনের শেষে লুকিয়ে থাকে অজানা অনুভূতি, হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া মনস্তত্ত্ব আর নীরব উপলব্ধির ছায়া। একজন প্রকৃত বাঙালি হয়ে, যদি বাংলা শব্দের সেই অনন্ত শক্তিকে জানতে চান, চিনতে চান তার গভীরতা, আর মন-প্রাণ দিয়ে অনুভব করতে চান বাংলা ভাষার আত্মাকে— তাহলে আপনি একদম ঠিক জায়গাতেই এসেছেন। তাই পাশে থাকুন, সাথে থাকুন— আমাদের সঙ্গে জুড়ে ‘বাঙালির পরিবার’ হয়ে এক আত্মায়, এক চেতনায়। ইমেইল আইডি দিয়ে Articlesবাংলায় বাঙালির পরিবারের ঘরের মানুষ হয়ে উঠুন। চলুন বাঙালিকে বিশ্বের দরবারে বারবার তুলে ধরি— চিন্তা, চেতনা আর শব্দের শক্তিতে— একসাথে, সবাই মিলে। বিশ্ব জানুক— আমাদের ভারত কি? বাঙালি কি? 🙏 🙋‍♂️ 🙏
Breaking News

লন্ডন ও অক্সফোর্ডের আভিজাত্যে ভারতীয় রক্তের দাগ!

শ্মশানের উপর অট্টালিকা:

ভারতের রক্ত

ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লব

সভ্যতার মুখোশ ও

লুণ্ঠনের রসায়ন:

ব্রিটিশ লুণ্ঠনের ইতিহাস ও তার বিচার করলে দেখা যায়, ইতিহাস বড়ই
বিচিত্র এক আদালত।

এখানে জয়ীরাই আইন লেখে, আর পরাজিতদের রক্ত দিয়ে সেই আইনের কালি তৈরি হয়।

আজ আমরা যে ঝকঝকে লন্ডন, বাকিংহাম প্যালেস বা অক্সফোর্ড-কেমব্রিজের
আভিজাত্য দেখি, তার প্রতিটা ইটের নিচে চাপা পড়ে আছে কয়েক কোটি
ভারতীয় কৃষকের হাহাকার, আর লুণ্ঠিত সম্পদের দীর্ঘশ্বাস।

শিল্প বিপ্লবকে প্রায়শই এক স্বর্গীয় মেধার স্ফুরণ হিসেবে দেখানো হয়,
যেন জেমস ওয়াট বা রিচার্ড আর্করাইটরা হঠাৎ একদিন আকাশ থেকে পড়া বুদ্ধিতে
পৃথিবীকে যান্ত্রিক করে তুলেছিলেন।

কিন্তু এই যান্ত্রিক সভ্যতার নেপথ্যে ছিল এক সুপরিকল্পিত লুণ্ঠনের ইতিহাস,
যা ভারতবর্ষের ধমনী ছিঁড়ে, রক্ত শুষে নিয়ে লন্ডনের টেমস নদীতে জোয়ার এনেছিল।

জেমস ওয়াটের নেপথ্য কারিগর:

মেধা যখন পুঁজির দাস

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ইতিহাসে (পড়ুন) জেমস ওয়াট এক প্রাতঃস্মরণীয় নাম, কিন্তু তাঁর এই মেধা
কেবল ব্যক্তিগত প্রতিভায় বিকশিত হয়নি।

বাষ্প ইঞ্জিনকে একটা কার্যকর ও বাণিজ্যিক শক্তিতে রূপান্তর করার জন্য প্রয়োজন ছিলো
বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ বা ‘ক্যাপিটাল।’

ব্রিটিশ লুণ্ঠনের ইতিহাস আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে—
ওয়াটের এই উদ্ভাবন সম্ভব হয়েছিলো এমন এক অর্থনৈতিক পরিবেশে,
যার ভিত্তিটা উপনিবেশিক লুটের মাধ্যমেই শক্ত হয়েছিলো।

