একটা রক্তাক্ত বিষুবরেখা:
কখনও কি এমন কাউকে ভালবেসেছেন,
যার জন্য নিজের ভেতরের আকাশটাও খুলে দিতে ইচ্ছে করেছে?
যার একটুখানি ইচ্ছের জন্য আপনি নিজেকে বদলে ফেলতে চেয়েছেন কখনও আকাশ হয়ে,
কখনও বৃষ্টি হয়ে আবার কখনও বা একটা পুরো পৃথিবী হয়ে?
এই লেখাটা ঠিক সেই গল্প।
এখানে একজন প্রকৃত প্রেমিক সমস্ত ভালোবাসা ঢেলে দিয়েছে তাঁর প্রেমিকার জন্য।
আকাশ পেতে দিয়েছে বুকের মাঝখানে, বৃষ্টি হয়ে নেমেছে প্রেমিকার শরীরের প্রতিটা কোষে।
নিজের নীল পৃথিবীটাও রেখে দিয়েছে তাঁর চোখের ভেতরে।
কিন্তু সব ভালবাসার গল্প কি পূর্ণ হয়?
সব আকাশে কি সাদা মেঘ জমে?
কখনও কখনও যার জন্য সবকিছু উজাড় করে দেওয়া হয়,
সেই মানুষটাই বুঝতে পারে না সেই ভালোবাসার গভীরতা!
সে চলে যায়…আর রেখে যায় বুকের ঠিক মাঝখানে একটা অদৃশ্য ক্ষত—
একটা রক্তাক্ত বিষুবরেখা, যা জীবনকে দুভাগে ভাগ করে দেয়: তার আগে ও তার পরে।
এই লেখাটা শুধু বিচ্ছেদের গল্প নয়; এটা সেই ভালোবাসার গল্প যা হারিয়েও মরে না।
হয়তো আপনি এই লেখার ভেতরেই
কোথাও নিজেরই একটা গল্প খুঁজে পাবেন।
আকাশের খোঁজে
তুই আকাশ চেয়েছিলি–
আমি তখন মানুষ ছিলাম না,
আকাশ হয়ে উঠতে চেয়েছিলাম।
বৃষ্টি , ঝড়-বিদ্যুৎ মাথায় নিয়ে,
বুকের ঠিক মাঝখানে একটা আকাশ পেতে
দাঁড়িয়ে ছিলাম ঘন্টার পর ঘন্টা।
তুই উড়ছিলি–
স্বাধীন পাখির মত,
হালকা ডানায় নীলের ভেতর।
ইচ্ছেমতন উড়লি,
এরপর বললি–
“এ আকাশে সাদা মেঘ নেই,
আমার ভাল্লাগেনা।”
সেদিন বুঝলাম–
আকাশেরও অপমান হয়।
বৃষ্টিতে ভেজার ইচ্ছে
একদিন গ্রীষ্মের কাঠ ফাটা রোদে
হঠাৎ বলে উঠলি–
“আমি বৃষ্টিতে ভিজতে চাই।”
আমি বৃষ্টি হয়ে,
যত্নে ঝরে পড়লাম তোর দেহের প্রতিটা কোষে।
তুই বলে উঠলি–
“এ জলও পারেনি আমায় শীতল করতে।”
সেদিন বুঝলাম–
কিছু মানুষ মরুভূমি নিয়ে জন্মায়।

নীল পৃথিবীর ভ্রান্তি
আমার নীল পৃথিবীটাকে
রেখেছিলাম তোর চোখেই–
যেন সেখানে জন্ম নেয় নতুন কোনো দিগন্ত।
তুই চোখের বালি ভেবে নিলি।
ভেবেছিলাম তৃষ্ণা এঁকে দেব তোর দু’চোখেই–
তুই চোখ বন্ধ করে দিলি।
অলিন্দের খালি পালঙ্ক
আমার অলিন্দে যে পালঙ্কটা পেতেছিলাম–
তা শুধু তোর জন্যে,
তুই মাথা রাখিসনি।
রেখে গেলি গভীর অন্ধকার
আর অসমাপ্ত নিস্তব্ধতা।
( বাইরে হাওয়া দোলাচ্ছে তালপাতার ফাঁকে,
যেন সময়ও কেঁপে উঠবে।
হঠাৎ দুজনেই পাথর,
যেন পৃথিবীর শেষ দু’জন মানুষ।
আর সময় নেই হাতে, কিন্তু পরজন্মে?
পড়ুন নিখাদ ভালোবাসার সেই মর্মস্পর্শী কাহিনী।
Click: মৃত্যুও যেখানে লজ্জিত! )
আজও স্মৃতিতে হাঁটা
তবু জানিস?
স্মৃতিরা বড় একগুঁয়ে হয়,
হয় আত্মসম্মানহীন।
আজও তপ্ত রোদে,
সেই হলুদ, ঝাঁঝালো রাস্তায়,
তুই হাঁটিস আমার আঙুল ধরে।
আমি আজও ডুবে থাকি
তোর কাজল কালো চোখে।
যেন কেউ খুন করেইনি
আমার বিশ্বাসকে।

সময় ছোট হয়ে যাওয়া
তুই থাকলে পৃথিবীটা
পুরোটাই মুখস্থ লাগত।
তুই শীতে, বসন্তে,
তুই শরতে আর গ্রীষ্মে।
সময় ছোট হয়ে যেত,
২৪ ঘন্টাটা গলে যেত
কয়েকটা সেকেন্ডে।
তুই ছিলিস বলে–
আমার জীবনের আঁকাবাঁকাগুলো
ছিল বেমালুম অনুগত,
চলত সরলরেখায়।
হৃদপিণ্ড পোড়া ঘ্রাণ
আজ তোর ঘ্রাণ আছে,
কিন্তু স্পর্শ নেই।
স্মৃতিগুলো আজও অক্সিজেন পায়,
আর পোড়ায় শুধু আমাকেই।
যেন আগুনও কথা বলে
তোর হয়ে।
তুই আমায় পোড়ালি,
অথচ নিতে চাসনি
আমার হৃদপিণ্ড পোড়া ঘ্রাণকে।
একজন অপরিচিত হয়ে
সে গন্ধকে চিনতে চায়নি তোর নাক।
রক্তাক্ত বিষুবরেখা
ভালোবাসলে কি সত্যিই যাওয়া যায়?
কিন্তু তুই চলে গেলি,
আর তো ফিরলিও না।
বুকের ঠিক মাঝ বরাবর
আঁচড়ে রেখে গেলি,
একটা রক্তাক্ত বিষুবরেখা!
আমার (দেখুন) হৃদপিণ্ডটা
অন্তত ফিরিয়ে দিয়ে যা,
ওটা যে এখনও
তোর কাছেই পড়ে আছে।

আমার না বলা কথাগুলো,
আজও ছুঁতে চায় তোকে।
আসবি ফিরে এ শূন্য বুকে?
( পাশের বাড়ির টুসি
এ বছর ভাইফোঁটায় কি সাজিয়েছে জানেন?
১১ রকমের মিষ্টির ডালা।
সাথে বাগদা, ইলিশ আর কচি পাঁঠা।
তাঁর কোন ভাইয়ের জন্য?
কেন এত আয়োজন, যা দেখে–
যেন বাকি দোকানগুলো আত্মগোপন করেছে লজ্জায়!
পড়ে দেখুন কি কাণ্ড– Click: সেন বাড়ির ছেলেটা আজ “মানুষ” হয়েছে! )
Articlesবাংলা Bangla Articles, Quotes & Prose-Poetry / বাংলা প্রবন্ধ, উক্তি ও গদ্য-কবিতা।