এই একটা বাক্যেই লুকিয়ে আছে শতকোটি ভারতীয়র
জেদ আর বিজ্ঞানীদের নিঃশব্দ বিপ্লবের ইতিহাস– আমেরিকার না: ভারতের বিশ্বজয়…
যখন বিশ্বের মহাশক্তিরা ভারতের সম্ভাবনাকে তুচ্ছজ্ঞান করে সাহায্যের সব দরজা
বন্ধ করে দিয়েছিল, ভারত তখন সেই চরম অপমানকেই বানিয়েছিল
মহাশূন্যে পাড়ি দেওয়ার জ্বালানি।
এটা কেবল প্রযুক্তির লড়াই ছিল না; এটা ছিল দম্ভের বিরুদ্ধে বিনয়ী প্রজ্ঞার
এক মহাকাব্যিক বিজয়।
আমেরিকার সেই ঐতিহাসিক ‘অস্বীকার’ থেকেই জন্ম নিয়েছে আজকের
আত্মনির্ভর ও অপরাজেয় ভারত।
অহংকার পতনের মূল:
ভারতের প্রজ্ঞা ও
আত্মনির্ভরতার জয়গাথা
অহংকার পতনের মূল— এটা সর্বত্র প্রযোজ্য।
ইতিহাস বার বার প্রমাণ করেছে– অহংকার পতনের মূল।
কোনো শক্তি বা দেশ যত উন্নতই হোক না কেন,
যদি তারা অন্যের মেধা ও নিজেদের সীমাবদ্ধতাকে অস্বীকার করে, তবে তাদের পতন অনিবার্য।
আমেরিকার ইতিহাসে দেখা যায়, কখনও তারা নিজস্ব ক্ষমতার দম্ভে এতটাই
অন্ধ হয়ে গেছিল যে,
ভারতের অসামান্য মেধা ও সম্ভাবনাকে উপেক্ষা করেছিল।

কিন্তু পৃথিবীর সাক্ষী প্রমাণ দেয়— অহংকার যতই ঘনীভূত হোক,
প্রজ্ঞার আলো তার চেয়ে শক্তিশালী।
যখন শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলো কোনো কাজে “না” বলে, তখন ভারত সেই বাধাকেই নতুন দিগন্তের
সিঁড়ি বানিয়ে নেয়।
এটাই ভারতের ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য সত্য।
অহংকারের অন্ধকারই কখনও কখনও আলোকে আরও দীপ্তিময় করে তোলে।
আমেরিকার না: PARAM-এর জন্ম
৮০-এর দশকে ভারত আবহাওয়ার পূর্বাভাস এবং স্যাটেলাইট ডেটা প্রসেসিংয়ের
জন্য আমেরিকার কাছে চেয়েছিল (দেখুন) Cray X-MP Supercomputer.
কিন্তু আমেরিকার যুক্তি ছিল, ভারত যদি এটা পায়, তবে তা পারমাণবিক অস্ত্রের নকশায়
ব্যবহার করা হতে পারে।
ফলে আমেরিকা স্পষ্ট না ঘোষণা করলো।
এই প্রত্যাখ্যান ও অপমানকে শক্তিতে রূপান্তর করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী
ও আমাদের দেশীয় বিজ্ঞানী ডঃ বিজয় ভটকর এবং তার দল।
ডঃ বিজয় ভটকর এবং তার দল রাজীব গান্ধীকে এক প্রস্তাব দিয়ে বসেন–
“আমাদের কিছুটা সময় দিন আর কিছু অর্থ দিন, আমরা আমেরিকার চেয়েও উন্নত
সুপার কম্পিউটার বানিয়ে দেখাবো।”
প্রাথমিকভাবে অবিশ্বাস করলেও, শেষমেষ রাজীব গান্ধী ডঃ বিজয় ভটকর এবং
তার টিমকে অর্থ, সময় ও প্রজেক্ট অনুমোদন দিয়ে সাহায্য করেন।
সংকল্প: ১৯৮৭-৮৮ সালে যখন C-DAC প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন লক্ষ্য ছিল আমেরিকার চেয়েও
সাশ্রয়ী ও উন্নত প্রযুক্তি তৈরি করা।
সাফল্য: মাত্র কয়েক বছরের কঠোর পরিশ্রমে ১৯৯১ সালে ভারত উন্মোচন করে
তার প্রথম দেশীয় সুপার কম্পিউটার— (দেখুন) PARAM 8000.