অর্থাৎ, ওয়াটের উদ্ভাবন বাস্তবে রূপ পেয়েছিল তার ব্যবসায়িক অংশীদার
ম্যাথিউ বোল্টনের হাত ধরে।

বোল্টন যে বিপুল অর্থ ওয়াটের প্রজেক্টে ঢেলেছিলেন, তা কোনো আকাশ থেকে
পড়া সম্পদ ছিল না।

তৎকালীন ব্রিটিশ ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার তারল্য বা পুঁজির প্রধান উৎস ছিলো ইস্ট ইন্ডিয়া
কোম্পানির মাধ্যমে ভারত থেকে লুণ্ঠিত সম্পদ এবং অমানবিক দাস ব্যবসা।

সুতরাং পরোক্ষভাবে হলেও এটা একটা নগ্ন অর্থনৈতিক বাস্তবতা যে—

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি যদি ভারতে আধিপত্য বিস্তার না করতো এবং সেই লুণ্ঠিত ধন
লন্ডনের ব্যাংকগুলোকে শক্তিশালী না করতো,

তবে জেমস ওয়াট ও তাঁর বাস্প ইঞ্জিন দারিদ্র্যের কষাঘাতে হয়তো আঁতুড়ঘরেই
দম ফুরিয়ে মরে যেত।
এটা কোন নিছক বিনয় নয়, বরং ইতিহাসের এক চিরন্তন, গাণিতিক সত্য।

সোনার পাখির পালক ছেঁড়া:

সম্পদ নিষ্কাশনের জাদুঘর

ভারতকে এক সময় ‘সোনার পাখি’ বলা হত।
ব্রিটিশ লুণ্ঠনের ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ব্রিটিশরা সেই পাখির পালক ছিঁড়ে,
নিজেদের আভিজাত্যের লেপ তৈরি করেছিলো।

অর্থনীতিবিদদের গবেষণা অনুযায়ী, পলাশীর যুদ্ধের পর মীরজাফরের কোষাগার
থেকে লুণ্ঠিত সম্পদ যখন ইংল্যান্ডে পৌঁছতে শুরু করে,

ঠিক তখনই সেখানে (পড়ুন) শিল্প বিপ্লবের বিস্ফোরণ ঘটে।

এখানে একটা ঐতিহাসিক সূক্ষ্মতা মনে রাখা জরুরী— পলাশীর যুদ্ধ কোনো একক
মুহূর্তে শিল্প বিপ্লব ঘটায়নি।

বরং পলাশীর পর শুরু হওয়া সম্পদ সঞ্চয় পরবর্তী কয়েক দশকে ইংল্যান্ডে শিল্পায়নের
জন্য অনুকূল অর্থনৈতিক পরিবেশ তৈরি করে, যার উপরে দাঁড়িয়েই শিল্প বিপ্লব তার
পূর্ণ রূপ পায়।

ভারতের এই বিপুল ধন-দৌলত যখন ধীরে ধীরে লন্ডনের আর্থিক ব্যবস্থায় সঞ্চারিত
হতে শুরু করলো, তখন বাষ্প ইঞ্জিনের মতো ব্যয়বহুল ও ঝুঁকিপূর্ণ প্রজেক্টগুলো
আলোর মুখ দেখার সুযোগ পেল।

বাংলার সমৃদ্ধ মসলিন কারিগরদের আঙুল ব্রিটিশরা প্রত্যক্ষভাবে কেটে দেওয়ার
কাহিনী ইতিহাসে রূপক হিসেবে পরিচিত হলেও, বাস্তবে তাদের জীবিকা বাজার
ও সম্মান পরিকল্পিতভাবে কেটে নেওয়া হয়েছিল।

কেন?

