Articlesবাংলায় আপনাকে স্বাগত!এই ওয়েবসাইট আপনাদের জন্য একদম নতুন ও আধুনিক ভাবনায় সাজানো হয়েছে।এই একই ওয়েবসাইটে আপনি পাবেন নানান বিষয়ের ওপর গভীর বিশ্লেষণধর্মী, বোধকে নাড়িয়ে দেওয়ার মত দুর্দান্ত ও ব্যতিক্রমী সব লেখা।এখানে প্রতিটা লেখা শুধু পড়ার জন্যে নয়– ভাবনার গভীরে ডুবে যাওয়ার জন্যে। প্রতিটা সৃষ্টি আপনাকে নতুন করে ভাবাবে।আইন থেকে সমাজ। রাজনীতি থেকে প্রযুক্তি। বিজ্ঞান থেকে দর্শন। মনস্তত্ত্ব থেকে ইতিহাস। প্রেম, বিরহ, রহস্য, রোমাঞ্চ। মহাকাশ থেকে মানবমনের গভীর অন্ধকার— অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের অজানা সেইসব সত্য এখানে আলোচনার বিষয়।এই প্ল্যাটফর্মের প্রতিটা লেখা এক একটা যাত্রা। যে যাত্রায় আমাদের বাঙালি পরিবারের প্রিয় ও গুণী পাঠক শুধু দর্শক নয়—সহযাত্রী।একজন প্রকৃত বাঙালি হয়ে, যদি বাংলা শব্দের সেই অনন্ত শক্তিকে জানতে চান, চিনতে চান ও মন-প্রাণ দিয়ে উপলব্ধি করতে চান— তাহলে আপনি একদম ঠিক জায়গাতেই এসেছেন।এখানে কোনো পক্ষপাত নেই। কোনো অন্ধবিশ্বাস নেই। কোনো রাজনৈতিক বা ধর্মীয় চশমা নেই। আছে কেবল যুক্তি, মনন, এবং মানুষের মঙ্গলচিন্তা।তাই পাশে থাকুন, সাথে থাকুন আমাদের সঙ্গে জুড়ে ‘বাঙালির পরিবার’ হয়ে এক আত্মায়।একজন প্রকৃত বাঙালি হয়ে মানুষের উপকারের স্বার্থে, লেখাগুলোকে এত শেয়ার করুন, যে সমাজের অন্যান্যরাও জানতে পারে, বুঝতে পারে, সচেতন হতে পারে।ইমেইল আইডি দিয়ে "বাঙালি পরিবারের" ঘরের মানুষ হন।চলুন বাঙালিকে বিশ্বের দরবারে বারে বারে তুলে ধরি একসাথে, সবাই মিলে।বিশ্ব জানুক–বাঙালি কি? ভারত কি? বাংলা শব্দের শক্তিই বা কতটা?প্রতিনিয়ত বাঙালির পেজে চোখ রাখুন নতুন নতুন সব গভীর বিশ্লেষণধর্মী লেখা পেতে।ধন্যবাদ!! 🤝 🙏 🙋‍♂️ 👍
Breaking News

পরিবেশ রক্ষায় মাফিয়াদের বিরুদ্ধে এক দলিত নারীর রুদ্ধশ্বাস লড়াই!

পরিবেশ আন্দোলন–

পর্দার মোহ বনাম

মাটির হিরোইন:

পরিবেশ আন্দোলন:
আপনি নিশ্চয়ই শাহরুখ খান বা রণবীর কাপুরকে চেনেন।

আবার এদিকের রুপোলি পর্দার মহাতারকা দেব, জিৎ কিংবা অনির্বাণ ভট্টাচার্যের
প্রত্যেকটা সিনেমার আপডেট আপনার নখদর্পনে।
তাঁদের স্টাইল, সংলাপ আমাদের ড্রয়িংরুমের আলোচনার অবিচ্ছেদ্য অংশ।

কিন্তু কিঙ্করি দেবীকে চেনেন কি?

