উন্নয়ন না বিজ্ঞাপন?
বিজ্ঞাপনের আকাশ:
উন্নয়ন না বিজ্ঞাপন?
এই প্রসঙ্গ আজ সাধারণ মানুষের কাছে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
আর তা একজন প্রকৃত রাজ্য বা দেশপ্রেমী হিসেবে আমাদের প্রত্যেকেরই জানাটা জরুরী, আর তা নিরপেক্ষ বিচার-বুদ্ধিতে।
আসলে বর্তমান আমাদের রাজনীতিতে প্রকৃত উন্নয়ন ও প্রচারের অনুপাতটা অনেকটা ওই চিপসের প্যাকেটের মত—
২ : ৮.
অর্থাৎ, ভেতরে আসল মালমশলা যতটুকু থাকে,
তার চেয়ে নাইট্রোজেন গ্যাসের পরিমাণ থাকে আকাশছোঁয়া।

অথচ বাস্তবটা হল,
কোনও রাষ্ট্রপ্রধান বা রাজ্যের মন্ত্রীরা যদি সত্যিই পকেটে সদিচ্ছা আর হাতে কাজ নিয়ে মাটিতে নামেন,
তবে একটা রাজ্য বা দেশকে বদলে ফেলা তাঁদের কাছে কোনও অলৌকিক বিষয় নয়।
- ক্ষমতা তাঁদের হাতে।
- কলম তাঁদের হাতে।
- এমনকি কোষাগারের চাবিকাঠিও ঝোলে তাঁদের কোমরে।
রাষ্ট্রের উন্নয়ন আসলে কোনও গূঢ় রহস্যময় বিদ্যা বা ভাগ্যের খেলা নয়,
যে কেবল ভাগ্য বা কপাল ভালো থাকলে তবেই মিলবে।
ব্যাপারটা বরং গণিতের মত সোজা।
অলসতার রাজনীতি:
কিন্তু সমস্যা হচ্ছে—
এই চাওয়ার জায়গাটাতে যখন গড়গড়িয়ে ঢুকে পড়ে আলস্য।
আর সেই আরামদায়ক অলসতার ভাঁজেই জন্ম নেয়—
- পরেরবারে কীভাবে সিংহাসনে থাকবেন, তার কুটিল হিসেব।
- রাজনীতির জটিল মারপ্যাঁচের সূক্ষ্ম গণিত।
- লোভ-লালসা, বিদ্বেষ আর গোষ্ঠীদ্বন্দ।
মানে বছরের পর বছর অধিকাংশ সময় চলে যায় এই খেলাতেই।
উন্নয়ন না বিজ্ঞাপন?
মাইকের স্বর্গ:
ফলে প্রকৃত কাজের বদলে, মাইকটা অবিরাম বাজতে থাকে অনেক বেশি।
আর তা এমন জোরে যে শুনলে মনে হয়,
আগামীকাল ভোর হতেই গোটা এলাকাটা স্বর্গে আপগ্রেড হয়ে যাবে।
আর একেবারে কোমল,
মোলায়েম বাস্তবের কোলে ভর করে জনগণ ডানা মেলে উড়বে সুখের আকাশে।
উন্নয়ন না বিজ্ঞাপন?
জনতার বোধ:
কিন্তু মুশকিল হল, সাধারণ মানুষ এখন আর ততটাও বোকা নেই।
চায়ের ঠেক থেকে বাসের ভিড়—
সবখানেই একটা ধারণা এখন ধ্রুবসত্যের মত গেঁথে গেছে।
মানুষ পরিষ্কার দেখছে যে,
আমাদের হর্তাকর্তারা মাটিতে কাজ করছেন মাত্র ১%,
কিন্তু বাকি ৯% সার্বিক কাজ সম্পন্ন হয় শুধু বাগাড়ম্বর আর চড়া সুরের বিজ্ঞাপনে।
আর মাটিতে কাজের চেয়ে সেই কাজের ঢাক পেটানোর আওয়াজেই এই সমাজের বাতাস
এমনভাবে ভারী হয়ে ওঠে যে, সাধারণ মানুষের নিঃশ্বাস নেওয়াটাই যেন দায় হয়ে যায়।
কাজের ঘামের চেয়ে এখানে প্রচারের পারফিউম অনেক বেশি কড়া।
কখনও কখনও তো মনে হয়,
উন্নয়নটা মাছের কাঁটা হয়ে মাইকের গলায় আটকে গেছে এমনভাবে,
যে আর বেরোতেই পারছে না।
তীব্র তুলনা:
আজ (দেখুন) প্রাণহীন, রুক্ষ মরুভূমি খুঁড়ে তৈরি হওয়া দুবাইয়ের আকাশচুম্বি স্থাপত্য
কিংবা চীনের অতিমানবিক গতির উন্নয়ন ভাসছে।
পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ তথা গোটা ভারতের দিকে তাকালে বুকটা চিনচিন করে ওঠে।
ওইসব দেশের অভাবনীয় উন্নতি যেন প্রতিদিন আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে—
‘ইচ্ছে থাকলে উপায় হয়।’
শুধু তাই নয়,
ওদের সেই ঝকঝকে রাস্তা আর বুলেট ট্রেনের গতি যেন আমাদের এই মন্থর প্রশাসন আর ভাঙাচোরা পরিকাঠামোকে রীতিমত বিদ্রূপ করে।
উপহাস করে বলে যায়—
“বাপু, মুখ দিয়ে খই ফুটিয়ে আর কদ্দিন?
এবার একটু হাত-পা চালাও!”
এই উপহাসটা এখন আর ক্ষমতা বা গায়ের জোরে এড়ানো সম্ভব নয়,
কারণ সত্যটা সর্বদাই আয়নার মত স্বচ্ছ, আর তিতকুটে হয়।
মরুভূমির জেদ:
একজন মানুষের বুকের ভেতর যদি পাহাড় প্রমাণ ইচ্ছা, অবিচল ধৈর্য আর মাটির প্রতি নিখাদ প্রেম থাকে,
তবে অসম্ভব শব্দটাও মাথা নত করতে বাধ্য হয়।
রাষ্ট্রনায়কের দৃষ্টি যদি কেবল পরবর্তী ভোটের বাক্সে আটকে না থেকে,
আগামী প্রজন্মের সমৃদ্ধিতে নিবদ্ধ থাকে,
তবে সেই তীক্ষ্ণ দূরদর্শিতার ছোঁয়ায় নিথর পাথরেও প্রাণের স্পন্দন জাগানো সম্ভব।
এই সংকল্পই সেই জাদুমন্ত্র, যা ধূ ধূ তপ্ত বালুকাময় প্রান্তর আর তৃষ্ণার্ত রুক্ষ মরুভূমিকেও
পৃথিবীর মানচিত্রে এক টুকরো (দেখুন) স্বর্গে পরিণত করার সাহস রাখে।
এটা প্রমাণ করে যে, সুযোগের অভাব আসলে কোনও অজুহাত নয়;
বরং প্রকৃত দেশপ্রেম থাকলে শুষ্ক ধুলোকণাকেও সোনার চেয়ে মূল্যবান করে তোলা যায়।
দুবাইয়ের দৃষ্টান্ত:
উন্নয়ন শব্দটা আমাদের এখানে যতটা না মাটির স্পর্শে থাকে,
তার চেয়ে বেশি ভাসতে থাকে মাইকের শব্দতরঙ্গে।
অথচ ঠিক উল্টো মেরুতে দাঁড়িয়ে থাকা এক শহরের নাম দুবাই।
গত বিশ বছরে এই শহরটা যেন বিশ্বের চোখের মণি হয়ে উঠেছে।

কীভাবে?
অনেকে হয়ত ভাবছেন তেলের খনি থেকে বুঝি টাকার ঝর্ণা বইছে।
কিন্তু বাস্তবটা শুনলে আমাদের প্রচারসর্বস্ব নেতাদের কপালে ঘাম জমবে।
দুবাইয়ের মোট আয়ের মাত্র ১% আসে তেল থেকে।
হ্যাঁ মাত্র ১%.
আর বাকি ৯৯% হল নিখাদ মগজের অস্ত্র আর দূরদর্শিতার ফসল।
অর্থাৎ, পর্যটন, রিয়েল এস্টেট আর এভিয়েশনের মত আধুনিক ব্যবসা।
অর্থনীতির মোড় ঘোরানো:
তাঁরা তাঁদের অর্থনীতিকে তেল থেকে সরিয়ে পর্যটন আর ফিন্যান্সিয়াল হাবে রূপান্তর করেছে।
দূরদর্শী নেতৃত্ব:
দুবাইয়ের এই ম্যাজিকের নেপথ্যে রয়েছেন “শেখ মুহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম।”

যেখানে আমাদের দেশের নীতিনির্ধারকেরা আগামী সপ্তাহের শনিবার-রবিবার নিয়ে হিমশিম খান,
সেখানে এই মানুষটা পরিকল্পনা করেন আগামীর ১০ বছরের।
এক নম্বর বা অদ্বিতীয় মানসিকতা:
আর বিষয়টা কিছুটা যেন এমন—
“হয় আমরা একমাত্র হব, না হয় আমরা এক নম্বর হব।”
মাঝখানের কোনও জায়গাতে তাঁর আগ্রহ নেই।
আর ফলাফলটা চোখের সামনেই ভাসছে।
দৃষ্টান্তের বাস্তব রূপ:
- যদি ‘মল’ বানায়, তবে সেটা হতে হবে বিশ্বের বৃহত্তম (দেখুন) দুবাই মল।
- যদি টাওয়ার বানাতে হয়, তবে সেটা হতে হবে একমাত্র ও আকাশছোঁয়া (দেখুন) ‘বুর্জ খলিফা।’
- এমনকি প্রকৃতির দেওয়া বালির ওপর তাঁরা মানুষের তৈরি ‘পাম জুমেইরাহ’ দ্বীপ বানিয়ে
বিশ্বকে চমকে দিয়েছে।

ডিজনিকে (The Walt Disney Company) যখন বলা হল দুবাইতে তাদের মত একটা বড় পার্ক (ডিজনিল্যান্ড) বানাতে, তাঁরা শেষ পর্যন্ত রাজি হয়নি।
দুবাই উত্তর দিল—
ঠিক আছে আমরা নিজেরাই বানাব (দেখুন) ‘দুবাইল্যান্ড’, আরও বড় পরিসরে, নিজেদের মত করে।
আর এই জেদটুকুই আসল উন্নয়ন।
উন্নয়ন না বিজ্ঞাপন?
আমাদের বাস্তবতা:
অথচ আমাদের এখানে?
উর্বর মাটিতে দাঁড়িয়েও সদিচ্ছার অভাবে, রাজনীতি করে তাকেই বরং মরুভূমি তৈরি করছে।
শৃঙ্খলার শক্তি:
দুবাইয়ে নিয়মের শাসন এমন যে,
রাস্তায় গাড়ি নোংরা থাকলে ডিজিটাল পদ্ধতিতে জরিমানা কেটে নেওয়া হয়।
নিজের বাড়ির সামনেও রাস্তার ধুলো ঝেড়ে গাড়ি ধোয়া নিষিদ্ধ,
কারণ পরিচ্ছন্নতা তাঁদের দেশের এক বিশেষ নীতি।
আর আমাদের এখানে উন্নয়নের ১% কাজ হওয়ার আগেই,
৯% বিজ্ঞাপনের প্রচারের ধুলোয় রাস্তাঘাট ঢেকে যায়।
ভবিষ্যতের প্রস্তুতি:
- ভবিষ্যতের দুবাই এখন থ্রি-ডি প্রিন্টিংয়ে ৪০ তলা ভবন তুলছে।
- প্যাসেঞ্জার ড্রোন ওড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য:
শেখ মাকতুম বিশ্বাস করেন—
“সাধারণ মানুষ টাকা জমায় উৎসবের জন্য আর অসাধারণ মানুষ টাকা জমায় সাম্রাজ্য করার জন্য।”
তিনি সর্বদাই মাটিতে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন।
আসল বার্তা:
আজ দুবাই আর চীনের এই অপ্রতিরোধ্য গতি যখন আমাদের তথাকথিত স্থবিরতা আর বাগাড়ম্বরকে উপহাস করে।
তখন একটা বিষয় পরিষ্কার হয়ে উঠে আসে—
উন্নয়ন আসলে মাইকের গলার জোর নয়,
বরং এটা হল সদিচ্ছা আর আধুনিক বিজ্ঞানের এক নিখুঁত মেলবন্ধন।
১% কাজ করে আর ৯% ফাঁকা আওয়াজ দিয়ে কোনওদিনই সার্বিকভাবে বিশ্বশক্তি হওয়া যায় না।
আর সেটা দুবাই আমাদের প্রতিদিন চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে।
অর্থাৎ শেষ পর্যন্ত এই পুরো গল্পটা কোনও শহরের না— এটা এক ধরনের মানসিকতার গল্প।
- যেখানে গড়পড়তা হয়ে থাকার কোনও জায়গা নেই।
- যেখানে পরিকল্পনা শুধু রঙিন ভাষণ, মাইক আর কাগজে আটকে থাকে না।
- আর যেখানে উন্নয়ন কোনও রাজনীতির স্লোগান নয়, বরং প্রতিদিনের অভ্যেস।
ড্রাগনের গতি:
উন্নয়ন শব্দটা আমাদের কাছে অনেকটা ‘মানত’ করার মত।
আমরা ভাবি একদিন হবে।
কোনও এক শুভক্ষণে ওপর থেকে আশীর্বাদ হয়ে ঝরে পড়বে।
কিন্তু আমাদের ঠিক পাশের দেশ চীন বুঝিয়ে দিয়েছে যে, উন্নয়ন আসলে কোন দৈব ঘটনা নয়,
এটা হল এক জেদি ইঞ্জিনিয়ারিং।
গতির পার্থক্য:
আজ যখন চীনের হাই-স্পিড বুলেট ট্রেনগুলো বাতাসের সাথে পাল্লা দিয়ে ৩৫০ কিমি বেগে ছোটে,
তখন আমাদের দেশের লোকাল ট্রেনের দরজায় ঝুলে থাকা সাধারণ মানুষের কাছে মনে হয়—
এ নিশ্চই কোনও কল্পবিজ্ঞানের সিনেমা।
উন্নয়ন না বিজ্ঞাপন?
সিদ্ধান্ত বনাম প্রদর্শন:
চীনের উন্নয়নের রহস্যটা আসলে খুব সিম্পল, কিন্তু নিষ্ঠুর।
তারা যখন লক্ষ্য ঠিক করে যে এখানে একটা ব্রিজ হবে, তখন সেখানে ব্রিজই হয়।
আর আমাদের এখানে?
- ব্রিজ হওয়ার আগে ১০ বার ফিতে কাটা হয়।
- ২০ বার নামফলক বদলানো হয়।
- আর সবশেষে উদ্বোধনের দিন দেখা যায় বাজেটের সিংহভাগ
প্রচারের বেলুন ফোলাতেই খরচ হয়ে গেছে।

স্কেলের সাহস:
চীন গত কয়েক দশকে কয়েকশ শহরকে নতুন করে ঢেলে সাজিয়ে ফেলেছে।
আর আমরা একটা রাস্তার গর্ত মেরামত করে এমন ভাব করি, যেন মহাকাশে বসতি স্থাপন করে ফেলেছি!
সবচেয়ে মজার বিষয় হল চীনের ‘স্কেল।’
তাঁরা কোনও কিছু ছোট করে ভাবতেই পারে না।
যদি বাঁধ বানায় তবে সেটা হতে হবে (দেখুন) ‘থ্রি গর্জেস ড্যাম’—
যা পৃথিবীর আবর্তন গতি পর্যন্ত কমিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।
আমাদের বাস্তবতা:
আর আমাদের পশ্চিমবঙ্গে?
এখনও সেই মান্ধাতা আমলের কারখানা।
আর ধুঁকতে থাকা শিল্পের চিমনি,
যা নিয়ে আমরা রীতিমতন আবেগতাড়িত হয়ে পড়ি।
চীন যখন কৃত্রিম সূর্য বানাচ্ছে বা চাঁদের উল্টো পিঠে রোভার নামাচ্ছে,
আমরা তখন ব্যস্ত কোন মোড়ে কার মূর্তি বসবে আর কোন প্রকল্পের নাম কি হবে সেই বিতর্কে।
আমাদের দেশের নেতা-মন্ত্রীদের সেই প্রিয় অনুপাত—
১% কাজ আর ৯% আওয়াজ— চীনের ক্ষেত্রে ঠিক উল্টো।
নীরব উপহাস:
আজ সাংহাই বা শেনঝেন শহরের ঝকঝকে আকাশছোঁয়া অট্টালিকাগুলো
ভারতের মুম্বাই বা কলকাতার দিকে তাকিয়ে যেন মুচকি হাসে।
সেই হাসিটা করুণার নয়, বরং তীক্ষ্ণ উপহাসের।
তারা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে শ্লোগান দিয়ে পেট ভরে না,
পেট ভরে সদিচ্ছা, দুর্নীতিমুক্ত মানসিকতা আর আধুনিক প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারে।
বাস্তবের আয়না:
চীনের মানুষরা যখন রোবটিক হাত দিয়ে অস্ত্রোপচার করছে,
আমরা তখনও সরকারি হাসপাতালের ভাঙা স্ট্রেচার নিয়ে দৌড়াচ্ছি।
চীনের সেই অতিমানবিক উন্নতি আজ আমাদের প্রথাগত রাজনৈতিক অলসতাকে নগ্ন করে দেয়।
জনসংখ্যার ব্যবহার:
তাঁরা প্রমাণ করেছে যে শুধু জনসংখ্যাকে ‘বোঝা’ না ভেবে যদি সেটাকে ‘সম্পদ’ হিসেবে ব্যবহার করা যায়,
তবে ড্রাগনের গর্জন বিশ্বজুড়ে প্রতিধ্বনিত হতে বাধ্য।
শেষ প্রশ্ন:
আর আমরা?
আমরা এখনও গালগল্পের ঝুলি নিয়ে বসে আছি এই আশায় যে—
একদিন আমাদের ওই চিপসের প্যাকেটের হাওয়াই হয়ত আমাদের উড়িয়ে নিয়ে স্বর্গে পৌঁছে দেবে।
আর বাস্তবটা?
সে ততক্ষণে নিঃশব্দে আমাদের ফেলে রেখে অনেক দূর এগিয়ে গেছে।
( এবারে আপনারা নিরপেক্ষভাবে বিচার, বিবেচনা করে জানান—
আমরা কি এমন উন্নয়ন আশা করতে পারি না?
আমাদের রাজ্য বা দেশ পিছিয়ে থাকলে, তা কি আমাদের আত্মসম্মানে আঘাত লাগার কথা নয়?
কী বলেন আপনারা?
মূল্যবান মতামত জানার অপেক্ষায় রইলাম। )
অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ:
( চীন কি সত্যিই কোনো ‘আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপ’ পেয়েছিল–
যার জোরে দেশটা কয়েক দশকের মধ্যেই বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম শক্তিতে পরিণত হয়েছে?
সংক্ষিপ্ত উত্তর…
বলুন তো—
কোন সে গোপন জাদু?
কোন সেই আশ্চর্য প্রদীপ, যা এক ঝটকায় দেশটাকে দারিদ্র্য থেকে টেনে তুলেছে
সুপারপাওয়ার-এর দোরগোড়ায়?
ভাবুন তো আমরা দশকের পর দশক ধরে একই জায়গায় কীভাবে পড়ে আছি,
সে যে সরকারই আসুক না কেন।
আজ জেনে রাখুন সেই গোপন রহস্য, যা আপনার জানাটা সত্যিই জরুরি।
কেন?
আর্টিকেলটা পড়লেই বুঝবেন।
পড়ুন: চীনের অর্থনৈতিক উত্থান: “আলাদিনের প্রদীপ”– উপমার আড়ালে আসল গল্প! )
সাথে এটাও জেনে রাখুন, সাবধান!
( রাতের নিস্তব্ধতায় আপনার ফোনটা যখন টেবিলের ওপর শান্ত হয়ে শুয়ে থাকে,
তখনও কি সেটা আপনার অজান্তে কারও সাথে কথা বলছে?
রাত ২ টো, আপনি ঘুমাচ্ছেন,
আপনার সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল বা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট হয়ত
তখন বিশ্বের অন্য কোনও এক অন্ধকার ঘরে নিলামে উঠছে।
আপনি কি নিশ্চিত, আপনার এই তথ্যগুলো ব্যবহার করে অন্য কারও নামে লোন নেওয়া হয়নি?
আপনি নিশ্চিত, ডার্ক ওয়েবে আপনার তথ্য বিক্রি করে, তা কাজে লাগিয়ে কোনও ক্রাইম হচ্ছে না?
প্রযুক্তি যত উন্নত হচ্ছে, জালিয়াতির ধরণও তত সূক্ষ্ম হচ্ছে।
এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এ আই ব্যবহার করে আপনার পরিচিত মানুষের
(দেখুন) কণ্ঠস্বর হুবহু নকল করা সম্ভব।
তাই ভবিষ্যতে আপনার সাথেও এমন হবে না, আপনি নিশ্চিত?
জেনে নিন আজই সেইসব তথ্য, যা আপনার জানাটা অত্যন্ত প্রয়োজন।
পড়ুন: ডিজিটাল জালিয়াতি: আপনার ফোন হ্যাক হয়নি আপনি নিশ্চিত? )
একটা বিশেষ নিবেদন:
[ Articlesবাংলা, আমার-আপনার পরিবার
আপনাদের জন্যেই এই ওয়েবসাইটের জন্ম।
তাই আরও বিভিন্ন দুর্দান্ত টপিকের ওপরে এরকমই সব
বিশ্লেষণধর্মী লেখা পেতে নিয়মিত আমাদের পেজে চোখ রাখুন।
আপনার প্রতিবেশি, বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়-স্বজন তথা সমাজের স্বার্থে
আপনার যে লেখাটা গুরুত্বপূর্ণ মনে হবে,
আপনি সেই লেখাকে শেয়ার করে পৌঁছে দিন তাঁদের কাছে,
যাতে তাঁরাও জানার, বোঝার সুযোগটুকু পান আপনাদের মাধ্যমে।
ইমেইল আইডি দিয়ে আমাদের বাঙালির পরিবারের একজন
প্রিয় মানুষ হয়ে উঠুন।
এরপর এই ওয়েবসাইটে যখনই কোনও লেখা প্রকাশিত হবে,
সবার আগে আপনি পেয়ে যাবেন নোটিফিকেশন—
সরাসরি আপনার ইনবক্সে।
এ বিষয়ে আপনার গুরুত্বপূর্ণ মতামত জানার অপেক্ষায় রইলাম।
চলুন বাঙালিকে বিশ্বের দরবারে সবাই মিলে একসাথে বারবার তুলে ধরি
চিন্তা, চেতনা আর শব্দের শক্তিতে—
একসাথে, সবাই মিলে।
বিশ্ব জানুক—
আমাদের ভারত কি?
বাঙালি কি?
বাংলা শব্দের ক্ষমতাই বা কি? ]
Articlesবাংলা Bangla Articles, Quotes & Prose-Poetry / বাংলা প্রবন্ধ, উক্তি ও গদ্য-কবিতা।





