কেন দেওয়া হয় বঙ্গবিভূষণ?
মূলত শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি, বিজ্ঞান, খেলাধুলা এবং জনসেবা—
এইসব গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্যেই পশ্চিমবঙ্গের সর্বোচ্চ সম্মান হিসেবে
কৃতিদের দেওয়া হয় এই পুরস্কার।
‘বঙ্গবিভূষণ’ বা ‘পদ্মবিভূষণ’-এর মত সম্মানগুলো দেওয়া হয় সাধারণত
‘Life-time contribution’ বা জীবনব্যাপী সাধনার জন্য।
এটা কেবল ১ বা ২ বছরের সাফল্য নয়, বরং এক জীবনের নিরবচ্ছিন্ন ত্যাগের স্বীকৃতি।
পশ্চিমবঙ্গের সর্বোচ্চ সম্মান:
কারা এই পুরস্কারের যোগ্য?
বাংলার মুখ উজ্জ্বল করেছেন, বা সামগ্রিকভাবে বাংলাকে গর্বিত করেছেন,
এমন গুণীজনদের দেওয়া হয় রাজ্যের সর্বোচ্চ এই অসামরিক সম্মান।
এখন এই সম্মান আদতে কাদের পাওয়া উচিৎ বা কাদের নয়,
তা অনেক গভীর বিচার বিবেচনার ব্যাপার।
আমার-আপনার মতন সাধারণ মানুষের পক্ষে কি আর তা বোঝার উপায় আছে?
তবে হ্যাঁ, এই সম্মান দেওয়ার মালিক যদি আমি হতাম—
তবে আমি যাদের ভালোবাসি, আমায় যারা তোয়াজ করে চলে,
বা আমার ভবিষ্যৎ সমীকরণে যাদের প্রয়োজন,
ঠিক তাঁদের নামের তালিকাটা আমি আগে বানাতাম।
পরে সুযোগ বুঝে দেখতাম, কার কি অসামান্য অবদান আছে বা
বাংলার মুখ কে কে উজ্জ্বল করেছে।
সম্মানের আয়না নাকি
স্রেফ গ্ল্যামারের মরীচিকা?
একটা রাজ্য যখন তার সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান “বঙ্গবিভূষণ” ঘোষণা করে,
তখন সেটা কেবল কয়েকটা পদক বা মানপত্র দেওয়া নয়—
সেটা হল সেই রাজ্যের রুচি ও অগ্রাধিকারের পরিচয়।
এই সম্মান বলে দেয় আমাদের রাজ্যের সমাজ আজ কোন আদর্শকে সবার ওপরে রাখছে।
কিন্তু ইদানিং পুরস্কারের তালিকায় বিনোদন জগতের চেনা মুখদের ভিড় দেখে
একটা মৌলিক কিন্তু জরুরী প্রশ্ন মনে জাগে:
রাজ্যের কাছে আসল দাম কার?
দু ঘণ্টার আমোদ-প্রমোদের, না কি কয়েক প্রজন্মের টিকে থাকার লড়াইয়ের?
বিনোদন সমাজে প্রয়োজন, কিন্তু সেটা বেঁচে থাকার চেয়ে বড় হতে পারে কি?
গান বা অভিনয় আমাদের মন ভোলায়,
কিন্তু পরিবেশ বা সমাজ সংস্কার আমাদের অক্সিজেন জোগায়।

রাজ্য কি তবে এখন শুধু সেই চড়া গলাকেই গুরুত্ব দেয় যা মাইকে জোরে বাজে?
আর সেই হাতগুলো কি উপেক্ষিতই থাকবে,
যারা বাংলার মাটিকে আগলে রাখতে গিয়ে নিঃশব্দে বহু কিছু আত্মত্যাগ করেছে?
ইতিহাস কিন্তু হাততালির সংখ্যা গোনে না,
ইতিহাস মনে রাখে সেই সব স্তম্ভদের যাদের উপর দাঁড়িয়ে সমাজ টিকে থাকে।
পরিবেশ বনাম বিনোদন:
লড়াইটা দামী কার?
যে বাংলায় আজ সুন্দরবন জলবায়ু পরিবর্তনের মারণকামড়ে এবং
ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতায় প্রায় মৃত্যুর মুখে।
যে বাংলায় নিভৃতে কোনো পরিবেশকর্মী গাছ বাঁচাতে বা নদী বাঁচাতে
নিজের জীবন ক্ষয় করছেন— তাঁরা যখন ব্রাত্য থেকে যান।
আর গ্ল্যামার কিংবা সখ্যতার জোরে একজন গায়ক বা অভিনেতা যখন অনায়াসে
সেই মঞ্চের সব আলো কেড়ে নেন, তখন সেই সম্মান আসলে কার?