যাতে ল্যাঙ্কাশায়ারের কলকারখানার মোটা কাপড় ভারতের বাজারে
একচেটিয়া রাজত্ব করতে পারে।

এটাই ছিল ব্রিটিশদের মুক্ত বাণিজ্য দর্শনের আসল স্বরূপ—

এই ‘মুক্ত বাণিজ্য’ আদতে মুক্ত ছিলো না; এটা ছিলো রাষ্ট্রের শক্তি ও বন্দুকের জোরে
চাপানো একতরফা বাণিজ্য— যেখানে শাসক ঠিক করতো কে বিক্রি করবে,
আর প্রজা শুধু কিনতে বাধ্য থাকবে।

আর সব ঐতিহাসিক প্রমাণের রেকর্ড তো থাকে না, বা রাখা হয় না।
তাই এই ট্র্যাজেডি একেবারেই ফুৎকারে উড়িয়ে দেওয়াটাও যুক্তিসংগত নয়।

ব্রিটিশ লুণ্ঠনের ইতিহাস:

উইলিয়াম বল্টস

(William Bolts)-এর সাক্ষ্য

উইলিয়াম বল্টস ছিলেন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির একজন প্রাক্তন কর্মচারী,

যিনি ১৭৭২ সালে তাঁর ‘কনসিডারেশন্স অন ইন্ডিয়া অ্যাফিয়ার্স’
[পড়ুন– (Considerations on India Affairs)]
নামক বইতে কোম্পানি শাসনের ভয়াবহ
দুর্নীতির কথা ফাঁস করে দেন।

তিনি সেখানে লিখেছিলেন:

“…তাঁতিদের উপর এমন চরম অত্যাচার করা হতো যে—

অনেক সময় তা সহ্য করতে না পেরে, তারা নিজেরাই নিজেদের বুড়ো আঙুল
কেটে ফেলতো (or caused them to be cut off),
যাতে তাদের আর জোরপূর্বক কোম্পানির জন্য কাপড় বুনতে না হয়।”


[ লোভ প্রতিটা মানুষের ভিতরেই কম-বেশি থাকে,

কিন্তু যখন সেই লোভ, এর সীমা ভেঙে অমানবিক হয়ে ওঠে।
যখন ক্ষমতার নেশা সম্পদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।
যখন অন্যের ঘর, জমি, শিল্প, সভ্যতা– সবই কেবল দখলের লক্ষ্য হয়ে যায়,
ঠিক তখনই ইতিহাস জন্ম দেয় পোশাকে উন্নত,
অথচ ভিতরে ভয়াবহ এক বিদেশি জাতিকে–(Click:) ব্রিটিশ

পড়ুন সেই অপ্রকাশিত, অজানা সত্য:
Click: ইংরেজ ভারতে না আসলে, আজ বিশ্বের সুপার পাওয়ার হতো ভারত! ]

দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গি:

সভ্যতার নামে মার্জিত দস্যুতা

দার্শনিক বিচারে ইংরেজদের এই শাসন ছিলো এক ‘মার্জিত দস্যুতা।’
তারা যখন ভারতের মন্দির-মসজিদ আর রাজকোষ থেকে হীরে-জহরত লুট করছিলো,

তখন বিশ্বে তারা প্রচার করছিলো যে—

তারা এক ‘অসভ্য জাতিকে’ আলো দেখাতে এসেছে।

কি এক বীভৎস চারিত্রিক দ্বিচারিতা!
এক জাতির শ্মশানে অন্য জাতির বাগানবাড়ি গড়ার এই উৎসবকেই কি তবে
ইতিহাস সভ্যতা বলে স্বীকৃতি দিলো?

