সময়ের ভার
দশ বছর–
সময় কি সত্যিই এত দীর্ঘ?
অথবা অপেক্ষার ভিতরে ঢুকলেই–
(Click:) ঘড়ির কাঁটা ধীর হয়ে পড়ে?
একটা বাক্যের ওজন
তুমি বলেছিলেঃ “ফিরে আসবো”– শব্দ মাত্র দুটো,
কিন্তু, এত ওজন মানুষের বুক ধারণ করতে পারে,
আসলে ভাবিনি কখনও।
স্মৃতির ঘর
আমি সেই বাক্যটাকেই একটা ঘর বানিয়ে রেখেছি।
যদিও তার দরজা নেই, জানালা নেই,
তবু হাওয়া ঢোকে;
তোমার নামে সাজানো স্মৃতির সুগন্ধ নিয়ে।
চুপচাপ রাত, শব্দের ধ্বনি
রাতগুলো চুপচাপ থাকে,
তবে আমি চুপচাপ নই।
হৃদয়ের ভাঙা অংশ থেকে শব্দ উঠে আসে,
এটা তোমার না-ফেরার শূন্যতা থেকে জন্ম নিয়েছে।
কেউ শুনতে পায় না,
কারণ এগুলো কান দিয়ে শোনা যায় না,
বরং হৃদয়ের ফাঁক দিয়ে শোনে।
অপেক্ষার মানে
অপেক্ষা–
এটা আসলে কারও জন্য বসে থাকা নয়।
অন্যদিকে, এটা একটা ধীর মৃত্যুর মতো।
এখানে মানুষ প্রতিদিন একটু করে নিজেকে ভুলে যায়,
আবার ততটুকু মনে রাখে–
একটা নাম, একটা প্রতিশ্রুতি,
এবং একটা ফিরে আসার তারিখ,
যা কখনও আসেনি।
(যে চোখে তুমি একদিন ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলে;
আজ সেই চোখই মুখের উপর নির্মমভাবে দরজা বন্ধ করে দেয়।
পড়ুন– Click: প্রেমের দ্বৈত নীতি– এক মহাজাগতিক পরিহাস!)
ভুলিনি বলার গর্ব
দশ বছর ধরে আমি কাউকে বলিনি,
যে তোমাকে ভুলিনি;
ভুলবোও না।
মানুষ ভুলতে চায় বলে ভোলে না–
আসলে একসময় ভুলে যায় ক্লান্ত হয়ে।
কিন্তু তুমি তো ক্লান্ত হবার সুযোগই দাওনি।
কারণ তুমি না ফিরলে,
তোমার অপেক্ষা থেকে বেরোতে পারিনি আমি।
জানালার পাশে দাঁড়িয়ে
দশ বছর পেরিয়ে গেছে।
তা স্বত্ত্বেও আমি প্রতিদিন জানালার পাশে দাঁড়িয়ে থাকি।
তোমাকে দেখার জন্য নয়,
না তোমার ছায়াকে স্পর্শ করার জন্য।
আমি দাঁড়িয়ে থাকি,
কারণ প্রতিদিন নিজেকে মনে করিয়ে দিতে হয় যে,
ভালোবাসা কখনও শেষ হয় না।
কেবল দীর্ঘ, অসীম অপেক্ষায় রূপ নেয়।
প্রতিশ্রুতি বাঁচানো
তুমি ফিরবে কি না–
এখন আর সে প্রশ্ন নেই।
সুতরাং আমি শুধু অপেক্ষাটাকে বাঁচিয়ে রেখেছি।
কারণ কখনও কখনও, মানুষ ফিরতে পারে না।
তবে প্রতিশ্রতিগুলো ফিরে ফিরে আসে,
বুকের ভিতর।
(ভালোবাসা আসলে ক্ষয় হয়ে যাওয়ার সবচেয়ে সুন্দর উপায়।
আমি এখনও মাঝে মাঝে তোমার নাম নিই নিঃশ্বাসে…
পড়ুন– Click: ভালোবাসা বেঁচে থাক ছদ্মবেশেই!)
Articlesবাংলা Bangla Articles, Quotes & Prose-Poetry / বাংলা প্রবন্ধ, উক্তি ও গদ্য-কবিতা।



