রক্ত বনাম আদর্শ:
একই ছাদ, দুই পৃথিবী
সূর্য সেন: ইতিহাসের কিছু ঘটনা আছে, যেগুলো শুধু যুদ্ধ, রাজনীতি বা বিপ্লবের গল্প নয়—
মানুষের চরিত্রের গল্প।
সম্পর্ক রক্তের চেয়ে কখনও কখনও যে আদর্শের কাছেও বেশি দায়বদ্ধ হতে পারে,
আজ সে কাহিনীই আমরা জানবো।
একই ঘরে থেকেও একজন মানুষ বিশ্বাসঘাতক হতে পারে,
আর অন্যজন নীরব সাহসের প্রতীক হয়ে উঠতে পারে।
- ১৯৩৩ সালের এক রাত।
- চট্টগ্রাম জেলার এক গ্রাম।
- একটা ঘরের ভেতর রক্তাক্ত দেহ পড়ে আছে।
- পুলিশ এসে দাঁড়ালো দরজায়।
- প্রশ্ন করল— “খুনি কে?”
সামনে দাঁড়িয়ে আছেন মৃত মানুষের স্ত্রী।
তিনি সব দেখেছেন।
তবু শান্ত গলায় বললেন— “আমি কাউকে দেখিনি।
কারণ, তাঁর মতে—
যে দেশের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে, তার এমন পরিণতিই প্রাপ্য।
এই ঘটনা কেবল একটা হত্যাকাণ্ডের কাহিনী নয়।
এটা চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠনের পরবর্তী ইতিহাসের এক নাটকীয় অধ্যায়।
চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন:
ব্রিটিশদের আতঙ্কের রাত
১৯৩০ সালের ১৮ই এপ্রিল চট্টগ্রামে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে এক অভূতপূর্ব সশস্ত্র অভিযান চালান
বিপ্লবী নেতা সূর্য সেন, যিনি সবার কাছে ‘মাস্টারদা’ নামে পরিচিত ছিলেন।
তিনি ছিলেন পেশায় শিক্ষক, কিন্তু আদর্শে এক দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বিপ্লবী।
তাঁর নেতৃত্বে বিপ্লবীরা (দেখুন) চট্টগ্রামের পুলিশ অস্ত্রাগার ও অক্জিলিয়ারি ফোর্সের অস্ত্রাগার দখল করে।
উদ্দেশ্য ছিল ব্রিটিশ প্রশাসনের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে দেওয়া,
এবং এক প্রতীকী স্বাধীন সরকার প্রতিষ্ঠা করা।
অভিযানের পর বিপ্লবীরা পাহাড়ি অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে গেরিলা কৌশলে লড়াই চালিয়ে যেতে থাকে।
এই ঘটনার পর ব্রিটিশ সরকার সূর্য সেনকে ধরার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে।
তাঁর মাথার দাম ঘোষণা করা হয় ১০,০০০ টাকা— সেই সময়ের যা ছিল বিশাল অঙ্কের এক অর্থ।
সূর্য সেন:
বিশ্বাসঘাতকতার কালরাত্রি
অভিযানের পর প্রায় ৩ বছর ধরে সূর্য সেন আত্মগোপনে ছিলেন।
তিনি গ্রাম থেকে গ্রামে ঘুরে বেড়াতেন, ছদ্মবেশে থাকতেন, বিপ্লবীদের সংগঠিত করতেন।
সাধারণ মানুষের প্রতি তাঁর ছিল অগাধ বিশ্বাস।
সেই বিশ্বাস নিয়েই তিনি আশ্রয় নিয়েছিলেন গইরালা গ্রামের নেত্র সেনের বাড়িতে।
নেত্র সেন ছিলেন মাস্টারদার পূর্ব পরিচিত।
কিন্তু অর্থ আর লালসা মনুষ্যত্বকে যে ঠিক কতটা অন্ধ করতে পারে,
তার প্রমাণ মিলল সেই রাতে।
বাইরে থেকে তিনি ছিলেন বিশ্বস্ত আশ্রয়দাতা।
কিন্তু ভেতরে কাজ করছিল টাকার লোভ।
১৬ই ফেব্রুয়ারি, ১৯৩৩.