সুন্দরবনের বুক চিরে যখন একের পর এক ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়ে,
যখন নোনা জলে ঘরবাড়ি তলিয়ে যায়,
তখন সেখানে পর্দার কোনো নায়ক, গায়ক বা কবি উদ্ধার করতে আসেন না।
সেখানে দাঁড়িয়ে নিঃশব্দে লড়াই চালিয়ে যান উমা শঙ্কর মন্ডলের মত মানুষ।
সুন্দরবনবাসীরা যাকে চেনেন ‘ম্যানগ্রোভ দাদা’ নামে।

কোনো বড় সরকারি সম্মান, তেমন সহযোগিতা বা প্রচারের আলো তাঁর কপালে জোটেনি,
অথচ নিজের সামান্য সম্বলটুকু দিয়ে তিনি লক্ষ লক্ষ ম্যানগ্রোভ গাছ রোপণ করে চলেছেন,
যাতে বাংলার উপকূল রক্ষা পায়।
আজ যখন রাজ্যে সর্বোচ্চ সম্মানের মঞ্চ তৈরি হয়, তখন প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবে জাগে—
এই জীবন দায়ী যোদ্ধারা কেন ব্রাত্য?
যে মানুষটা বাংলার মানচিত্র রক্ষা করতে নিজের জীবন ক্ষয় করছেন,
তাঁর চেয়ে কি বিনোদন জগতের গ্ল্যামার অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠল?
পাশাপাশি বঙ্গবিভূষণ পুরস্কার সম্মান যদি আদতে ‘Life-time contribution’
বা জীবনব্যাপী সাধনা ও সিনিয়রিটির নিরিখে দেওয়া নাই হয়,
তবে ম্যানগ্রোভ দাদার কি তা পাওয়ার যোগ্যতা বা সময় এখনও আসেনি?
দীর্ঘদিনের সাধনা
বনাম
কয়েক বছরের জনপ্রিয়তা:
রাজ্যের সর্বোচ্চ সম্মান তাঁদেরই সাজে, যাদের কাজ সময়ের পরীক্ষায় পাশ করেছে।
থিয়েটারে বা সাহিত্যে এমন অনেকেই আছেন,
যারা ৪০-৫০ বছর ধরে নিভৃতে বাংলার সাংস্কৃতিক ভিত তৈরি করেছেন।
ঠিক কোন যুক্তিতে বা কিসের দাবিতে নবীনরা বঙ্গবিভূষণের তালিকায়
প্রবীণ মহীরুহদের (দেখুন) টপকে যান?
যখন কাজের গভীরতার চেয়ে সমসাময়িক পরিচিতি বড় হয়ে ওঠে,
তখন আদতে সেই দীর্ঘ সাধনারই অপমান হয়।

পশ্চিমবঙ্গের সর্বোচ্চ সম্মান- এর ক্ষেত্রে ‘তাৎক্ষণিক জনপ্রিয়তা’ বা ‘স্বল্পমেয়াদি সাফল্য’-
এর চেয়ে দীর্ঘদিনের সাধনা ও ঐতিহাসিক অবদানই বেশি গুরুত্ব পাওয়া উচিত।
যে কোনও রাজ্যের সম্মানের একটা অলিখিত নিয়ম হল সিনিয়রদের সম্মান জানানো।
যখন একই ক্ষেত্রের একজন মহীরুহ ব্রাত্য থাকেন এবং তার উত্তরসূরি পুরস্কার পান,
তখন সেটা ওই পুরস্কারের গরিমাকেই ছোট করে দেয়,
আর এটাই হল সাংস্কৃতিক শিষ্টাচার।
সংগীত: ধ্রুবক বনাম
সাম্প্রতিক সাফল্য
সংগীতের আঙিনায় এই বৈষম্যও বেশ দৃষ্টিকটু।
শ্রীকান্ত আচার্য গত সাড়ে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তাঁর নিজস্ব ভঙ্গিতে
বাঙালির রবীন্দ্রসংগীত এবং আধুনিক গানের এক রুচি গড়ে তুলেছেন;
তিনি শুধু একজন গায়ক নন, তিনি বাংলা গানের এক ‘অপরিহার্য ধ্রুবক।’
নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি থেকে তাঁর আত্মপ্রকাশ থেকে শুরু করে
আজ অবধি কয়েক প্রজন্মের সাংস্কৃতিক চেতনার সাথে তাঁর নাম ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে।
অথচ তাঁকে ডিঙিয়ে যখন ইমন চক্রবর্তী বঙ্গবিভূষণ পান,
তখন মাপকাঠি নিয়ে প্রশ্ন ওঠা অনিবার্য।

ইমন চক্রবর্তী বর্তমান সময়ের একজন সাফল্য পাওয়া প্রতিভাবান গায়িকা হতে পারেন,
কিন্তু সামগ্রিক প্রভাব এবং দীর্ঘস্থায়ী সৃষ্টির বিচারে তিনি এখনও শ্রীকান্ত আচার্যের
মত মহীরুহ হয়ে ওঠেননি।
যোগ্য উত্তরসূরিকে সম্মান জানানো ভালো,
কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি সাধনার অগ্রজকে উপেক্ষা করে সেই সম্মান প্রদান প্রকারান্তরে সেই
সংগীত-পরম্পরাকেই খাটো করে।
——————-
( এই কেলগসের বিজ্ঞাপন যখন কাজলের মত জনপ্রিয় তারকারা
মোটা টাকার বিনিময়ে গুছিয়ে পরিবেশন করে,
সাধারণ মানুষের আস্থা তখন ২-৩ গুণ বেড়ে যায়।
আমরা ভেবে বসি—
এ তো সাধারণ কোনো প্রোডাক্ট নয়, তাও আবার কেলগস ব্র্যান্ড—
নিশ্চই অসাধারণ!
কিন্তু এই চটকদার বিজ্ঞাপন প্রচারের আড়ালে আপনার সন্তানের
প্রকৃত স্বাস্থ্য পড়ে যায় চরম ঝুঁকির মুখে।
কেন?
ভেতরের গল্পটা জানলে আপনি অবাক হয়ে যাবেন…
পড়ুন– Click: ভেজাল: ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপনী গ্ল্যামারে ভুলে কোনো ফাঁদে পা দিচ্ছেন না তো? )
সাহিত্য: আভিজাত্য
বনাম সমসাময়িকতা
সাহিত্যের ক্ষেত্রেও একই ছবি।
প্রচেত গুপ্ত যখন নিজের নির্মেদ গদ্যশৈলী আর ক্ষুরধার জীবনবোধ দিয়ে
বাংলা সাহিত্যের মহীরুহদের পাশে নিজের শক্ত ভিত গড়ছেন,
শ্রীজাতর কবি হিসেবে আত্মপ্রকাশ তখন কেবল কাব্যজীবনের অঙ্কুরোদগম মাত্র।
তিন দশক ধরে ‘আঁধারের অক্ষর’ বা ‘চোর’-এর মত অতুলনীয় সৃষ্টির মাধ্যমে
মধ্যবিত্ত বাঙালির অবদমিত মনস্তত্ব ও জীবনবোধকে প্রচেত বাবু গভীরভাবে ব্যবচ্ছেদ করেছেন,
তাঁর ধারে কাছে শ্রীজাত বাবু এখনও কোথায়?