একদিকে ভারতের কৃষকদের উপর অসহনীয় মাত্রার কর চাপিয়ে তাদের
না খেয়ে মরতে বাধ্য করা হলো।

অন্যদিকে সেই করের টাকায় অক্সফোর্ড-কেমব্রিজের দেয়ালে দেয়ালে
জ্ঞানের আলো জ্বালানো হলো।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ‘সভ্যতার সংকট’ প্রবন্ধে লিখেছিলেন—
ইংরেজরা যখন ভারতবর্ষ ছেড়ে যাবে, তখন পিছনে ফেলে যাবে
এক বিশাল পঙ্কিলতা আর দারিদ্র।

আজকের আধুনিক বিশ্ব যে জেমস ওয়াটের জয়গান গায়, তারা ভুলে যায় যে—

এই উন্নয়নের প্রতিটা গিয়ার বা চাকা ঘোরানোর পিছনের আসল শক্তিটা এসেছিল,
কয়েক কোটি ভারতীয় মানুষের হাড়গোড় পিষে।

ইংরেজ ইতিহাসবিদদের

স্বীকারোক্তি:

এক অবধারিত পতনের গল্প

অনেক প্রথিতযশা ইতিহাসবিদ এবং অর্থনীতিবিদ এই লুণ্ঠনের তত্ত্বটা অত্যন্ত
জোরালোভাবে সমর্থন করেছেন।

উইলিয়াম ডিগবি (William Digby) তাঁর গবেষণায় স্পষ্ট দেখিয়েছিলেন যে,
ব্রিটিশ শিল্প বিপ্লবের জন্য যে বিশাল প্রাথমিক পুঁজির প্রয়োজন ছিলো,
তার পুরোটাই সংগৃহীত হয়েছিল ভারত থেকে লুণ্ঠিত সম্পদ থেকে।

এছাড়াও দাদাভাই নওরোজি, আর সি দত্ত এনারা সবাই এই একই তত্ত্ব প্রতিষ্ঠা করেছেন।

একইভাবে ব্রুক অ্যাডামস (Brooks Adams) তাঁর ‘The Law of Civilization and Decay’
গ্রন্থে অকাট্য প্রমাণ দিয়ে দেখিয়েছেন যে—

ক্ষমতা, পুঁজি এবং সভ্যতার কেন্দ্র ইতিহাসের নির্দিষ্ট পর্যায়ে এক অঞ্চল থেকে
আরেক অঞ্চলে সরে যায়।

তিনি পলাশীর যুদ্ধকে কোন একক যান্ত্রিক সূত্রে শিল্প বিপ্লবের কারণ
হিসেবে দাঁড় করাননি,

বরং উপনিবেশিক আধিপত্য, সম্পদের স্থানান্তর এবং
শিল্পায়নের উত্থানের মধ্যে গভীর কাঠামোগত সম্পর্কের কথাই বলেছেন।

অর্থাৎ ভারত থেকে বিপুল সম্পদ নিষ্কাশনের ফলে যে পুঁজির কেন্দ্রীকরণ ঘটেছিল,

তা ইংল্যান্ডকে শিল্প ও প্রযুক্তির বিকাশের জন্য অনুকুল মঞ্চ তৈরি করে দেয়—
এটাই ছিল ইতিহাসের বৃহত্তর গতিপথ।


[ আইন হলো মাকড়সার জালের মত:

যদি কোন দরিদ্র দুর্বল প্রাণী এতে পড়ে, তবে সে আটকে যায়;
কিন্তু কোন বড় প্রাণী একে ছিঁড়ে অনায়াসেই বেরিয়ে যায়।

কেন একজন সাধারণ মানুষ যদি রান্নার তাগিদেও
জঙ্গল থেকে দু-চারটে শুকনো ডাল কেটে আনে,

তাহলে বন আইন সঙ্গে সঙ্গে দাঁত-মুখ খিঁচিয়ে তেড়ে আসে।

কিন্তু একই দেশে যখন বড় শিল্প আসে বা শিল্পের প্রয়োজনে যাদের উৎপাদনের
সঙ্গে জড়িয়ে থাকে লক্ষ লক্ষ গাছ, হাজার হাজার টন কাঠ, তখন সেই আইন…

