মানুষ সংবাদ টিভি চ্যানেল বা নিউজ চ্যানেল খোলে সত্য জানার জন্য।
আধুনিক সমাজে গণমাধ্যমকে ধরা হয় গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ।
মানুষের এই অগাধ বিশ্বাসকে পুঁজি করে একদল ব্যবসায়ী সংবাদের নামে
যা পরিবেশন করছে, তা কেবল বিভ্রান্তিকর নয় বরং ভয়ঙ্কর।
যখন সাধারণ মানুষ টিভির পর্দার দিকে তাকিয়ে থাকে সঠিক তথ্যযুক্ত সংবাদের আশায়,
তখন সেই বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে তাদের মগজ ধোলাই করা হয় চটকদার গ্রাফিক্স,
উচ্চৈঃস্বরে চিৎকার আর নির্জলা মিথ্যে দিয়ে।
আজ ভারতের মূলধারার কিছু সংবাদমাধ্যম তথ্যের আদান-প্রদান ছেড়ে
স্রেফ ‘ভয়ের ব্যবসা’ আর ‘টি আর পি’র ইঁদুর দৌড়ে মেতে উঠেছে।
বুর্জ খলিফা যখন
নিউজ স্টুডিওতে ধুলিসাৎ:
সম্প্রতি ইরান-ইসরায়েল-আমেরিকা যুদ্ধ সংবাদে ভারতীয় কিছু নিউজ চ্যানেল
আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল তাদের আসল কঙ্কালসার চেহারা।
অবিশ্বাস্য মনে হলেও সত্যি যে,
‘ইন্ডিয়া নিউজ’ তাদের গ্রাফিক্সে সরাসরি দুবাইয়ের আইকনিক
বুর্জ খলিফাকে ভেঙে পড়তে দেখালো।
টাইমস নাও এক ধাপ এগিয়ে দাবি করল, মিসাইল দিয়ে বুর্জ খলিফাকে হিট করা হয়েছে।
এমনকি নিউজ ১৮ (News 18) সগর্বে প্রচার করল যে সেই কাল্পনিক হামলার
এক্সক্লুসিভ ভিডিও নাকি কেবল তাঁদের হাতেই আছে।
থাম্বনেইলে তো এমনভাবে আগুন লাগার দৃশ্য দেখানো হল, যেন বাস্তবেই সব শেষ হয়ে গেছে।
অথচ বাস্তবে দুবাইয়ে এমন কোনো ঘটনাই ঘটেনি।
সাধারণ মানুষের ড্রইংরুমে বসে চ্যানেলগুলো যুদ্ধের এমন বিভীষিকা তৈরি করল,
যার কোনো অস্তিত্বই নেই।

সংবাদ টিভি চ্যানেল:
ভিডিও চুরি আর
বিভ্রান্তিকর প্রচার:
কেবল খবর বানিয়েই তারা ক্ষান্ত হয়নি,
অন্যের ভিডিও নিজের বলে চালানো বা ভুল প্রসঙ্গে ভিডিও দেখানো
এখন যেন এদের নিত্যদিনের কাজ।
রাহুল শিবশঙ্কর ও
অঞ্জনা ওম কাশ্যপ:
এনারা দুজনেই প্রবীণ সাংবাদিক।
এই দুই সাংবাদিক বাহরাইনের একটা কয়েক দিনের আগের ভিডিও শেয়ার করে
দাবি করলেন যে দুবাইয়ে হামলা হচ্ছে।
সংবাদ টিভি চ্যানেল:
এনডিটিভি (NDTV) ও
আদিত্যরাজ কৌল:
সৌদি আরবে মার্কিন দূতাবাসে হামলার খবর দেওয়ার সময় তাঁরা এমন এক
পুরনো ভিডিও ব্যবহার করলেন, যার সাথে বর্তমান ঘটনার কোন সম্পর্ক নেই।
খবর সত্যি হলেও অসংলগ্ন ভিডিও দেখিয়ে আতঙ্ক তৈরি করাই ছিল লক্ষ্য।
টাইমস নাও (Times Now) ও রিপাবলিক টিভি (Republic TV):
তাঁরা এক মহিলার লাইভ স্ট্রিম দেখালো, যেখানে দাবি করা হল ইরানি মিসাইল
তাঁর অ্যাপার্টমেন্ট উড়িয়ে দিচ্ছে।
অথচ তদন্তে দেখা গেছে, ভিডিওটা না দুবাইয়ের না কোনো মিসাইল হামলার।
সবচেয়ে লজ্জাজনক বিষয় হল, এখন আর শুধু পুরনো ভিডিও নয়—
AI জেনারেটেড ভিজ্যুয়াল ব্যবহার করে যুদ্ধের কৃত্রিম ফুটেজ তৈরি করা হচ্ছে।
আর তাই (পড়ুন) যুদ্ধের ময়দানের চেয়ে নিউজ স্টুডিওতে সাইরেনের শব্দ
আজ অনেক বেশি তীব্র।
বিজ্ঞান বনাম জ্যোতিষ:
যখন কুণ্ডলী দিয়ে
যুদ্ধ বিচার হয়
যেখানে গোটা বিশ্ব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটমিক এনার্জি এজেন্সির (IAEA) তথ্য
এবং ভূ-রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে আলোচনা করছে,
সেখানে ভারতীয় মিডিয়া স্টুডিওতে সগর্বে বসিয়েছে জ্যোতিষীদের।
যেমন চিত্রা ত্রিপাঠীর দাবি অনুযায়ী—
এই যুদ্ধ শুরু হয়েছে কারণ ইরানের ‘কুণ্ডলী’ খারাপ ছিল।
কূটনৈতিক টানাপোড়েন বা ট্রাম্পের নীতির চেয়েও তাদের কাছে বড় হয়ে উঠল গ্রহের দোষ।
আবার অন্য একজন জ্যোতিষী ইতিমধ্যে গ্রহণের দোহাই দিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন
যে গ্রহণ শেষ হওয়ার আগেই চীন এই যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়বে।
সে গ্রহণ কবে শেষ হয়েছে, আর চীনও আজ পর্যন্ত ঝাঁপালো না।
উন্নত বিজ্ঞান-প্রযুক্তির যুগে দাঁড়িয়ে জাতীয় টেলিভিশন চ্যানেলে বসে
এগুলো কী ছড়ানো হচ্ছে?
কী ভেবে আনা হল এই জ্যোতিষীদের?
এই স্তরের নিউজ চ্যানেলের সঙ্গে জ্যোতিষীগুলোর সন্ধিই বা কী আছে?
গ্রহ-নক্ষত্র দিয়ে বিশ্ব রাজনীতির বিচার।
মানে ভাবুন একবার বিষয়টা।
মৃত্যুর স্কোরকার্ড:
সংবেদনশীলতার চরম অভাব
নিউজ চ্যানেলগুলোর কাছে মানুষের মৃত্যু এখন কেবল একটা সংখ্যা বা ক্রিকেট ম্যাচের স্কোর।
স্ক্রিনে যেভাবে মানুষের মৃত্যুতে স্কোরবোর্ড বানিয়ে দেখানো হয়—
“১০ জন মারা গেল, ট্রাম্প জিতল, ইরান হারল”—
এসব দেখে মনে হয় টিআরপি’র নেশায় বুঁদ হয়ে এরা বোধহয় মানুষের
জীবনের মূল্য দিতেই ভুলে গেছে।
অর্ণব গোস্বামীর সেই ফাঁস হওয়া (দেখুন) হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট আজও মনে করিয়ে দেয়
এদের আসল মানসিকতা।
পুলওয়ামা হামলার মত মর্মান্তিক ঘটনায় যেখানে গোটা শোকাচ্ছন্ন ছিল,
সেখানে তিনি লিখেছিলেন— “এই অ্যাটাকে আমরা পাগলের মত জিতেছি।”
অর্থাৎ জওয়ানদের রক্ত এদের কাছে কেবল টিআরপি বাড়ানোর রসদ।

সংবাদ টিভি চ্যানেল:
সংবাদের নামে
ভয়ের ব্যবসা:
নিউজ চ্যানেলগুলোর এই আচরণ কেবল এক আকস্মিক ভুল নয়,
বরং সুপরিকল্পিত ব্যবসায়িক কৌশল।
যখন কোনো চ্যানেল যুদ্ধের উত্তেজনায় ঘি ঢালে, তখন তাঁরা আসলে
আপনার আবেগ আর ভয়ের সাথে ব্যবসা করে।
মনোবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘ফিয়ার সাইকোসিস’ (Click: Fear Psychosis).
আপনি যত বেশি আতঙ্কিত হবেন, তত বেশিক্ষণ টিভির সামনে বসে থাকবেন,
আর তাঁদের টিআরপি মিটার তত দ্রুত দৌড়াবে।
অর্থাৎ আপনি আতঙ্ক, উত্তেজনা আর বিভ্রান্তিতে দিন কাটাবেন,
এসব শুনে সমাজে গুজব ছড়াবেন, তাঁরাও কম-বেশি আতঙ্কিত হবেন,
আর চ্যানেলগুলো ফুলে-ফেঁপে উঠবে।
এর সাথে আজ প্রকট হয়ে উঠেছে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রতি অন্ধ আনুগত্য
এবং তাঁদের এজেন্ডা বাস্তবায়নের লড়াই।
কিন্তু এই দৌড়ের মাঝে হারিয়ে যাচ্ছে সাংবাদিকতার সেই মৌলিক আদর্শ— নিরপেক্ষতা।
আজকাল নিউজ স্টুডিওগুলো আর সাধারণ স্টুডিও নেই।
সেখানে ট্যাংক চলছে, মিসাইল উড়ছে, আর অ্যাঙ্কররা এমনভাবে দাঁড়িয়ে কথা
বলছেন যেন তাঁরা সরাসরি রণক্ষত্রে দাঁড়িয়ে আছেন।
এই যে ‘গেমফিকেশন’ বা সংবাদকে একটা ভিডিওগেমের মত পরিবেশন করা—
এটা মানুষের মস্তিষ্ককে সংবেদনহীন করে তুলেছে।
আমরা যখন দেখি স্ক্রিনে গ্রাফিক্সের মাধ্যমে বাড়িঘর ধ্বংস হচ্ছে,
তখন আমাদের অবচেতন মন (Click: Subconscious Mind) এটাকে কেবল একটা
ভিজ্যুয়াল হিসেবে নেয়, এর পেছনে মানবিক ট্র্যাজেডি বা কান্নার আওয়াজ আমাদের
কানে পৌঁছায় না।
মিথ্যে তথ্য ও
অপবিজ্ঞানের দাপট
টিআরপির জন্য মানুষকে বিভ্রান্ত করার ইতিহাস নতুন নয়।
মনে করে দেখুন—
নোটবন্দীর সময় যখন ২০০০ টাকার নোট বাজারে এল,
তখন দেশের প্রভাবশালী কিছু চ্যানেল দাবি করেছিল যে সেই নোটে
‘ন্যানো চিপ’ লাগানো আছে!
দাবি করা হয়েছিল যে মাটির ১২০ ফুট নিচে নোট পুঁতে রাখলেও
স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সরকার তা খুঁজে পাবে।
আজ সেই ২০০০ টাকার নোটই বাজার থেকে গায়েব হয়ে গেল,
কিন্তু সেই সব হাস্যকর দাবী করা চ্যানেলগুলো আজও বুক ফুলিয়ে স্টুডিওতে
বসে জ্ঞানের জ্যোতি ছড়ায়।
তারা একবারও নিজেদের ভুলের জন্য ক্ষমা চাইনি।
ভারতের সংবিধান যেখানে নাগরিকদের মধ্যে বৈজ্ঞানিক মানসিকতা গড়ে তোলার কথা বলে,
সেখানে মূলধারার মিডিয়া সমাজকে মধ্যযুগে ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
যুদ্ধের মত একটা বৈশ্বিক রাজনৈতিক সংকটের সমাধান যখন
জ্যোতিষীদের হাত দিয়ে খোঁজা হয়,
তখন বহির্বিশ্বে ভারতের বুদ্ধিবৃত্তিক ভাবমূর্তি কালিমালিপ্ত হয়।
এটা কেবল সাংবাদিকতার অবক্ষয় নয়,
এটা একটা শিক্ষিত সমাজকে পরিকল্পিতভাবে অশিক্ষিত করার প্রক্রিয়া।
এদের কাছে দেশের স্বার্থের চেয়ে বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে বড় বড় কর্পোরেট স্পন্সর
আর রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধি।
( ইতিহাসে এমন কিছু অপরাধের গল্প আছে,
যেগুলো কেবল অপরাধীর পরিচয় নয়— সমাজের আসল মুখটাও প্রকাশ করে।
এপস্টিন ফাইল-এর কাহিনী তেমনিই এক আয়না,
যেখানে আমরা শুধু এক ব্যক্তির বিকৃত জীবন নয়, বরং ক্ষমতা,
অর্থ ও আইনের জটিল সম্পর্ক দেখতে পাই।
কারণ এই গল্পে সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয়টা শুধু অপরাধ নয়—
বরং এই প্রশ্নটা:
কিভাবে এত বড় অপরাধচক্র বছরের পর বছর চলল,
অথচ আইন তাকে থামাতে পারল না?
আপনি কি জানেন সেই হাড়হিম করা নৃশংস কাহিনী,
যা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল, তাই জেনে নিন এর ভেতরের
দুটো পার্টের লেখায়।
পড়ুন– Click: (পর্ব ১) এপস্টিন ফাইল রহস্য: ক্যারিবিয়ানের নির্জন দ্বীপে অন্ধকার সাম্রাজ্য! )
চতুর্থ স্তম্ভের পতন
ও আমাদের দায়:
একটা সুস্থ গণতন্ত্রে সংবাদ মাধ্যমকে বিবেচনা করা হয় অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে।
ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ করা এবং সাধারণ মানুষের কাছে সত্য পৌঁছে দেওয়াই
ছিল এদের মূল ব্রত।
কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত আজ সেই প্রহরী নিজেই পথভ্রষ্ট।
তথাকথিত এই মূল ধারার সংবাদ মাধ্যমগুলো এখন আর তথ্যের বাহক নয়,
বরং এক একটা রাজনৈতিক বা কর্পোরেট গোষ্ঠীর মুখপাত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই অবক্ষয়, অধঃপতন কেবল সাংবাদিকতার নয়,
বরং গোটা গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য এক অশনি সংকেত।
যখন একটা দেশের প্রধান নিউজ চ্যানেলগুলো জনস্বার্থের ইস্যু বাদ দিয়ে সারাদিন
বিভাজনমূলক বিতর্ক আর কাল্পনিক যুদ্ধের গালগল্প প্রচার করে,
তখন বুঝতে হবে সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর রোধ করার এক সুগভীর চক্রান্ত চলছে।
আমাদের মনে রাখতে হবে,
এই মিডিয়া ট্রায়াল এবং বিভ্রান্তিকর খবরের সবচেয়ে বড় শিকার কিন্তু সাধারণ মানুষই।
যখন কোনো চ্যানেল কোনো নির্দিষ্ট সম্প্রদায় বা দেশের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ায়,
তখন তার প্রভাব সরাসরি গিয়ে পড়ে সাধারণ মানুষের সামাজিক সম্পর্কের ওপর।
পাড়ার মোড়ের আড্ডা থেকে শুরু করে ড্রয়িংরুমের আলোচনা—
সবই এখন বিষিয়ে উঠেছে মিডিয়ার শেখানো বুলিতে।

অথচ বেকারত্ব, স্বাস্থ্যব্যবস্থার বেহাল দশা কিংবা সাধারণ মানুষের
নিত্যদিনের সমস্যাগুলো নিয়ে এদের বিশেষ কোনো মাথাব্যথা নেই।
এরা আপনাকে ব্যস্ত রাখতে চায় কৃত্রিম উত্তেজনা আর অবাস্তব সব ভয় দিয়ে,
যাতে আপনি আসল সমস্যাগুলো নিয়ে প্রশ্ন করার সুযোগ না পান।
তথ্যের সংকট ও
নাগরিক সচেতনতা
এর পাশাপাশি আর একটা ভয়ানক দিক হল,
তথ্যের যাচাই বা ‘ফ্যাক্ট-চেকিং’ (Fact Checking)- এর প্রতি অনীহা।
আজ একজন সাধারণ নাগরিককে সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরের সত্যতা যাচাই করতে হয়,
যেখানে নিউজ চ্যানেলের দায়িত্ব ছিল সেই কাজটা করার।
বড় বড় স্টুডিওতে বসে থাকা অ্যাঙ্কাররা আজ আর সাংবাদিক নেই,
তাঁরা হয়ে উঠেছেন দক্ষ অভিনেতা-অভিনেত্রী।
তাঁদের চিৎকারের আড়ালে ঢাকা পড়ে যাচ্ছে দেশের আসল ছবি।
এই যে যুদ্ধের ময়দান স্টুডিওতে নামিয়ে আনা,
এর একমাত্র উদ্দেশ্য হল মানুষের বিচার বুদ্ধিকে অবশ করে দেওয়া।
কারণ আবেগ আর উত্তেজনায় বুঁদ হয়ে থাকা মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করা অনেক সহজ।
এই চরম সংকটের মুহূর্তে দর্শক হিসেবে আমাদের দায়িত্বও কিন্তু কম নয়।
আমরা যা দেখি, মিডিয়া তাই দেখায়—
এই দোহাই দিয়ে নিউজ চ্যানেলগুলো পার পেয়ে যেতে পারে না।
আমরা যদি এই বিকৃত বিনোদনকে লাইক, শেয়ার বা ভিউ দিয়ে সমর্থন করতে থাকি,
তবে এই বিষবৃক্ষ আরও ডালপালা মেলবে।
অন্ধের মত কোনো খবর বিশ্বাস করার আগে এখন আমাদের দ্বিতীয়বার
ভাবার সময় এসেছে।
খবরের উৎস যাচাই করা এবং বিতর্কিত খবরগুলোর পেছনে
রাজনৈতিক অভিসন্ধি বোঝার চেষ্টা করা এখন বিলাসিতা নয়,
বরং টিকে থাকার জন্য জরুরী।

সংবাদ টিভি চ্যানেল:
এবার বদলানোর
সময় এসেছে:
এই নিউজ চ্যানেলগুলো যা করছে তাতে কেবল দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে না,
নষ্ট হচ্ছে আপনার এবং আপনার পরবর্তী প্রজন্মের চিন্তাশক্তি, বিশ্বাস।
চন্দ্রগ্রহণের সময় খাওয়া যাবে না বা অমুক গ্রহের ফেরে যুদ্ধ লেগেছে—
এমন সব অবৈজ্ঞানিক ও বিভ্রান্তিকর কথাবার্তা আপনার মগজকে তিলে তিলে
প্যারালাইজড করে দিচ্ছে।
যতদিন পর্যন্ত না সাধারণ মানুষ এই বিকৃত বিনোদনের বাড়াবাড়িকে
পুরোপুরি বয়কট করবে, চাপে রাখবে, ভিউ কমতে থাকবে, ততদিন এরা বদলাবে না।
অতএব নিজেদের সময় ও মানসিক স্বাস্থ্য বাঁচাতে এই মিথ্যাচারের কারখানাগুলোর
বাড়াবাড়ির প্রতিবাদ করুন ও দেখা বন্ধ করুন।
( ডাক্তার আসল না নকল— কিভাবে যাচাই করবেন?
আপনার ডাক্তারের যোগ্যতা নিয়ে মনে কোনো সন্দেহ থাকলে আপনি নিজেই তা
অনলাইনে যাচাই করতে পারেন।
আপনি জানেন?
সিআইডি (CID) এবং পুলিশি অভিযানে প্রায়ই এমন সব চক্র ধরা পড়ে,
যারা অন্যের রেজিস্ট্রেশন নম্বর চুরি করে বা
বিদেশের জাল সার্টিফিকেট ব্যবহার করে বড় বড় ও
সাজানো গোছানো চেম্বার খুলে বসে আছে।
তাই নিজের ও নিজের পরিবারের বিপদের কথা মাথায় রেখে
আজই জেনে নিন।
পড়ুন– Click: Doctor Registration Number Check: ডাক্তারের বেশে বিপদ নেই তো? )
[ লেখাটা গুরুত্বপূর্ণ ও তথ্যসমৃদ্ধ মনে হলে শেয়ার করে অবশ্যই সমাজের
অন্যদেরও পড়তে ও জানতে সুযোগ করে দেবেন, এই আশা রাখি।
আরও বিভিন্ন দুর্দান্ত টপিকের ওপরে এরকমই সব বিশ্লেষণধর্মী লেখা
পেতে নিয়মিত আমাদের পেজে চোখ রাখুন।
এ বিষয়ে আপনার গুরুত্বপূর্ণ মতামত জানার অপেক্ষায় রইলাম।
ইমেইল আইডি দিয়ে আমাদের বাঙালির পরিবারের একজন
প্রিয় মানুষ হয়ে উঠুন।
চলুন বাঙালিকে বিশ্বের দরবারে সবাই মিলে একসাথে বারবার তুলে ধরি
চিন্তা, চেতনা আর শব্দের শক্তিতে— একসাথে, সবাই মিলে।
বিশ্ব জানুক—
আমাদের ভারত কি?
বাঙালি কি?
বাংলা শব্দের ক্ষমতাই বা কি? ]
Articlesবাংলা Bangla Articles, Quotes & Prose-Poetry / বাংলা প্রবন্ধ, উক্তি ও গদ্য-কবিতা।




