ইরানের রাজনৈতিক ইতিহাস:
আধুনিকতা থেকে
ধর্মের পথে:
ইরানের রাজনৈতিক ইতিহাস বিশ্লেষণের মৌলিক পথ ধরে বেরিয়ে আসে:
মাত্র কয়েক দশক আগের কথা—
এশিয়ায় ইরানের মত এতটা খোলামেলা নগর সমাজ এক সময় খুব কমই ছিল।
১৯৭০ এর দশক পর্যন্ত দেশটা, বিশেষ করে তেহরানসহ বড় শহরগুলো
সামাজিকভাবে তুলনামূলকভাবে উন্মুক্ত ও আধুনিক ছিল।
[ পড়ুন– Click: ইরানের ইতিহাস। ]
সেই সময়কার শহুরে ইরানে পাশ্চাত্য পোশাক, সাংস্কৃতিক উন্মুক্ততা, নারী-শিক্ষা— সবই দৃশ্যমান ছিল।

তবে এই চিত্রটা মূলত নগর ও মধ্যবিত্ত শ্রেণিকেন্দ্রিক ছিল; গ্রামীণ ও ধর্মীয়ভাবে
রক্ষণশীল অঞ্চলগুলোতে ঐতিহ্যগতভাবে মূল্যবোধই বেশি প্রভাবশালী ছিল।
ইরানের রাজনৈতিক ইতিহাস: কিন্তু ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লব সেই রাষ্ট্রের চরিত্রকে আমুল বদলে ফেলে।
ফলে নতুন ‘ইসলামী প্রজাতন্ত্র’ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং রাজনৈতিক-সামাজিক কাঠামোয়
ধর্মীয় নেতৃত্বের প্রভাব সাংবিধানিকভাবে সুসংহত করা হয়।
‘ভেলায়তে ফকিহ’ নীতির মাধ্যমে সর্বোচ্চ নেতার কর্তৃত্ব নিশ্চিত করা হয়।
নারীদের পোশাকবিধি থেকে শুরু করে সামাজিক স্বাধীনতা—
সব ক্ষেত্রেই নতুন নিয়ম কার্যকর হয়।
- নারীদের জন্য বাধ্যতামূলক হিজাব আইন কার্যকর করা হয় এবং জনসমক্ষে
পোশাক-সংক্রান্ত নিয়ম লঙ্ঘন করলে শাস্তির বিধান রাখা হয়। - পারিবারিক আইন পরিবর্তন করে বিবাহ, তালাক ও সন্তানের অভিভাবকত্বের ক্ষেত্রে
শরিয়াভিত্তিক বিধান জোরদার করা হয়। - বিচারব্যবস্থায় শরিয়াভিত্তিক আইনের প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়
এবং ফৌজদারী আইনে হুদুদ ও কিসাস-ধরণের শাস্তি অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
এসব শাস্তির বাস্তব প্রয়োগের মাত্রা নিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রিপোর্টে ভিন্নমত দেখা যায়। - শিক্ষা ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে লিঙ্গভিত্তিক পৃথকীকরণ নীতি অনেক ক্ষেত্রে চালু করা হয়।
- গণমাধ্যম, চলচ্চিত্র ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সেন্সরশিপ কঠোর করা হয়,
বিশেষ করে পোশাক, নৃত্য ও সংগীত উপস্থাপনায় বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। - রাজনৈতিক কাঠামোয় ধর্মীয় নেতৃত্বের সর্বোচ্চ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়
(ভেলায়তে ফকিহ নীতি অনুযায়ী সর্বোচ্চ নেতার অবস্থান সাংবিধানিকভাবে নিশ্চিত করা হয় )।

আফগানিস্তান:
এক সামাজিক বিপর্যয়
এক সময় কাবুল বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী অধ্যাপকরা দাপটের সাথে পড়াতেন।
আজ যেখানে আফগানিস্থানে মেয়েদের স্কুলে যাওয়াটাই এক সংগ্রামের বিষয়,
সেখানে এক সময় নারীরা ছিলেন সমাজের আলোকবর্তিকা।