পড়ুন ভিতরের আসল কাহিনী:
Click: ভারতের বন আইন: ডাল কাটলে অপরাধ, বন কাটলে উন্নয়ন- রহস্য কি? ]

সম্পদ নিষ্কাশন ও বিশ্ব

অর্থনীতিতে ভারতের বিপর্যয়

ব্রিটিশ লুণ্ঠনের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়—

১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধের লুটের মাল লন্ডনে পৌঁছানোর ঠিক পরেই ইংল্যান্ডে
শিল্প বিপ্লবের জোয়ার আসে।

তিনি এই ঘটনাগুলোর মধ্যে গভীর কাঠামোগত সম্পর্কের কথা বলেছেন।
‘Cause and Effect’ বা কারণ ও ফলের অমোঘ সম্পর্ক হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

অ্যাঙ্গাস ম্যাডিসনের (Angus Maddison) পরিসংখ্যানে দেখা যায়—

১৭০০ সালে বিশ্ব অর্থনীতিতে ভারতের অংশ ছিল প্রায় ২৫%,
যা ব্রিটিশ শাসনের শেষে এসে মাত্র ২%-এ নেমে দাঁড়ায়।

এই বিপুল সম্পদ কোনো একদিনে বা এক পথে নয়।

বরং দীর্ঘ উপনিবেশিক শাসনের মাধ্যমে কর, বাণিজ্যিক শোষণ, শিল্প ধ্বংস
এবং আর্থিক নিষ্কাশনের ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় সঞ্চারিত হয়েছিল।

ঐতিহাসিকদের মতে, যদি এই উপনিবেশিক নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকতো,
তবে অষ্টাদশ শতাব্দীতে ইংল্যান্ড এক গভীর অর্থনৈতিক সংকটে পড়তো।

তারা হয়তো মানচিত্র থেকে মুছে যেত না, কিন্তু আধুনিক প্রযুক্তি আর শিল্পের অভাবে
ইউরোপের একটা প্রান্তিক ও সম্পদহীন দ্বীপে পরিণত হতো।

আজকের যে জৌলুসপূর্ণ লন্ডন, অক্সফোর্ড বা আধুনিক প্রযুক্তির বিশাল
ইমারত
আমরা দেখি,
তার আর্থিক ভিত্তি প্রস্তর স্থাপিত হয়েছিল ভারতীয়দের রক্ত জল করা খাজনা
আর লুণ্ঠিত সম্পদের উপর।

অর্থাৎ, ভারতবর্ষের সেই সম্পদ ছাড়া ইংল্যান্ড কখনোই আজকের ‘গ্রেট ব্রিটেন’ বা
বৈশ্বিক পরাশক্তি হয়ে উঠতে পারতো না।

ব্রিটিশ লুণ্ঠনের ইতিহাস:

উন্নয়নের ছদ্মবেশ

ব্রিটিশরা আজও গর্ব করে বলে তারা ভারতের রেলপথ বসিয়েছে, টেলিগ্রাফ এনেছে,
কিন্তু ব্যঙ্গটা এখানেই এ রেলপথ কি ভারতীয়দের ভ্রমণের জন্য ছিলো?

না।

মূলত ব্রিটিশ লুণ্ঠনের ইতিহাস আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে,
এটা ছিল ভারতের দুর্গম অঞ্চল থেকে দ্রুত সম্পদ বন্দরে নিয়ে যাওয়ার
এক সুপরিকল্পিত মাধ্যম।

এটা ছিল এক অদ্ভুত ব্যবস্থা—
বাড়ি আপনার, আপনার টাকা দিয়েই বাড়ির সদর দরজায় তালা লাগানো হলো,
আর সেই তালার চাবি থাকলো একজন ভিনদেশী ডাকাতের পকেটে।

আবার চোর আপনার ঘর থেকে আসবাবপত্র নিয়ে যাওয়ার জন্য আপনারই
গাড়ী ব্যবহার করছে।

ব্যঙ্গটা এর চেয়ে বড় আর কি হতে পারে?

