যে ঠিকানাটা আর জানা হলো না!
মায়ের অজানা ঠিকানা
জানিনা
মা,
তুমি কোন ঠিকানায় গেছো।
মৃত্যুরও কি কোনো পোস্টাল কোড থাকে?
কোনো গলি,
কোনো দরজা,
কোনো নামফলক–
যেখানে লেখা থাকে,
“এখানে একজন মা থাকেন?”
মৃত মায়েদের ডাকে ফেরা হয় না
জানলে যেতাম।
একবার হলেও।
হাত খালি নিয়ে–
কারণ মায়েরা তো কখনও উপহারে সন্তুষ্ট হয় না,
সন্তানের মুখটাই
তাদের সর্বশ্রেষ্ঠ উপহার।
কোনো প্রশ্ন না করে।
শুধু দাঁড়িয়ে থাকতাম দরজার সামনে।
ডাক দিতাম না।
কারণ জানি–
মৃত মায়েরা
ডাক শুনেও আর ফিরতে পারে না।

বন্ধ স্টেশন আর শেষ ট্রেন
তবুও থেমে থাকতাম।
যেমন আমরা দাঁড়িয়ে থাকি
বন্ধ হয়ে যাওয়া স্টেশনে,
শেষ ট্রেন চলে যাওয়ার পরেও–
এই ভেবে,
যদি কোনো অলৌকিক ভুলে
আরেকটা ট্রেন আসে।

মা,
তুমি কি জানো–
আমি আজও
তোমার ঠিকানাটা ভুলিনি?
আসলে,
জানতেই পারিনি।
অকাল মানে কি
মায়ের আগে ছেলের বুড়িয়ে যাওয়া
মা,
তুমি অকালে গেলে।
অকাল শব্দটার মানে
আমি তখন বুঝিনি।
এখন বুঝি–
অকাল মানে
মায়ের আগে ছেলের বুড়িয়ে যাওয়া।
(ও বাবা–
তোমার সেই ছোট্ট পুতুল,
যে আঙুল ধরে প্রথম হাঁটা শিখেছিল,
আজ তার পায়ের নিচে অন্য মাটির আমন্ত্রণ।
এ ঘর, এই উঠোন, এই ধুলোর গন্ধ–
এ মাটিতে আর সেভাবে ফেরা হবে না।
পড়ুন– Click: অন্য মাটির আমন্ত্রণ!)
যে শাসন আজ প্রাণ দিয়ে কিনতেও রাজি
অকাল মানে
আরেকটু সময় থাকলে
যে শাসনটা পেতাম,
যে বকুনিটা শুনতাম–
যেটা আজ
প্রাণ দিয়ে কিনতেও রাজি।
সময় থেমে গেল, সংসার চলল
অকাল মানে
চায়ের কাপ ঠান্ডা হয়ে যাওয়া,
কিন্তু সকালের অভ্যাস
এখনও শরীর ছাড়েনি।
কখনও এর মানে
ঘরের আলো জ্বলছে,
কিন্তু আর কেউ বলে না–
“লাইট নিভিয়ে দে।”