নগর আধুনিকতার এক
হারানো অধ্যায়:
‘কাবুল’ ও ‘করাচি’—
এই শহর দুটোকে এক সময় তাদের নগর সংস্কৃতি ও আধুনিকতার কারণে
অনেকেই তুলনামূলকভাবে “প্যারিস অব দ্য ইস্ট” বা “ভেনিস অব দ্য ইস্ট”
ধরণের উপমা ব্যবহার করতেন।
নগর সংস্কৃতি, বাণিজ্য ও আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা—
সব মিলিয়ে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার এক ভিন্ন চিত্র ছিল।
আফগানিস্তানে ধারাবাহিক যুদ্ধ এবং পাকিস্তানের জেনারেল জিয়াউল হকের
শাসনামলে ধর্মীয় রাজনীতির প্রাতিষ্ঠানিক উত্থান—
এই দুই প্রবাহ গোটা অঞ্চলের সামাজিক ও রাজনৈতিক কাঠামোকে এক ভিন্ন পথে নিয়ে যায়।
ইরানের রাজনৈতিক ইতিহাস:
ধর্ম শক্তি নাকি বিভাজন?
ধর্ম মূলত মানুষের আত্মিক উন্নতির পথ দেখায়।
কিন্তু এর ভুল ব্যাখ্যা সমাজকে ধ্বংসের মুখে ফেলে দেয়, তা সে যে ধর্মই হোক না কেন।
অর্থাৎ ধর্মকে সঠিকভাবে বোঝা ও প্রয়োগ করা গেলে,
তা মানুষকে নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও সহমর্মিতার উচ্চতায় পৌঁছে দিতে পারে।
কিন্তু এর ভুল ব্যাখ্যা বা চরমপন্থী প্রয়োগ সমাজকে এমন জায়গায় নিয়ে যেতে পারে,
যেখান থেকে ফিরে আসা অত্যন্ত কঠিন।
ইরানের রাজনৈতিক ইতিহাস:
সংস্কারের চাবিকাঠি:
পরিবর্তন বাইরে থেকে
নয়, ভেতর থেকে
গত ২০০ বছরে যে সমাজ সংস্কার আন্দোলন হয়েছে, তা মূলত ব্যক্তি উদ্যোগেই শুরু হয়েছে।
মানুষ নিজের বিবেক আর অন্তরের তাগিদ থেকেই পরিবর্তনের পথে নেমেছে।
“অনুপ্রেরণা বাইরে থেকে আসতে পারে, কেউ পথ দেখাতে পারে—
কিন্তু নিজের ঘরের পরিবর্তন নিজেকেই করতে হয়।”
যে কোনো ধর্মের সমাজের ভেতরে সংস্কার আনতে হলে সেই সমাজের মানুষদেরই
প্রধানত এগিয়ে আসতে হয়।
বাইরে থেকে চাপিয়ে দেওয়া কোনো আদর্শ দীর্ঘস্থায়ী হয় না।
পরিবর্তনের ইচ্ছে, উদ্যোগ এবং দায়বদ্ধতা—
সবশেষে নিজের ভেতর থেকেই খুঁজে নিতে হয়।
ইরান-ইসরায়েল সমীকরণ:
সহজ নয়
বিষয়টা যদি শুধু ইসরায়েল বনাম ইরান হত—
একদিকে ইসরায়েল ও আমেরিকা, আর অন্যদিকে ইরান— তাহলে সমীকরণটা কিছুটা সহজ হত।
কিন্তু পরিস্থিতি জটিল হয়েছে কারণ অভিযোগ অনুযায়ী ইরান আরো কয়েকটা
দেশের বিরুদ্ধেও কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে।
১. Israel
ইরান সরাসরি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়ে ইসরায়েলের দিকে হামলা করেছে (২০২৪ সালে বড় আকারে)।
এটা ছিল সরাসরি রাষ্ট্র থেকে রাষ্ট্রে আক্রমণ।
২. United States
ইরান, ইরাকে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছিল (২০২০ সালে)।
পরে ইরান সমর্থিত মিলিশিয়ারা বিভিন্ন সময়ে মার্কিন ঘাঁটিতে রকেট ও
ড্রোন হামলাও চালিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
৩. Saudi Arabia
ইয়ামিনের হুথি গোষ্ঠী সৌদি তেল স্থাপনায় হামলা চালায় (২০১৯ সালে)।
সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে এর পেছনে দায়ী করে।
ইরান সরাসরি সে দায় অস্বীকার করে।
৪. United Arab Emirates
২০১৯ সালে আমিরাতের উপকূলে তেলবাহী জাহাজে নাশকতার ঘটনা ঘটে।
আমিরাত ও যুক্তরাষ্ট্র ইরান বা ইরান-ঘনিষ্ঠ গোষ্ঠীকে সন্দেহ করে।
ইরান দায় অস্বীকার করে।
৫. Iraq
ইরান, ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে একাধিকবার ক্ষেপণাস্ত হামলা চালিয়েছে।
ইরানের দাবি— সেখানে ইরানবিরোধী সশস্ত্রগোষ্ঠী লুকিয়ে ছিল।
৬. Pakistan
২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ইরান পাকিস্তানের বালুচিস্তান এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।
পাকিস্তান এটাকে নিজেদের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন বলে জানায় এবং পাল্টা হামলা করে।
পরে দুই দেশ কূটনৈতিকভাবে উত্তেজনা কমায়।
সব মিলিয়ে কাতার, সৌদি আরব, বাহরাইন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মত দেশগুলো
এখন প্রকাশ্যে কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
মানে এক প্রকার বলা যেতে পারে চক্রব্যূহে ইরান।

( বেসরকারি হাসপাতালের বিল আজ এক বিশাল আতঙ্কের নাম।
যেখানে ডিসচার্জ মানে শুধু রোগী না, সঞ্চয়ও বেরিয়ে গেল।
যে মুহূর্তে আপনি সরকারি হাসপাতালের উপর রাগ করে প্রাইভেটে ঢুকলেন,
ভাববেন আপনি শিকারি বেড়ালের সামনে ইঁদুর হয়ে গেলেন।
অপ্রয়োজনীয় টেস্ট, আইসিইউ-এর চড়া ভাড়া আর ওষুধের নামে
গলা কাটা কমিশন— একদম সাজানো গোছানো ডাকাতি!
মধ্যবিত্তের সারা জীবনের সঞ্চয় যেন সে মুহূর্তে কয়েকদিনের মধ্যেই
কর্পূরের মত উড়ে যায়।
তাই জেনে রাখুন ভেতরের বাস্তবতা, ভবিষ্যতে কাজে লাগতে পারে।
পড়ুন– Click: সরকারি হাসপাতাল: সাধারণ মানুষের চিকিৎসা কি সত্যিই নিরাপদ? )
বিশেষজ্ঞদের মতে—
এই দেশগুলো সামরিক বা অর্থনৈতিক কোনো দিক থেকেই অসহায় নয়।
তাদের প্রত্যেকেরই আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও কৌশলগত সক্ষমতা রয়েছে।
ইরানের রাজনৈতিক ইতিহাস:
ইরানের জন্য
আসন্ন চ্যালেঞ্জ:
আন্তর্জাতিক গবেষণা অনুযায়ী, যদি এই মুসলিম দেশগুলো একজোট হয়ে
ইরানের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, তবে তেহরানের জন্য টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে।
কোনো দেশের ওপর প্রভাব ফেলতে হলে—
শুধু যুদ্ধ বিমান, ড্রোন, বোম ফেলাই একমাত্র পথ নয়।
সামরিক পদক্ষেপের পাশাপাশি অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক নানা উপায় রয়েছে—
- আর্থিক নিষেধাজ্ঞা।
- বাণিজ্যিক চাপ।
- আন্তর্জাতিক জোট।
এগুলোর মাধ্যমে একটা দেশকে গুরুতরভাবে চাপে ফেলা যায়।
এখন আগামী দিনে কি ঘটে সেটাই দেখার বিষয়।
Pakistan: নীরব পর্যবেক্ষক
নাকি সক্রিয় ভূমিকা?
এই প্রসঙ্গে পাকিস্তানের অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ।
পাকিস্তান বহুবার সৌদি আরবের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা বলেছে।
বিশেষ করে প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত সহযোগিতার ক্ষেত্রে।
বর্তমানের এই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতিতে পাকিস্তান সরাসরি জড়াবে,
নাকি ভারসাম্য রক্ষা করবে—
সেটাও আন্তর্জাতিক মহলে গভীর আগ্রহের একটা বিষয়।
কারণ দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি এখন আর আলাদা দ্বীপ নয়;
এক অঞ্চলের অস্থিরতা অন্য অঞ্চলেও প্রতিধ্বনি তোলে।
[ দেখে নিন এখুনি– Click: ইরানের কিছু অজানা তথ্য। ]
Iran-Afghanistan-Pakistan:
একই সমস্যায় জর্জরিত
ইরান, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান—
ভোগোলিক ও সংস্কৃতিকভাবে একে অপরের সাথে যুক্ত হলেও,
বর্তমানে এই তিনটে দেশই গভীর সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে।

এ দেশগুলোর বর্তমান পরিস্থিতির তুলনামূলক ও নির্ভুল কিছু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
পতনের দিক নিচে তুলে ধরা হল:
১. মেধা পাচার বা ব্রেন ড্রেন
(Human Capital Flight)
এই ৩টে দেশেরই সবচেয়ে বড় ক্ষতি হচ্ছে তাদের মেধাবী তরুণ প্রজন্মের দেশ ত্যাগ।
Iran:
- কঠোর সামাজিক বিধি নিষেধ এবং অর্থনৈতিক চাপের কারণে প্রতিবছর
হাজার হাজার ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার ও বিজ্ঞানী দেশ ছাড়ছেন। - একে ইরানে ‘মেধার নিরব মৃত্যু’ বলা হয়।
Afghanistan:
- তালিবান শাসনের উচ্চশিক্ষা ও চাকরির সুযোগ সীমিত হওয়ায়,
দক্ষ জনশক্তির প্রায় পুরোটাই দেশ ছেড়ে পালিয়েছে,
যার ফলে প্রশাসনিক ও চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার মুখে।
Pakistan:
- রাজনৈতিক অস্থিরতা ও মুদ্রাস্ফীতির কারণে গত কয়েক বছরে কয়েক লাখ পেশাজীবী
(আইটি বিশেষজ্ঞ, চিকিৎসক) দেশ ছেড়েছেন, যা দেশটার ভবিষ্যতের জন্য এক বিশাল ক্ষতি।
২. মুদ্রাস্ফীতি ও
চরম অর্থনৈতিক পঙ্গুত্ব:
দেশ তিনটের সাধারণ মানুষের জীবন আজ মুদ্রাস্ফীতির কবলে পিষ্ট।
Iran:
- দশকের পর দশক আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের মুদ্রা ‘রিয়াল’
বিশ্বে অন্যতম দুর্বল মুদ্রায় পরিণত হয়েছে। - নিত্যপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে।
Afghanistan:
- আন্তর্জাতিক রিপোর্ট অনুযায়ী সাহায্য বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এবং
বিদেশে থাকা রিজার্ভ বাজেয়াপ্ত হওয়ায়
দেশটার বিপুল সংখ্যক মানুষ বর্তমানে দারিদ্রসীমার নিচে করুণ অবস্থায় বসবাস করছে।
Pakistan:
- বৈদেশিক ঋণের বোঝা এবং আইএমএফ (IMF)-এর শর্ত মেনে চলতে গিয়ে,