আজকের উত্তর আধুনিক বিশ্বে দাঁড়িয়ে যখন আমরা মেধা ও প্রযুক্তির বড় বড় কথা বলি,
তখন আমাদের ফিরে দেখা উচিত সেই অন্ধকার গলিগুলোতে।

জেমস ওয়াটের ইঞ্জিন হয়তো বাষ্পে চলতো, কিন্তু সেই যন্ত্রের প্রতিটা কলকব্জার দাম
মেটানো হয়েছিল সাধারণ মানুষের ক্ষুধার বিনিময়ে।

ভারত ইংল্যান্ডকে আধুনিক করেনি; বরং ভারত তার সর্বস্ব দিয়ে ইংল্যান্ডকে
আধুনিক
হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছিল।

ইতিহাসের বিচার বড়ই নির্মোহ।
লুণ্ঠন না হলে ইংল্যান্ড হতো এক সাধারন জনপদ, আর ভারত হয়তো আজও
পৃথিবীর অর্থনৈতিক মুকুট হয়ে থাকতো।

এই ঐতিহাসিক সত্যটা স্বীকার করাই হবে বর্তমান প্রজন্মের জন্য প্রকৃত বৌদ্ধিক মুক্তি।

পশ্চিমা সভ্যতা আসলে এক বিশাল ধার করা অট্টালিকা, যার আসল মালিক আজও
রিক্তহস্তে দাঁড়িয়ে থাকা ভারতবর্ষ।


[ যে ডাকাতি শুধু সম্পদ নয়,
ছিনিয়ে নিয়ে গিয়েছিল ভারতবাসীর মর্যাদাও!

আচ্ছা একটা প্রশ্ন কি মাথায় সাধারণত কখনও আমাদের এসেছে?

Tower Of London– এর Jewel Houseএ রাখা আছে,
ভারত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী যে (দেখুন) কোহিনূর হীরে-

বিভিন্ন দেশ থেকে আসা পর্যটকরা যখন প্রশ্ন করে এই হীরের ইতিহাস নিয়ে
কি উত্তর দেয় কর্তৃপক্ষ?

ভাবলে আপনি অবাক হবেন, একটা তিক্ত ধারণা তৈরি হবে।

পড়ুন সম্পূর্ণ লেখাটা, বুঝতে পারবেন সেই নির্মম সত্য।
Click: কোহিনূর থেকে ধানক্ষেত– ঔপনিবেশিক ডাকাতদের সেই প্রায় ১৯০ বছর! ]


 

 

ইমেইল আইডি দিয়ে যুক্ত হন

We don’t spam! Read our privacy policy for more info.

About Articlesবাংলা

Articlesবাংলা
Welcome to Articlesবাংলা – a vibrant hub of words, ideas, and creativity. This website is the personal archive and creative expression of Tanmoy Sinha Roy, a passionate writer who has been exploring the art of writing for more than seven years. Every article, prose-poem, and quotation you find here reflects his journey, experiences, and dedication to the written word. Articlesবাংলা aims to inspire readers by offering thought-provoking insights, celebrating the richness of Bengali language and literature, and creating a space where ideas, imagination, and culture connect. Whether you are seeking literary reflections, prose-poems, diverse articles, or meaningful quotations, you are invited to explore, reflect, and be inspired.

Check Also

ভারত: সোনার পাখি লুণ্ঠনে মোহাম্মদ বিন কাসিমের সিন্ধু অভিযান ও রাজা দাহিরের প্রতিরোধ।

ভারতের ইতিহাস: বারংবার বিদেশী আক্রমণে জর্জরিত সেই সোনার পাখি!

ভারত: সোনার পাখি, প্রাচুর্য থেকে আক্রমণ, ভারতের পরিণতি প্রাচীনকাল থেকেই বিদেশি পর্যটক, ঐতিহাসিক ও রোমানদের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *