সেবা নাকি মুনাফা?
ভারতের সরকারি হাসপাতাল সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যব্যবস্থার সবচেয়ে বড় ভরসা।
মেডিকেল কলেজে চান্স পাওয়ার দিনটা একটা পরিবারের জন্য উৎসবের মত।
কিন্তু সেই উৎসবের আড়ালে শুরু হয় এক দীর্ঘ লড়াই।
একদিকে বছরের পর বছর হাড়ভাঙা খাটুনি, মাথার ওপর অত্যধিক চাপ,
অন্যদিকে বেসরকারি কলেজে পড়তে গেলে কোটি টাকার ডোনেশন বা ফি।
দীর্ঘ ১০-১৫ বছর পর যখন একজন শিক্ষার্থী ডাক্তার হয়ে বের হন,
তখন তাঁর সামনে দুটো পথ খোলা থাকে—
সেবা নাকি মুনাফা?
আজকের ভারতের স্বাস্থ্যব্যবস্থার দিকে তাকালে প্রশ্ন জাগে—
চিকিৎসা কি তবে শুধু ধনীদের বিলাসিতা?
বিনিয়োগ বনাম আয়:
অঙ্কের এক গোলমেলে হিসেব
একজন ডাক্তার হতে গেলে যে পরিমাণ বিনিয়োগ (টাকা, শ্রম আর সময়) করতে হয়,
তা অন্য যেকোনো পেশার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি।
পর্যায়:
এমবিবিএস ফ্রেশার (MBBS Fresher):
আয়ের সীমা (বার্ষিক):
প্রায় ৩-৮ লাখ গড় হিসেবে (লোকেশন ও কাজের ধরন অনুযায়ী পরিবর্তনশীল)।
বাস্তব চিত্র:
সাধারণত পড়ার খরচ তুলতে হিমশিম খেতে হয়।
পর্যায়:
এমডি/এমএস বিশেষজ্ঞ (MD/MS Specialist):
আয়ের সীমা (বার্ষিক):
প্রায় ১০-৩০ লাখ বা তার বেশি (অভিজ্ঞতা ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল)।
বাস্তব চিত্র:
হাড়ভাঙা খাটুনির পর এই পর্যায়ে পৌঁছানো যায়।
পর্যায়:
সুপার স্পেশালিস্ট (Super Specialist):
আয়ের সীমা (বার্ষিক):
প্রায় ২০-৬০ লাখ বা তার বেশি (বিশেষ ক্ষেত্রে)।
বাস্তব চিত্র:
কার্ডিওলজি বা নিউরোলজির মত ক্ষেত্র, যা অত্যন্ত সীমিত।
এখন প্রশ্ন হল—
একজন ছাত্র যদি অনেক ক্ষেত্রে, বিশেষত বেসরকারি কলেজে,
প্রায় ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত খরচ করে ডাক্তার হন, তবে কি তাঁর মাথায় প্রথমেই সেবার কথা আসবে,
নাকি সেই ঋণ শোধ করার চিন্তা?
এই ব্যবস্থাপনাই বহু ক্ষেত্রে ডাক্তারদের ‘কর্পোরেট দাসে’ পরিণত করে।
সরকারি হাসপাতাল:
মানবিকতা যখন যন্ত্রে পরিণত
আমরা প্রায়ই ডাক্তারদের গালাগাল দিই।
কিন্তু সরকারি হাসপাতালের লেবার রুমের দৃশ্যটা একবার কল্পনা করেছেন?
একটা আধ-ভাঙা বেডের চুপসে যাওয়া ম্যাট্রেসে তিনজন গর্ভবতী নারী শুয়ে আছেন।
একজনের ওয়াটার ব্রেক হয়ে গেছে — (দেখুন) অ্যামনিয়োটিক ফ্লুইড (Fluid) লিক করছে।
দ্বিতীয়জন তীব্র রক্তক্ষরণে ছটফট করছেন।
তৃতীয়জন আবার সেই একই বেডে বসে থাকতে বাধ্য, কারণ অন্য কোনো জায়গা নেই।
যদি কেউ সেখানে বসতে না চান, তাহলে মেঝেই একমাত্র বিকল্প।

সেখানে ডাক্তাররা কোনো রক্ত মাংসের মানুষ নন, তাঁরা যেন এক একটা যান্ত্রিক ফ্যাক্টরির অংশ।
- একজন শুধু প্রেসক্রিপশন লিখছেন।
- একজন শুধু রোগী ভেতরে ঠেলছেন।
- অন্যজন যান্ত্রিকভাবে ডেলিভারি বা কোনো অপারেশন করিয়ে যাচ্ছেন।
দিনশেষে তালিকায় ৬০ জন রোগী থাকলেও দেখা যায় ৫ জন ভিড়ের চাপে নিখোঁজ।
এই চরম অব্যবস্থাপনার দায় কি শুধুই ডাক্তারের?
