বাংলার মিরজাফর:
ক্ষুদিরাম বসু ও প্রফুল্ল চাকীর সেই অগ্নিযুগের আত্মবলিদান নিয়ে চর্চা করতে
বসলে যে বিষয়টা আমাদের কাছে কম গুরুত্ব পায়, তা হল “বিশ্বাসঘাতকতা।”
বাংলার ইতিহাসে বিশ্বাসঘাতকতার সমার্থক শব্দ হিসেবে
আমাদের মাথার ভেতরে জেগে ওঠে একটাই নাম— মীরজাফর।
অর্থাৎ বিশ্বাসঘাতকতার আইকন— মীরজাফর।
পলাশীর আম্রকাননে সিরাজউদ্দৌলার সাথে যে বেইমানি তিনি করেছিলেন,
তা ভারতবর্ষের দাসত্বের ও আর্থিক মেরুদণ্ড গুঁড়িয়ে দেওয়ার পথ প্রশস্ত করেছিল।
কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় হল, ইতিহাস কেবল মীরজাফরকেই মনে রেখেছে।
কখনও ইতিহাস বিকৃত হয়েছে,
কখনও কিছু ঘটনা ইচ্ছে করেই আড়াল করে রাখা হয়েছে।
কখনও আবার সেই গল্পগুলো লোকমুখে বেঁচে থাকলে বইয়ের পাতায় জায়গা পায়নি।
ইতিহাসের ধুলো ঝাড়লে এমন আরও অনেক ‘ঘরের শত্রু বিভীষণ’ লুকিয়ে আছে,
যারা শুধুমাত্র টাকার লোভে বা পদমর্যাদার লালসায় নিজের জাতির সাথে চরম বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।

তাদের সেই পৈশাচিক কর্মকাণ্ড এতটাই ভয়ংকর ছিল যে,
মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতাও যেন মনে হয় এর কাছে লজ্জা পায়।
প্রকৃত দেশপ্রেমি বাঙালি ও বিশেষত বিপ্লবীদের চোখে
তেমনই এক কুখ্যাত বিশ্বাসঘাতক হলেন ‘নন্দলাল ব্যানার্জী।’
ব্রিটিশ পুলিশের এক সাধারণ চাটুকার সাব-ইন্সপেক্টর,
যার নাম বিশেষত আজকের প্রজন্মের কাছে প্রায় অজানা।
কিন্তু তাঁর কাপুরুষোচিত মনোভাব একসময় বাংলার বিপ্লবী আন্দোলনের ইতিহাস গর্ভে এক
কলঙ্কিত অধ্যায়ের জন্ম দিয়েছিল।
অত্যাচারী কিংসফোর্ড:
ও দুই কিশোরের সংকল্প
বিশ শতকের শুরুতে বাংলায় স্বদেশী আন্দোলন ও বিপ্লবী কর্মকাণ্ড দাবানল হয়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছিল।
এই সময় কোলকাতার প্রধান প্রেসিডেন্সি ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন ডগলাস কিংসফোর্ড।
তিনি বিপ্লবীদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর শাস্তি দিতেন।
কারণ ন্যায়ের আসনে ভেক ধরে যখন স্বয়ং ‘অন্যায়’ বসে থাকে,
তখন অবিচারই স্বাভাবিক হয়ে দাঁড়ায়।
স্বদেশী কর্মী ও তরুণ বিপ্লবীদের উপর তাঁর কঠোর রায় বা দমননীতি বিপ্লবীদের চোখে তাকে
এক নিষ্ঠুর বা হিংস্র শাসকে পরিণত করে।
পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে,
শেষপর্যন্ত তাঁকে কোলকাতা থেকে সরিয়ে বিহারের মুজাফ্ফরপুরে বদলি করা হয়।
কিন্তু বিপ্লবীদের চোখে তিনি তখনও প্রধান টার্গেট।
বিষয়টা ছিল কিছুটা এমন— আকাশ, পাতাল যেখানেই থাকুক,
কিংসফোর্ডের আর কোনো রক্ষে নেই।
১৯০৮, ৩০ এপ্রিল:
মুজাফ্ফরপুর ও এক
ঐতিহাসিক ভুল
ঘটনাটা ১৯০৮ সালের।
বাংলার বিপ্লবী আন্দোলনের অগ্নিগর্ভ সময়।
অত্যাচারী ব্রিটিশ ম্যাজিস্ট্রেট কিংসফোর্ড তখন বিপ্লবীদের যম হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন।
তাঁর নির্মম অত্যাচারের বদলা নিতে দায়িত্ব দেওয়া হল যুগান্তর গোষ্ঠীর
তরুণ ও অসীম সাহসী ১৮ বছরের ক্ষুদিরাম বসু ও ১৯ বছর বয়স্ক প্রফুল্ল চাকী
নামক দুই যুবক সদস্যকে।
১৯০৮ সালের ৩০ এপ্রিল, রাত।
মুজাফ্ফরপুরের ইউরোপিয়ান ক্লাবের সামনে অপেক্ষা করছিলেন এই দুই তরুণ বিপ্লবী।
রাতের অন্ধকারে একটা ফিটন গাড়ি বেরোতেই তাঁরা সেটাকে কিংসফোর্ডের গাড়ি ভেবে
বোমা নিক্ষেপ করেন।
কিন্তু দুর্ভাগ্যবশতঃ সেই গাড়িটা আদৌ কিংসফোর্ডের ছিল না।
ছিল দুই ইউরোপিয়ান মহিলার।
আইনজীবী প্রিঙ্গল কেনেডির স্ত্রী ও কন্যার।
অত্যাচারী কিংসফোর্ড বেঁচে গেলেন, কিন্তু প্রাণ হারালেন মিসেস কেনেডি ও তাঁর মেয়ে।

আর ঠিক এই ভুলেই বদলে যায় ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামের গতিপথ।
বিস্ফোরণের পরই ব্রিটিশ পুলিশ চারিদিকে তল্লাশি শুরু করে,
তাঁদের যে কোনো প্রকারে ধরার জন্য চারিদিক বিছিয়ে দেওয়া হয় জাল।
ক্ষুদিরাম বসু ও প্রফুল্ল চাকী বুঝতে পারেন, একসঙ্গে থাকলে ধরা পড়ার সম্ভাবনা বেশি।
তাই দুই তরুণ বিপ্লবী আলাদা পথে পালানোর সিদ্ধান্ত নিলেন।
নন্দলালের ভূমিকা ও
মোকামা স্টেশনের সেই রাত:
কথা অনুযায়ী ক্ষুদিরাম বসু রেললাইন ধরে পায়ে হেঁটে পালানোর চেষ্টা করেন।
কিন্তু দীর্ঘ প্রায় ২৫ মাইল পথ চলার পর ক্লান্ত, বিধ্বস্ত শরীরে শেষ পর্যন্ত
তিনি পৌঁছালেন বৈনি স্টেশনে—মুজাফ্ফরপুর থেকে অনেকটা দূরের ছোট্ট এক স্টেশন।
১ মে, ১৯০৮.
ভোরবেলা ক্লান্ত, ধুলোমাখা কাপড় আর ক্ষুধার্ত অবস্থায় স্টেশনের পাশের এক দোকানে
জল চাইতে গেলে দুই কনস্টেবলের সন্দেহ হয় এবং কথাবার্তায় অসঙ্গতি পাওয়ায়
পুলিশ তাঁকে আটক করতে গেলে ক্ষুদিরাম পালানোর চেষ্টা করেন, কিন্তু শারীরিক দুর্বলতার
কারণে তিনি ধরা পড়ে যান।
তল্লাশিতে তাঁর কাছ থেকে উদ্ধার হয় দুটো রিভলভার, গুলি, কিছু টাকা,
রেলের ম্যাপ ও টাইম টেবিল সংবলিত বই আর অল্প কিছু শুকনো খাবার।
এরপর সেদিনই তাঁকে মুজাফ্ফরপুরে নিয়ে যাওয়া হয়।

সমসাময়িক বর্ণনায় পাওয়া যায়—
তাঁকে দেখতে জনতার ঢল নামে, আর সেই জনতার ভিড় ছাপিয়ে তাঁর কণ্ঠে ধ্বনিত হয়—
“বন্দেমাতরম!!”
অন্যদিকে প্রফুল্ল চাকী ‘দিনেশ রায়’ ছদ্মনাম ব্যবহার করে ট্রেনে চড়ে পালাচ্ছিলেন।
কিন্তু ট্রেনেই তাঁর ওপর সন্দেহ হয় সেই লোভী বাঙালি পুলিশ সাব-ইন্সপেক্টর
নন্দলাল ব্যানার্জীর।
তিনি প্রফুল্লের চলাফেরা ও চোখের চাহনি দেখে সন্দেহ করেন।
ব্রিটিশ সরকার ঘোষিত নগদ ১০০০ টাকা পুরস্কারের ঘোষণা তখন তাঁর মাথায় ঘুরছিল।
তাই টাকা যখন নিজে এসে তাঁর সামনে ধরা দিয়েছে,
আর বোকামি ও দেরি না করে তিনি গোপনে খবর দেন পুলিশ টিমকে।

অনেকের মতে,
জাত ভাইয়ের রক্তের বিনিময়ে ব্রিটিশের কাছ থেকে পুরস্কার পাওয়া—
এটাই ছিল নন্দলালের এক সাজানো স্বপ্ন।
২রা মে, ১৯০৮.
মোকামা স্টেশনে ট্রেন থামতেই নন্দলাল পুলিশ দিয়ে প্রফুল্লকে ঘিরে ফেলেন।
ইংরেজদের হাতে (দেখুন) তিনি জীবিত ধরা দিলে তাঁদের গুপ্ত পরিকল্পনা যদি টর্চার করে বের করে নেয়,
এবং পরাধীনতার গ্লানি নিয়ে ধরা দেওয়ার চেয়ে মৃত্যুই শ্রেষ্ঠ,
এই ভেবে তিনি রিভলভার বের করে নিজের মাথায় গুলি করলেন।
মুহূর্তের মধ্যে লুটিয়ে পড়ল তাঁর সেই দেহটা পরাধীন ভারতের মাটিতে।
বীরের মত এই আত্মবলিদান তাকে স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এক অমর শহীদে পরিণত করে।
কাটা মাথা: ইতিহাস
ও লোককথার সীমানায়
প্রফুল্ল যেহেতু ছদ্মনাম ব্যবহার করছিলেন,
তাই পরিচয় নিশ্চিত করতে ব্রিটিশ পুলিশ তাঁর দেহ থেকে মাথা আলাদা করে
কোলকাতায় পাঠায় সনাক্তকরণের জন্য।
আদালতের প্রমাণ হিসেবেও সেটা ব্যবহার করা হয়েছিল।
এটা ইতিহাসের স্বীকৃত একটা ঘটনা।
তবে আরেকটা ভয়ংকর বর্ণনা বহুদিন ধরে লোকমুখে প্রচলিত—
যে সেই কাটা মাথার স্পিরিটের বয়ামে ভরে জেলবন্দী ক্ষুদিরাম বসু-র সামনে এনে রাখা হয়েছিল,
যাতে তিনি ভয়ে এবং ভেঙে পড়ে সব স্বীকার করে নেন ও গোপন কর্মকাণ্ডের বিষয় প্রকাশ করে ফেলেন।

এই ঘটনার স্পষ্ট প্রাথমিক প্রমাণ ইতিহাসে পাওয়া না গেলেও,
বিপ্লবী কাহিনী ও জনশ্রুতিতে এই দৃশ্য বারবার উঠে এসেছে।
সেই বর্ণনা অনুযায়ী,
ক্ষুদিরাম বিন্দুমাত্র ভেঙে তো পড়েনইনি, বরং শান্ত গলায় বলেছিলেন—
“এটাই আমার ভাই প্রফুল্ল!
ইংরেজদের ছোঁয়া ওর পবিত্র দেহে লাগতে দেয়নি, কথা রেখেছে।”
এদিকে প্রফুল্ল চাকীর মৃত্যুতেও নন্দলালের লালসা শান্ত হয়নি।
সেই সময় প্রচন্ড গরমে প্রফুল্লর দেহটা বিকৃত হয়ে যেতে পারে এই আশঙ্কা করে
নন্দলাল ভয় পায়।
দেহপচে বিকৃত হয়ে গেলে যদি ব্রিটিশরা তাকে চিনতে না পারে
এবং তাঁর পুরস্কারের টাকা আটকে যায়?
এই বীভৎস চিন্তা থেকেই প্রফুল্লর নিথর দেহ থেকে তিনি ধারালো অস্ত্র দিয়ে
মাথাটা কেটে আলাদা করে ফেললেন।
এরপর সেই কাটা মাথাটা স্পিরিট ভর্তি একটা কাঁচের বয়ামে ভরে
পার্সেল করে কোলকাতায় পাঠানো হল।
কেন?
