জলবায়ু সংকট চরমে: গাছ লাগালেও কি শেষ রক্ষা পাবো আমরা?

গত এক দশকে— “জলবায়ু পরিবর্তন ও বৃক্ষরোপণ” বা “গাছ লাগান পৃথিবী বাঁচান”
এই বাক্যটা প্রায় নৈতিক মন্ত্রে পরিণত হয়েছে।

স্কুলের অনুষ্ঠান থেকে কর্পোরেট CSR, সোশ্যাল মিডিয়া ক্যাম্পেইন থেকে
রাজনৈতিক বক্তৃতা— সব জায়গাতেই গাছ লাগানোই যেন
জলবায়ু সংকটের চূড়ান্ত সমাধান।
কিন্তু এখানেই সবচেয়ে বিপজ্জনক ভুলটা হচ্ছে। 

ভুলটা এই নয় যে গাছ লাগানো খারাপ।
ভুলটা এই যে, আমরা ধরে নিচ্ছি গাছ লাগালেই জলবায়ু পরিবর্তন থেমে যাবে।
জলবায়ু পরিবর্তন কোন আবেগের সমস্যা নয়, এটা একটা কার্বন ব্যালেন্সএর অঙ্ক। 
আর সেই অঙ্কটাই বোঝা না গেলে, ভালো কাজও শেষ পর্যন্ত অকার্যকর হয়ে যায়।

(AI Generated Picture– ভুল থাকতে পারে।)

জলবায়ু সংকট আসলে কি:

কার্বনের ভারসাম্য ভেঙে যাওয়া

পৃথিবী এক অনন্য এবং সূক্ষ্ম ভারসাম্যের আধার।
কোটি কোটি বছর ধরে প্রকৃতি তার নিজস্ব অমোঘ নিয়মে কার্বন নির্গমন
এবং শোষণের মধ্যে একটা চমৎকার সামঞ্জস্য বজায় রেখে এসেছে।

ভারসাম্যের কেন্দ্রে আছে দুটো শক্তি—

‘কার্বন সোর্স’ বা উৎস:

যেখান থেকে কার্বন-ডাই-অক্সাইড ও অন্যান্য গ্রিনহাউস গ্যাস বাতাস ছাড়ে।

যেমন—

  • পরিবহন ব্যবস্থা (গাড়ি, বিমান, জাহাজ)।
  • বিদ্যুৎ উৎপাদন (কয়লা, তেল, গ্যাস)।
  • শিল্প ও ম্যানুফ্যাকচারিং।
  • আধুনিক কৃষি ও পশুপালন।

কার্বন সিঙ্ক বা শোষণ:

যেগুলো কার্বন শোষণ করে প্রকৃতিকে ভারসাম্যে রাখে।

যেমন—

  • বন ও গাছপালা।
  • সমুদ্র।
  • মাটি ও জলাভূমি।

(সভ্যতার অহংকার যখন প্রকৃতির সহিষ্ণুতার সীমাকে লঙ্ঘন করে,
তখন পৃথিবী আর সংলাপ করে না, ঘোষণা করে “রায়।”

এর ভাষা মানুষের অভিধানে নেই,
তা প্রকাশ পায় পাহাড় ভেঙে পড়ার শব্দে, জলের উন্মত্ত স্রোতে,
আর জীবনের গহ্বরমুখী নীরব যাত্রায়।

এ কোনও দুর্ঘটনা নয়, এ এক প্রাচীন সমীকরণের পুনঃপ্রতিষ্ঠা।
যেখানে প্রকৃতিকে আঘাত মানেই, নিজের হাতে নিজেদের ধ্বংসের বীজ পোঁতা।
পড়ুন– Click: কি হবে কোলকাতার ভবিষ্যৎ?
উত্তরবঙ্গ থেকে ধরালী– সতর্কতা!)

এই দুইয়ের মিতালিতেই টিকে ছিল পৃথিবীর জলবায়ুর স্থিতি।

কিন্তু বিগত সাত দশকে মানুষের সীমাহীন উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও অনিয়ন্ত্রিত ভোগলিপ্সা
এই চিরন্তন সমীকরণকে তছনছ করে দিয়েছে।
আমরা এমন এক বিপজ্জনক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে, যেখানে প্রকৃতির কার্বন শোষণের
ক্ষমতার তুলনায় কয়েক গুণ বেশি বিষাক্ত গ্যাস আমরা প্রতিদিন বায়ুমন্ডলে ছড়িয়ে দিচ্ছি।

এটা আজ আর কেবল সাধারন ‘পরিবেশ দূষণ’ নয়; বরং এটা আমাদের সামগ্রিক
অস্তিত্বের এক চরম সংকট।

কেন গাছ লাগালেই সমাধান হয় না

গাছ কার্বন শোষণ করে— এটা সত্যি।
কিন্তু ৩টে কঠিন বাস্তবতা আমরা এড়িয়ে যাই—

বাস্তবতা ১. গাছ ধীরে কাজ করে:

  • একটা গাছ উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কার্বন শোষণ করতে ২০ থেকে ৩০ বছর সময় নেয়।
  • (পড়ুন) জলবায়ু সংকট-এর সময়সীমা কিন্তু হাতে গোনা কয়েক বছর।

বাস্তবতা ২. বেশিরভাগ গাছ বাঁচেই না:

পরিসংখ্যান বলছে—

  • রোপন করা গাছের বড় অংশ কখনওই পূর্ণবয়স্ক হয় না।
  • খরা, আগুন, নগরায়ন, অবহেলা— সব মিলিয়ে বিপুল ক্ষয়।

বাস্তবতা ৩. বন আর গাছ এক জিনিস নয়:

একটা প্রাকৃতিক বন মানে—

  • হাজারো প্রজাতির গাছ।
  • মাটি, ছত্রাক পোকামাকড়ের জটিল বাস্তুতন্ত্র।
  • শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে তৈরি হওয়া কার্বন সঞ্চয়।

এই জিনিস মানুষের তৈরি বাগান দিয়ে ফিরিয়ে আনা যায় না।

(AI Generated Picture– ভুল থাকতে পারে।)

বন উজার: সবচেয়ে নীরব

জলবায়ু অপরাধ

জলবায়ু পরিবর্তন ও বৃক্ষরোপণ নিয়ে আলোচনার সময় আমরা প্রায়ই একটা
বড় বিষয় ভুলে যাই— আর সেটা হল ‘ডিফরেস্টেশন,’
যা জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সবচেয়ে বড় শত্রু।

কারণ এখানে আমরা একসাথে দুটো ক্ষতি করছি—

  • ১. কার্বন শোষণ করার ক্ষমতা নষ্ট করছি।
  • ২. সংরক্ষিত কার্বন আবার বাতাসে ছেড়ে দিচ্ছি।

একটা প্রাচীন বন কাটা মানে—
কয়েক দশকের নয়, শত শত বছরের কার্বন ব্যাঙ্ক ভেঙে দেওয়া।
এজন্যই শুধু গাছ লাগানো নয়, জঙ্গল কাটা বন্ধ করাই সবচেয়ে জরুরি পদক্ষেপ।

গাণিতিক বিপর্যয়: ১১ বনাম ৬০ গিগাটন

পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে শিউরে উঠতে হয়।
২০১৯ সালের (পড়ুন) IPCC-এর এক রিপোর্ট অনুযায়ী সেই ১ বছরেই মানবজাতি বায়ুমন্ডলে
প্রায় ৬০ গিগাটন গ্রিনহাউস গ্যাস (কার্বন-ডাই-অক্সাইড সমতুল্য হিসেবে) নির্গত করেছে।

