Prose Poetry

ভালোবাসা বেঁচে থাক ছদ্মবেশেই!

বিষণ্ণ এক পুরুষ বিছানায় বসে আছেন, পিছনে তাঁর প্রেমিকার আত্মার মতো স্বচ্ছ, আলোকিত প্রতিচ্ছবি ধোঁয়ার মধ্যে দিয়ে উপরে উঠছে। এটা স্মৃতি ও অনুপস্থিতিকে তুলে ধরে।

শুনেছি চেষ্টা যদি চেষ্টার মতো হয়, সফল হওয়া যায়। আজ পাঁচ বছর ধরে চেষ্টা করছি, ভুলেছি কই? হেরে গিয়ে তাই আজ অভ্যেস করেছি, তোমাকে না ভাবার। যেমন নদী একসময় শিখে যায়, পাথরের দেহ ঘেঁষে বয়ে যেতে, এটা জেনেও যে– পাথর নড়বে না কোনও দিন। তুমি ছিলে আমার সব যুক্তির বাইরে, …

Read More »

সেন বাড়ির ছেলেটা আজ “মানুষ” হয়েছে !

সবুজ, দামী শাড়ি ও অলঙ্কার পরে, রাজকীয় ভাইফোঁটার আয়োজন। টেবিলে সাজানো ১১ রকমের মিষ্টি, কচি পাঁঠা , বাগদা ইত্যাদি। বোন বড়লোক দাদার আসার অপেক্ষায় মিষ্টি মুখের হাসিতে দাঁড়িয়ে অপেক্ষারত। ছবিটা প্রাচুর্য ও আড়ম্বরপূর্ণ এক অনুষ্ঠানের প্রতীক।

মানুষ হিসেবে রেজিস্ট্রেশন বাবা-মা গর্বে কাঁপেন, প্রতিবেশী চিৎকার, তোয়াজে মত্ত। সমাজ হাততালি দেয় লম্বা করে, যেন এই মুহূর্তে জন্মেছে এক মহামানব। আসলে জন্মেছিল ৩৭ বছর আগে, কিন্তু ইদানিং তাঁকে রেজিস্টার করা হল “মানুষ” হিসেবে। মানুষঃ যখন সুবর্ণযুগ রাস্তা দিয়ে হাঁটলে মনে হয়, কোনও ফেরারি ধুলো তুলছে। অথবা গুটি গুটি পায়ে …

Read More »

সম্মানীয় ধর্ষকের দর্শনঃ যখন রাজনীতিতে!

রাতের গ্রামের রাস্তায় একজন পুরুষ রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে, যার চোখ আনন্দে বিস্ফোরিত। পটভূমিতে কিছু ঘরবাড়ি, গাছপালা, ও একটা বাঁকা চাঁদ দৃশ্যমান।

সাধারণ মানুষ ছিল সে। চা খেত, খবর পড়ত। বলে রাখত, “আমি কিন্তু মেয়েদের খুব সম্মান করি।” এরপর একদিন রাতের রাস্তায় হঠাৎ তাঁর মগজে হেঁচকি ওঠে, আর বেরিয়ে আসে সেই ভেতরের দার্শনিক, যে ভাবে, ‘সম্মতি তো দুর্বলতার ইঙ্গিত, না থাকলেই তো রোমাঞ্চ, আমি পুরুষ।’ এখন সে বড় ব্যস্ত। নারীর স্বাধীনতা বোঝায় …

Read More »

দাউ দাউ করে জ্বলছে বিবেক!

প্রলয়ংকারী দৃশ্য, যেখানে দেখা যাচ্ছে নিউ ইয়র্কের স্ট্যাচু অব লিবার্টি গলিত হিমবাহ ও ফুঁসতে থাকা সমুদ্রের গর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে। পিছনে বজ্রপাত ও আগ্নেয়গিরি থেকে অগ্নুৎপাত দেখা যাচ্ছে।

বিজ্ঞানীরা বলেন, পৃথিবী নাকি গরম হয়ে যাচ্ছে। আমি বলি, পৃথিবী নয়, দাউ দাউ করে জ্বলছে মানুষের বিবেকটাই। অন্যের দুঃখের আগুনে আমরা সেঁকে নিই আমাদের নির্লিপ্ততা। পরিবেশ ক্ষয়ের উপরে বানাই ক্যাপশন– #SaveEarth, #GoGreen, আর ফেসবুকে ঈশ্বরকে ট্যাগ করে পাঠাই প্রার্থনা, কিন্তু নিজেদের অভ্যেসটুকু বদলাই না একটুও। নদী শুকিয়ে যায়, কেউ বলে জলবায়ুর …

Read More »

আমরা বিকাশবাবুর যুগের মানুষ!

জনাকীর্ণ রাস্তায় বিকাশবাবু, এক মধ্যবয়স্ক, আত্মবিশ্বাসী ও গম্ভীর মানুষ সোজা দাঁড়িয়ে আছেন। তাঁর জামার উপরে বুকের মাঝখানে একটা তারা চিহ্ন, যা প্রতীকীভাবে এক আত্মকেন্দ্রিক মানুষের ধারণাকে প্রকাশ করছে।

বিকাশবাবু, মানুষ নাকি রিমোট-কেন্দ্রিক মহাবিশ্ব? বিকাশবাবুকে দেখে অবাক হয়েছে বহুজন। কিভাবে সম্ভব? এ যেন চলে-ফিরে বেড়ানো অবিকল এক মানুষ। দু হাত, দু পা, শিরা-ধমনী, মাঝে একটা মুখ। আবার জামা-প্যান্ট পরে, খায়, ঘুমায় মানুষের মতই। কিন্তু মনে রাখে প্রাইভেসি, ঝাপসা আবেগের কোনো ছায়া নেই। মহাবিশ্ব তাঁর ড্রয়িংরুম আত্মবিশ্বাসটা তাঁর বরাবরই বেশি। …

Read More »

মৃত্যুও যেখানে লজ্জিত!

এক নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারে, বৃদ্ধ দম্পতির ভালোবাসার মুহূর্ত। জানালার ধারে সূর্যাস্তের আলোয় একে অপরের দিকে তাকিয়ে, তাঁদের মুখে হাসি।

বিকেলের শেষ আলো বিকেলের শেষ আলোটা, আজও জানালার কার্নিশে এসে বসেছে, সূর্যটা প্রতিদিন খোঁজ নেয়– আর খোঁজ নেয় দু’জন দু’জনের। বৃদ্ধ স্বামীর হাতটা স্ত্রীর চিবুকে। চামড়া গুটিয়েছে, তাতে কি? ছোঁয়া তো সেই একই আছে। দুজনেই জানে, সময় আর বেশি নেই। এ পৃথিবী আজ তাঁদের অতিথিশালা। অথচ মন এখনো ঘরের মেঝেকে …

Read More »

হিংসের গর্ভে মানুষ!

অর্ধেক সাদা ফুল ও অর্ধেক ধ্বংসাবশেষ, মানুষের হিংসের আগুনের বিস্ফোরণে বিধ্বস্ত একটা শিকড়যুক্ত গাছ। নিচে, ডানদিকে একজন মানুষই আবার তা আলোকিত স্ক্রিনে দেখছে।

মনের জরায়ুতে জন্ম নেয় যে হিংসে, তা হাত-পা ছোড়ে না, নিঃশব্দে জন্ম নেয়। কিন্তু বিস্ফোরণ বোঝা যায়, যেন অদৃশ্য আগ্নেয়গিরি। অন্তর্লোকের গভীরে, একটা একটা করে মেঘ জমে, এর পরই বজ্রপাত। যার জন্মায়, সে হয়তো নিজেও জানে, একটু একটু করে পোড়ায় নিজেকেই, তবুও জন্মায়, যেন জন্মাতে হয়। আবার হয়তো জানেও না, …

Read More »

যে প্রদীপ নিভেও জ্বালিয়ে রেখে গেল আদর্শের আলো!

গায়ক জুবিন গর্গ-এর এক প্রতীক রূপ কনসার্টে মাইক্রোফোন হাতে গান গাইছেন। হাতে গীটার, ব্যাকগ্রাউন্ডে দর্শক।

নিভে গেল সেই প্রদীপ, যা শব্দে নয়, কর্মে লিখে গেল মানবতার ইতিহাস। যা নেভার, তা নেভে পরে। এটা ঘোর কলির এক বাজে স্বভাব। নিভে গেল সেই শিখা, যা শুধু কণ্ঠস্বর নয়, প্রতিফলিত হয় মানুষের হৃদয়ে। যেখানে মিথ্যার ভারে চাপা পড়ে থাকে, সত্যের ক্ষত-বিক্ষত দেহ। যেখানে রাজনীতিবিদ খোঁজে পদ, ক্ষমতা, খ্যাতি …

Read More »

শেষ প্রজাতির প্রতিচ্ছবি!

এক মহাজাগতিক নারী, যার এক চোখে চাঁদ ও হাতে পরমাণু, হৃদয়ে শূন্যতা। সে ধ্বংসাবশেষের উপরে দাঁড়িয়ড়িয়ে, যা আধুনিক মানুষের অস্তিত্বের উদ্দেশ্যহীনতাকে তুলে ধরে।

পৃথিবীর নীরব সংকেত একদিন পৃথিবী চুপ করে যাবে, যেমন হঠাৎ থেমে যায় ঘড়ির কাঁটা। অথচ সময় থেকে যায় এর পরেও। মানুষের অচেতনতা মানুষ, যে একসময় আকাশ মেপেছিল চোখে, সে একদিন তাকাবে নিজেরই ধ্বংসের দিকে। অবাক হয়ে, যেন প্রথমবার কিছু দেখছে। ধূলোর স্বাদ ও নিঃসঙ্গ বাতাস তখন মাটির গন্ধে থাকবে না …

Read More »

মনের গোলকধাঁধা!

একটা দ্বৈত ফ্যান্টাসি দৃশ্য। মাঝের গেটওয়ের দু'পাশে আলো ঝলমলে স্বর্গীয় পথ ও লাভা প্রবাহিত অন্ধকার নরক পথ। একজন সাধু মাঝের পথে হাঁটছেন, উপরে দুই বিশাল তলোয়ারধারী মূর্তি।

মন এক অনন্ত ভ্রমনপথ, যেখানে প্রতিটা চিন্তা জন্মায় আলোয়, আর মরে অন্ধকারে। কখনও সে শিশুর মত সরল, আবার হঠাৎই সে পাথরের মত স্থির, অনুভূতিহীন। আমি নিজেই নিজের ভিতরে হেঁটে বেড়াই, একেকটা স্মৃতি যেন দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে, যার গায়ে খোদাই করা– “এখানে কেঁদেছিলে।” আরেক দেয়ালে লেখা– “এইখানে হেসেছিলে নির্দ্বিধায়!” মন …

Read More »

ইমেইল আইডি দিয়ে যুক্ত হন

We don’t spam! Read our privacy policy for more info.