ফলে, ভারতের গবেষণা, আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং
স্যাটেলাইট ডেটা প্রসেসিংয়ে আন্তর্জাতিক মান প্রতিষ্ঠা করে।
শিক্ষণীয়: অন্যের অহংকারই ভারতের উদ্ভাবনী শক্তিকে বিশ্বের দরবারে আন্তর্জাতিক
মানে পৌঁছে দিয়েছিল।
(ভারতের ইতিহাসের যুদ্ধ, সীমান্ত আর সাহসিকতার গল্প নতুন নয়।
কিন্তু কখনো কখনো সেই ইতিহাসের পাতায় এমন একটা নাম উঠে আসে,
যা আমাদের চেনা সংজ্ঞাগুলোকে নাড়িয়ে দেয়।
পাঞ্জাবের ফিরোজপুর জেলার এক দশ বছরের বালক—
শ্রাবণ সিং আজ সেই নাম।
ভাবুন– অপারেশন সিঁদুর: যখন বড়রা ভয়ে থমকে যায়,
তখন ১০ বছরের এক…
মৃত্যুকে উপেক্ষা করা মাত্র ১০ বছরের সেই বালকের
অবিশ্বাস্য কাহিনী পড়ুন– Click: অপারেশন সিঁদুর: যখন বড়রা ভয়ে থমকে যায়,
তখন ১০ বছরের এক সাহস ইতিহাসে নাম লেখায়!)
রকেট প্রযুক্তিতে বাধার প্রাচীর:
SLV-3 থেকে PSLV
১৯৬০ ও ৭০ এর দশকে বিক্রম সারাভাই এবং পরবর্তীতে ডঃ এপিজে আবদুল কালাম
রকেট প্রযুক্তির জন্য আমেরিকার কাছে সাহায্য চেয়েছিলেন,
বিশেষ করে Solid Fuel এবং Guidance system.
সেখানে আমেরিকা সেই সাহায্য অস্বীকার করে যুক্তি দেয়—
ভারত যদি এই প্রযুক্তি পায়, তা ICBM তৈরি করতে পারবে, যা পারমানবিক অস্ত্র বহন করতে সক্ষম।
আমেরিকার অহংকারের অন্ধকারে সাহায্য না পেয়ে ভারত হার মানেনি।
১৯৬৩ সালে ভারত প্রথম রকেট Nike-Apache পেলেও, আমেরিকা কিন্তু তার ইঞ্জিনের গোপন
কারিগরি বিদ্যা একেবারেই শেয়ার করেনি।
কালাম ও তার দল এরপর সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি করেন SLV-3,
যা পরবর্তীতে আজকের বিশ্বজয়ী PSLV ও GSLV-এর জন্ম দেয়।
আজ এই রকেটগুলো ভারতের মহাকাশ অভিযানকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যায়ে পৌঁছে দিয়েছে।

শিক্ষণীয়: অন্যের অহংকারই দেশের উদ্ভাবনী শক্তিকে চূড়ান্ত উচ্চতায় পৌঁছে দেয়।
MTCR: আন্তর্জাতিক অহংকারের পাহাড়
আমেরিকা যে শুধু নিজে সাহায্য করেনি, তা নয়।
বরং তারা নিশ্চিত করেছিল অন্য দেশও ভারতকে যাতে সাহায্য না করে।
এর জন্য MTCR (Missile Technology Control Regime) কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হয়।
কিন্তু ভারত এই বাধা অতিক্রম করে নিজস্ব উদ্ভাবনী শক্তি দিয়ে রকেট
এবং স্যাটেলাইট প্রযুক্তি গড়ে তোলে।
আজ ISRO সারা বিশ্বের কাছে এক বিষ্ময়।
শিক্ষণীয়: আন্তর্জাতিক অহংকারও কখনও ভারতের উদ্ভাবনী মনকে থামাতে পারে না।
যখন অশিক্ষার অন্ধকারে
ডুবে ছিল পশ্চিমা বিশ্ব,
তখন জ্বলে উঠেছিল নালন্দা
হাজার বছর আগে, যখন সমগ্র পাশ্চাত্য জগৎ ও ইউরোপ অশিক্ষার অন্ধকারে ডুবেছিল,
তখন (দেখুন) নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় এবং অন্যান্য প্রাচীন বিদ্যা কেন্দ্রের মাধ্যমে
ভারত জ্ঞান ও শিক্ষার দীপ্তি ছড়াচ্ছিল প্রায় সমগ্র বিশ্বে।
আধুনিক আমেরিকার জন্মের বহু শতাব্দী আগে থেকেই ভারত ছিল “বিশ্বের শিক্ষাগুরু।”
ভারতের এই প্রাচীন মেধা দর্শন ও বিজ্ঞান আজও আমাদের DNA-তে মিশে আছে
এবং বিশ্বের প্রতিটা প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে চলেছে।
শিক্ষণীয়: অন্যের অজ্ঞতা আমাদের জন্য বিরক্তির নয়, বরং প্রেরণার উৎস;
আমাদের সুপ্রাচীন ইতিহাসেই প্রতিফলিত হয়েছে জ্ঞান, প্রযুক্তি ও দার্শনিকতার চূড়ান্ত রূপ।
ভারতীয় দর্শন: অহংকারকে দমনে
শিক্ষণীয় শক্তি
১. স্বামী বিবেকানন্দ:
আধুনিক আধ্যাত্মিক নবজাগরণ
স্বামী বিবেকানন্দের শিক্ষা শুধু আধ্যাত্মিক নয়, এটা আধুনিক বিশ্বের মানসিক
ও নৈতিক নবজাগরণের পথ দেখিয়েছে।
এলেনর স্টার্কের—“The Gift Unopened”-এ দেখা যায়, পশ্চিমারা তার জীবনের
সমস্যা সমাধানের জন্য ভারতীয় আধ্যাত্মিক প্রজ্ঞার দিকে ফিরে এসেছে।
বিজ্ঞানী ওপেন হাইমারও কোন পশ্চিমা দর্শনের আশ্রয় নেননি;
জাপানের পারমানবিক বিস্ফোরণের মুহূর্তে মনে করেছিলেন—
“কালো’স্মি লোকক্ষয়কৃৎ প্রবৃদ্ধঃ।”
{“আমি কাল (সময়), আমি জগতের ধ্বংসকারী শক্তি।”}
শিক্ষণীয়: ধ্বংসের মুখে দাঁড়িয়ে সৃষ্টির দর্শন বোঝার জন্য ভারতীয় প্রজ্ঞা অপরিহার্য।
২. মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র
ও গান্ধীর ‘অহিংসা’
আমেরিকার না: ভারতের বিশ্বজয়– এই সত্যটা আজ ঐতিহাসিকভাবে প্রমাণিত যে,
আমেরিকার নাগরিক অধিকার আন্দোলনের ভিত্তি ছিল ভারতীয় দর্শন।
মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র স্পষ্টভাবে বলেছেন,
“যীশু খ্রীষ্ট আমাদের লক্ষ্য দিয়েছেন, আর মহাত্মা গান্ধী দিয়েছেন তার পদ্ধতি।”
শিক্ষণীয়: ভারতের ‘অহিংসা’ দর্শন ছাড়া আমেরিকার গণতান্ত্রিক মুক্তি অসম্ভব হত।
৩. Transcendentalism:
এমারসন ও থরো
১৯ শতকের Transcendentalism আন্দোলন আমেরিকার সাহিত্য ও চিন্তাধারার মোড় ঘুরিয়েছে।
এমারসন ও থরো নিয়মিত উপনিষদ এবং ভগবত গীতা পাঠ করতেন।
শিক্ষণীয়: ‘আমেরিকান ড্রিম’ বা আত্মিক স্বাধীনতার ধারণা ভারতীয় বেদান্তের
আধুনিক প্রতিচ্ছবি।
৪. শূন্য (Zero) এবং
আধুনিক কম্পিউটার বিজ্ঞান
আমেরিকার ডিজিটাল সাম্রাজ্য বাইনারি সিস্টেম (০ এবং ১) এর উপরে দাঁড়িয়ে আছে।
শিক্ষণীয়: ভারত যদি শূন্য এবং দশমিক পদ্ধতি বিশ্বকে না দিত,
সুপার কম্পিউটার বা রকেট প্রযুক্তি আজ অস্তিত্বশীল হত না।
৫. যোগ এবং Holistic Wellness