না ঠিক চেনেন না।

আসলে চেনার কথাও নয়।
কারণ ইনি তথাকথিত কোনো ‘সেলিব্রিটি’ নন।

তিনি কোনোদিন আমাদের বিনোদনও দেননি।

হিমাচলের পাহাড়ে মাফিয়াদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে থাকা এক বৃদ্ধার প্রতিবাদী মুখ এবং বিপন্ন প্রকৃতি।
“প্রকৃতি মানুষের বিলাসিতা নয়, প্রান্তিক মানুষের বেঁচে থাকার শেষ সম্বল।” — কিঙ্করি দেবীর লড়াইয়ের এক প্রতীকী চিত্র।


আর দুর্ভাগ্যের বিষয় হল,

ভারতের মূল ধারার ইতিহাসে এইরকম অতি সাধারণ স্তরের মানুষের নিঃস্বার্থ আত্মবলিদান খুব একটা জায়গায় পায় না।

বরং সেখানে জায়গা পায় রাজায় রাজায় যুদ্ধের দাপট।
কে কত কোটি টাকার সম্পত্তি বা ভূখণ্ড বিজয়ের গৌরব অর্জন করল তার খতিয়ান,
কিংবা কোন মন্ত্রী রাজ সিংহাসনে বসে কি ফরমান জারি করছেন—
সেই সব ক্ষমতার আস্ফালনের ইতিবৃত্ত।

আসলে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে আমরা মনোরঞ্জন বা বিনোদনকে
এতটাই বেশি গুরুত্ব দিয়ে ফেলেছি যে, আমাদের অবচেতন মনে একটা ধারণা গেঁথে গেছে—
এই চাকচিক্যই বোধহয় আমাদের জীবনের অপরিহার্য অংশ।

অর্থাৎ বিনোদন ধীরে ধীরে আমাদের জীবনের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।

অথচ বাস্তবতা অনেকটাই ভিন্ন।

এই বিনোদনের শিল্প একসময় মুষ্টিমেয় কিছু মানুষকে অসীম অর্থ, প্রভাব প্রতিপত্তি
এবং ক্ষমতার মালিক করে তোলে।

 (আরও দেখুন: শাহরুখ খানের জীবনযাত্রা)

আর আমরা সাধারণ মানুষ?

পর্দার হিরোদের হাততালি আর আবেগ, উত্তেজনায় মত্ত থেকে বাস্তব জীবনের তিমিরেই
পড়ে থাকি প্রজন্মের পর প্রজন্ম।

যদিও যে কোনো চূড়ান্ত সাফল্যের পেছনেই লুকিয়ে থাকে নিরলস পরিশ্রম আর অটুট স্বপ্ন,
সেটা পর্দার নায়ক হোক বা বাস্তবের—
তবুও পর্দার নায়করা বিনিময়ে পান কোটি টাকা আর আমাদের অন্ধ ভালোবাসা।

কিন্তু কিঙ্করি দেবীর মত মানুষরা যখন নিজের অস্তিত্ব বাজি রেখে লড়াই করেন
হোমরা চোমরাদের বিরুদ্ধে, তখন তাঁদের লড়াইটা হয় একা।

তাঁদের ঘাম আর রক্তে ধুয়ে যাওয়া পাহাড় বা জঙ্গলগুলো মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকে ঠিকই,
কিন্তু সে মানুষগুলো ইতিহাসের কোনো এক ধুলোমাখা কোণায় একদিন হারিয়ে যান।

পরিবেশ আন্দোলন–

গ্ল্যামারের অন্তরালে

একলা লড়াই:

আচ্ছা এবার ভাবুন তো—
সে সময় এই সাংঘাতিক প্রকৃতি খুন বা মারাত্মক অপরাধ কিংবা ধ্বংসলীলার
কোনো ন্যূনতম আঁচ কি আমাদের কোনো মহাতারকা বা ডাকসাইটে
কোনো রাজনীতিবিদ পাননি?

তাঁরা কি পারতেন না নিজেদের গ্ল্যামার আর ক্ষমতাকে ঢাল করে এই মাফিয়াদের রুখে দিতে?
তাঁরা কি সমাজের স্বার্থে এগিয়ে আসতে পারতেন না?

কিন্তু না, ক্ষমতার সেই দম্ভ বা গ্ল্যামারের ঝিলিক—
কোথাও তেমন বিবেকের দেখা মেলেনি।

অদ্ভুতভাবে সেই বিবেক গিয়ে পৌঁছাল এক দলিত (কোলি সম্প্রদায়),
নিরক্ষর ও দরিদ্র, গ্রাম্য মহিলার জীর্ণ কুটিরে।

যার সম্বল বলতে ছিল না কোনো ব্যাংক ব্যালেন্স বা রাজনৈতিক প্রতিপত্তি,
ছিল কেবল পাহাড়ের প্রতি এক অমোঘ টান আর অন্যায়ের বিরুদ্ধে
রুখে দাঁড়ানোর একবুক জেদ।

আজ সময় এসেছে সেই ‘রিয়েল লাইফ হিরোইন’-এর মুখোমুখি দাঁড়ানোর,
যার লড়াই কোনো স্ক্রিপ্ট মেনে চলেনি, চলেছিল বুকের পাটায় ভর করে।

পরিবেশ আন্দোলন–

পাহাড়ের কান্না ও

এক অদম্য নখের আঁচড়:

আমরা যখন হিমাচলের কুয়াশাচ্ছন্ন পাহাড় বা পাইন বনের স্নিগ্ধতার প্রশংসা করি,
তখন হয়ত আমরা জানিই না যে এই সৌন্দর্যের প্রতিটা ইঞ্চি টিকে আছে
এক মহিলার অদম্য জেদের কারণে।

তিনি কোনো পরিবেশ বিজ্ঞানীও ছিলেন না।

কিঙ্করি দেবী ছিলেন হিমাচল প্রদেশের সিরমৌর জেলার ‘সংগ্রাহ’ এলাকার
এক প্রত্যন্ত গ্রামের বাসিন্দা—
যিনি অক্ষর চিনতেন না, কিন্তু বুঝতেন প্রকৃতির ভাষা।

খনি মাফিয়ার ডিনামাইট

বনাম কিঙ্করি দেবী:

১৯৮০-এর দশকে হিমাচলের সিরমৌর জেলা এক বিভীষিকার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিল।
লাইমস্টোন বা চুনাপাথর উত্তোলনের লোভে মাফিয়ারা পাহাড়ের বুক চিরে দিচ্ছিল,
ফলে খননও দ্রুত বাড়তে শুরু করে।

বিজ্ঞানের ভাষায় হিমাচলের এই পাহাড়গুলো ছিল প্রাকৃতিক স্পঞ্জ।

লাইমস্টোন স্তরের ভেতর দিয়ে চুঁইয়ে আসা জল যে ঝরনা তৈরি করত,
ডিনামাইটের বিস্ফোরণের তীব্র শব্দে সেগুলো চিরতরে স্তব্ধ হয়ে যাচ্ছিল।

আর এর ফল ছিল ভয়াবহ—

  • পাহাড়ের মাটি ভেঙে পড়ছিল।
  • বনভূমি ধ্বংস হচ্ছিল।
  • কৃষি জমি নষ্ট হয়ে যাচ্ছিল। 
  • জলের উৎস শুকিয়ে যাচ্ছিল।

এসবই যখন সবাই নিয়তি মেনে নিয়েছিল, ঠিক তখনই গর্জে উঠলেন কিঙ্করি দেবী।
গ্রামের মানুষ ধীরে ধীরে বুঝতে পারছিল এই খনি শুধু পাথর তুলছে না।
এটা তাঁদের ভবিষ্যতকেও ধ্বংস করছে।

এমনকি, খনন কার্যক্রমের কারণে মাটি ক্ষয়, জলস্তর কমে যাওয়া ও পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছিল বলে আদালতের নথিতেও উল্লেখ রয়েছে।

এক নিরক্ষর মহিলার

আদালতের লড়াই:

১৯৮৭ সালে কিঙ্করি দেবী একটা স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন
People’s Action for People in Need-এর সাহায্যে একটা ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নেন।

তিনি ৪৮ জন প্রতাপশালী খনি মালিকের বিরুদ্ধে সিমলা হাইকোর্টে মামলা ঢুকে দিলেন।
কিন্তু আইনি লড়াই লড়ার মত অর্থ তাঁর ছিল না।
অথচ তাঁর আত্মসম্মান ছিল হিমালয়ের চেয়েও উঁচু।