যাতে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত হতে পারে যে এটাই সেই বিপ্লবী।
ক্ষুদিরাম বসু:
অপরাজেয় সেই বীরের মৃত্যুবরণ
ক্ষুদিরামের বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত শেষ হয়।
দুই ইউরোপীয় মহিলার মৃত্যুর দায়ে তাঁকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দেওয়া হয়।
১৯০৮ সালের ১১ই আগস্ট, মাত্র ১৮ বছর বয়সে তিনি মুজাফ্ফরপুর জেলের ফাঁসির মঞ্চে ওঠেন।
সমসাময়িক বিবরণে পাওয়া যায়—
সে সময় তিনি ছিলেন শান্ত, দৃঢ় এবং মৃত্যুকে গ্রহণ করেছিলেন হাসিমুখে।
আর ঠিক এই দৃশ্যই সমগ্র বাংলাকে নাড়িয়ে দিয়েছিল।
ফলে ক্ষুদিরাম হয়ে ওঠেন তরুণ বিপ্লবীদের এক জ্বলন্ত প্রতীক।
তাই আজও চারণকবির কণ্ঠে অমর হয়ে আছে—
(শুনুন) “একবার বিদায় দে মা ঘুরে আসি…”

বিশ্বাসঘাতকের শেষ ঠিকানা:
প্রফুল্ল চাকীর মৃত্যুর ঘটনায় নন্দলাল ব্যানার্জীর নাম আগুন হয়ে ছড়িয়ে পড়ে বিপ্লবী মহলে।
তখন আপাতত কিংসফোর্ড ছেড়ে টার্গেটের মোড় ঘোরে নন্দলাল ব্যানার্জীর দিকে।
তাকে চিহ্নিত করা হয় ‘ঘরের শত্রু বিভীষণ’ ও ‘বিশ্বাসঘাতক’ হিসেবে।
অতএব বিপ্লবীদের কাছে তখন একটাই লক্ষ্য— বিশ্বাসঘাতকতার
চরম শাস্তি।
——————–
( কিভাবে এত বড় অপরাধচক্র বছরের পর বছর চলল,
অথচ আইন তাকে থামাতে পারল না?
শিকার বাছাই: লক্ষ্য ছিলো দুর্বল ও অসহায় কিশোরীরা।
- এরপর কি করা হত তাঁদের সাথে সেই নির্জন দ্বীপে?
- ঠিক কতটা ভয়ংকর ছিলো সেই মনোরম পরিবেশ?
- কারাই বা জড়িত ছিলো এতে?
সারা বিশ্ব জুড়ে আজ তোলপাড় হচ্ছে…
পড়ুন– Click: এপস্টিন ফাইল রহস্য: ক্যারিবিয়ানের নির্জন দ্বীপে অন্ধকার সাম্রাজ্য! )
———————
যথাযোগ্য প্রতিশোধ:
৯ই নভেম্বর, ১৯০৮.
কোলকাতার সার্পেন্টাইন লেনে বিপ্লবীরা নন্দলালকে ঘিরে ধরেন।
শ্রীশচন্দ্র পাল এবং রণেন গঙ্গোপাধ্যায়—
এই দুই বীর সন্তান নন্দলালকে মাঝ রাস্তায় গুলি করে হত্যা করে।
যে বিশ্বাসঘাতক নিজের ভাইয়ের রক্ত বেচে টাকা কামিয়েছিল, তাঁর আয়ু ছিল মাত্র কয়েক মাস।
বাংলার মাটি বেইমানকে বেশিদিন সহ্য করেনি।
মীরজাফরের উত্তরসুরিরা:
আমরা কেন ভুলে যাই?
আমরা আজ মীরজাফরকে গালিগালাজ করি ঠিকই,
কিন্তু মীরজাফর ছিলেন একজন সুবিধাবাদী সেনাপতি।
কিন্তু নন্দলাল ব্যানার্জীর মত মানুষরা?
এরা ছিল আমাদেরই প্রতিবেশী, আমাদের ভাষায় কথা বলা মানুষ, আমাদের নাড়ির মানুষ।
এরা শুধু রাজনৈতিক বিশ্বাসঘাতকতা করেনি,
এরা এদের তুচ্ছ স্বার্থে বেইমানি করেছিল মানবতার সাথে, দেশের মাটির সাথে।
- কেন আমাদের পাঠ্যবইয়ে এই নন্দলালের কাহিনী পড়ানো হয় না?
- আমরা কেন আজও জানিনা যে আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রত্যেকটা পদক্ষেপে
যে শত শত বিশ্বাসঘাতক ব্রিটিশদের পদসেবা করে গিয়েছেন, তাদের কালো ইতিহাস?
আজকের দিনেও সমাজে এমন ছদ্মবেশী ‘নন্দলাল’রা ঘুরে বেড়াচ্ছে,
যারা সামান্য স্বার্থের জন্য নিজের দেশ বা দশকে বিক্রি করতে
বিন্দুমাত্র দ্বিধাবোধ করে না।
শেষ কথা:
ইতিহাসে বীরেরা থাকেন কিন্তু বিশ্বাসঘাতকরাও হারিয়ে যায় না।
তাঁদের নাম হয়ত সবসময় আলোয় আসে না,
কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের কাজের বিচার ইতিহাস নিজেই করে।
প্রফুল্ল চাকীর এই মহান আত্মত্যাগ এবং ক্ষুদিরামের অদম্য সাহসের পাশাপাশি
নন্দলাল ব্যানার্জীর এই ঘৃণ্য কাহিনী আমাদের এক বিরাট শিক্ষা দেয়।
বিশ্বাসঘাতকথা কেবল যুদ্ধক্ষেত্রে তৈরি হয় না, তা হয় চারিত্রিক দেউলিয়া থেকে।
ইতিহাস যখন বিকৃত করা হয়, তখন এই বেইমানরা ঢাকা পড়ে যায়।
কিন্তু আজ যখন সত্য বেরিয়ে আসছে, তখন আমাদের মনে রাখতে হবে—
দেশপ্রেমিক যেমন অমর হন, বিশ্বাসঘাতকও তেমনি ইতিহাসে অমর হয়ে থাকে,
তবে তা ঘৃণার প্রতীক হিসেবে।
ক্ষুদিরাম ও প্রফুল্ল আমাদের শেখান সাহসের মানে কি,
দেশের বৃহত্তর স্বার্থে জীবনটা ঠিক কতটা তুচ্ছ তাঁরা করতে পারে।
আর নন্দলাল ব্যানার্জীর নাম মনে করিয়ে দেয়—
শত্রু বাইরের চেয়ে নিজের ঘরের মধ্যেই থাকে বেশি— আপনের মুখোশে।
———————
( যে অর্থ সাধারন মানুষ নিজের বিশ্বাস থেকে দিয়েছিলো,
স্বাধীনতার পরেও তার পূর্ণ হিসাব কেন কখনো সামনে এলো না?
আজাদ হিন্দ ফৌজের যে সম্পদ গড়ে উঠেছিলো বাংলার
সাধারণ ঘরের মায়ের শেষ সম্বল, মঙ্গলসূত্র আর শ্রমিকের ঘামের বিনিময়ে,
সেই বিপুল ঐশ্বর্য আজ কোথায়?
যে অর্থের লক্ষ্য ছিলো শুধুমাত্র ভারতের মুক্তি,
তা কি শেষ পর্যন্ত ঢুকেছিল কোনো ব্যক্তিগত সিন্দুকে?
জানুন সেই আসল সত্যিটা।
পড়ুন ভিতরের কাহিনী।
Click: নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু: আজাদ হিন্দ ফৌজের সম্পত্তি লুটের ভয়ঙ্কর সত্য! )
অবশ্যই জানাবেন আপনার মূল্যবান মন্তব্যে।
[লেখাটা প্রয়োজনীয় মনে হলে অবশ্যই শেয়ার করে
সমাজের অন্যদেরও পড়তে, জানতে সুযোগ করে দেবেন।
ইমেইল আইডি দিয়ে আমাদের বাঙালির পরিবারের একজন
প্রিয় মানুষ হয়ে উঠুন।
চলুন বাঙালিকে বিশ্বের দরবারে বারবার তুলে ধরি—
চিন্তা, চেতনা আর শব্দের শক্তিতে— একসাথে, সবাই মিলে।
বিশ্ব জানুক—
আমাদের ভারত কি?
বাঙালি কি?
বাংলা শব্দের ক্ষমতাই বা কি?]
Articlesবাংলা Bangla Articles, Quotes & Prose-Poetry / বাংলা প্রবন্ধ, উক্তি ও গদ্য-কবিতা।