আমেরিকা আজ মানসিক ও শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছে।
সেই সময়ে ভারতের যোগ ও আয়ুর্বেদ পৌঁছে দিয়েছে সমাধান।
শিক্ষণীয়: এটা কেবল ব্যায়াম নয়,
এটা শরীর মন ও আত্মার সমন্বয় ঘটিয়ে পূর্ণাঙ্গ মানুষ তৈরি করার বিজ্ঞান।
ভারতের জয়: অহংকারের
অন্ধকার থেকে আলো
আমেরিকার অহংকার এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ভারতের জন্য আদতে ধ্বংসের নয়,
বরং শাপে বর হয়ে আসে।
বিশ্ব যখন ভারতের জন্য দরজা বন্ধ করতে চেয়েছিল, ভারত তখন নিজের ভিতরেই
এক নতুন মহাবিশ্ব আবিষ্কার করেছিল।
এর ফলেই আমরা পেয়েছি:

- স্বনির্ভরতা: অন্যের মুখাপেক্ষী না থেকে জন্ম দিয়েছি– SLV, PSLV এবং আজকের
দানবীয় GSLV-এর মত রকেট। - সাশ্রয়ী বিপ্লব: যেখানে পশ্চিমারা বিলিয়ন ডলার খরচ করে ব্যর্থ হয়েছে,
সেখানে ভারত অটো রিকশার ভাড়ার চেয়েও কম খরচে পৌঁছে গেছে মঙ্গলে।
চন্দ্রযান-৩ আজ চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে ভারতের তিলক এঁকে দিয়েছে। - মেধার মহাবিস্ফোরণ: PARAM সুপার কম্পিউটার প্রমাণ করেছে, ভারতীয় মস্তিষ্ক কোনো
সিলিকন ভ্যালির দয়ার দান নয়, বরং স্বকীয় প্রতিভার এক জ্বলন্ত স্বাক্ষর।
আমেরিকার না: ভারতের বিশ্বজয়,
শেষ কথা
অন্যের অহংকারই আজ ভারতের জন্য শ্রেষ্ঠ জ্বালানী।
ইতিহাস সাক্ষী– যখনই ভারতকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করা হয়েছে, ভারত তখনই আপন মেধা,
প্রজ্ঞা ও প্রাচীন দর্শনের শক্তিতে ফিনিক্স পাখির মত ছাই থেকে জেগে উঠেছে।
আমাদের এই যাত্রা কেবল প্রযুক্তির নয়, এটা দম্ভের বিরুদ্ধে বিনয়ী প্রজ্ঞার চিরন্তন বিজয়।
ভারত আজ আর সাহায্যপ্রার্থী নয়, ভারত আজ বিশ্বকে পথ দেখানো সেই “বিশ্বগুরু।”
(পৃথিবীর সামনে আজ খুব স্পষ্ট একটা রাস্তা–
- একদিকে আছে
রাজনীতি, মুনাফা, ক্ষমতার দখল। - অন্যদিকে আছে
সহযোগিতা, বিজ্ঞান, যৌথ ভবিষ্যৎ।
এখন MOF কি? এর ভবিষ্যৎ প্রয়োগ ঠিক কিভাবে হবে?
MOF কোন পথে যাবে, তা ঠিক করবে মানুষই।
তবে কি মানুষ তার নিজের গ্রহে টিকে থাকতে পারবে?
পড়ুন– Click: MOF কি? যে আবিষ্কার বদলে দেবে পৃথিবীর ভাগ্য,
যদি রাজনীতি না হয়!)
(Articlesবাংলা – আমাদের, আপনাদের পরিবার।
ইমেল আইডি দিয়ে আমাদের সাথে যুক্ত হন।
ফলে যখনই এই ব্লগে কোনো নতুন লেখা পোস্ট করা হবে,
সবার আগে আপনিই পাবেন নোটিফিকেশন।
লেখাটা ভালো লাগলে,
শেয়ার করে বন্ধুদের পড়ার সুযোগ করে দিন।
মূল্যবান মন্তব্যে জানান কেমন লাগলো।)
Articlesবাংলা Bangla Articles, Quotes & Prose-Poetry / বাংলা প্রবন্ধ, উক্তি ও গদ্য-কবিতা।