শ্রীজাত গত দু-দশকে আধুনিক কবিতার ভাষা বদলেছেন,
সিনেমা-গানের গীতিকার হিসেবে সফলতা পেয়েছেন,
এমনকি নাগরিক মেজাজের বেশ কিছু উপন্যাসও লিখেছেন।
কিন্তু সাহিত্যের ধ্রুপদী বিচারে প্রচেত গুপ্তর গদ্যের মত গভীরতা,
প্রগাঢ় বিস্তার এবং কয়েক প্রজন্মের যাপনকে ঋদ্ধ করার যে দুর্লভ আভিজাত্য—
তাঁর সামনে শ্রীজাতর সৃজন এখনও অনেকখানি সমকাল-নির্ভর ও লঘু।
অতএব প্রচেত গুপ্তকে অপেক্ষায় রেখে শ্রীজাতকে বঙ্গবিভূষণ দেওয়াটা
আসলে অভিজ্ঞতা, ব্যাপ্তি ও প্রভাবের ওপর সাম্প্রতিক জনপ্রিয়তার
আধিপত্যকেই শিলমোহর দেয়।

অভিনয়: শিল্পের লড়াই
বনাম কেরিয়ারের চটক
পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের সাথে সব্যসাচী চক্রবর্তীর তুলনা করলে বোঝা যায়,
বর্তমানে রাজ্যের সম্মানের পাল্লা শিল্পের গভীরতা থেকে সরে গিয়ে
আধুনিক গ্ল্যামারের দিকে ঝুঁকে পড়েছে।
সব্যসাচী চক্রবর্তী:
তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বড় পর্দা থেকে ছোট পর্দা শাসন করেছেন;
তাঁর ব্যক্তিত্ব বাংলার অভিনয় জগতের এক সু-উচ্চ স্তম্ভ।
সব্যসাচীর মত অভিনয়ের ‘ইনস্টিটিউশন’ বা প্রাতিষ্ঠানিক গভীরতা
পরমব্রতর ক্যারিয়ারে এখনও তৈরি হয়নি।
রাজ্য যখন সব্যসাচীর মত একজন ‘তপস্বী’ অভিনেতাকে উপেক্ষা করে
পরমব্রতকে বেছে নেয়, তখন বার্তাটা স্পষ্ট—
রাজ্য এখনও অভিজ্ঞতার ওজন, ব্যাপ্তি ও প্রভাবের চেয়েও সমসাময়িক
চাকচিক্যকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

সম্মান বনাম পুরস্কার:
যেকোনো সাধারণ ‘পুরস্কার’ সাম্প্রতিক সাফল্যের জন্য দেয়া যেতে পারে
(যেমন ফিল্মফেয়ার বা মির্চি মিউজিক)।
কিন্তু ‘বঙ্গবিভূষণ’ বা ‘পদ্মবিভূষণ’- এর মত সম্মানগুলো দেওয়া হয় সাধারণত
Life-Time Contribution বা জীবনব্যাপী সাধনার জন্য।
যখন পদের নামের সাথে ‘বিভূষণ’ যুক্ত থাকে, তখন তার অলিখিত শর্তই হল—
কাজের গভীরতা এবং সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া।
পশ্চিমবঙ্গের সর্বোচ্চ সম্মান:
সাংস্কৃতিক শিষ্টাচার
বাঙালি সংস্কৃতির একটা দীর্ঘ ইতিহাস আছে।
এখানে শিল্প মানে কেবল ‘ডেটা’ বা ‘সাফল্য’ নয়, শিল্প মানে একটা পরম্পরা।
যখন একজন ছাত্র বা অনুজ তাঁর গুরুর আগে রাজ্যের সর্বোচ্চ সম্মান পান,
তখন তা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে একটা ভুল বার্তা দেয়।
এটা কেবল একটা আবেগপ্রবণ অনুভূতি নয়, এটা একটা ‘সংস্কৃতিক মানদণ্ড।’
ঐতিহ্যের দায়বদ্ধতা:
অনেকই বলতে পারেন, এটা কোনও বাধ্যতামূলক নিয়ম নয়।
কিন্তু নিয়ম না থাকলেই কি নীতি বিসর্জন দিতে হবে?
যদি সিনিয়ারিটি বা সাধনার কোনও মূল্য না থাকে,
তবে আগামী দিনে ৫ বছরের ক্যারিয়ারে থাকা কোনও ভাইরাল সেনসেশনকেও
নির্দ্বিধায় বঙ্গবিভূষণ দেওয়া যেতে পারে।
আর ঠিক সে সময় এই সম্মান নিজেই আর্তনাদ করে বলবে—
“ছেড়ে দে মা, কেঁদে বাঁচি!”
আর শিল্পকলা কেবল নিয়মের বেড়াজালে চলেনা,
তা চলে আভিজাত্য আর পরম্পরার ওপর ভিত্তি করে।
বঙ্গবিভূষণ কোনও ‘রানিং ট্রফি’ নয়, যে এই বছরের সফলতম ব্যক্তিকেই তা দিতে হবে।
এটা একটা অনন্য স্বীকৃতি,
যা পাওয়ার জন্য কয়েক দশকের সাধনার যে ‘ম্যাচুরিটি’ প্রয়োজন হয়,
তা কয়েক বছরের জনপ্রিয়তায় অর্জন করা সম্ভব নয়।
নিয়ম না থাকা মানেই অরাজকতা নয়, বরং সেখানে নৈতিক দায়িত্ব আরও বেড়ে যায়।
পশ্চিমবঙ্গের সর্বোচ্চ সম্মান:
বঙ্গবিভূষণের আত্মসম্মান
সবশেষে একটা রূঢ় প্রশ্ন রাখা প্রয়োজন—
ব্যক্তির সম্মানের চেয়েও বড় হল সেই পুরস্কারটার নিজস্ব সম্মান।
বঙ্গবিভূষণ নামটার মধ্যেই জড়িয়ে আছে বাংলা শ্রেষ্ঠত্বের
এক গভীর আভিজাত্য।
কিন্তু সেই রাজকীয় শিরোপা যদি স্রেফ সমসাময়িক জনপ্রিয়তার
মাপকাঠিতে বিলি করা হয়,
বঙ্গবিভূষণের বুকটা যন্ত্রণায় ফেটে যায়, আর্তনাদ করতে থাকে।
কিন্তু দুর্ভাগ্যবশতঃ বঙ্গবিভূষণের সেই কষ্ট, যন্ত্রণা আমরা কেউ বুঝতে চাই না,
দেখতে পাই না।
মাঝেমধ্যে মনে হয়,
বঙ্গবিভূষণ যদি আজ কথা বলতে পারত,
তবে হয়ত সে আক্ষেপ করে বলত—
“আমি তো বাংলার প্রকৃত শ্রেষ্ঠত্বের সাক্ষী হতে চেয়েছিলাম,
স্রেফ ভিড়ের অংশ হতে নয় !
কিন্তু আজ যখন আমার ওজন প্রাপকের প্রকৃত যোগ্যতায় নয়,
বরং গ্ল্যামার, প্রয়োজনে বা স্বার্থে মাপা হয়,
তখন পদক হিসেবে আমি নিজেই লজ্জিত হই।”
তখন সেই সম্মান আসলে নিজেই অসম্মানিত বা অপমানিত হয়।
( বি: দ্র: অনুগ্রহ করে এই লেখাকে রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে
বিচার করবেন বা পড়বেন না। )
——————-
( এই চকচকে দুনিয়ায় আমরা এমন এক শ্রেণীর শিল্পী
বা সেলিব্রিটি দেখতে অভ্যস্ত,
যারা মেরুদণ্ডকে আলমারিতে তুলে রেখে সাধারণ মানুষের স্বার্থের চেয়ে
নিজের ব্যাঙ্ক-ব্যালেন্সের সুরক্ষাকে বেশি প্রাধান্য দেয়।
সুবিধাবাদ যখন সাফল্যের চাবিকাঠি, ঠিক তখনই জুবিন গর্গ নামক এক
‘অবাধ্য’ মানুষের গল্প বারবার বলা প্রয়োজন।
কারণ জুবিন শুধু একজন গায়ক ছিলেন না।
তিনি ছিলেন অস্বস্তির শিল্পী।
তাঁর গান শুধু প্রেম শেখায়নি,
শিখিয়েছে প্রশ্ন করতে, অন্যায়ের সামনে দাঁড়াতে।
পড়ুন প্রকৃত শিল্পী আমরা কাদের বলবো।
সাধারণ মানুষের জন্যে জুবিন নামক নক্ষত্র ঠিক কেমন ছিল।
কেন এমন শিল্পী হতে গেলে আরেকবার জন্ম নিতেই হবে।
Click: জুবিন গর্গ: সেলিব্রিটি হওয়া সোজা, বিবেক হওয়া কঠিন– কেন? )
আপনি কি আমাদের সাথে এক মত?
অবশ্যই জানাবেন আপনাদের মূল্যবান মন্তব্য।
[ লেখাটা প্রয়োজনীয় মনে হলে অবশ্যই শেয়ার করে
সমাজের অন্যদেরও পড়তে, জানতে সুযোগ করে দেবেন।
ইমেইল আইডি দিয়ে আমাদের বাঙালির পরিবারের একজন
প্রিয় মানুষ হয়ে উঠুন।
চলুন বাঙালিকে বিশ্বের দরবারে বারবার তুলে ধরি—
চিন্তা, চেতনা আর শব্দের শক্তিতে— একসাথে, সবাই মিলে।
বিশ্ব জানুক—
আমাদের ভারত কি?
বাঙালি কি?
বাংলা শব্দের ক্ষমতাই বা কি? ]
Articlesবাংলা Bangla Articles, Quotes & Prose-Poetry / বাংলা প্রবন্ধ, উক্তি ও গদ্য-কবিতা।