ব্রিটিশদের ঘোষিত পুরস্কারের আশায় নেত্র সেন চুপি চুপি খবর পৌঁছে দিল ব্রিটিশ ক্যাম্পে।
ব্রিটিশ বাহিনীর এক উচ্চপদস্থ অফিসারের নেতৃত্বে গভীর রাতে এক বিশাল পুলিশ
ও গোর্খা বাহিনী ঘিরে ফেলল সেই মাটির বাড়ি।
ব্রিটিশরা প্রস্তুত ছিল ইতিহাসের সেই মোস্ট ওয়ান্টেড বিপ্লবীকে খাঁচাবন্দী করতে।
ঘুমন্ত অবস্থাতেও সিংহের মত ধরা পড়েন মাস্টারদা সূর্য সেন।
এরপর মাস্টারদাকে ঘিরে, ধরে নিয়ে যাওয়া হল লোহার শিকলে বেঁধে।
গ্রামের মানুষ স্তব্ধ হয়ে দেখল সেই দৃশ্য।
এক দেশপ্রেমিককে ধরিয়ে দিয়ে নেত্র সেন তখন খুশিতে আত্মহারা।

সে জানত এরপর থেকেই পুরো বদলে যাবে তাঁর ভাগ্য।
সে হবে নগদ ১০,০০০ টাকার মালিক।
কিন্তু সে জানত না—
এই চরম বিশ্বাসঘাতকতার পরিণাম হিসেবে ঠিক কি ওৎ পেতে অপেক্ষা করে আছে তার জন্য।
প্রলয়রূপী কিরণ সেন:
বিশ্বাসঘাতকের শেষ আহার
মাস্টারদা ধরা পড়ার মর্মান্তিক সংবাদে অন্যান্য বিপ্লবীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এলেও,
তার চেয়েও বেশি দানা বেঁধেছিল প্রচণ্ড ক্ষোভ।
অতএব নেত্র সেনের বিশ্বাসঘাতকতার মূল্য দেওয়ার দায়িত্ব নিলেন
আরেক সিংহ-বিপ্লবী কিরণ সেন।
ঘটনার কয়েকদিন পরের কথা।
সেদিন ছিল এক স্তব্ধ দুপুর।
নেত্র সেন নিশ্চিন্তে তখন বাড়ির দাওয়ায় আরামে বসে ভাত খাচ্ছিলেন।
আর মনে মনে হিসেব কষছিলেন, কবে তাঁর সেই হকের টাকা হাতে পাবেন।
ঠিক সেই মুহূর্তে ঝড়ের বেগে বাড়িতে ঢুকে পড়লেন কিরণ সেন।
এরপর শুরু হল সেই ঐতিহাসিক আক্রমণ।
কোনও কথা নেই, কোনও আবেদন নেই।
নেত্র সেন কিছু বুঝে ওঠার আগেই,
কিরণ সেন ধারালো দা দিয়ে তাকে আঘাত করতে থাকেন।

দিকভ্রান্ত হয়ে প্রাণ ভয়ে পালানোর চেষ্টা করলেও, কিরণ সেনের আঘাত থেকে রক্ষা
না পেয়ে শেষ পর্যন্ত তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
এরপর সব শান্ত, কিন্তু মৃত্যু নিশ্চিত করতে কিরণ সেন বারবার আঘাত করেছিলেন।
যার প্রাণ নেই, সে বিশ্বাসঘাতকতা করেনি, আর যার প্রাণ ছিল?
এরপর নেত্র সেনের ধনী হওয়ার স্বপ্নটাও ছিটকে
পড়ে মিশে গেল পরাধীন বাংলার মাটিতে।
নেত্র সেনের ভাতের থালা সেদিন তাঁর নিজের গরম রক্তে ভেসে গেছিল।
যে মানুষটা সূর্য সেন-কে বিক্রি করে রাজার হালে অন্ন সংস্থানের স্বপ্ন দেখেছিল,
তাঁর সেই শেষ আহার মাস্টারদার প্রতি বেইমানির প্রায়শ্চিত্ত হিসেবে
নিজের রক্তে মিশে একাকার হয়ে গেল।
কাজ শেষ করে কোনো চিহ্ন না রেখেই দ্রুত প্রস্থান করলেন কিরণ সেন।
পড়ে রইল কেবল এক দেশদ্রোহীর বীভৎস লাশ আর সেই রক্তাক্ত ভাতের থালা—
যা আজও বিশ্বাসঘাতকতার এক ভয়ংকর স্মারক হয়ে আছে বাঙালির হৃদয়ে।
নৈতিক আদর্শের কাছে
মৃত্যুও যখন তুচ্ছ:
এই গল্পের সবচেয়ে বিস্ময়কর অংশটা কিন্তু এখানেই শেষ নয়।
পুলিশ যখন ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছাল, তাঁরা দেখল নেত্র সেনের কাটা-ছেঁড়া,
ক্ষতবিক্ষত রক্তাক্ত দেহটা মাটিতে পড়ে আছে।
পাশে দাঁড়িয়ে তাঁর স্ত্রী—
যার চোখে না ছিল কোনও অশ্রু, না কণ্ঠে ছিল কোনও হাহাকার!
ব্রিটিশ পুলিশ অফিসার তাকে জেরা করলেন—
“আপনার চোখের সামনে আপনার স্বামীকে খুন করা হল, খুনিকে চিনতে পারেন নি?”
সেই নারী স্থির দৃষ্টিতে,
অত্যন্ত শান্ত গলায় স্পষ্ট উত্তর দিয়েছিলেন—
“আমি কাউকে দেখিনি; তবে আমি জানি একজন দেশদ্রোহীর শেষ পরিণতিই এমনই হয়,
আমার কোনো অভিযোগ নেই।”
আর এই একটা বাক্যই তাকে ইতিহাসের এক অসাধারণ চরিত্রে পরিণত করেছে,
বানিয়েছে মহানায়িকা।
কিছু মহানায়িকা পর্দায় আসেন না, এভাবেই ইতিহাসের আড়ালে থেকে যান।

স্বামী মারা যাওয়ার পর কোনও শোক পালন তো তিনি করেনই নি,
এমনকি হিন্দু রীতি অনুযায়ী বিধবার আচারও পালন করতেও তিনি
অস্বীকার করেছিলেন বলে উল্লেখ আছে।
কারণ খুন হয়ে যাওয়া মানুষটাকে তিনি দেখেছিলেন একজন দেশদ্রোহী হিসেবে,
স্বামী হিসেবে নয়।
- তিনি কোনও বিপ্লবী দলে ছিলেন না।
- অস্ত্র হাতে যুদ্ধও করেননি।
- তবু তার নৈতিক অবস্থান ছিল এক বিপ্লবী মতই দৃঢ়, অবিনশ্বর।
সূর্য সেন:
কালজয়ী ইতিহাস
ইতিহাস হয়ত এই মহিলার নাম বড় করে লেখেনি,
কিন্তু ১৯৩৩ সালের সেই বিকেলে দেশের প্রতি তিনি যে মনোভাব দেখিয়েছিলেন,
তা নীরবে ঘটেছিল।
দেশপ্রেম দেখানোর জন্য ঢাক-ঢোল পেটানো বা বিজ্ঞাপন কিংবা
সেল্ফির ব্যবস্থা থাকলেও বোধহয় তা তাঁর কোনও প্রয়োজন হত না।

( গঙ্গার ঘাটে শ্মশানের ডোম বা কবরস্থানের পাহারাদারদের হাত করে চলতো লাশ চুরি।
এমনকি গঙ্গার জলে ভাসিয়ে দেওয়া বেওয়ারিশ লাশগুলোকেও টেনে তোলা হত।
দালালরা গঙ্গার ঘাটে ও শ্মশানে যেন ওৎ পেতে বসে থাকত।
বেওয়ারিশ লাশ, দুর্ভিক্ষে অনাহারে মরে যাওয়া মানুষ,
পথে-ঘাটে পড়ে থাকা মৃতদেহ— কিছুই বাদ যেত না।
অনেক ক্ষেত্রে তো এমনও শোনা যায়—
রাতের অন্ধকারে কবর খুঁড়ে লাশ চুরিও হত।
এরপর মৃতদেহগুলোকে নিয়ে যাওয়া হত…
পড়ুন ব্রিটিশদের সেই পৈশাচিক কাহিনীর ভিতরের কাহিনী।
Click: কঙ্কালের রাজধানী: ব্রিটিশ সাম্রাজ্যে হাড় ও লাশের বিভীষিকা! )
——————–
লোকচক্ষুর আড়ালে থেকেও তিনি রচনা করেছিলেন এক কালজয়ী ইতিহাস।