নাকি সেই সিস্টেমের, যা একজন ডাক্তারকে দিনে ২০০ জন রোগী দেখতে বাধ্য করে?
সিনিয়র ডাক্তারদের নির্দেশ স্পষ্ট:
“একজন রোগীকেও মিস করা যাবে না।”
কিন্তু দিনের শেষে হিসেব মেলে না।
যেখানে বিরতি নেই, নেই কোনো মানবিক স্পর্শ—
আছে শুধু অবিরাম কাজের চাপ।
কিন্তু এসবের মধ্যেও,
মানবিকতাটাকে বাঁচিয়ে রাখাটাই হল একজন আদর্শ ডাক্তারের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
ভারতের সরকারি হাসপাতাল:
স্বাধীনতার পর থেকে
ব্যর্থতার দীর্ঘ ইতিহাস
যে কোনো দেশের স্বাস্থ্যসেবার মূল দায়িত্ব সরকারের।
নাগরিকের জন্য বিনামূল্যে ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করা এটাই সরকারের অন্যতম প্রধান কর্তব্য,
পাশাপাশি উন্নত সরকারি পরিকাঠামো ও হাসপাতালের পরিবেশ নিশ্চিত করাও সমানভাবে জরুরি।
কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত কোনো সরকারই দেশের প্রতিটা নাগরিকের জন্য
এ ধরনের মানসম্মত চিকিৎসাব্যবস্থা এখনও সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি।
মূল দায় সরকারের, তবে সমস্যাটা বহুমাত্রিক।
আর যখন সরকার নিজের এই দায়িত্ব পালন করতে পারে না,
তখন সে প্রায়ই সেই কাজটাই করে—
যা একজন পরাজিত মানুষ করে।
দায়িত্ব অন্যের ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়।
ফলস্বরূপ ব্যাঙের ছাতার মত গজিয়ে উঠছে বেসরকারি হাসপাতাল।
আর এই বেসরকারি হাসপাতাল থেকেই শুরু হয় চিকিৎসার ব্যবসা।
( দেখুন: সেই ব্যবসার উদাহরণ )
প্রাইভেট হাসপাতাল,
সমাধান না নতুন সমস্যা?
একদিকে:
- উন্নত পরিষেবা।
- আধুনিক প্রযুক্তি।
- দ্রুত চিকিৎসা।
অন্যদিকে:
- খরচ আকাশছোঁয়া।
- একটা সার্জারির খরচ সরকারি হাসপাতালের তুলনায় বহুগুণ বেশি।
- বিল পৌঁছায় লাখ টাকায়।
ফলে তৈরি হয়েছে দুই ভিন্ন বাস্তবতা —
যাদের টাকা আছে:
তাঁদের জন্য চিকিৎসা সহজ, দ্রুত ও আরামদায়ক।
যাদের টাকা নেই:
তাঁদের জন্য লাইন, ভিড়, অবহেলা, অপেক্ষা, অযত্ন, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ।
কেয়ার আজ টাকার ওপর নির্ভরশীল:
প্রাইভেট হাসপাতালে—
- বেল চাপলেই স্টাফ হাজির।
- রুমে বসেই চা, কফি ব্রেকফাস্ট পৌঁছে যায়।
- রোগী অনুভব করে— তাঁর কথা শোনার কেউ আছে।

সরকারি হাসপাতালে—
- একাধিকবার ডাকলেও কেউ আসে না।
- রাতে স্টাফ কম।
- প্রয়োজনীয় মনোযোগ পাওয়া কঠিন।
এই বৈষম্যই প্রমাণ করে, বরং চিকিৎসা আজ আর অধিকার নয়,
বরং (দেখুন) ক্রয়ক্ষমতার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সমস্যার আসল জায়গা:
মানব সম্পদের ঘাটতি
আমরা প্রায়ই ডাক্তার বা নার্সদের ব্যবহার নিয়ে অভিযোগ করি,