দৃশ্যটা একবার ভাবুন—
একদিকে ছিল পুরো মাইনিং লবি, অন্যদিকে ছিলেন একা নিরক্ষর ও
প্রায় সহায়-সম্বলহীন
এক বিধবা নারী।

  • অনেকে তাঁকে ভয় দেখায়।
  • অনেকে তাঁকে উপহাস করে।

কিন্তু তিনি পিছিয়ে তো যানইনি,
বরং তিনি এমন এক কাজ করে বসেন,
যা গোটা সমাজ তথা ভারতকে নাড়িয়ে দিয়েছিল।

পরিবেশ আন্দোলন–

অনশন ও শ্রম:

হাইকোর্টে মামলা করেও যখন আদালতের পক্ষ থেকে খনন কার্যের ওপর
কোনো দ্রুত স্থগিতাদেশ (Stay Order) আসছিল না,
তখন বিচার ব্যবস্থাকে জাগিয়ে তুলতে এমনকি সিমলা হাইকোর্টের সামনে তিনি
এক টানা ১৯ দিন অনশন করেন,
আর সে অনশনের আড়ালে কোনো অভিনয় ছিল না।

অস্তিত্বের সংগ্রাম:

দিনের বেলা আদালতের বারান্দায় লড়াই করতেন আর নিজের খরচ চালাতে
অন্যদের বাড়িতে ঝাড়ু-পোছার কাজ করতেন।

পরিবেশ আন্দোলন–

ঐতিহাসিক বিজয়:

অবশেষে আদালত পর্যন্ত কিঙ্করি দেবীর অদম্য জেদের কাছে নতি স্বীকার করতে বাধ্য হয়।
সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদ (Right to Clean Environment) অনুযায়ী
পরিবেশ রক্ষা যে আবশ্যিক,
তা মেনে নিয়ে খনি খনন নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়।

যখন বিশ্ব তাকালো

তাঁর দিকে:

১৯৯৫ সালে কিঙ্করি দেবীকে আমন্ত্রণ জানানো হয় অনুষ্ঠিত নারীদের চতুর্থ বিশ্ব সম্মেলনে।
অতএব সেই সম্মেলনে তিনি যখন গিয়ে পৌঁছলেন,
গোটা বিশ্ব অবাক হয়ে দেখল ভারতের এক প্রান্তিক গ্রাম থেকে উঠে আসা এই তেজস্বিনীকে।

মার্কিন ফার্স্ট লেডি হিলারি ক্লিনটন তাঁর সাহসে এতটাই মুগ্ধ হয়েছিলেন যে,
বিশ্ব সম্মেলনের মত মঞ্চে উদ্বোধনী প্রদীপটা কিঙ্করি দেবীকে দিয়েই প্রজ্জ্বলন করানো হয়।

এবং সেই অবিস্মরণীয় মুহূর্তে ওই বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি একটা কথা বলেছিলেন—
“পরিবেশকে বাঁচানোর শক্তি আসলে সাধারন মানুষের হাতেই।”

পুরস্কার বনাম অবহেলা:

এক তিক্ত বাস্তবতা

ভারত সরকার ১৯৯৯ সালে তাঁকে ‘ঝাঁসি কি রানী লক্ষ্মীবাঈ স্ত্রী শক্তি পুরস্কার’
দিয়ে সম্মানিত করে।

কিন্তু বাস্তবতা ছিল নির্মম।

  • আন্তর্জাতিক খ্যাতি থাকা সত্ত্বেও বেশিরভাগ সময় তাঁর কাছে আদালতে যাওয়ার
    ভাড়ার টাকাটা পর্যন্ত থাকত না।
  • জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সামান্য বিধবা ভাতার জন্য এই মানুষটাই
    সরকারি দপ্তরে দপ্তরে ঘুরেছেন।
  • নিজের নাতিকে পড়াশোনা করানোর জন্য, কিংবা আদালতের খরচ যোগাতেও
    তাঁকে হিমশিম খেতে হয়েছে।

শেষ ইচ্ছা:

অস্ত্রের বদলে বই

  • কিঙ্করি দেবী বুঝতেন—
    কেন গ্রামের যুবকরা মাফিয়াদের দালালি করে।
  • তিনি বুঝতেন—
    শিক্ষা না থাকলে মানুষ প্রতি পদক্ষেপে শোষণের শিকার হবে।
  • তিনি বুঝেছিলেন—
    শিক্ষার অভাবেই তাঁরা এই ধ্বংসলীলায় শামিল হয়।

তাই তাঁর জীবনের শেষ বড় স্বপ্ন বিলাসী খাওয়া দাওয়া বা কোনও অট্টালিকায় থাকা নয়,
স্বপ্ন ছিল নিজের গ্রামে একটা ডিগ্রি কলেজ স্থাপন করা।

এমনকি তিনি একবার বলেছিলেন—
“আমি পড়তে পারিনি, কিন্তু আমি চাইনা অন্যরা আমার মত কষ্ট পাক।”

অবশেষে ২০০৬ সালে তাঁর সেই স্বপ্ন, ডিগ্রি কলেজ পূরণ হয়।

বিদায়, কিন্তু শেষ নয়:

কিন্তু বিধাতা সবসময় সবার সব সুখ মঞ্জুর (Granted) করে না।

২০০৭ সালের ৩০ ডিসেম্বর কিঙ্করি দেবী চণ্ডীগড়ে মৃত্যুবরণ করেন এবং সে সময়
তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।

কিন্তু তাঁর লড়াই শেষ হয়নি।
আজও হিমাচলের পাহাড়, নদী, বন সবকিছু যেন তাঁর সংগ্রামের নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।


[ আচ্ছা, কখনও গভীরভাবে ভেবে দেখেছেন—

কেবল সরকার পরিবর্তন হলেই সব সমস্যার সমাধান হয় কি?

না, আদৌ নয়।

সেক্ষেত্রে একমাত্র শক্তিশালী এবং ন্যায়ভিত্তিক শাসনব্যবস্থাই পারে আপনার,
আমার পরবর্তী প্রজন্মকে দীর্ঘস্থায়ী নিরাপত্তা দিতে।

কোনো ব্যক্তি বা আবেগ আপনাকে বাঁচাবে না।
সে সময় একমাত্র বাঁচাবে আপনার দেশের সিস্টেম।

কিন্তু সেই সিস্টেম এখনও ঠিক নেই।

জানেন কেন নেই?

কি হতে পারে এর পেছনে লুকিয়ে থাকা সেই রহস্য?
আপনি ভাবতে পারছেন সেটা?

আরও বহু কিছু গোপন রহস্য কিন্তু আপনি জানতে পারেন।

তাই এখুনি পড়ে নিন–
Click: ভারতের প্রশাসনিক কাঠামো ও বিচারব্যবস্থা:
গণতন্ত্রের আড়ালে কী চলছে?

অস্তিত্বের আদিম লড়াই:

কিঙ্করি দেবী ও

পৃথিবীর একলা রক্ষা কর্তা

আজকের পৃথিবীতে জলবায়ু পরিবর্তন, নির্বিচারে বন নিধন আর খনিজ সম্পদের দস্যিপনা যখন মানব সভ্যতাকে খাদের কিনারায় এনে দাঁড় করিয়েছে, তখন (আরও দেখুন) কিঙ্করি দেবীর লড়াই কেবল এক ইতিহাস নয়—
এক চরম ধ্রুব সত্য।