বিশেষ করে ২০২৩ সালে, মুদ্রাস্ফীতি প্রায় ৩৮% পর্যন্ত পৌঁছায়।
পরবর্তীতে তা কিছুটা কমলেও অর্থনৈতিক চাপ এখনও স্পষ্ট। - সাধারণ মানুষের জন্য বিদ্যুৎ বিল ও জ্বালানি কেনা আজ এক যুদ্ধের নামান্তর।
৩. নারী শিক্ষার অধিকার
ও সামাজিক পতন:
এটা এই অঞ্চলের সবচেয়ে হৃদয়বিদারক পতন।
Afghanistan:
বিশ্বের একমাত্র দেশ যেখানে ষষ্ঠ শ্রেণীর পর মেয়েদের শিক্ষা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
এটা একটা পুরো প্রজন্মকে অন্ধকারে ঠেলে দিচ্ছে।
Iran:
‘হিজাব আন্দোলন’ বা ‘নারী-জীবন স্বাধীনতা’র মত বিক্ষোভ দমনের ফলে
রাষ্ট্রের সাথে জনগণের (বিশেষ করে নারী ও তরুণ সমাজের) এক বিশাল দূরত্ব তৈরি হয়েছে।
Pakistan:
চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলোর প্রভাবে বিশেষ করে খাইবার পাখতুনখোয়া ও বালুচিস্তান অঞ্চলে
নারী শিক্ষা ও নারী অধিকার বার বার বাধার সম্মুখীন হচ্ছে।
৪. উগ্রপন্থা ও অভ্যন্তরীণ
নিরাপত্তা ঝুঁকি:
তিনটে দেশই আজ উগ্রপন্থা ও সীমান্ত সংঘাতের চরম ঝুঁকিতে।
Pakistan ও Afghanistan:
- ডুরান্ড লাইন বা সীমান্ত নিয়ে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা চরমে।
- এছাড়া টিটিপি (TTP) এবং আইএস-কে (IS-K)-এর মত গোষ্ঠীগুলো এই দুই দেশে
নিয়মিত রক্তক্ষয়ী হামলা চালাচ্ছে।
Iran:
- একদিকে ইসরায়েলের সাথে ছায়া যুদ্ধ এবং অন্যদিকে বালুচিস্তান সীমান্তে
সশস্ত্র গোষ্ঠীর সাথে লড়াই—
সবসময় ইরানকে এক অস্থির সামরিক পরিস্থিতির মধ্যে থাকতে হচ্ছে।
৫. কূটনৈতিক
এক ঘরে হয়ে যাওয়া
(Diplomatic Isolation)
Afghanistan:
- তালিবান সরকারকে এখনও বিশ্বের কোনো দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয় নি।
Iran:
- পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক প্রক্সি যুদ্ধের কারণে ইরান পশ্চিমা বিশ্ব ও
অনেক আরব প্রতিবেশীর কাছে ব্রাত্য।
Pakistan:
- অতিতে FAFT (Financial Action Task Force) গ্রে লিস্টে থাকার অভিজ্ঞতা এবং সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে
আন্তর্জাতিক চাপ পাকিস্তানের জন্য বড় কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ ছিল,
যা দেশটার অর্থনীতি ও বৈদেশিক সম্পর্কের ওপর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলেছে। - এই দেশগুলোর মূল ক্ষতি কেবল অবকাঠামোয় নয় বরং তাদের সামাজিক কাঠামো
ও মানবিক মূল্যবোধে। - আধুনিক শিক্ষা উদার সংস্কৃতি এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা থেকে দূরে সরে গিয়ে
এই অঞ্চলগুলো আজ এক অনিশ্চিত অন্ধকারের দিকে ধাবিত হচ্ছে।
অস্থির পৃথিবী:
যুদ্ধ, ধর্ম, রাজনীতি, বিশ্ব উষ্ণায়ন—
খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে
মানব সভ্যতা:
পৃথিবীর অস্থিরতা আজ এক চরম শিখরে গিয়ে পৌঁছেছে।
চারিদিকে গভীরভাবে তাকালে দেখা যায়—
কেবল রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অস্থিরতা।
আদর্শ আর দলের ভিত্তিতে সাধারণ মানুষে মানুষে বিভাজন আজ চরমে;
যার শেষ পরিণতি যুদ্ধ, অপরাধ আর অকাল মৃত্যু।
রাষ্ট্রে রাষ্ট্রে ধ্বংসলীলা দেখে মনে হয়,
যেকোনো মুহূর্তে পৃথিবীর কোনো এক প্রান্তে পারমাণবিক হামলার
বোতাম টিপে দেওয়া হতে পারে।

একদিকে যখন কট্টর ধর্মের ভিত্তিতে মানুষে মানুষে সংঘাত পৃথিবীকে বারেবারে রক্তাক্ত করছে।
অন্যদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ তথা বিশ্ব উষ্ণায়নের মত আসন্ন বিপদ
আমাদের মাথার উপর খাঁড়া হয়ে ঝুলছে।
আধুনিকতার দোহাই দিলেও মানুষের বর্বরতা ও মুর্খামি যেন মধ্যযুগকেও হার মানাচ্ছে।
বিজ্ঞান আমাদের প্রযুক্তিকে উন্নত করলেও মানসিকতায় কিছু নির্দিষ্ট
সংখ্যক মানুষ তলিয়ে যাচ্ছে ব্ল্যাকহোলে, সে ধর্মের ক্ষেত্রেই হোক,
বা হোক রাজনীতির ক্ষেত্রে।
যেখানে একবার প্রবেশ করলে আর কোনোদিন হয়ত আর ফিরেই আসতে পারবে না।
আর এর চুড়ান্ত পরিণাম দিতে হবে নারী, শিশু, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা ও নিরপরাধ,
অসহায় সিংহভাগ মানুষকে।
[ বিঃ দ্রঃ অনুগ্রহ করে এই লেখাকে ধর্মীয় পক্ষপাতিত্বের দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে বিচার
করবেন বা পড়বেন না। ]
——————–
( কলকাতার মাটির নিচের অবস্থা কেমন জানেন?
আমাদের মহানগর কি বিপদে আছে?
এখুনি জেনে রাখুন কলকাতার ভবিষ্যৎ– বিজ্ঞান-ভিত্তিক যুক্তি বিশ্লেষণ দিয়ে।
কলকাতার ভূ-তাত্ত্বিক গঠন একটু অন্যরকম।
কলকাতা অবস্থিত গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র ব-দ্বীপের পলিমাটির ওপর।
এর মাটির গঠন নিয়ে প্রধান ৩ টে তথ্য আপনার জানা প্রয়োজন।
ভারতের ভূমিকম্প মানচিত্র (Seismic Zoning Map of India)
অনুযায়ী দেশকে প্রধান ৪ টে জোনে ভাগ করা হয়েছে:
- জোন II— তুলনামূলক কম ঝুঁকি।
- জোন III— মাঝারি ঝুঁকি।
- জোন IV— উচ্চ ঝুঁকি।
- জোন V— অতি উচ্চ ঝুঁকি।
এখন কলকাতা জোন…
পড়ুন– Click: Earthquake Kolkata (ভূমিকম্প): কতটা ঝুঁকিতে আমাদের শহর? )
[ লেখাটা প্রয়োজনীয় মনে হলে অবশ্যই শেয়ার করে
সমাজের অন্যদেরও পড়তে, জানতে সুযোগ করে দেবেন।
ইমেইল আইডি দিয়ে আমাদের বাঙালির পরিবারের একজন
প্রিয় মানুষ হয়ে উঠুন।
চলুন বাঙালিকে বিশ্বের দরবারে বারবার তুলে ধরি—
চিন্তা, চেতনা আর শব্দের শক্তিতে— একসাথে, সবাই মিলে।
বিশ্ব জানুক—
আমাদের ভারত কি?
বাঙালি কি?
বাংলা শব্দের ক্ষমতাই বা কি? ]
Articlesবাংলা Bangla Articles, Quotes & Prose-Poetry / বাংলা প্রবন্ধ, উক্তি ও গদ্য-কবিতা।