কিন্তু মুদ্রার উল্টো পিঠটা হল—
যে, যে পরিস্থিতিতে থাকে, সে বুঝতে পারে সেই পরিস্থিতির চাপ।
ভারতে রোগীর সংখ্যার তুলনায় চিকিৎসা কর্মীর সংখ্যা অত্যন্ত নগণ্য।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-এর মানদণ্ড অনুযায়ী প্রতি ১০০০ জন মানুষের জন্য অন্তত ১ জন ডাক্তার থাকা প্রয়োজন।
কিন্তু ভারতের অনেক রাজ্যে এই অনুপাত কয়েক গুণেরও বেশি শোচনীয়।
বিপুল রোগীর চাপ:
ভারতের সরকারি হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিন যে পরিমাণ রোগী আসে, সেই অনুযায়ী ডাক্তার,
নার্স এবং প্যারামেডিকেল স্টাফ পর্যাপ্ত নয়।
ফলে পরিকাঠামো থাকলেও তা ব্যবহারের মত হাত নেই।
( আরও পড়ুন: কলকাতার হাসপাতালগুলিতে ডাক্তার কম, রোগী অনেক বেশি।)
ভারতের সরকারি হাসপাতালের এক বাস্তব ও ভয়াবহ চিত্র:
ভারতের সরকারি হাসপাতালের পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, এখানে একজন ডাক্তার বা নার্সের ওপর যে কাজের চাপ থাকে, তা অনেক ক্ষেত্রে কল্পনা করাও কঠিন।

( এমারজেন্সিতে সরকারি বা বেসরকারি
কোনো হাসপাতাল আপনাকে বা আপনার পরিবারের কাউকে চিকিৎসা বা জরুরী পরিষেবা
দিতে যদি অস্বীকার করে, তখন মুহূর্তের মধ্যে জীবন বিপন্ন হয়ে উঠতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে আইন কি বলে?
আইন কিভাবে আপনার পাশে এসে দাঁড়াবে?
জীবনের ব্যস্ততা, দুশ্চিন্তা আর অজানা আশঙ্কার ভিড়ে
আমরা অনেক সময় এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ অধিকার ভুলে যাই,
যেগুলোর সুবিধা আমাদের হাতের কাছেই থাকে।
কিন্তু এই না জেনে নেওয়ার কারণে আমরা অনেক ক্ষেত্রে প্রতারিত হই,
ঠকে যাই এমনকি ভয়ঙ্কর বিপদে পড়ে যেতেই পারি, তাই দেরি না করে নিজেদের সুবিধার্থে এখনই জেনে রাখুন।
কে জানে, কখন, কী পরিস্থিতির শিকার হতে হয়?
পড়ুন– Click: Healthcare Hospital: জরুরী চিকিৎসা অস্বীকার করলে কি করবেন? )
১০০ থেকে ২০০ জন রোগী:
আউটডোরে (OPD) একজন ডাক্তারকে মাত্র ৪-৫ ঘন্টার মধ্যে ১০০-২০০ জন রোগী দেখতে হয়।
হিসেব করলে দেখা যায়, তিনি এক একজন রোগীকে গড়ে প্রায় ১-২ মিনিট বা এরও কম সময় দিতে পারছেন।
নার্সদের করুণ দশা:
আদর্শ নিয়ম অনুযায়ী (ICU-তে)
১ জন রোগীর জন্য ১ জন নার্স থাকার কথা।
কিন্তু আমাদের সাধারণ ওয়ার্ডে একজন নার্সকে অনেক সময় ৪০ থেকে ৬০ জন পর্যন্ত রোগীর ইনজেকশন,
স্যালাইন ও ফাইল সামলাতে হয়।
একটানা ৩৬ ঘণ্টা ডিউটি:
জুনিয়র ডাক্তারদের অনেক ক্ষেত্রে একটানা ৩৬ ঘণ্টা ডিউটি করতে হয়।
এই দীর্ঘ সময় তাঁদের না থাকে খাওয়ার ঠিক, না থাকে ঘুমের।
ভারতের সরকারি হাসপাতাল:
কেন তৈরি হয় যান্ত্রিক সিস্টেম?