তাঁর গল্প মানুষের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে—

  • পরিবেশ রক্ষা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কোনো ঘরের বিলাসিতা নয়।
  • কিছু মহৎ পরিবর্তনের জন্য ডিগ্রীর প্রয়োজন হয় না। 
  • পরিবর্তন কোনো বিজ্ঞাপন, প্রচার কিংবা বড় বড় লেকচারের মাধ্যমেও আসে না।
  • পরিবর্তনের জন্য কয়েক হাজার কোটি টাকার ব্যাংক ব্যালেন্সের চেয়ে
  • বেশি প্রয়োজন হয় নিজের মাটিকে বাঁচানোর এক অদমনীয় মানসিকতা।
  • তথাকথিত প্রভাব-প্রতিপত্তি আর ক্ষমতার দম্ভ যেখানে মাফিয়াদের দালালি করে,
    সেখানে এক চিমটি বিবেকই যথেষ্ট হিমালয় হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ার জন্য।
  • প্রকৃত সমাজসেবা মানে দামি গাড়ির জানালা দিয়ে ছুঁড়ে দেওয়া কোনো করুণা,
    অভিনয় বা মিথ্যে আশ্বাস নয়, বরং পাহাড়ের ধুলো মেখে ন্যায়ের জন্য
    খড়কুটো আঁকড়ে লড়াই করা।
  • উন্নয়নের রঙিন প্রলেপ দিয়ে যখন প্রকৃতিকে খুন করা হয়,
    তখন সেই মৃত্যুকে রুখতে শীতের কাঁপুনি নয়, বুকের পাঁজর পুড়িয়ে তৈরি হওয়া
    আগুনের দরকার হয়।
  • পরিবর্তন কোনো শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত সেমিনারে বসেও আসে না।
    পরিবর্তন আসে একলা নারীর সেই ১৯ দিনের অনশনে, যা পাথরকেও
    গলিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।

পরিবেশ রক্ষা প্রকৃতপক্ষে প্রান্তিক মানুষের কাছে স্রেফ একটা টিকে থাকা লড়াই।

কিঙ্করি দেবী সেই সময় হিমাচলের একটা অংশকে হয়ত মাফিয়াদের হাত থেকে
রক্ষা করেছিলেন।
কিন্তু আজও এই নীল গ্রহের প্রতিটা প্রান্তে লুকিয়ে আছে অগণিত শোষক।

ক্ষুদ্র ব্যক্তি স্বার্থের জন্য তাঁরা আজও প্রকৃতিকে ঠিক সেভাবেই নিংড়ে নিচ্ছে,
যেভাবে ব্রিটিশরা একসময় ভারতকে শোষণ করেছিল।

কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত আজ শোষকের সংখ্যা বাড়লেও কিঙ্করী দেবীদের সংখ্যাটা
মাত্রাতিরিক্ত কম; নেই বললেও চলে।

একজন নিরক্ষর, প্রায় সহায়-সম্বলহীন নারী যদি একলা পাহাড়ের ঢাল হয়ে
মাফিয়া সাম্রাজ্যের সামনে বুক চিতিয়ে দাঁড়াতে পারেন,
তবে সমাজ সচেতন সমাজের প্রতিনিধি হয়ে আমাদের দায়িত্বটা বহুগুণে বেড়ে যাওয়া উচিত।

অর্থাৎ আমাদের প্রয়োজন হাড়-মাস দিয়ে প্রকৃতিকে ভালোবাসার মতন মানসিকতা।

২৫ মিলিয়নের উন্মাদনা

বনাম ২৫০০-এর নির্জনতা–

এক নৈতিক অধঃপতন

তবে আজও ভাবতে চরম লজ্জা, অনুশোচনা হচ্ছে—
শাহরুখ খানের শুধু মন্নতের গেট থেকে
বাইরে বেরোনোর ভিডিওতে ভিউ ২৫ মিলিয়ন।

( দেখুন: শাহরুখ খান মন্নত ভিডিও )

আর কিঙ্করি দেবী সংক্রান্ত ভিডিওতে ২.৫k-ও নয়।

এই পরিসংখ্যান আমাদের পচা-গলা নৈতিকতার এক নগ্ন দলিল।
আমরা হীরেরূপী আসল হিরো-হিরোইনদের চিনি না, জানি না, বুঝি না।

চিনতে চাই, মিশতে চাই, এক ঝলক দেখতে চাই নকল হিরো-হিরোইনদের,
যারা মাটিতে নেমে যুদ্ধ করে না কোনোদিন।

আর যারা আপনার, আমার জন্য রাস্তায় নামে, জীবন বিপন্ন রেখে যুদ্ধ করে,
ঠিক তাঁদেরকেই আমরা করি ব্রাত্য, দিই লাঞ্ছনা, অপমান, অবহেলা ইত্যাদী।