অকাল মানে
তুমি যাওয়ার পর
সময় থেমে গেল,
কিন্তু সংসার চলতে থাকল।
এই চলতে থাকাটাই
সবচেয়ে মর্মান্তিক।
বিধাতার নামে একটা প্রশ্ন
বিধাতা কি বয়স গোনে
আমি জানি না
এটা বিধাতা,
নিয়তি,
না কি কেবল
কোনো নিষ্ঠুর হিসেব।
নাম যাই দাও,
মা-হারা হওয়ার ব্যথা
একই থাকে।
একজন মা মানে একটা আশ্রয়
যদি বিধাতা থাকে,
এর কি কোনো ব্যাখ্যা আছে–
কেন মায়েরা
এত তাড়াতাড়ি চলে যায়?
সে কি জানে–
একজন মা চলে গেলে
একটা মানুষ নয়,
একটা আশ্রয়
ছিন্নভিন্ন হয়ে পড়ে?
জীবিত, তবু অনাথ
নাকি সে
শুধু বয়স গোনে,
ভালোবাসা নয়?
এ এক হৃদয়হীন পরিহাস–
একজন মাকে তুলে নেওয়া,
আর সন্তানকে
আজীবন বড় হতে বাধ্য করা।
জীবিত–
তবু অনাথ।
যদি তুমি নতুন জীবন পাও
অচেনা মা, অচেনা সন্তান
জানি না,
মা,
তুমি নতুন করে
কোনো জীবন পাবে কি না।
যদি পাও–
তুমি কি আবার কাউকে
খোকা বলে ডাকবে?
কারো জ্বর হলে
রাত জাগবে?
এক আকাশের নিচে ছিলাম আমরা
যদি পাও–
তুমি জানবে না
আমি তোমার ছেলে ছিলাম।
আমি জানব না
তুমিই আমার মা ছিলে।
অথচ একদিন
আমরা দুজনেই
একই আকাশের নিচে ছিলাম,
একই পৃথিবীতে।
কত অদ্ভুত–
একসাথে থাকা,
তারপর এমন বিচ্ছিন্নতা।
যেন
একই শরীরের
হৃদয় আর নিঃশ্বাসকে
দুটো আলাদা দিকে
ছুঁড়ে ফেলা হলো।
স্মৃতিরাই এখন সংসার চালায়
স্মৃতিরা অনুমতি নেয় না
তুমি চলে যাওয়ার পর,
মা,
স্মৃতিরাই সংসার চালায়।
ওরা হঠাৎ আসে,
অনুমতি নেয় না।
তিন বছর পর সকালের ডাক
আজ তিন বছর পর
হঠাৎ মনে হলো–
প্রতিদিন সকালের মতো
তুমি আমায় ডাকলে,
“কি রে খোকা,
ওঠ,
চা হয়ে গেছে।”
চোখ মেলে দেখি–
চারপাশ নিস্তব্ধ–
চায়ের কাপে
তোমার আঙুলের ছাপ নেই,
শুধু ধোঁয়া হয়ে উড়ে যাচ্ছে
একমুঠো শূন্যতা।
শেষ ট্রেনের অপেক্ষা
স্বাধীনতা কেন বন্দিশালা
মা,
এখন আমি ঘড়ি ধরে চা খাই,
ঘরি ধরে বাড়ি ফিরি,
কেউ দরজায় দাঁড়িয়ে
আর বলে না–
“এত দেরি করলি কেন?”
এখন আমি
বড্ড বেশি স্বাধীন।
আর এই স্বাধীনতাই
আমার সবচেয়ে বড় বন্দিশালা।
উৎবের ভিড়ে আঁচলের গন্ধ
প্রতিটা উৎসবের রাতে
আমি ভিড়ের মাঝে খুঁজি–
সেই পরিচিত আঁচলের গন্ধ,
যা আমাকে আগলে রাখত।
সেই অলৌকিক ভুলে
হয়তো কোনো এক জন্মান্তরে,
তুমি আবার ফিরবে–
অন্য কোনো নামে,
অন্য কোনো ঘরে।
আমি স্রষ্টাকে
আর কোনো অভিযোগ দেব না,
শুধু বলব–
মায়েদের যেন
অকাল না থাকে।

তুমি যেখানেই থাকো,
ভালো থেকো মা।
আমি না হয়
এই বন্ধ স্টেশনে
বসে রইলাম–
যদি সেই অলৌকিক ভুলে,
আরেকটা ট্রেন
তোমার খবর নিয়ে আসে।
(দশ বছর ধরে আমি কাউকে বলিনি,
যে তোমাকে ভুলিনি;
ভুলবোও না।
মানুষ ভুলতে চায় বলে ভোলে না–
আসলে একসময় ভুলে যায় ক্লান্ত হয়ে।
পড়ুন– Click: দশ বছর!)
(Articlesবাংলা – আমাদের, আপনাদের পরিবার।
ইমেল আইডি দিয়ে আমাদের সাথে যুক্ত হন।
ফলে যখনই এই ব্লগে কোনো নতুন লেখা পোস্ট করা হবে,
সবার আগে আপনিই পাবেন নোটিফিকেশন।
লেখাটা ভালো লাগলে,
শেয়ার করে বন্ধুদের পড়ার সুযোগ করে দিন।
মূল্যবান মন্তব্যে জানান কেমন লাগলো।)
Articlesবাংলা Bangla Articles, Quotes & Prose-Poetry / বাংলা প্রবন্ধ, উক্তি ও গদ্য-কবিতা।