যখন একজন ডাক্তারের সামনে ২০০ জন মুমূর্ষু রোগী দাঁড়িয়ে থাকেন,
তখন তাঁর পক্ষে আর মানুষ হিসেবে যত্ন নেওয়া সম্ভব হয় না।
তিনি তখন দ্রুত প্রেসক্রিপশন লেখার মেশিনে পরিণত হন।
এমনকি কখনও কখনও তো রোগীর চোখের দিকে তাকিয়ে প্রয়োজনীয় কথা বলার সময়টুকুও তাঁর থাকে না।

১০ বা ২০ জন নয়, কয়েকশো মানুষের ভার যখন একজনের কাঁধে চাপে, তখন ‘মানবিকতা’
চাপে পড়ে ‘যান্ত্রিকতায়’ রূপ নেয়।
সার কথা—
সমস্যাটা কেবল পরিকাঠামোর নয়, সমস্যাটা মানুষের ক্ষমতার অতীত চাপের।
ভারতের বিশাল জনসংখ্যার তুলনায় ডাক্তার এবং স্বাস্থ্যকর্মীর এই বিপুল ঘাটতি আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে
একটা যান্ত্রিক ফ্যাক্টরিতে পরিণত করেছে।
তবে কি সাধারণ বা গরিব মানুষ এভাবেই চলবে?
সবশেষে একটা বড় প্রশ্নচিহ্নের সামনে আমরা এসে দাঁড়াই—
যাদের পকেটে লাখ টাকা নেই,
সেই সাধারণ বা গরিব মানুষগুলো কি তবে এভাবেই লড়ে যাবে?
যাদের কাছে প্রাইভেট হাসপাতালের এসির হাওয়া কিংবা বেল টিপলেই নার্স আসার মত বিলাসিতা নেই,
তাঁদের কী তবে এই ভাঙা বেড, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ আর যান্ত্রিক চিকিৎসাতেই সন্তুষ্ট থাকতে হবে?
সরকারি পরিষেবার (দেখুন) কঙ্কালসার দশা কী তাঁদের ভবিতব্য?
বাস্তবতা বড়ই নিষ্ঠুর।
ভারতের মত দেশে যেখানে স্বাস্থ্যসেবা একটা মৌলিক অধিকার হওয়ার কথা ছিল,
সেখানে তা আজ জন্মলগ্ন থেকেই বৈষম্যের শিকার।
একটা চিরস্থায়ী লড়াই:
গরিব মানুষের জন্য সরকারি হাসপাতালই একমাত্র ভরসা।
কিন্তু সেই ভরসার জায়গাটুকুও যখন ‘যান্ত্রিক ফ্যাক্টরি’র জায়গা হয়ে যায়,
তখন রোগীর শারীরিক কষ্টের চেয়েও মানসিক অপমান বড় হয়ে দাঁড়ায়।
দয়ার ওপর বেঁচে থাকা:
একজনের রিকশাচালক বা দিনমজুর যখন তাঁর সন্তানকে নিয়ে হাসপাতালের বাইরের মেঝেতে রাত কাটান,
তখন তিনি কেবল চিকিৎসার আশায় থাকেন না—
তিনি অপেক্ষা করেন সিস্টেমের সামান্য একটু দয়ার জন্য।
অধিকার বনাম ভিক্ষে:
আজ সরকারি চিকিৎসা পাওয়াটা যেন অনেকটা করুণা পাওয়ার মত হয়ে দাঁড়িয়েছে।
লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা সেই শত শত মানুষের চোখে যে ক্লান্তি আর অসহায়ত্ব দেখা যায়,
তা আমাদের এই উন্নয়নের গালে কিন্তু এক বিরাট চপেটাঘাত।
এই অবস্থার পরিবর্তন
কী আদৌ সম্ভব?
যতক্ষণ না সরকার স্বাস্থ্য বাজেটে বরাদ্দ বাড়াচ্ছে এবং পর্যাপ্ত ডাক্তার,
নার্স নিয়োগ করে এই ম্যানপাওয়ারের সংকট মেটাচ্ছে,
ততক্ষণ সাধারণ মানুষের এই দীর্ঘশ্বাস আর হাসপাতালের বারান্দায় পড়ে থাকা হাহাকার—
কোনটাই থামবে তো নাই, বরং গড়গড়িয়ে চলবে।
ডাক্তাররা হয়ত কোটি টাকা আয় করবেন,
কিন্তু সাধারণ মানুষের কাছে ন্যূনতম ‘মানবিক চিকিৎসা’ পাওয়াটা আজও অধরা স্বপ্নই থেকে যাচ্ছে।

ভারতের সরকারি হাসপাতাল:
সমাধানের পথ,
স্বপ্ন নাকি সদিচ্ছা?
এই পরিস্থিতির পরিবর্তন কী আদৌ সম্ভব?
উত্তরটা লুকিয়ে আছে সরকারের সদিচ্ছায়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী,
একটা দেশের জিডিপি’র প্রায় ৫% বা এর বেশি স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ করা জরুরি বলে ধরা হয়।
যতক্ষণ না এই বরাদ্দ বাড়ছে এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি
পর্যাপ্ত ডাক্তার ও নার্স নিয়োগ করে এই ‘ম্যানপাওয়ার’ সংকট মেটানো হচ্ছে,
ততক্ষণ সাধারণ মানুষের এই দীর্ঘশ্বাস আর হাসপাতালের বারান্দায় পড়ে থাকা হাহাকার থামবে না।
যেদিন সিস্টেম ডাক্তারদের ‘যান্ত্রিক মেশিন’ আর রোগীদের ‘করুণার পাত্র’ হিসেবে দেখা বন্ধ করবে,
সেদিনই ভারতের স্বাস্থ্যব্যবস্থা প্রকৃত আলোর মুখ দেখবে।
অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ:
( সরকারি হাসপাতাল: ভেবে দেখুন তো—
একটা দেশের ভেতরে স্বাস্থ্যব্যবস্থার সম্পূর্ণ দায়িত্ব কার?
স্বাভাবিকভাবেই সরকারের।
কারণ নাগরিক (পড়ুন) ট্যাক্স দেয়, ভোট দেয়, আইন মানে;
এমনকি ট্রাফিক সিগন্যালও মানে—
এর বদলে রাষ্ট্র তার ন্যূনতম নিরাপত্তা, শিক্ষা আর চিকিৎসার দায়িত্ব নেবে।
অর্থাৎ সরকারের প্রাথমিক কাজ হল তার নাগরিকদের জন্য বিনামূল্যে
এবং মানসম্মত বা কোয়ালিটি হেলথ কেয়ার নিশ্চিত করা।
ভারতেও স্বাধীনতার পর সেই লক্ষ্য নিয়েই স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা ছিল।
স্বপ্ন ছিল সবাই চিকিৎসা পাবে, সমানভাবে পাবে, মর্যাদার সঙ্গে পাবে।
কিন্তু ৭৫ বছরের বেশি সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও প্রশ্নটা একই রয়ে গেছে—
কেন সরকার তার এই ‘কমিটমেন্ট’ রাখতে বরাবরই ব্যর্থ হয়েছে?
স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত যে সরকারই আসুক,
এই নির্দিষ্ট দায়িত্ব পালনে তারা বারবার ডাহা ফেল করেছে।
সাধারণ মানুষ বা গরীবের একমাত্র ভরসা এই সরকারি হাসপাতাল,
তবে তাঁরা যাবে কোথায়?
পড়ুন ভেতরেই সেই অজানা সত্য, যা আপনাকে ভাবতে বাধ্য করবে।
এখুনি জেনে রাখুন, আর জানান সাধারণ মানুষকে।
Click: সরকারি হাসপাতাল: সাধারণ মানুষের চিকিৎসা কি সত্যিই নিরাপদ? )
আরও পড়ুন সেই ভয়ঙ্কর বাস্তবতা:
Click: ….তবে কী আসছে কোভিডের থেকেও ভয়ংকর বিপদ? )
[ আরও এমনই বিভিন্ন দুর্দান্ত টপিকের ওপরে এরকমই সব
বিশ্লেষণধর্মী লেখা পেতে নিয়মিত আমাদের পেজে চোখ রাখুন।
এবং তা আপনার, আপনার প্রতিবেশি, বন্ধুবান্ধব, আত্মীয় তথা সমাজের জন্য।
এ বিষয়ে আপনার গুরুত্বপূর্ণ মতামত জানার অপেক্ষায় রইলাম।
লেখাটা অবশ্যই শেয়ার করে সমাজের অন্যদেরও পড়তে, জানতে সুযোগ করে দেবেন।
ইমেইল আইডি দিয়ে আমাদের বাঙালির পরিবারের একজন
প্রিয় মানুষ হয়ে উঠুন।
চলুন বাঙালিকে বিশ্বের দরবারে সবাই মিলে একসাথে বারবার তুলে ধরি
চিন্তা, চেতনা আর শব্দের শক্তিতে—
একসাথে, সবাই মিলে।
বিশ্ব জানুক—
আমাদের ভারত কি?
বাঙালি কি?
বাংলা শব্দের ক্ষমতাই বা কি? ]
Articlesবাংলা Bangla Articles, Quotes & Prose-Poetry / বাংলা প্রবন্ধ, উক্তি ও গদ্য-কবিতা।