যেদিন প্রকৃতি চুড়ান্ত প্রতিশোধ নেবে, সেদিন বাঁচাবে তো এই হিরো-হিরোইনরা আমাদের?
আর সেদিনই বেশি করে বুঝবো আমরা—
ঠিক কে ছিলেন কিঙ্করি দেবী, কাকে আমাদের প্রয়োজন বেশি।

( এবারে দেখুন এক অমূল্য ভিডিও: কিঙ্করি দেবীর সেই ঐতিহাসিক স্থান।

কিছু শেষ কথা:

( বি: দ্র: কষ্ট ও সংগ্রাম করে অর্জন করা সাফল্যকে আমরা সবাই সম্মান করি,
তবে এই লেখায় প্রাধান্য বোঝাবার স্বার্থে এমন লেখা হয়েছে।
অনুগ্রহ করে কোনো ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যে নেবেন না। )


[যেখানে আমরা আজীবন টাকার পিছনে দৌড়ানোকে বেশি গুরুত্ব দিই,

সেখানে সেই নারী গুরুত্ব দিয়েছেন গাছের পিছনে দৌড়ানোতে।

ভালোবেসেছেন গাছকে, মিশে গেছিলেন গাছের আত্মার সাথে;
যে কোনো দিন বিশ্বাসঘাতকতা করে না, প্রতারণা জানে না।

আপনি ভাবতেও পারবেন না এই মানুষটার সেই হৃদয় স্পর্শ করা কাহিনী।

আর এখানেও সেই একজন নারী একা উদ্যোগে।

পড়ুন এখুনি– Click: পরিবেশ রক্ষায় গাছের মায়ের সেই হৃদয়স্পর্শী কাহিনী জানেন? ]

 

[ আরও এমনই বিভিন্ন দুর্দান্ত টপিকের ওপরে এরকমই সব
বিশ্লেষণধর্মী লেখা পেতে নিয়মিত আমাদের পেজে চোখ রাখুন।

এবং তা আপনার, আপনার প্রতিবেশি, বন্ধুবান্ধব, আত্মীয় তথা সমাজের জন্য।

এ বিষয়ে আপনার গুরুত্বপূর্ণ মতামত জানার অপেক্ষায় রইলাম।

লেখাটা প্রয়োজনীয় মনে হলে অবশ্যই শেয়ার করে
সমাজের অন্যদেরও পড়তে, জানতে সুযোগ করে দেবেন।

ইমেইল আইডি দিয়ে আমাদের বাঙালির পরিবারের একজন
প্রিয় মানুষ হয়ে উঠুন।

চলুন বাঙালিকে বিশ্বের দরবারে সবাই মিলে একসাথে বারবার তুলে ধরি
চিন্তা, চেতনা আর শব্দের শক্তিতে—

একসাথে, সবাই মিলে।

বিশ্ব জানুক—

আমাদের ভারত কি?

বাঙালি কি?

বাংলা শব্দের ক্ষমতাই বা কি? ]

 

 

"প্রতিটা নতুন লেখা– সরাসরি ও সবার আগে আপনার ইনবক্সে।

ইমেইল দিয়ে যুক্ত হন বাঙালির পরিবারে।"

We don’t spam! Read our privacy policy for more info.

About Articlesবাংলা

Articlesবাংলা
Welcome to Articlesবাংলা – a vibrant hub of words, ideas, and creativity.This website is the personal archive and creative expression of Tanmoy Sinha Roy, a passionate writer who has been exploring the art of writing for more than seven years.Every article, prose-poem, and quotation you find here reflects his journey, experiences, and dedication to the written word.Articlesবাংলা aims to inspire readers by offering thought-provoking insights, celebrating the richness of Bengali language and literature, and creating a space where ideas, imagination, and culture connect.Whether you are seeking literary reflections, prose-poems, diverse articles, or meaningful quotations, you are invited to explore, reflect, and be inspired.

Check Also

Doctor Registration Number যাচাই করছেন এমন একজন অভিজ্ঞ ডাক্তার ও রোগী.

Doctor Registration Number Check: ডাক্তারের বেশে বিপদ নেই তো?

ডাক্তারের ভগবান রূপ: Doctor Registration Number Check— এই একটা বিষয়ে আমরা এখনও সচেতন নই, প্রায়ই …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *