ভারতের বিলিয়নাররা ব্যবসায় ধনী,
আমেরিকা সৃষ্টিতে–
পার্থক্যের আসল গল্প!
ভারতের বিলিয়নিয়ারদের উত্থান সাধারণত ব্যবসা-নির্ভর।
লোন– সরকার সমর্থিত নীতি– জমি বরাদ্দ– বিদেশি প্রযুক্তি আনা–
বড় আকারে বাজার দখল করা– ধনকুবের হওয়া।
এসবকে ভিত্তি করে তারা আজ বিলিয়নিয়ার হয়েছে।
তাদের সাফল্যের মূলে আছে বাজার বিস্তার, রাজনৈতিক সংযোগ,
এবং রাষ্ট্রীয় সুবিধার সদ্ব্যবহার।
বিপরীতে, আমেরিকার ধনীদের জন্ম হয়েছে সৃষ্টির শক্তিতে (Invention/Innovation)–
যেখানে উদ্যোক্তার মূল সম্পদ তার মেধা, গবেষণা, নতুন প্রযুক্তি,
কিংবা বিশ্বকে বদলে দেওয়ার মতো কোনো আবিষ্কার।
ব্যবসা বনাম সৃষ্টিঃ
ভারত-আমেরিকার বিলিয়নিয়ার হওয়ার পথ
ভারতীয় বিলিয়নিয়ারদের ১০ টা উল্লেখযোগ্য উদাহরণ–
- পালোনজি মিস্ত্রি পরিবার– Shapoorji Pallonji Group
ইনফাস্ট্রাকচার, রিয়েল এস্টেট, বিশাল সরকারি প্রকল্প–
পুরোটাই নীতি + স্কেল + ব্যবসা নির্ভর মডেল। - দিলীপ সাংভী– Sun Pharma
ওষুধ আবিষ্কারের কারণে নয়–
বিপুল উৎপাদন, অ্যাকুইজিশন, এবং বাজার নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ধনী হয়েছেন। - সাইরাস পুনাওয়ালা– Seraum Institute of India
বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভাকসিন উৎপাদক–
উদ্ভাবন নয়; বৃহৎ উৎপাদন ক্ষমতা + গ্লোবাল ডিমান্ড। - উদয় কোটাক– (Click:) Kotak Mahindra Bank
ব্যাংকিং লাইসেন্স, নীতি সুবিধা, স্কেলড ব্যাংকিং গ্রোথ–
ব্যবসা মডেলে ধনী হয়েছেন। - বাজাজ পরিবার– (Click:) Bajaj Group
ম্যানুফ্যাকচারিং + ভারতীয় বাজার দখল–
সৃষ্টি নয়, শক্তিশালী ব্যবসা বিস্তার। - মুরুগাপ্পা গ্রুপ– Murugappa Group
সার, কেমিক্যাল, কৃষিযন্ত্র, শিল্প উৎপাদন–
লাইসেন্স + বাজার দখল মডেল। - আনন্দ মহিন্দ্রা– (Click:) Mahindra Group
গাড়ি, ট্রাক, কৃষিযন্ত্র–
উদ্ভাবন কম, ব্যবসা সম্প্রসারণ বেশি। - জিন্দাল/ JSW/ স্টিল-মেটাল টাইকুনরা
লোহা-ইস্পাত-খনিজ–
নীতি-নির্ভর, সম্পদ-ভিত্তিক সেক্টর; ব্যবসা-নির্ভর ধনী হওয়া। - অনিল আগরওয়াল– Vedanta
খনিজ, ধাতু, প্রাকৃতিক সম্পদ–
নীতি + সম্পদ + গ্লোবাল বাজার নিয়ন্ত্রণ মডেল। - রিয়েল এস্টেট টাইকুনরা– DLF, Lodha, Prestige ইত্যাদি
জমি বরাদ্দ , অনুমোদন, নীতি সুবিধা–
ইনোভেশন নয়, সম্পদ-ভিত্তিক লাভ।

(ব্রিটিশ শাসনের দুই শতাব্দীতে
ভারত থেকে লুণ্ঠিত সম্পদের বর্তমান মূল্য–
আনুমানিক প্রায় ৪৫ ট্রিলিয়ন ডলার হতে পারে।
পড়ুন আরও গভীর গল্প:
Click: ইংরেজ ভারতে না আসলে,
আজ বিশ্বের সুপার পাওয়ার হতো ভারত!)
আমেরিকার বিলিয়নিয়ারদের কিছু নাম ও সৃষ্টি–
- স্টিভ জবস– আইফোন।
- জেফ বেজোস– ই-কমার্স বিপ্লব।
- (Click:) মার্ক জাকারবার্গ– ফেসবুক।
- ইলন মাস্ক– টেসলা, স্পেস এক্স, এক্স (ট্যুইটার), এক্স এ আই,
বৈদ্যুতিক গাড়ি ইত্যাদি। - (Click:) বিল গেটস– মাইক্রোসফট (Windows, Office).
- ল্যারি পেজ ও সের্গেই ব্রিন– গুগুল।
- স্যাম অল্টম্যান– ওপেন এ আই (ChatGPT, GPT মডেল)।
- এছাড়াও রয়েছে আরও ২৫-৩০ জন।
এসব সৃষ্টি যখন পৃথিবী বদলায়,
তখন সেই পরিবর্তনের ঢেউ ভারতের বিশাল বাজারে পৌঁছে যায়।
আর স্বাভাবিকভাবেই তারা আরও ধনী হয়ে ওঠেন, পরিণত হন শক্তি থেকে মহা-শক্তিতে।
দুই দেশের পার্থক্য আসলে তাদের অর্থনৈতিক কাঠামো, নীতি নির্ধারণ এবং
উদ্ভাবন-সংস্কৃতির মৌলিক ব্যবধানকে স্পষ্ট করে তোলে।
এই দুই মডেলের পার্থক্যই দেখায়, কেন ভারতীয় বিলিয়নিয়ার মূলত ব্যবসা-নির্ভর,
আর আমেরিকান বিলিয়নিয়ার সৃষ্টি-নির্ভর।
ভারতের ধনী হওয়ার প্রধান পথ–
উদ্ভাবনের নয়, ব্যবসার সাম্রাজ্য
ভারতের শীর্ষ ধনী ব্যক্তিদের তালিকা দেখলেই বোঝা যায়–
তাদের সম্পদের জোর নতুন প্রযুক্তি বা আবিষ্কার আদৌ নয়, বরং–
- পারিবারিক ব্যবসার সম্প্রসারণ।
- ব্যাংক থেকে বৃহৎ লোন।
- সরকারের শিল্প-নীতি বা লাইসেন্স সুবিধা।
- রাজ্য সরকার থেকে সস্তায় জমি পাওয়া।
- বিদেশি প্রযুক্তি এনে দেশীয় বাজারে প্রয়োগ।
- অবকাঠামো ও এনার্জি সেক্টরে বাজার দখল।
- রিয়েল এস্টেট ও কনগ্লোমারেট বিনিয়োগ।
- রাজনৈতিক সংযোগ ও পলিসি-সাপোর্ট।
এখানে ব্যবসার মডেল “উদ্ভাবন” নয়; বরং পুঁজি, সম্পদ, বাজার দখল ও নেটওয়ার্ক।
কেন ভারতে উদ্ভাবন-ভিত্তিক
বিলিয়নিয়ার তৈরি কম?
এর পিছনে বেশ কিছু মুল কারণ আছে–
১. গবেষণা-বিনিয়োগ কম
ভারতীয় কর্পোরেট পরিবেশ এখনও “চাই ইনস্ট্যান্ট রিটার্ন”–
গবেষণা বা R&D (Research and Development)- তে বড় অঙ্কের টাকা লাগানো,
এবং তার ফল কয়েক বছর পর পাওয়া– এ সংস্কৃতি শক্ত নয়।
২. বিশ্ব বাজারে বিজয়ের অভাব
যে প্রযুক্তি বা সফটওয়্যার তৈরি করলে তা বিশ্বের মানুষের প্রয়োজনে ছড়িয়ে পড়তে পারে–
এমন উদ্যোগ কম, বা তেমন নেই।
৩. নীতি ও পথের জট
স্টার্টআপ ও নতুন উদ্ভাবনের জন্য যে দ্রুত অনুমতি, সুরক্ষা ও বড় পুঁজি দরকার–
তা সবসময় সহজলভ্য নয়।

৪. ব্যবসার নিরাপদ মডেল
ভারতের বড় শিল্পপতিরা অধিকাংশই এমন খাতে বিনিয়োগ করেন,
যেখানে ঝুঁকি কম, যেমনঃ
টেলিকম, ক্ষমতা বা প্রভাব, রিয়েল এস্টেট, রিটেইল, অবকাঠামো।
এগুলোতে নতুন প্রযুক্তির প্রয়োজন নেই।
ফলে, দেশে উদ্ভাবন নয়, ব্যবসায় বৃদ্ধির বিলিয়নিয়ার বানিয়েছে।
আমেরিকার বিলিয়নিয়ার–
সৃষ্টির ওপর দাঁড়িয়ে গড়া সাম্রাজ্য, তাও দ্রুত
আমেরিকার বহু শীর্ষ ধনী ব্যক্তি উঠে এসেছেন নতুন উদ্ভাবন,
বিপ্লবী প্রযুক্তি বা দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে।
তাদের সম্পদ এসেছে–
- সফটওয়্যার সৃষ্টি।
- হার্ডওয়্যার ডিজাইন।
- ইন্টারনেট বিপ্লব।
- সোশ্যাল মিডিয়া নির্মাণ।
- ইলেকট্রিক গাড়ি ও রকেট প্রযুক্তি।
- নতুন ব্যবসায়িক মডেল উদ্ভাবন ইত্যাদি।
এনারা প্রথমে নতুন কিছু বানিয়েছেন, তারপর তা গ্রহন করতে বাধ্য হয়েছে পৃথিবী।
অবশেষে সম্পদের পাহাড় সৃষ্টি হয়েছে বিশ্বব্যাপী ব্যবহারকারীর সংখ্যা থেকে।
যেখানে আমেরিকা শোনে অর্থনীতিবিদের,
ভারতের সিদ্ধান্তে আমলাতন্ত্রের প্রভাব বেশি
দেশে কি অর্থনীতিবিদদের কোনো ভূমিকা নেই?
কেন নেই?
নোবেলপ্রাপ্ত অর্থনীতিবিদরা নীতি নির্ধারণের ভূমিকায় কম-বেশি থাকলে দেশ কি পিছিয়ে যাবে?
তা যদি নাই হয় তবে–
- অর্থমন্ত্রালয়।
- নীতি আয়োগ।
- RBI.
- প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা।
- বিভিন্ন কমিটি ও আমলাতন্ত্র।
এনারাই কি নয়, বিষয়টাকে আরও গভীরভাবে বিবেচনা করার দায়িত্বপ্রাপ্ত?
যুক্তরাষ্ট্রে নীতি-নির্ধারণে,
বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ অর্থনীতিবিদদের সরাসরি সম্পৃক্ততা একটা সাধারণ বিষয়।
তারা গবেষণা, বিশ্লেষণ ও উপদেষ্টার ভূমিকার মাধ্যমে হোয়াইট হাউস,
ফেডারেল রিজার্ভ ও ট্রেজারির নীতি-প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করেন।
ভারতের উদ্ভাবন, আমেরিকার বর্তমান আয়
আজ ভারতের মতো বিশাল জনসংখ্যার দেশে–
- স্মার্টফোন।
- কম্পিউটার।
- ইন্টারনেট।
- সোশ্যাল মিডিয়া।
- ক্লাউড সার্ভিস।
- ডিজিটাল বিজ্ঞাপন।
- ই ভি গাড়ি।
- সফটওয়্যার সাবস্ক্রিপশন।
- অ্যাাপ স্টোর ব্যবহার।
- ডিজিটাল পেমেন্ট।
- ওয়েব প্ল্যাটফর্ম।
এসবের পেছনে আমেরিকার উদ্ভাবনজনিত প্রযুক্তি কাজ করছে।
ফলে ভারতে ব্যবহারকারীর সংখ্যা যত বাড়ছে,
আমেরিকান উদ্ভাবকদের আয় তত দ্রুত বাড়ছে।
অথচ এই ভারতই একসময় জন্ম দিয়েছে যে সমস্ত নক্ষত্রসম উদ্ভাবক–
- আর্যভট্ট– শূন্যের ধারণা, পাই, পৃথিবীর ঘূর্ণন (জ্যোতির্বিজ্ঞান)।
- ব্রম্ভগুপ্ত– গণিত, শূন্যের বীজগাণিতিক ব্যবহার।
- চাণক্য (কৌটিল্য)– রাষ্ট্রনীতি, অর্থনীতি, কূটনীতি।
- সুশ্রুত– সার্জারির জনক (শল্যচিকিৎসা)।
- চরক– চিকিৎসা ও আয়ুর্বেদ।
- বরাহমিহির– জ্যোতির্বিদ্যা ও আবহাওয়া বিজ্ঞান।
- পিঙ্গল– প্রথম বাইনারি সিস্টেম (ছন্দ শাস্ত্র)।
- নাগার্জুন– রসায়ন ও ধাতুবিদ্যা।
- বৌধায়ন– জ্যামিতি (পিথাগোরাসের আগে সূত্র)।
- পতঞ্জলি– যোগশাস্ত্রের কাঠামোবদ্ধ উদ্ভাবন (যোগসূত্র)।
- বিষ্ণু শর্মা– পঞ্চতন্ত্র (নৈতিক কৌশল ও রাষ্ট্রচিন্তা)।
- পতঞ্জলি– ব্যাকরণ-উদ্ভাবক।
- পাণিনি– ভাষাতাত্ত্বিক উদ্ভাবক।
- ভাস্করাচার্য– গণিত ও জ্যোতির্বিজ্ঞান; সূচক, গাণিতিক সূত্রাবলী।
এরপর মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের ভারতীয় উদ্ভাবক তো আছেই।
কেন দুই দেশের ধনী হওয়ার পথ এত ভিন্ন?
- ১. আমেরিকার সংস্কৃতি– “নতুন কিছু বানাও।”
তাদের অর্থনীতি, শিক্ষাব্যবস্থা, সমাজ, পুঁজি– সবই Invention-Friendly. - ২. ভারতের বাস্তবতা– “যা আছে, তা আরও বড় করো।”
ঝুঁকি কমাতে ভারতীয় ব্যবসায়ী বেশি পছন্দ করেন।
রিয়েল এস্টেট, শিল্প, বাজার নিয়ন্ত্রণ, রিটেইল, অবকাঠামো।
পাশাপাশি আমেরিকার উদ্ভাবকরা ঝুঁকি নেন নিজের জন্য, দেশের অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য।
তাদের আত্মবিশ্বাস লেভেলটাও বেশি। - ৩. উদ্ভাবনে দীর্ঘমায়াদি পুঁজি লাগে
ভারতে দীর্ঘমেয়াদি R&D পুঁজি পাওয়া কঠিন। - ৪. রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জট
নতুন কিছু তৈরি করলে অনুমতির দেয়াল, নিয়মকানুন ও ধীর গতি বহু বাধা সৃষ্টি করে।
ভবিষ্যৎঃ
ভারত কি উদ্ভাবন-ভিত্তিক
বিলিয়নিয়ার তৈরি করতে পারবে?
অবশ্যই পারবে, যদি মাত্র তিনটে জিনিস বদলানো যায়ঃ
- ১. R&D- তে বড় বিনিয়োগ।
- ২. স্টার্টআপ ও প্রযুক্তি-উদ্ভাবনকে দ্রুত নীতি সহায়তা।
- ৩. উদ্ভাবকদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ভিশন ও বিশ্ববাজার দখল।
ভারতের তরুণ উদ্যোক্তা, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, বিজ্ঞানী, স্টার্টআপ ফাউন্ডার– এদের ওপর ভবিষ্যতের সম্ভাবনা নির্ভর করছে।
(মৃত্যুকে যারা পায়ের নিচে পিষে দেয়…
এই ১০ বাহিনী শুধু ভারতের শক্তি নয়–
ভারতকে অপ্রবেশ্য করে তোলার
এক ভয়ঙ্কর ও দুর্ভেদ্য প্রতিরক্ষা বর্ম।
পড়ুন– Click: ভারতের Top 10 কমান্ডো বাহিনী এবং কেন?)
(Articlesবাংলা – আমাদের, আপনাদের পরিবার।
ইমেল আইডি দিয়ে আমাদের সাথে যুক্ত হন।
লেখাটা ভালো লাগলে,
শেয়ার করে বন্ধুদের পড়ার সুযোগ করে দিন।
মন্তব্যে জানান কেমন লাগলো।)
Articlesবাংলা Bangla Articles, Quotes & Prose-Poetry / বাংলা প্রবন্ধ, উক্তি ও গদ্য-কবিতা।