তিনি প্রমাণ করেছিলেন যে, বেইমানি করলে আপনজনও শত্রু হয়ে যায়,
এবং আদর্শের কাছে রক্তের সম্পর্ক কখনও কখনও তুচ্ছ হয়ে পড়ে।
এক অখ্যাত গ্রাম্য বধূ বুঝিয়ে দিয়েছিলেন যে,
ভারতবর্ষের মাটিতে বিশ্বাসঘাতকদের কোনও স্থান নেই।
তাঁর কাছে এটা ছিল দেশপ্রেমের এক চরম অগ্নিপরীক্ষা—
যেখানে ব্যক্তিগত শোকের চেয়ে জাতীয় স্বার্থ অনেক বড় হয়ে উঠেছিল।
কাকতালীয় নয়,
বরং ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি:
মাস্টারদা তাঁর পূর্বপরিচিত নেত্র সেনকে বিশ্বাস করেছিলেন তাঁর দেশপ্রেমের উপর ভিত্তি করে।
তিনি ভেবেছিলেন পরিচিত মানুষটা তাকে রক্ষা করবে।
কিন্তু তিনি পরিচিত মুখের ভেতরটা বুঝতে পারেন নি।
ঠিক একইভাবে— নেত্র সেন, কিরণ সেনকে চিনত,
তাই কিরণ সেনের তাঁর বাড়িতে আসাটা ছিল নেত্রর কাছে স্বাভাবিক।
নেত্র সেনও বুঝতে পারেনি পরিচিত মুখের ভেতরে কি লুকিয়ে আছে।
সূর্য সেন:
শেষ দিনগুলো,
বীরত্বের চরম মূল্য
গ্রেপ্তার হওয়ার পর মাস্টারদা সূর্য সেন-কে রাখা হয়েছিল চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের বিশেষ সেলে।
ব্রিটিশরা জানত, এই মানুষটার ভেতরে যে অগ্নিমন্ত্র আছে,
তা সাধারণ কোনও শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা সম্ভব নয়।
তাই তারা আশ্রয় নিয়েছিল আদিম ও অমানুষিক নির্যাতনের।
অমানুষিক নির্যাতন
ও ব্রিটিশদের জিঘাংসা:
কারাগারে সূর্য সেন-এর ওপর যে বর্বরতা চালানো হয়েছিল, তা শুনলে আজও শিউরে উঠতে হয়।
- লোহার ভারি হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে তাঁর পাঁজরের হাড় ও দাঁত ভেঙে দেওয়া হয়েছিল।
- ব্রিটিশ সরকারের আক্রোশ এতটাই ছিল যে, তাঁর হাতের নখগুলো প্লায়ার্স দিয়ে উপড়ে ফেলেছিল।
- নির্যাতনের তীব্রতায় তিনি যখন অচেতন হয়ে পড়তেন,
তখন পুনরায় জ্ঞান ফিরিয়ে এনে আবার চালানো হত অত্যাচার।
উদ্দেশ্য ছিল বিপ্লবীদের গোপন আস্তানা ও পরিকল্পনার কথা বের করা।
কিন্তু ব্রিটিশরা হাড়েহাড়ে জানত না—
- বাঙালি কি?
- ভারত কি?
তাই ক্লান্ত-বিধ্বস্ত হয়েও মাস্টারদার মুখ থেকে একটা শব্দও বের করতে পারেনি তাঁরা।
পঙ্গুপ্রায় বা আধমরা শরীরেও তিনি ছিলেন হিমালয়ের মত অটল।
১২ই জানুয়ারি, ১৯৩৪:
সেই অভিশপ্ত ফাঁসির মঞ্চ
অবশেষে এলো সেই কালো দিন।
১৯৩৪ সালের ১২ই জানুয়ারি।
তাঁর সঙ্গে ফাঁসির রায় হয়েছিল একনিষ্ঠ সহযোদ্ধা তারকেশ্বর দস্তিদারের।
বলা হয়, ফাঁসির মঞ্চে নিয়ে যাওয়ার সময় মাস্টারদা নিজের পায়ে হেঁটে যাওয়ার মত অবস্থায় ছিলেন না।
নির্যাতনের ক্ষতগুলো থেকে তখন রক্ত ঝরছিল দরদর করে।
ব্রিটিশরা এতটাই ভীত ছিল যে,
অচেতন ও অর্ধমৃত অবস্থাতেই এই দুই বীরকে ফাঁসির দড়িতে ঝুলিয়ে দিয়েছিল।
এমনকি তাঁদের মৃতদেহগুলো হিন্দু রীতি অনুযায়ী সৎকার করার সুযোগও দেয়নি।
পাছে চট্টগ্রামের লাশের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়াকে কেন্দ্র করে দাবানল জ্বলে ওঠে,
তাই তাঁদের নিথর দেহগুলো লোহার খাঁচায় ভরে,
নিস্তব্ধ রাতের অন্ধকারে (পড়ুন) বঙ্গোপসাগরের অতল জলের গভীরে তলিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
শেষ বার্তা:
বিপ্লবের অক্ষয় অমরত্ব
ফাঁসির মঞ্চে যাওয়ার আগে মাস্টারদা তাঁর শেষ চিঠিতে বন্দী সহযোদ্ধাদের উদ্দেশ্যে
এক চিরস্মরণীয় বার্তা দিয়ে গিয়েছিলেন।
তিনি বলেছিলেন—
“আমি যা দিয়ে গেলাম, তা হল আমার সোনালী স্বপ্নের এক অমর উত্তরাধিকার—
স্বাধীন ভারতের স্বপ্ন।
আমার মৃত্যুর পর বিপ্লবের যে বীজ আমি বপন করেছি, তা একদিন নিশ্চয় ফল দেবে।
তোমরা আমার এই স্বপ্নকে এগিয়ে নিয়ে যেও।”
তাঁর সেই সোনালী স্বপ্ন বিফলে যায়নি।
মাস্টারদার আত্মত্যাগের ঠিক ১৩ বছরের মাথায় ভারত ব্রিটিশ শাসন থেকে মুক্ত হয়েছিল।
শরীর নশ্বর হলেও, সূর্য সেনের সেই অদম্য আদর্শ আজও বাঙালির হৃদয়ে সূর্যের মতই উজ্জ্বল।
( বি: দ্র: ইতিহাসের সব তথ্য সরকারি অফিসিয়াল রেকর্ডস-এ থাকে না, রাখা হয় না।
ইতিহাসের বইয়েও বহু ঘটনা উল্লেখ করা হয়নি। )
———————
( এপস্টিন ফাইলস: জেফ্রি এপস্টিনের মৃত্যুর পর অনেকেই ভেবেছিল—
তাঁর সাধের বা স্বপ্নের (দেখুন) অপরাধপুরীর দ্বীপও শেষ হয়ে যাবে।
কিন্তু বাস্তবে ঘটনা যেন উল্টোদিকে এগোতে থাকে।
বলা হয়েছিল দ্বীপটা এখন খালি।
কিন্তু বিভিন্ন সূত্রে নানা দাবি সামনে আসতে থাকে—
এই দ্বীপের প্রতিটা কোনায় নাকি লুকানো ক্যামেরা ছিল।
প্রভাবশালী ব্যক্তিরা যখন সেখানে কোনো অপরাধে লিপ্ত হতেন,
তখন তা নিখুঁতভাবে রেকর্ড করা হত।
আর সেই ভিডিওগুলোই হয়ে উঠতো “স্টার এভিডেন্স।”
পড়ুন সেইসব হাড়হিম করা সেইসব ভয়ঙ্কর কাজ, উদ্দেশ্যর আসল সত্য।
Click: পর্ব–২ এপস্টিন ফাইলস: এই রহস্যের পিছনে লুকিয়ে আছে কোন ভয়ংকর সত্য? )
———————
এ বিষয়ে আপনি কি মনে করেন?
অবশ্যই জানাবেন আপনার মূল্যবান মন্তব্যে।
[লেখাটা প্রয়োজনীয় মনে হলে অবশ্যই শেয়ার করে
সমাজের অন্যদেরও পড়তে, জানতে সুযোগ করে দেবেন।
ইমেইল আইডি দিয়ে আমাদের বাঙালির পরিবারের একজন
প্রিয় মানুষ হয়ে উঠুন।
চলুন বাঙালিকে বিশ্বের দরবারে বারবার তুলে ধরি—
চিন্তা, চেতনা আর শব্দের শক্তিতে— একসাথে, সবাই মিলে।
বিশ্ব জানুক—
আমাদের ভারত কি?
বাঙালি কি?
বাংলা শব্দের ক্ষমতাই বা কি?]
Articlesবাংলা Bangla Articles, Quotes & Prose-Poetry / বাংলা প্রবন্ধ, উক্তি ও গদ্য-কবিতা।