অথচ একই সময় পৃথিবীর জলজ ও স্থলজ মিলিয়ে সমস্ত প্রাকৃতিক নেট সিঙ্ক (Net Sink)
(প্রধানত বন ও সমুদ্র) মাত্র ~১১ গিগাটন কার্বন-ডাই-অক্সাইড শোষণ করতে পেরেছে।
অর্থাৎ প্রতিবছর ৪৯ গিগাটন অতিরিক্ত গ্রিনহাউস গ্যাস বায়ুমণ্ডলে জমা হচ্ছে,
যা পৃথিবীকে ধীরে ধীরে একটা জ্বলন্ত উনুনে পরিণত করছে।

আমাদের প্রচলিত ধারণা হল—

গাছ লাগালেই সব ঠিক হয়ে যাবে, কিন্তু অঙ্ক বলছে—
গাছ লাগিয়ে এই বিশাল ঘাটতি পূরণ করা আজ কার্যত অসম্ভব।

(AI Generated Picture– ভুল থাকতে পারে।)

বনায়নের ভ্রান্ত ধারণা

এবং ‘ম্যাচুরিটি’ সংকট:

আমরা প্রায়ই গর্ব করে বলি যে, আমরা কোটি কোটি চারা রোপন করছি।

কিন্তু মুদ্রার উল্টো পিঠ হল—

“ফুড এন্ড এগ্রিকালচারাল অর্গানাইজেশন” (FAO)-এর তথ্য মতে,
প্রতিবছর আমরা প্রায় ১০ মিলিয়ন হেক্টর বনভূমি, যা দক্ষিণ কোরিয়ার মত আস্ত একটা
দেশের আয়তনের সমান প্রাকৃতিক বনভূমি ধ্বংস করছি।

সবচেয়ে বড় ট্রাজেডি হল—
গণহারে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে লাগানো চারার প্রায় ৫০%-৮০% পূর্ণাঙ্গ গাছ হওয়ার আগেই
রক্ষণাবেক্ষণ, প্রতিকূল আবহাওয়া বা ভুল প্রজাতির নির্বাচনের কারণে মারা যায়।
একটা প্রাকৃতিক বন যেভাবে কয়েকশো বছরে কার্বন শোষণের একটা বিশাল সিস্টেম তৈরি করে,
কয়েক হাজার নতুন চারা লাগিয়ে সেই সক্ষমতা রাতারাতি ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়।

আমরা একদিকে আমাজন বা কঙ্গোর মতো ফুসফুসগুলো কেটে ফেলছি,
আর অন্যদিকে লোক দেখানো কিছু চারাগাছ লাগিয়ে ভাবছি আমরা ভীষণ নিরাপদ।
এটা একটা আত্মঘাতী চিন্তা ছাড়া আর কিছুই নয়।

একটা শতবর্ষী প্রাকৃতিক গাছ বা বন যতটা কার্বন ধরে রাখে,
সেই সক্ষমতা হাজার হাজার নতুন চারার সমষ্টি মিলেও দীর্ঘ সময় ছাড়া
পূরণ করতে পারে না।

ক্লিন এনার্জি ট্রানজিশন:

কেন এটাই একমাত্র পথ?

অনেকেই মনে করেন জলবায়ু পরিবর্তন ও বৃক্ষরোপণ একে অপরের পরিপূরক,
এবং গাছ লাগানোই একমাত্র সমাধান।
কিন্তু বাস্তবতা হল— জলবায়ু পরিবর্তনের যুদ্ধের মাত্র ৫% হল গাছ লাগানো।
বাকি ৯৫% লড়াই নির্ভর করছে আমাদের পরিকাঠামোর আমূল পরিবর্তনের উপর।
এর প্রধান অংশ হল ‘ক্লিন এনার্জি ট্রানজিশন’ (দেখুন– Clean Energy Transition).

কি এই ক্লিন এনার্জি ট্রানজিশন?

সহজ কথায়, এটা হল জীবাশ্ম জ্বালানি (কয়লা, খনিজ তেল, গ্যাস) থেকে সরে এসে
সম্পূর্ণ দূষণমুক্ত নবায়নযোগ্য শক্তির (সৌরশক্তি, বায়ু শক্তি, জলবিদ্যুৎ, সবুজ হাইড্রোজেন)
দিকে যাত্রা করা।

ক্লিন এনার্জি ট্রানজিশন-এর ৪টে স্তম্ভ:

১. বিদ্যুৎ উৎপাদনে পরিবর্তন:

  • কয়লা ও তেল নির্ভর বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ করা।
  • সৌর, বায়ু, জল ও অন্যান্য  নবীকরণযোগ্য শক্তি বাড়ানো।
  • স্মার্ট গ্রিড ও শক্তি সংরক্ষণ ব্যবস্থা।

২. পরিবহন ব্যবস্থার রূপান্তর:

  • ইলেকট্রিক যানবাহন।
  • পাবলিক ট্রান্সপোর্টে বিনিয়োগ।
  • শহর পরিকল্পনায় গাড়ি নির্ভরতা কমানো।

৩. শিল্প ও ম্যানুফ্যাকচারিং সংস্কার:

  • শক্তি দক্ষ প্রযুক্তি।
  • পুনর্বব্যবহারযোগ্য কাঁচামাল।
  • কার্বন-নিরপেক্ষ উৎপাদন প্রক্রিয়া।

৪. কৃষি ব্যবস্থার পরিবর্তন:

  • রাসায়নিক সার ও অতিরিক্ত জল নির্ভর চাষ কমানো।
  • মাটির কার্বন ধরে রাখার পদ্ধতি।
  • খাদ্য অপচয় কমানো।

এই ৪ টে ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন ঠেকানো গাণিতিকভাবেই অসম্ভব।


(‘প্রতিটা মানুষের জীবনেই প্রয়োজন এক বা একাধিক দুর্ঘটনার,

কারণ সেই দুর্ঘটনা’ই একমাত্র পারে তাঁকে উপযুক্ত শিক্ষা দিতে।’

অসচেতনতা, অবহেলা, উদাসীনতা নামক এই মানবিক দোষগুলো
আজ পর্যন্ত, পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের মিলিয়ন, বিলিয়ন মানুষকে
যে কতবার, কিভাবে?
ও কোন কোন ক্ষেত্রে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে নিঃস্ব-রিক্ত
এবং সর্বশান্ত করে ছেড়েছে…
পড়ুন বাস্তব সেইসব অজানা সত্যি– Click: মহাশূন্যে ভাসমান এ নীল গ্রহে একটা
মহাপ্রলয় আজ বড় প্রয়োজন!)

প্রযুক্তি আমাদের বাঁচাবে,

এই আশ্বাস কতটা সত্যি?

আজকের সময়ের সবচেয়ে বিপজ্জনক বিভ্রম হল—

“ভবিষ্যতে প্রযুক্তি সব ঠিক করে দেবে।” 

বিল গেটস, এলন মাস্ক, পিটার থিয়েলের মতো সিলিকন ভ্যালির টাইটানরা,
কিংবা বা অন্যান্য প্রযুক্তি ধনকুবেররা
প্রায়ই আশ্বাস দেন যে,

প্রযুক্তি—

  • কার্বন ক্যাপচার।
  • জিও-ইঞ্জিনিয়ারিং।
  • কৃত্রিম মেঘ কৃত্রিম সূর্যছায়া।

এ সব দিয়ে তাঁরা জলবায়ু পরিবর্তন ঠেকিয়ে দেবেন।

কিন্তু বাস্তবতা হলো প্রযুক্তি এখনো শৈশব পর্যায়ে আছে, এবং এ সমস্ত অত্যন্ত ব্যয়বহুল।
প্রযুক্তির ওপর এই অন্ধ নির্ভরতা আমাদের এক প্রকার অলসতা এবং মিথ্যা স্বান্ত্বনা দিচ্ছে।

তাঁরা বড় বড় সমাধান বিক্রি করছেন, কিন্তু পৃথিবীর তাপমাত্রা যে হারে বাড়ছে,
তাতে কেবল প্রযুক্তি দিয়ে এই বিশাল ‘গিগাটন’ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা অসম্ভব।
প্রকৃতির সমীকরণ কোন অ্যাপ বা সফটওয়্যার নয়, যে চট করে আপডেট করে নেয়া যাবে।

নচেৎ কি হবে: ভবিষ্যতের রূপরেখা

যদি আমরা এখনই কার্বন নিঃসরণ কমাতে না পারি—

  • বন্যা হবে আরো ঘনঘন। 
  • সাইক্লোন হবে আরও শক্তিশালী। 
  • খরা ও তাপ প্রবাহ স্বাভাবিক হয়ে যাবে।
  • খাদ্য ও জলের সংকট বাড়বে।
  • জলবায়ু শরণার্থীর সংখ্যা কোটি ছাড়াবে।

এটা কোন সিনেমার চিত্রনাট্য নয়, এটা ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে।

জলবায়ু পরিবর্তন ও বৃক্ষরোপণ

আসল লড়াই কোথায়?

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াই মানে—

  • শুধু ব্যক্তিগত নৈতিকতা নয়।
  • শুধু গাছ লাগানোর ছবি পোস্ট নয় বা বক্তৃতা, ভাষণও নয়।

এটা একটা রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক লড়াই।

আমাদের দরকার—

  • নীতি পরিবর্তন। 
  • কর্পোরেট জবাবদিহি। 
  • জীবাশ্ম জ্বালানির লবির বিরুদ্ধে চাপ।
  • বন ও আদিবাসী অধিকার রক্ষা।

(AI Generated Picture– ভুল থাকতে পারে।)

সময়ের শেষ সীমা,

২০৩০ এবং অস্তিত্বের সংকট:

শীর্ষস্থানীয় জলবায়ু সংস্থাগুলোর (যেমন IPCC— Intergovernmental Panel on Climate Change)
ভবিষ্যৎবাণী অনুযায়ী, আমাদের হাতে কার্যকরভাবে আর মাত্র ৪-৫ বছর সময় আছে।

২০৩০-৩১ সালের মধ্যে যদি আমরা বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণ অন্তত অর্ধেক
করতে না পারি তবে পৃথিবীর জলবায়ু ব্যবস্থা একাধিক বিপজ্জনক
‘টিপিং পয়েন্ট’-এর দিকে অপ্রতিরোধ্যভাবে এগিয়ে যাবে,
যেখান থেকে ক্ষয়ক্ষতি বড় অংশেই আর উল্টানো
 সম্ভব হবে না।

এর ফল হবে ভয়াবহ—

  • বছর বছর বন্যার ভয়াবহতা বাড়বে।
  • একের পর এক সুপার সাইক্লোন আরো বেশি ধ্বংসাত্মক শক্তি নিয়ে
    উপকূলীয় অঞ্চলে আছড়ে পড়বে।
  • ঋতুচক্র পুরোপুরি ভেঙে পড়বে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে আমাদের খাদ্যশৃঙ্খলে।
  • দুর্ভিক্ষ এবং মহামারি হবে আমাদের নিত্যসঙ্গী।

অরণ্য বিনাশ রোধ,

রাতের অন্ধকার ও দিনের রাজনীতি:

গাছ লাগানো বড় কথা নয়, বড় কথা হল বর্তমানের গভীর জঙ্গল গুলোকে রক্ষা করা।
আমরা শহরে কয়েকটা চারাগাছ লাগাচ্ছি, অথচ রাতের অন্ধকারে আমাজন
বা (দেখুন) সুন্দরবনের গাছ মাফিয়ারা
কেটে সাফ করে দিচ্ছে।
এই দ্বিচারিতা বন্ধ করতে হবে।
বনাঞ্চল ধ্বংস রোধ করা মানে শুধু পরিবেশ রক্ষা নয়, এটা একটা বৈশ্বিক নিরাপত্তা ইস্যু।

জলবায়ু পরিবর্তন ও বৃক্ষরোপণ

আমাদের করণীয়:

এখন সময় এসেছে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করার।
ব্যক্তিগতভাবে প্লাস্টিক বর্জন বা গাছ লাগানো প্রশংসনীয়, কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন ও বৃক্ষরোপণ
নিয়ে আমাদের প্রচলিত ধারণাটা এবারে পরিবর্তন করার সময় এসেছে।
শুধু চারা রোপণ যথেষ্ট নয়;

  • আমাদের দাবি তুলতে হবে বৃহৎ কাঠামোগত সংস্কারের জন্য। 
  • সরকারকে বাধ্য করতে হবে ‘ক্লিন এনার্জি পলিসি’ গ্রহণ করতে
    এবং বিদ্যমান বন রক্ষায় কঠোর আইন প্রণয়ন করতে।

আমরা যদি এখনই একত্রিত হয়ে আওয়াজ না তুলি, তবে প্রকৃতি তার ভারসাম্য
রক্ষার জন্য মানুষের অস্তিত্বকেই হয়তো সমীকরণ থেকে মুছে ফেলবে। 

মনে রাখবেন—

পৃথিবী আমাদের ছাড়াও বেঁচে থাকবে,
কিন্তু আমরা পৃথিবী ছাড়া বাঁচতে পারব না।

 

(বিবেকানন্দ কিভাবে মারা যান তা জানতে হলে আগে তাঁর সেই লড়াইটা
আমাদের রক্তে মিশিয়ে অনুভব করতে হবে।

কারণ সব লেখা শুধু সাধারণভাবে পড়ে অনুভব করার নয়।

ধরুন–
আপনার-আমার শরীরে বাসা বেঁধেছে মাইগ্রেন, অ্যাস্থমা, ডায়াবেটিস,
লিভারের দীর্ঘস্থায়ী অসুখ আর হার্টের দুর্বলতা– সবগুলো একসাথে।

কল্পনা করুন সেই মুহূর্তটা, যখন প্রতিটা নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়, অথচ মাথা ফেটে
যাচ্ছে যন্ত্রণায়, সাথে বেড়ে যাচ্ছে হৃদস্পন্দন।
স্বামী বিবেকানন্দের সেই অজানা লড়াই, যন্ত্রণার আসল কাহিনী 
পড়ুন– Click: স্বামী বিবেকানন্দের বিশ্বজয়ের আড়ালে এক অজানা যন্ত্রণার ইতিহাস!)


(Articlesবাংলা – আমাদের, আপনাদের পরিবার।
ইমেল আইডি দিয়ে আমাদের সাথে যুক্ত হন।

ফলে যখনই এই ব্লগে কোনো নতুন লেখা পোস্ট করা হবে,
সবার আগে আপনিই পাবেন নোটিফিকেশন। 

লেখাটা ভালো লাগলে,
শেয়ার করে বন্ধুদের পড়ার সুযোগ করে দিন।
মূল্যবান মন্তব্যে জানান কেমন লাগলো।)

ইমেইল আইডি দিয়ে যুক্ত হন

We don’t spam! Read our privacy policy for more info.

About Articlesবাংলা

Welcome to Articlesবাংলা – a vibrant hub of words, ideas, and creativity. This website is the personal archive and creative expression of Tanmoy Sinha Roy, a passionate writer who has been exploring the art of writing for more than seven years. Every article, prose-poem, and quotation you find here reflects his journey, experiences, and dedication to the written word. Articlesবাংলা aims to inspire readers by offering thought-provoking insights, celebrating the richness of Bengali language and literature, and creating a space where ideas, imagination, and culture connect. Whether you are seeking literary reflections, prose-poems, diverse articles, or meaningful quotations, you are invited to explore, reflect, and be inspired.

Check Also

স্বামী বিবেকানন্দ কিভাবে মারা যান: অজানা যন্ত্রণার ইতিহাস

স্বামী বিবেকানন্দের বিশ্বজয়ের আড়ালে এক অজানা যন্ত্রণার ইতিহাস!

বিবেকানন্দ কিভাবে মারা যান তা জানতে হলে আগে তাঁর সেই লড়াইটা আমাদের রক্তে মিশিয়ে অনুভব …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *