সরকারি হাসপাতাল:
প্রতিশ্রুতি বনাম বাস্তবতা
সরকারি হাসপাতাল: ভেবে দেখুন তো—
একটা দেশের ভেতরে স্বাস্থ্যব্যবস্থার সম্পূর্ণ দায়িত্ব কার?
স্বাভাবিকভাবেই সরকারের।
কারণ নাগরিক (পড়ুন) ট্যাক্স দেয়, ভোট দেয়, আইন মানে;
এমনকি ট্রাফিক সিগন্যালও মানে—
এর বদলে রাষ্ট্র তার ন্যূনতম নিরাপত্তা, শিক্ষা আর চিকিৎসার দায়িত্ব নেবে।
অর্থাৎ সরকারের প্রাথমিক কাজ হল তার নাগরিকদের জন্য বিনামূল্যে
এবং মানসম্মত বা কোয়ালিটি হেলথ কেয়ার নিশ্চিত করা।
এটাই আধুনিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার ভিত্তি।
বইয়ে তাই লেখা আছে।

ভারতেও স্বাধীনতার পর সেই লক্ষ্য নিয়েই স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা ছিল।
স্বপ্ন ছিল সবাই চিকিৎসা পাবে, সমানভাবে পাবে, মর্যাদার সঙ্গে পাবে।
কিন্তু ৭৫ বছরের বেশি সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও প্রশ্নটা একই রয়ে গেছে—
কেন সরকার তার এই ‘কমিটমেন্ট’ রাখতে বরাবরই ব্যর্থ হয়েছে?
স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত যে সরকারই আসুক,
এই নির্দিষ্ট দায়িত্ব পালনে তারা বারবার ডাহা ফেল করেছে।
কেন্দ্র ও রাজ্যের
আর্থিক বাস্তবতা:
(টাকা আছে, কিন্তু কোথায় যাবে সেটা আলাদা প্রশ্ন)
- ভারতের অর্থনীতি গত কয়েক বছরের দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
- (দেখুন) জিডিপি গ্রোথ ৬-৭ শতাংশের আশেপাশে রয়েছে।
- ২০২৫ এর জিডিপি অনুযায়ী বিশ্বের ৫ম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ ভারত।
- সংবাদে শুনলে মনে হয়— দেশ একেবারে দৌড়াচ্ছে।
কেন্দ্র সরকারের মোট বাজেট ব্যয় বর্তমানে ৪৮ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি।
সংখ্যাটা এমন, যে ক্যালকুলেটরও একটু থেমে শ্বাস নেয়।

কিন্তু স্বাস্থ্য খাতে সরকারি ব্যয় এখনও জিডিপির প্রায়
১.৬-১.৯ শতাংশের মধ্যে ঘোরাফেরা করে।
সরকারের ঘোষিত লক্ষ্য ছিল এটা ২০২৫ সালের মধ্যে ২.৫ শতাংশে উন্নীত করা,
কিন্তু এখনও সেই লক্ষ্যে পুরোপুরি পৌঁছানো যায়নি।
অথচ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলে—
ভালো মানের সার্বজনীন স্বাস্থ্যব্যবস্থা চাইলে কমপক্ষে ৫ শতাংশ জিডিপি খরচ করা উচিত।
অর্থাৎ অর্থনীতি বাড়ছে, রাজস্ব বাড়ছে— কিন্তু সরকারি হাসপাতাল-এর বেড সেই আগের মতই কম।
স্বাস্থ্য কেন রাজ্যের দায়িত্ব?
(দায়টা একটু ভাগ করে নেয়া যাক)
ভারতে স্বাস্থ্য মূলত স্টেট সাবজেক্ট।
অর্থাৎ সরকারি হাসপাতাল চালানো, ডাক্তার নিয়োগ করা,
প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র সচল রাখা—
এসবের প্রধান দায়িত্ব রাজ্য সরকারের।
- কেন্দ্র বলে— আমরা নীতি দিয়েছি।
- রাজ্য বলে— আমরা টাকা কম পাচ্ছি।
- মাঝখানে রোগী বলে— আমার জ্বর ১০৩.
জাতীয় স্বাস্থ্যনীতিতে বলা হয়েছিল—
রাজ্যগুলোকে তাদের বাজেটের কমপক্ষে ৮ শতাংশ স্বাস্থ্যখাতে ব্যয় করা উচিত।
বাস্তবে?
সাম্প্রতিক বাজেট অনুযায়ী রাজ্যগুলোর গড় স্বাস্থ্যব্যয় প্রায় ৬.২ শতাংশের কাছাকাছি,
যা জাতীয় স্বাস্থ্যনীতির নির্ধারিত ৮ শতাংশ লক্ষ্য থেকে এখনও অনেকটাই কম।
(পড়ুন) ফলাফল?
- সরকারি হাসপাতাল-এ বেডের অভাব।
- ডাক্তার-রোগীর অনুপাত কম।
- নার্স ও টেকনিশিয়ানের ঘাটতি।
- আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাব।
- দীর্ঘ লাইন (যেখানে লাইনে দাঁড়ানোই আলাদা দক্ষতা)।
দায়িত্ব হস্তান্তরের পলিটিক্স
ও ইচ্ছাকৃত ব্যর্থতা:
ব্যর্থতা যখন বছরের পর বছর অভ্যাসে পরিণত হয়,
তখন সেটা আর অক্ষমতা থাকে না, হয়ে দাঁড়ায় একটা সুপরিকল্পিত স্ট্র্যাটেজি।
অতএব সরকার স্বাস্থ্যখাতে বেসরকারি হাসপাতালগুলোর জন্য দরজা খুলে দিল—
ব্যাস! সারা ভারত জুড়ে গড়ে উঠতে লাগল অসংখ্য প্রাইভেট হাসপাতাল।
- সুপার স্পেশালিটি।
- মাল্টি-স্পেশালিটি।
- লবি দেখলে মনে হয় পাঁচতারা হোটেল।
- কিন্তু বিল দেখে মনে হয় আপনি ভুল করে হাসপাতাল না, স্টক মার্কেটে ঢুকে পড়েছেন।
- চিকিৎসার বিল পৌঁছতে লাগল লক্ষ লক্ষ টাকায়।
- যাদের হাতে টাকা আছে, তাদের সামনে একাধিক বিকল্প খুলে গেল।
- সরকারও নিজেদের চাপ কিছুটা কমাতে পারল।
কিন্তু অন্যদিকে?
মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য চিকিৎসা হয়ে উঠল এক দুঃস্বপ্ন।
বেসরকারি হাসপাতালের বিল আজ এক বিশাল আতঙ্কের নাম।
যেখানে ডিসচার্জ মানে শুধু রোগী না, সঞ্চয়ও বেরিয়ে গেল।

কিন্তু একটা কথা মনে রাখবেন—
স্বাস্থ্যসেবার চূড়ান্ত দায়িত্ব এখনও এবং সবসময়ই সরকারের।
এই দায়িত্ব কোনও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, কোনও ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি
কিংবা কোনও ব্যক্তির উপর চাপিয়ে দিয়ে সরকার নিজেকে মুক্ত করতে পারে না।
বাস্তবতা হল, ভারতের এখনও মোট স্বাস্থ্যব্যয়ের প্রায় ৪৭-৫০ শতাংশ
মানুষকে নিজের পকেট থেকেই বহন করতে হয়।
অর্থাৎ চিকিৎসার অর্ধেক খরচই আসে সাধারণ মানুষের পকেট থেকে।
মানে অসুখ হলে আগে মানিব্যাগ অসুস্থ হয়।
জনকল্যাণ শব্দটা যেন আজ ধীরে ধীরে ব্যবসায়িক মডেলে পরিণত হয়েছে।
কেন এই সিস্টেম
আজও বদলায়নি?
এখন প্রশ্ন জাগে,
দেশের ইকোনমিক গ্রোথ এত ভালো হওয়া সত্ত্বেও সরকারি হাসপাতাল-এর
বেহাল দশা মোটে কাটে না কেন?
এর পেছনে তিনটে বড় কারণ কাজ করে:
১. বাজেট বনাম অগ্রাধিকার:
যখন সরকার জি-২০ (G20)
এর মত মেগা ইভেন্টের জন্য কয়েক হাজার কোটি টাকা খরচ করে
শহর সাজাতে পারে, রাস্তার ধারের বস্তিগুলোকে পর্দা দিয়ে ঢেকে
বিদেশের কাছে ‘চকচকে ভারত’ দেখাতে পারে—
তখন সেই একই শহরগুলোর সরকারি হাসপাতালে ভেন্টিলেটার বা ডায়ালিসিস
মেশিনের অভাবে মানুষ কেন মারা যাবে?
অর্থাৎ আমাদের কাছে ‘ইমেজ’ বা ছবি বড় ‘লাইফ সাপোর্ট’ নয়।
২. রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনের বহর:
যে সরকার বা নেতা প্রকৃতপক্ষে মানুষের জন্যই, মানুষ তাকে ঠিকই চিনে নেবে।
এর জন্য এত টাকার বিজ্ঞাপনে নিজেদের “মুখ” প্রমাণ কেন করতে হবে?
নেতাজী সুভাষচন্দ্র তো বিজ্ঞাপনই দেননি,
তবে তিনি কি আজও কোটি কোটি ভারতবাসীর,
বা রাজ্যবাসীর হৃদপিণ্ডে আজও এতদিন পরেও বসে নেই?
কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত প্রতিবছর কেন্দ্রীয় সরকার ও রাজ্যসরকারগুলো
নিজেদের সাফল্যের প্রচার করতে সংবাদপত্রের প্রথম পাতা বা টিভি চ্যানেলের
প্রাইম টাইমে যে কয়েক হাজার কোটি টাকার বিজ্ঞাপন দেয়,
সেই টাকা দিয়ে কতগুলো নতুন মেডিকেল কলেজ বা অক্সিজেন প্ল্যান্ট তৈরি করা যেত?

বিজ্ঞাপনে হাসিমুখের নেতার ছবির চেয়ে কি হাসপাতালের বেডে
সুস্থ হওয়া রোগীর হাসি বেশি জরুরী নয়?
৩. কর্পোরেট ঋণ মুকুব
(Loan Write-off):
সরকার যখন বড় বড় শিল্পপতিদের কয়েক লক্ষ কোটি টাকার ঋণ (NPA)
মুকুব করে দেয়, কর্পোরেট ট্যাক্স কমিয়ে দেয়,
তখন সাধারণ মানুষের চিকিৎসার জন্য বাজেটে টাকা থাকে না—
এটা কি স্রেফ অর্থের অভাব নাকি ধনকুবেরদের প্রতি পক্ষপাতিত্ব?
৪. ভিআইপি কালচার
বনাম সাধারণ নাগরিক:
একজন নেতার সামান্য সর্দি-কাশি হলে তিনি বিদেশে বা দেশের সবচেয়ে দামি হাসপাতালে
সরকারি খরচে চিকিৎসা পান, অথচ যে ট্যাক্সপেয়ারের টাকায় তাঁর চিকিৎসা হচ্ছে,
সেই সাধারণ মানুষকে স্ট্রেচারের অভাবে হাসপাতালের মেঝতে মুখ থুবড়ে পড়ে থাকতে হয়।
এই বৈষম্য কি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় না যে সিস্টেম আসলে কার জন্য কাজ করছে?
প্রশ্ন এখানে খুব গুরুত্বপূর্ণ যে—
সরকার যেটুকু টাকা বরাদ্দ করে, তার সবটাই কি যথাযথ এই খাতে ব্যয় হয়?
না মাঝপথে সেই টাকা উন্নয়নের ‘গঙ্গা’ দিয়ে বইতে বইতে কারও ব্যক্তিগত
‘পুকুরে’ গিয়ে মেশে?

পশ্চিমবঙ্গ হোক বা কেন্দ্র—
বাজেট বাড়লেও তার বড় অংশ খরচ হয় সরকারি বেতন,
গ্র্যাচুরিটি আর লোক দেখানো কিছু খয়রাতি স্কিমে, ফলে হাসপাতালের আধুনিক যন্ত্রপাতি
বা আইসিইউ বেড বাড়ানোর সিন্দুক থাকে ফাঁকা।
এর গভীরে লুকিয়ে আছে ‘সিস্টেমিক লিকেজ’—
যেখানে টেন্ডার থেকে ওষুধ সরবরাহ পর্যন্ত প্রতিটা স্তরে দুর্নীতির ঘুণপোকা
টাকার আসল ভাগটা হজম করে ফেলে।
গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোকে তো মনে হয় একপ্রকার ইচ্ছাকৃত পঙ্গু করে রাখা হয়,
যাতে মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে, বাধ্য হয়ে বেসরকারি কর্পোরেট হাসপাতালের
“ডেথ ট্র্যাপ”-এ পা রাখে।
অর্থাৎ টাকা আছে, কিন্তু তা উন্নয়নের চাকা ঘোরানোর বদলে সিস্টেমের ভেতরে থাকা
মধ্যস্বত্বভোগী আর রাজনীতির অলিন্দে কর্পূরের মত উড়ে যায়।
বেসরকারি চিকিৎসা:
সেবা না ব্যবসা?
আজ বাস্তবতা হল—
বেসরকারি চিকিৎসা ধীরে ধীরে সেবার ক্ষেত্রে থেকে সরে গিয়ে
এক বিশাল ব্যবসায় পরিণত হয়েছে।
কর্পোরেট হাসপাতালগুলোর বিনিয়োগ, অবকাঠামো, প্রযুক্তি—
সবই উন্নত; কিন্তু তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে চিকিৎসার খরচ।
একটা বড় অস্ত্রপ্রচার, আইসিইউ বা দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা—
সহজেই বিল পৌঁছে যায় লক্ষ্য থেকে কখনও কোটি টাকায়।
চিকিৎসা এখন অনেক ক্ষেত্রে ‘প্যাকেজ’, ‘টার্গেট’, ‘রেভিনিউ মডেল’-এর
ভাষায় পরিমাপ হয়।
যে মুহূর্তে আপনি সরকারি হাসপাতালের উপর রাগ করে প্রাইভেটে ঢুকলেন,
ভাববেন আপনি শিকারি বেড়ালের সামনে ইঁদুর হয়ে গেলেন।

অপ্রয়োজনীয় টেস্ট, আইসিইউ-এর চড়া ভাড়া আর ওষুধের নামে গলা কাটা কমিশন—
একদম সাজানো গোছানো ডাকাতি!
মধ্যবিত্তের সারা জীবনের সঞ্চয় যেন সে মুহূর্তে কয়েকদিনের মধ্যেই
কর্পূরের মত উড়ে যায়।
এর সবচেয়ে বড় চাপ পড়ে সাধারণ ও মধ্যবিত্ত মানুষের ওপর।
অসুখ মানেই উদ্বেগের সঙ্গে যোগ হয় অর্থনৈতিক আতঙ্ক—
ঋণ, সঞ্চয় ভাঙ্গা, গয়না বিক্রি, জমি-বাড়ি বিক্রি—
এসব হয়ে ওঠে অতি স্বাভাবিক ব্যাপার।
ফলে চিকিৎসা কেবল শারীরিক লড়াই নয়, আর্থিক বেঁচে থাকার লড়াইয়েও পরিণত হয়।
এখানেই প্রশ্নটা আরও তীব্র হয়ে ওঠে—
স্বাস্থ্য যদি মৌলিক অধিকার হয়, তবে তা কি বাজারের মুনাফার উপর নির্ভর করবে?
দেবদূত হিসেবে
হেলথ ইন্স্যুরেন্স:
(আগে প্রিমিয়াম দিন, পরে ভাবুন)
এই পরিস্থিতি সামাল দিতে দেবদূত হিসেবে, ঢাল হয়ে বাজারে এল “হেলথ ইন্স্যুরেন্স।”
যুক্তি দেয়া হল— যদি কেউ সরকারি ব্যবস্থার চেয়ে ভালো পরিষেবা চায়,
তাহলে সে ইন্স্যুরেন্সের মাধ্যমে সেটা বহন করতে পারবে।
কেন্দ্র ও রাজ্য— দুপক্ষই বিভিন্ন স্বাস্থ্যবীমা প্রকল্প চালু করেছে।
বেসরকারি ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিও দ্রুত বাজার দখল করেছে।
সরকারি হাসপাতাল:
এত আবেদন,
তবু পরিবর্তন কোথায়?
এই বিষয় নিয়ে—
- শত শত প্রবন্ধ লেখা হয়েছে।
- অসংখ্য টেলিভিশন ডিবেট হয়েছে।
- সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও ভাইরাল হয়েছে।
- আদালতে মামলা হয়েছে।
- নীতিনির্ধারণী আলোচনাও হয়েছে।
কিন্তু বাস্তব চিত্র আদৌ বদলেছে কি?
সরকারি হাসপাতালে ভিড় কমেনি।
ডাক্তার-রোগীর অনুপাত এখনও আন্তর্জাতিক মানের নিচে।
গ্রামীণ স্বাস্থ্যব্যবস্থা এখনও দুর্বল।
কারণ মূল সমস্যাটা কাঠামোগত—
বরাদ্দ কম, পরিকল্পনা দীর্ঘমেয়াদি নয়, আর স্বাস্থ্য এখনও রাজনৈতিক অগ্রাধিকারের
প্রথম সারিতে উঠে আসেনি।
যুগের পর যুগ ধরে সরকার পাল্টায়, নেতা বদলায়, স্লোগান বদলায়—
কিন্তু সাধারণ মানুষের হাহাকার, অক্সিজেন আর কার্বন-ডাই-অক্সাইডের মত
বায়ু থেকে আর যায় না।
(দেখুন) সরকারি হাসপাতালের স্যাঁতসেঁতে দেওয়ালগুলো সেই স্বাধীনতার
পর থেকে একই রয়ে গেছে।
প্রশ্নটা কি কোনোদিন
ওপরে উঠবে?
স্বাস্থ্যসেবার চূড়ান্ত দায়িত্ব এখনও এবং সর্বদাই সরকারের কাঁধে।
এই দায়িত্ব কোনও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি,
কিংবা কোনও ব্যক্তির উপর চাপিয়ে দিয়ে সরকার নিজেকে মুক্ত করতে পারে না।
কেন্দ্র হোক,
বা রাজ্য—
দায়িত্ব এড়ানোর সুযোগ কারও নেই।
কারণ একটা দেশের প্রকৃত উন্নতি শুধুমাত্র জিডিপির গ্রাফে নয়—
দেখা যায় তার সরকারি হাসপাতালের ওয়ার্ডে।
আর সেখানে যদি এখনও বেড না মেলে—
তাহলে গ্রাফ যতই ওপরে উঠুক, প্রশ্নটা আজীবন নিচেই পড়ে থাকবে।
( বিঃ দ্রঃ এই লেখার উদ্দেশ্য কোনও রাজনৈতিক দল বা সংস্থাকে আক্রমণ বা ছোটো করা নয়, বরং দীর্ঘদিনের স্বাস্থ্যব্যবস্থার সমস্যাগুলো নিয়ে সাধারণ মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা। )
———————-
( এমারজেন্সিতে সরকারি বা বেসরকারি কোনও হাসপাতাল আপনাকে বা
আপনার পরিবারের কাউকে চিকিৎসা বা জরুরী পরিষেবা দিতে যদি
অস্বীকার করে, তখন মুহূর্তের মধ্যে জীবন বিপন্ন হয়ে উঠতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে আইন কি বলে?
আইন কিভাবে আপনার পাশে এসে দাঁড়াবে?
জেনে রাখুন বিস্তারিত…
পড়ুন– Click: এমারজেন্সিতে কোনো হাসপাতাল চিকিৎসা অস্বীকার করলে আইন কি বলে? )
আপনি কি আমাদের সাথে এক মত?
অবশ্যই জানাবেন আপনাদের মূল্যবান মন্তব্য।
[ লেখাটা প্রয়োজনীয় মনে হলে অবশ্যই শেয়ার করে
সমাজের অন্যদেরও পড়তে, জানতে সুযোগ করে দেবেন।
ইমেইল আইডি দিয়ে আমাদের বাঙালির পরিবারের একজন
প্রিয় মানুষ হয়ে উঠুন।
চলুন বাঙালিকে বিশ্বের দরবারে বারবার তুলে ধরি—
চিন্তা, চেতনা আর শব্দের শক্তিতে— একসাথে, সবাই মিলে।
বিশ্ব জানুক—
আমাদের ভারত কি?
বাঙালি কি?
বাংলা শব্দের ক্ষমতাই বা কি? ]
Articlesবাংলা Bangla Articles, Quotes & Prose-Poetry / বাংলা প্রবন্ধ, উক্তি ও গদ্য-কবিতা।


