ক্ষমতার অন্ধকার সাম্রাজ্য:
এপস্টিন ফাইল
ও নগ্ন বিচার ব্যবস্থা
ইতিহাসে এমন কিছু অপরাধের গল্প আছে, যেগুলো কেবল অপরাধীর পরিচয় নয়—
সমাজের আসল মুখটাও প্রকাশ করে।
এপস্টিন ফাইল-এর কাহিনী তেমনিই এক আয়না,
যেখানে আমরা শুধু এক ব্যক্তির বিকৃত জীবন নয়, বরং ক্ষমতা,
অর্থ ও আইনের জটিল সম্পর্ক দেখতে পাই।
কারণ এই গল্পে সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয়টা শুধু অপরাধ নয়—
বরং এই প্রশ্নটা:
কিভাবে এত বড় অপরাধচক্র বছরের পর বছর চলল,
অথচ আইন তাকে থামাতে পারল না?
এর উত্তর অনেকেই খুঁজে পান একটাই জায়গায়—
টাকার ওজন।
আর সেই ওজনের নিচে চাপা পড়ে যায় ন্যায়বিচারের কণ্ঠস্বর।
‘এপস্টিন ফাইল’ আধুনিক ইতিহাসের সেই কলঙ্কিত অধ্যায়,
যা দেখিয়েছে যে পর্দার আড়ালে পৃথিবীটাকে কতটা পৈশাচিক করা যেতে পারে,
ক্ষমতার জগত ঠিক কতটা অন্ধকার হতে পারে।

এটা কেবল একজন জেফ্রি এপস্টিন বা তার কয়েকশো পৃষ্ঠার আইনি নথি নয়;
এটা হল বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা সেই প্রভাবশালী সিন্ডিকেটদের মুখোশ উম্মোচন,
যারা হাসতে হাসতে প্রমাণ করেছে ক্ষমতা আর টাকার কাছে,
আইনকে ঠিক কতটা পঙ্গু করে রাজপথে ফেলে রাখা যায়।
(দেখুন ভিডিও) বিলাসবহুল দ্বীপ, ব্যক্তিগত জেট আর রাজকীয় আভিজাত্যের আড়ালে
যে ভয়াবহ লালসার অপরাধ লুকিয়ে ছিলো, তার প্রতিটা পাতা আজ সভ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
এপস্টিন ফাইল:
সত্যের এক বিস্ফোরক দলিল
এপস্টিন ফাইল সংক্ষেপে:
- প্রথম বড় মামলা: ২০০৮.
- গ্রেপ্তার: ২০১৯.
- মৃত্যু: কারাগারে।
- অভিযোগ: অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের যৌন পাচার।
জেফ্রি এপস্টিন ছিলেন একজন মার্কিন ধনকুবের, যার উচ্চমহলে ছিলো অবাধ যাতায়াত।
অর্থাৎ তিনি এমন একজন ব্যক্তি ছিলেন, যিনি শুধু ধনী ছিলেন না,
ছিলেন ক্ষমতাশালীদের বন্ধু।
- রাজনীতিবিদ।
- কর্পোরেট প্রধান।
- রাজপরিবারের সদস্য।
- সেলিব্রিটি।
- ধনকুবের।
তাঁর ব্যক্তিগত জেট, বিলাসবহুল সেই কুখ্যাত দ্বীপ, নিউইয়র্ক ও প্যারিসের প্রাসাদ—
সব জায়গায় ছিলো প্রভাবশালীদের আনাগোনা।
আর এই সম্পর্কগুলোই তাকে তৈরি করে দেয় এক অদৃশ্য ও মজবুত ঢাল।

২০১৯ সালে তাঁর রহস্যময় মৃত্যুর পর আদালতের নির্দেশে
জনসমক্ষে আসা ফাইলগুলো বিশ্ব রাজনীতি ও বিনোদন জগতে ভূমিকম্পের সৃষ্টি করেছে।
এই ফাইলের গুরুত্ব
কেন এত বেশি?
রাঘববোয়ালদের তালিকা:
এখানে প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট থেকে শুরু করে ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য,
বিলিয়নিয়ার বিজ্ঞানী এবং হলিউড তারকাদের নাম জড়িয়ে আছে।
তবে এক্ষেত্রে বলে রাখা ভালো,
তালিকায় নাম নথিভুক্ত আছে মানেই তাঁরা প্রত্যেকেই এই অপরাধের সাথে জড়িত এমন নয়।
শোষণের নীল নকশা
(Blueprint):
কিভাবে বছরের পর বছর ধরে অপ্রাপ্তবয়স্কদের (শিশু কন্যা) উপর
যৌন নির্যাতন চালানো হয়েছে এবং একটা পরিকল্পিত ‘ট্রাফিকিং নেটওয়ার্ক’ তৈরি করা হয়েছে,
তার বিস্তারিত প্রমাণ এখানে রয়েছে।
আদালতের সাক্ষ্য ও তদন্তে উঠে এসেছে—
- অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের নানানভাবে নিয়মিত যৌন শোষণ।
- প্রভাবশালী ক্লায়েন্টদের জন্য তাঁদের ব্যবহার।
- একটা সুসংগঠিত ট্রাফিকিং নেটওয়ার্ক।
এই অপরাধগুলো বহু বছর ধরে চলেছিল।
শিকার বাছাই:
লক্ষ্য ছিলো দুর্বল
ও অসহায় কিশোরীরা
তদন্ত ও সাক্ষ্য অনুযায়ী শিকারদের বেশিরভাগই ছিলো—
- ১৪ থেকে ১৭ বছর বয়সী মেয়েরা।
- দরিদ্র পরিবার থেকে আসা।
- ভাঙা পরিবার বা সামাজিক সমস্যায় জড়িত।
- মানসিকভাবে দুর্বল বা আর্থিক চাপে থাকা।
এদের সাধারণত খুঁজে বের করা হত—
- স্কুলের আশেপাশে।
- শপিং মল বা পার্কে।
- বন্ধু বা পরিচিতের মাধ্যমে।
অনেক সময় একজন ভুক্তভোগীকে বলা হত—
“আরো একজন মেয়েকে নিয়ে এলে ভালো টাকা পাবে।”
এভাবে ধীরে ধীরে তৈরি হয়েছিল একটা রেফারেল চক্র।
প্রলোভনের প্রথম ধাপ:
ম্যাসাজের কাজ
সাক্ষ্য অনুযায়ী মেয়েদের বলা হত—
- একজন ধনী ব্যক্তির জন্য ম্যাসাজ করতে হবে।
- সময় লাগবে ৩০-৬০ মিনিট।
- বিনিময় দেয়া হবে ২০০-৩০০ ডলার।
একজন কিশোরীর কাছে এই টাকা ছিলো স্বপ্নের মত।
আর এভাবেই তাদের প্রথমে একটা নিরীহ কাজের প্রস্তাব দেওয়া হত।
প্রথম সাক্ষাৎ: বিলাসবহুল
বাড়ির ভিতরের বাস্তবতা
ভুক্তভোগীদের অনেকেই বলেছে,
প্রথমবার যখন তাঁরা এপস্টিনের বাড়িতে ঢুকেছিল—
- নিউইয়র্কের প্রাসাদোপম বাড়ি।
- ফ্লোরিডার বিলাসবহুল ম্যানশন।
- বা ব্যক্তিগত দ্বীপ (লিটল সেন্ট জেমস)।
সবকিছু এত আড়ম্বরপূর্ণ ছিলো যে,
শিশু মেয়েরা ভেবেছিল এখানে কোনো বিপদ হতে পারে না।
কিন্তু ম্যাসাজ শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি বদলে যেত।
সাক্ষ্য অনুযায়ী—
- তাঁকে নগ্ন অবস্থায় ম্যাসাজ করতে বলা হত।
- ধীরে ধীরে কাজের সীমা বাড়ানো হত।
- আপত্তি করলে বলা হত, “এটা স্বাভাবিক।”
অনেকেই প্রথমে বুঝতে পারেনি কি ঘটছে।
আরও দেখুন: এখানে।
এপস্টিন ফাইল:
ধাপে ধাপে শোষণের কৌশল:
তদন্তে উঠে এসেছে, এপস্টিনের পদ্ধতি ছিলো ধীরে ধীরে সীমা ভাঙা।
প্রথমে:
- ম্যাসাজের প্রস্তাব।
- নগ্ন অবস্থায় থাকতে বলা।
- যৌন আচরণের দিকে ঠেলে দেওয়া।
- পরের নিয়মিত ডাকতে শুরু করা।
এটা ছিলো একটা সাইকোলজিক্যাল গ্রুমিং প্রক্রিয়া—
যেখানে ভুক্তভোগীকে ধীরে ধীরে এমন অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হত,
যাতে সে প্রতিবাদ করতে না পারে।
সহকারি ও পরিচালনাকারীরা:
আদালতের সাক্ষ্যে উঠে এসেছে, এপস্টিন একা এসব করতেন না।
তার চারপাশে ছিলো—
- মহিলা সহকারী।
- নিয়োগকারী।
- সময়সূচী পরিচালনাকারী।
- বাড়ির কর্মচারী।
অনেক সময়ে সহকারীরাই—
- মেয়েদের নিয়ে আসত।
- সময় ঠিক করত।
- অর্থ প্রদান করত।
অর্থাৎ পুরো ব্যাপারটাই ছিলো একটা সংগঠিত ব্যবস্থা,
যেখানে নির্যাতন ছিলো রুটিনের অংশ।
তবে এই পুরো প্রক্রিয়ায় এপস্টিনের প্রধান সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন
গিজলেন ম্যাক্সওয়েল, যাকে এই পাচারচক্রের মূল কারিগর বলা হয়।
(যিনি বর্তমানে কারাদণ্ড ভোগ করছেন)।
( তিন বছর বয়সে কোন শিশু খেলনা চায়।
আলিশা চেয়েছিল গ্রহ।
টেলিভিশনের পর্দায় মঙ্গল গ্রহের উপর একটা কার্টুন দেখে
সে তাঁর বাবাকে বলেছিল—
“বাবা, আমি একদিন ওখানে যেতে চাই।”
মঙ্গলের বিষন্ন লাল আকাশে যখন পৃথিবীর প্রথম আলো পড়বে,
তখন সেই আলোর নিচে কে দাঁড়িয়ে থাকবে—
আলিশা না অন্য কোনো সরকারি নভোচারী— তা সময় বলে দেবে।
পড়ুন ছোট্ট মেয়ের সেই অদম্য জেদ আর স্বপ্নের কাহিনী।
Click: মঙ্গল গ্রহ: আলিশা কার্সন– তবে কি তাঁর স্বপ্ন এবার সত্যি হতে চলেছে? )
———————
অর্থ ও নীরবতার চুক্তি:
অনেক ভুক্তভোগী বলেছে—
প্রতিবার টাকা দেওয়া হত।
অতিরিক্ত টাকা দিয়ে বলা হত, “ আর কাউকে নিয়ে এসো।”
কখনো কখনো চুপ থাকার জন্য অর্থ দেওয়া হত।
অনেকেই দরিদ্র পরিবার থেকে আসায়—
- তাঁরা টাকার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।
- ধীরে ধীরে এই চক্রে আটকে যায়।
এটাই ছিলো শোষণের সবচেয়ে নির্মম দিক।
ভয় দেখানো ও নিয়ন্ত্রণ:
কিছু সাক্ষ্যে বলা হয়েছে—
- এপস্টিন বলতেন তাঁর অনেক বড় বড় বন্ধুরা আছে।
- তিনি আইনের নাগালের বাইরে।
- কেউ অভিযোগ করলে তাঁদের জীবন নষ্ট হয়ে যাবে।
এই মানসিক চাপ ও ভয় অনেককে বছরের পর বছর চুপ করিয়ে রেখেছিল।
ব্যক্তিগত জেট ও দ্বীপ:
তদন্তে উঠে এসেছে—
- তাঁর ব্যক্তিগত জেট ছিলো।
- বিভিন্ন দেশে যাতায়াত হত।
- ব্যক্তিগত দ্বীপে অতিথিদের আমন্ত্রণ জানানো হত।
কিছু ভুক্তভোগী বলেছে, তাঁদেরও এসব জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
এই পরিবেশগুলো ছিলো—
- বিচ্ছিন্ন।
- নিয়ন্ত্রিত।
- বাইরের নজর থেকে দূরে।
যা শোষণের জন্য উপযোগী পরিস্থিতি তৈরি করত।
প্রথম তদন্ত: আরেকটা “সুযোগ”
২০০০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে যখন প্রথম গুরুতর অভিযোগ ওঠে,
তখন অনেকেই ভেবেছিল— এবার হয়তো শেষ।
কিন্তু ২০০৮ সালে তিনি এমন একটা গোপন আইনি চুক্তি
[দেখুন– (Non-Prosecution Agreement)] করেন,
যা পরে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে অন্যতম বিতর্কিত সিদ্ধান্ত হিসেবে পরিচিত হয়।
অভিযোগ ছিলো শিশু মেয়েদের যৌন শোষণের।
তবু তিনি পান ১৩ মাসের তুলনামূলক হালকা সাজা।
আর সেই সাজাও ছিলো—
- দিনে কয়েক ঘন্টা “কাজে” যাওয়ার অনুমতি।
- সাধারণ কারাগারের কড়া নিয়মের বাইরে সুবিধা।
সাধারণ কোনো অভিযুক্ত হলে কি এমন সুবিধা পেত?
এই প্রশ্নই পরে পুরো বিচারব্যবস্থাকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করায়।
২০১৯: দ্বিতীয়বার গ্রেপ্তার,
কিন্তু বিচার আর হল না
২০১৯ সালে আবার গ্রেপ্তার করা হয় তাকে।
অভিযোগ আরও গুরুতর।
এইবার মনে হচ্ছিল—
বহু বছরের নীরবতার পর হয়তো সত্য সামনে আসবে।
কিন্তু বিচার শুরুর আগেই তিনি কারাগারে মারা যান।
সরকারি রিপোর্টে আত্মহত্যা বলা হলেও—
- ক্যামেরা কাজ করছিল না।
- গার্ডরা দায়িত্বে ব্যর্থ।
- নিয়মিত পর্যবেক্ষণ হয়নি।
এই ঘটনাগুলো মানুষের সন্দেহ আরও বাড়িয়ে দেয়।
তবে এপস্টিনের পরিবারের নিয়োগ করা ডাক্তার ফরেনসিক প্যাথলজিস্ট
মাইকেল ব্যাডেন হাড়ের ভাঙন দেখে একে ‘শ্বাসরোধ করে হত্যা’র
লক্ষণের সাথে তুলনা করেছিলেন।
প্রভাবের সুরক্ষা কবজ:
এপস্টিন জানতেন এত বড় ক্রাইম করে এভাবে একা টিকে থাকা বেশিদিন সম্ভব নয়।
তাই তিনি বিশ্বের ক্ষমতাধর বা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন।
- বিলাসবহুল পার্টি।
- ব্যক্তিগত দ্বীপে আমন্ত্রণ।
- ব্যবসায়িক যোগাযোগ।
এসবের মধ্যে দিয়ে তাঁদের যথাসাধ্য আপ্যায়ন করতেন,
এবং হয়তো পরোক্ষভাবে তাঁদের নিজের জালে আটকে ফেলতেন।
ফলে আইন যখন তাঁর দরজায় কড়া নাড়তে চাইত,
তখন তাঁর চারপাশে তৈরি হত এক শক্তিশালী সামাজিক বলয়।

ভিকটিমদের অর্থ দিয়ে মুখ বন্ধ করানো হোক,
কিংবা বাঘা বাঘা আইনজীবীদের দিয়ে বিচারের গতিপথ ঘুরিয়ে দেওয়া—
এপস্টিন প্রমাণ করেছেন যে অর্থের দাপট থাকলে ন্যায় বিচারকে বছরের পর বছর
ড্রইংরুমে বন্দি করে রাখা যায়।
এপস্টিন ফাইল:
নথিতে ভারত সংক্রান্ত বিতর্ক
সাম্প্রতিক কিছু প্রকাশিত ই-মেইল ও যোগাযোগ নথিতে ভারত সম্পর্কিত
কিছু তথ্যও সামনে এসেছে, যা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
নথিতে দেখা যায়—
নরওয়ের কূটনীতিক টেরিয়ে-লারসেনের একটা বিতর্কিত মন্তব্যসহ ই-মেইল প্রকাশ্যে এসেছে।
ভারতের কূটনীতিক ও রাজনীতিবিদ হরদীপ সিং পুরির সঙ্গে
এপস্টিনের ই-মেইল যোগাযোগের (২০১৩-১৪ সাল) তথ্যও উঠে এসেছে।
এসব যোগাযোগ মূলত ব্যবসা ও বিনিয়োগ আলোচনা ঘিরে ছিলো বলে সংশ্লিষ্ট পক্ষ দাবি করছে,
তবে তা কতটা সত্য, তা এখনও বিস্তারিতভাবে জানা যায়নি।
এগুলো নিয়ে ভারতে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে,
তবে কোনো অপরাধমূলক সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ আদালতে এখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
“সুপার-হিউম্যান” ধারণা:
বিতর্কিত পরিকল্পনা
কিছু সাক্ষ্য ও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে,
এপস্টিন বিজ্ঞানীদের মাধ্যমে নিজের ডিএনএ ছড়িয়ে বহু সন্তান জন্ম দেওয়ার
পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছিলেন।
এই ধারণাকে অনেকেই একটা বিকৃত ‘উন্নত মানবজাতি’ তৈরির চিন্তার সঙ্গে তুলনা করেছেন।
তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবে কতদূর এগিয়েছিল, তার স্পষ্ট প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি।
গুজব, কল্পকাহিনী ও বাস্তবতা:
এপস্টিন ফাইল প্রকাশের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় নানান ধরনের দাবি ছড়ায়—
- নরখাদন।
- গোপন ধর্মীয় রিচুয়াল।
- বিশ্বব্যাপী শয়তানি নেটওয়ার্ক।
কিন্তু আদালত-সংক্রান্ত নথি,
তদন্ত প্রতিবেদন এবং প্রধান সাক্ষ্যে এসব দাবির কোনো প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি।
এই কেস বাস্তবেই ভয়াল-ভয়ংকর—
কিন্তু তার কারণ প্রমাণিত যৌন শোষণ ও পাচার, গুজব নয়।
অন্ধকারের দরজা একবার খুললে…
এপস্টিন কাণ্ড শুধু একজন ধনুকুবেরের অপরাধের গল্প নয়।
এটা দেখিয়েছে— ক্ষমতা, অর্থ আর প্রভাব একসাথে হলে
বিচারব্যবস্থাও কত সহজে দুর্বল হয়ে পড়ে।
যখন অর্থ আর অন্ধ ক্ষমতা একে অপরের পরিপূরক হয়ে ওঠে,
তখন ‘ন্যায়বিচার’ কেবল একটা শব্দে পরিণত হয়।
- বছরের পর বছর অভিযোগ ছিলো।
- ভুক্তভোগীরা কাঁদছিল চাপা যন্ত্রনায়, হাহাকার করছিল।
- তবুও সত্য চাপা পড়েছিল প্রভাবশালীদের কালো ছায়ায়।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই গোপন জগতের দরজায় একটু হলেও খুলেছে—
আর সাধারণ মানুষ জানতে শুরু করেছে, ক্ষমতার আড়ালে কি ভয়ংকর বাস্তবতা লুকিয়ে থাকতে পারে।
তবু ইতিহাসের একটা অদ্ভুত নিয়ম আছে—
অন্ধকার যত গভীরই হোক, কোনো না কোনো ফাঁক দিয়ে আলো ঢুকেই পড়ে।
এপস্টিন ফাইল সেই আলোর প্রথম ঝলক মাত্র।
আজ যে কেলেঙ্কারির কিছু অংশ সামনে এসেছে, কাল হয়তো আরও বড় সত্যও বেরিয়ে আসবে।
হয়তো এমনই কোনো একদিন,
গোপন সামরিক ঘাঁটি গবেষণা কেন্দ্র বা এরিয়া ৫১-এর এলিয়েন বা ইউএফও-এর মত
বহু দিনের রহস্যও দাবানল হয়ে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়বে।
———————-
( কিন্তু মাটির নিচে এবং গঙ্গার পাড়ে এমন এক পৈশাচিক ব্যবসার দানা বেঁধেছিল,
যার খবর ইতিহাসের বইয়ে আপনি খুঁজে পাবেন না।
আর না পাওয়াটাই স্বাভাবিক।
কারণ বিজয়ীরা কখনো নিজেদের অপরাধ লিপিবদ্ধ করে না।
১৮ শতকের শেষ ভাগ থেকে ১৯ শতকের মাঝামাঝি— সেই সময় একটা শহর ছিলো,
যেখানে মৃত মানুষের দেহও শান্তিতে মাটি পেত না।
নিশ্চই ভাবছেন, কোন সেই শহর?
পড়ুন ভয়ঙ্কর সেই অজানা কাহিনী:
Click: কঙ্কালের রাজধানী… : ব্রিটিশ সাম্রাজ্যে হাড় ও লাশের বিভীষিকা! )
অবশ্যই জানাবেন আপনার মূল্যবান মন্তব্যে।
[লেখাটা প্রয়োজনীয় মনে হলে অবশ্যই শেয়ার করে
সমাজের অন্যদেরও পড়তে, জানতে সুযোগ করে দেবেন।
ইমেইল আইডি দিয়ে আমাদের বাঙালির পরিবারের একজন
প্রিয় মানুষ হয়ে উঠুন।
চলুন বাঙালিকে বিশ্বের দরবারে বারবার তুলে ধরি—
চিন্তা, চেতনা আর শব্দের শক্তিতে— একসাথে, সবাই মিলে।
বিশ্ব জানুক—
আমাদের ভারত কি?
বাঙালি কি?
বাংলা শব্দের ক্ষমতাই বা কি?]
Articlesবাংলা Bangla Articles, Quotes & Prose-Poetry / বাংলা প্রবন্ধ, উক্তি ও গদ্য-কবিতা।





