আত্মসম্মান, মনুষ্যত্ব–
এসব শব্দ আজ বড় অপ্রয়োজনীয়।
মানুষ একটু-আধটু গাল-মন্দ করবে,
করবে চেঁচামেচি,
তারপর ধীরে ধীরে ক্লান্ত হবে।
কারণ মানুষ (পড়ুন) প্রতিবাদে নয়,
অভ্যাসে বাঁচতে বেশি স্বচ্ছন্দ।
আর ভুলে যাওয়া–
এটাই তো মানুষের সবচেয়ে বিশ্বস্ত মনস্তাত্ত্বিক আশ্রয়।
টাকার পাহাড়ের মালিক আমি।
এই একটিমাত্র সত্য
সব অস্বস্তিকে ঢেকে দেয়।
দুদিন নির্লজ্জ হলাম–
কি এমন মহাপাপ?
ইতিহাস বলছে,
লজ্জা ক্ষণস্থায়ী,
কিন্তু সম্পদ দীর্ঘজীবী।

আমি জানি,
আজ যারা গাল দিচ্ছে,
কাল তারাই আমার দরজায় দাঁড়াবে–
কাজের জন্য, সুযোগের জন্য,
অথবা একটু আশ্রয়ের জন্য।
কারণ নীতির পেটে ভাত নেই,
আর আদর্শের গায়ে শীত লাগে।
(পড়ুন) খেটে খাওয়া মানুষ তিন জীবনেও
যে টাকার স্বপ্ন দেখে,
আমি সেটা পেয়েছি–
- কয়েকটা সই-এ।
- কিছু চুক্তিতে।
- কয়েকটা নীরব সমঝোতায়।
সহজে পাওয়া জিনিসের
সবচেয়ে বড় সুবিধে–
তার পেছনে ঘাম থাকে না,
থাকে শুধু হিসেব।
লোকের মনে রাগ জমে,
কিন্তু রাগ দীর্ঘস্থায়ী হয় না।
সময় সেটাকে পাতলা করে দেয়,
সংবাদ সেটাকে ঢেকে দেয়,
আর নতুন কেলেঙ্কারি
পুরনোটাকে কবর দেয়।
এই নিয়মটাই আমি শিখেছি,
এই নিয়মেই আমি ভরসা রাখি।
আমার আয়নায় অপরাধ নেই,
কারণ আয়না প্রশ্ন করে না।
প্রশ্ন করে বিবেক–
আর বিবেক আজ বড় সস্তা জিনিস,
সহজেই বিক্রি হয়।

শেষ পর্যন্ত,
এই দুনিয়ায় মানুষ চেনা হয় না
সে কি ছিল দেখে,
চেনা হয়
সে কতটা রেখে গেছে দেখে।
আর আমি আমি রেখে যাচ্ছি
টাকার পাহাড়–
ভুলে যাওয়ার নিশ্চয়তায় গড়া
একটা অটল রাজ্য।
আর সেই রাজ্যে
স্মৃতিও একদিন মুছে যাবে।
থাকবে শুধু নথি, হিসেব আর সিল।
মানুষ আসবে– যাবে,
নাম বদলাবে, মুখ বদলাবে।
আমি থাকবো অদৃশ্যভাবে–
প্রতিটি লেনদেনে,
প্রতিটি নীরবতায়।
কারণ ক্ষমতা মরে না,
শুধু উত্তরাধিকার বদলায়।
(তোমার দেশে আজ বীরের মেলা-
কিন্তু তোমার মতন বীর আজ আর জন্মায় না।
ফিল্মি নায়কে উন্মাদনা আজও ছোঁয় আকাশকে,
কিন্তু আসল নায়ক ধীরে ধীরে তলিয়ে যাচ্ছে প্রজন্ম থেকে।
সমাজসংস্কারকে আজ পূর্ণ জোয়ার-
কিন্তু তোমার মতন সমাজসংস্কারক হওয়ার সাধ্যি কারো নেই।
পড়ুন– Click: শ্রদ্ধেয় নেতাজী, তোমাকে খোলা চিঠি!)
Articlesবাংলা Bangla Articles, Quotes & Prose-Poetry / বাংলা প্রবন্ধ, উক্তি ও গদ্য-কবিতা।