১৯৮৩-এর অন্ধকারে হারিয়ে যাওয়া লেন্স কাকে দেখেছিল শেষবার?

একটা কঙ্কাল, একটা ক্যামেরা, আর একটা প্রশ্ন–

সত্যিই কি সব গল্প মানুষের বোধের ভেতর লেখা যায়?

বনের নিস্তবদ্ধতার নিচে চাপা

এক ভুলে যাওয়া নাম

সাইবেরিয়ার উত্তর প্রান্তে যে বনটাকে স্থানীয়রা “মৃত বাতাসের এলাকা” বলে,
সেখানে আজও পাখিরা কুজন করে না।
বাতাস বয়, কিন্তু গাছের পাতা কাঁপে না।
সেই বনের গভীরে, ১৯৮৩ সালের এক বরফঢাকা সন্ধ্যায় রহস্যময়ভাবে নিখোঁজ হন এক তরুণ ফটোগ্রাফার– নিকোলাই আর্তেমভ।

১৯৮৩-এর অন্ধকারে হারিয়ে যাওয়া লেন্স কাকে দেখেছিল শেষবার?

কি ছিল নিকোলাই আর্তেমভ রহস্য?

নিকোলাই ছিলেন এমন একজন, যার জন্য ছবি ছিল শুধু নথি নয়–
তা ছিল বাস্তবের ওপরে আরেক বাস্তবের দরজা।
বন্ধুরা তাকে নিয়ে মজা করে বলত,
“নিকোলাই, তুমি মানুষ না– তুমি ক্যামেরার চোখের বাসিন্দা।”

সেদিনও তিনি বনে ঢুকে পড়েছিলেন “অস্বাভাবিক আলো” দেখার গল্প শুনে–
এরপর?
আর ফেরা হয়নি বন্ধুদের মাঝে, পরিবারের কাছে।
তার খোঁজে মিলিশিয়া, স্থানীয় সেনা, এমনকি ভাড়াটে শিকারী পর্যন্ত নিয়োগ করা হয়েছিল।
কিন্তু না, কোনো হদিস বা চিহ্ণই পাওয়া যায়নি।

এরপর, চার দশক ধরে তার নাম কেবল একটা অসমাপ্ত ফাইল, আর একটা হারিয়ে যাওয়া আত্মার গল্প হয়েই ঝুলে রইল সাইবেরিয়ার বাতাসে।

তবে ঠিক হয়েছিল সেদিন?

২০২৩– গ্রীষ্মের শুরু

আর এক ভয়ঙ্কর আবিষ্কার

হঠাৎ সেই ফাইলের দরজা আবার খোলা হল।
একদল বনকর্মী নিয়মমাফিক নিরীক্ষায় বের হয়ে পড়েছিলেন।
কোনো প্রত্যাশা ছিল না, শুধু রুটিন কাজ।
কিন্তু তারা এক জায়গায় পৌঁছাতেই থমকে দাঁড়ায়–
ভ্রু কুঁচকে ওঠে প্রায় সবার।
অজানা এক বিষ্ময়ে শুরু হয় বুক দুরুদুরু, এ কি দেখছে তারা।

ঝোপের নিচে মাটির রঙ অন্যরকম, যেন খুব পুরনো কিছু লুকিয়ে রাখা ছিল।
সেটা সরাতেই যা বেরিয়ে এল, তা দেখে সবার হাড় হিম!

ধুলো-মাটি ও কিছু মরিচা পড়া এক ক্যামেরা, আর এর ঠিক পেছনেই একটা হাড়ের শরীর, এমনভাবে শুয়ে পড়ে আছে,
যেন মৃত্যুর মুহূর্তেও সে সামনে তাকিয়েই ছিল।

সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয়?
কঙ্কালের ডান হাত শক্ত করে ধরা ক্যামেরার শাটারের ওপর জমাট অবস্থায় আটকে আছে।
মনে হয় জীবনের শেষ কম্পনটুকুও গেছে– ক্লিকের ভঙ্গিতে।


(এমন কিছু স্থান আছে, যেখানে মানুষের পদচিহ্নই অপরাধ,

আর সেই অপরাধের শাস্তি নিশ্চিত।
অর্থাৎ বিশ্বের ১০ নিষিদ্ধ জায়গা– যেখানে আজও প্রবেশ নিষেধ!

যেখানে প্রকৃতি কিংবা ক্ষমতা দুটোই বলে দেয়–
“এখানে তোমার স্থান নয়।”
পড়ুন– Click: বিশ্বের ১০ নিষিদ্ধ জায়গা– যেখানে আজও প্রবেশ নিষেধ!)

ক্যামেরার ভেতরের ৩টে অদ্ভুত ছবি

এরপর ক্যামেরার ভেতরে যা পাওয়া গেল, তা আরই ভয়াবহ কিছু।
প্রাচীন ক্যামেরার রোল উদ্ধার করতে গবেষকদের প্রায় তিনমাস লেগে যায়।
সেগুলো পরিষ্কার হওয়ার পর যে ৩টে ছবি বেরিয়ে আসে,
তা পুরনো রহস্যকে আরও গভীর করে দেয়।

প্রথম ছবি– ছায়া, কিন্তু মানুষের নয়

গাছের মাঝামাঝি দাঁড়িয়ে আছে এক দীর্ঘ ছায়া।
মানুষ হলে মাথা, কাঁধ, হাত– সবকিছুর কিছু একটা আকার তো থাকে,
কিন্তু এখানে ছায়া যেন ভুল অ্যানাটমিতে তৈরি।

মাথা অদ্ভুত গোল ও শরীর অস্বাভাবিক লম্বা।

দ্বিতীয় ছবি– ক্যামেরা কাঁপা ভয়

এই ছবিতে শুধু অস্পষ্টতা।
ক্যামেরা এমনভাবে কেঁপে আছে, যেন ফটোগ্রাফারের হাত স্থির ছিল না–
না ঠাণ্ডার কারণে নয়, না উত্তেজনায়; বরং চরম আতঙ্কে।

ব্লারের মধ্যেও মনে হয় কেউ এগিয়ে আসছে।
দূরে….কিছু।

তৃতীয় ছবি– বিতর্কের কেন্দ্রে

নিঃশব্দ বনের গভীরতায় দাঁড়িয়ে আছে এক জম কালো ছায়া-সত্তা।
তার চোখদুটো ফ্ল্যাশের আলোয় এমনভাবে প্রতিফলিত হয়েছে,
যেন কোনো বন্যপ্রাণীর চোখ নয়– বরং কাঁচের মতো স্থির, জীবনের আলো ছাড়া।

এই ছবিটা দেখার পর একজন গবেষক নিম্নস্বরে বলেছিলেন–

“এটা (Click:) অপটিক্যাল ইল্লুশন না হলে অন্য কিছু….যা ব্যাখ্যা করার ক্ষমতা আমার নেই।”    

কঙ্কালের অস্বাভাবিক ভঙ্গি–

মৃত্যু ভয় না স্বীকারোক্তি?

নিকোলাইয়ের দেহাবশেষ যেভাবে পাওয়া গেছে, সেটা সাধারণ মৃত্যুর সাথে মেলে না।

  • না কোনো আঘাত।
  • না প্রতিরোধের দাগ।
  • না ছিন্নভিন্ন পোশাক।
  • তবুও শুধু কঙ্কাল– যেন মৃত্যু এসেছিল নীরবে, স্পর্শ না করেই। 

সে হাঁটু গেড়ে বসেছিল, দু’চোখ সামনে রেখে, ক্যামেরা তাক করা।
যেন জীবনের শেষ ৩০ সেকেণ্ড সে কিছু এমন দেখছিল,
যা তাকে এতটাই স্থির করে রেখেছিল যে, মৃত অবস্থাতেও সে ভঙ্গি ভাঙেনি।

বিজ্ঞানীরা প্রথমে ভাবলেন,
“হয়তো কোনো প্রাণী খেয়ে গেছে, তাই কঙ্কাল পরিষ্কার।”
কিন্তু না–
হাড়ের গায়ে অদ্ভুত চকচকে দাগ পাওয়া গেছে, যা উচ্চ তাপমাত্রায় হাড় শুকিয়ে গেলে হয়।

এ যেন শরীর মুহূর্তে ভেতর থেকে বাষ্পীভূত হয়ে গেছে।

সরকারের পুরনো রিপোর্ট–

একটা রহস্যময় লাইন

নিকোলাই নিখোঁজ হওয়ার পর সোভিয়েত মিলিটারি যে ফাইল তৈরি করেছিল,
তার ডিক্লাসিফিকেশন হয় সম্প্রতি।

ফাইলের শেষ পাতায় মাত্র একটা লাইন–
“উত্তর সীমান্তে অস্বাভাবিক আলো ও তরঙ্গ– তদন্ত এখানে স্থগিত।”

তরঙ্গ?
আলো?
কিসের?

এটুকু লিখে তারা ফাইল বন্ধ করে দেয়।
কেন?
কাউকে আর কিছু জানানো হয়নি।

স্থানীয়দের গল্প–

যেখানে বিজ্ঞান থেমে যায়

সেই বনের কাছের গ্রামের বৃদ্ধারা আজও বলেন– বনের ভেতর কিছু আছে।
মানুষ নয়, পশু নয়, কিন্তু মানুষের ছায়া ধরে।

তাদের ভাষায় একে বলা হয়– “নীরব পথচারী।” 

এরা নাকি সেইসব জায়গায় থাকে, যেখানে আলো যায় না।
মানুষের উপস্থিতি তাদের বিরক্ত করে।
কেউ দেখে না, কিন্তু হঠাৎ আশপাশের শব্দ বদলে যায়, বাতাস স্থির হয়,
আর গাছের ছায়া লম্বা হয়ে যায়।

নিকোলাই কি সেই মুহূর্তেই ক্যামেরা ক্লিক করেছিল?

ভূত, প্রাণী না প্রযুক্তি–

কোনোটাই কি যথেষ্ট ব্যাখ্যা?

রোল বিশ্লেষণ করে গবেষকদের একটা দল জানিয়েছেন–
মাটির নমুনায় মাইক্রোওয়েভ ধরণের পোড়ার চিহ্ন পাওয়া গেছে।
এটা এমন তাপ, যা সাধারণ আগুনে হয় না।

তার ৩ টে সম্ভাবনা তুলে ধরেছেনঃ

  • অজানা জীব বৈশিষ্ট্যের কোনো প্রাণী।
  • গোপন সামরিক প্রযুক্তির দুর্ঘটনা।
  • বা এমন কিছু যা মানুষের ভাষায় এখনও নাম পায়নি।

কোনোটাকেই তারা নিশ্চিত বলতে পারেনি।

নিকোলাই এর শেষ মুহূর্ত–

মৃত্যু না প্রত্যক্ষদর্শীর দায়িত্ব?

কেউ বলেন– নিকোলাই ভুল সময়ে ভুল জায়গায় ছিল।
কেউ বলেন– সে এমন কিছু দেখেছিল, যার অস্তিত্ব মানুষ জানার কথা নয়।
আবার কেউ বলেন– নিকোলাই-এর মৃত্যু কোনো দুর্ঘটনা না;
এটা ছিল নীরব সাক্ষীর শাস্তি।

কিন্তু সত্যি বলতে কি–
নিকোলাই কি ভয় পেয়েছিল?
না কি বিস্ময় তাকে পাথর করে দিয়েছিল?

এটা বোঝা যায় তার ক্যামেরা ধরা হাত দেখে–
শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সে চেষ্টা করেছে যা-ই হোক, তা লেন্সে ধরে রাখতে।

মানুষ হয়তো মরে যায়,
কিন্তু মানুষ যে মুহূর্ত ধরে রাখে– সেগুলো কখনও মরে না।

প্রশ্ন– দেখার যোগ্য সবকিছু কি মানুষের দেখাই উচিৎ?

আজও সেই ক্যামেরাটা একটা ল্যাবে বন্ধ আলমারিতে রাখা আছে।
ছবিগুলো বিতর্কের কেন্দ্র।
বিজ্ঞানীরা বলে– “ব্যাখ্যা পাওয়া যাবে, সময় লাগবে।”

কিন্তু স্থানীয়রা বলে– “তোমরা মানুষ যা বুঝতে পারো না, তা ব্যাখ্যা করার চেষ্টা কোরো না।”

(কিন্তু পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে এখনও রয়ে গেছে
এমন কিছু সম্প্রদায় বা জনগোষ্ঠী–

যারা হাজার হাজার বছর ধরে প্রকৃতি, বিশ্বাস,
পূর্বপুরুষের স্মৃতি আর নিজস্ব সংস্কৃতি আঁকড়ে
এ পৃথিবীতেই জীবনধারণ করে আসছে।

এরা হলো বিশ্বের আদিবাসী উপজাতি।
মানব সভ্যতার ইতিহাসের জীবন্ত দলিল।

পড়ুন– Click: মানবসভ্যতার প্রাচীন কণ্ঠস্বরঃ বিশ্বজুড়ে উল্লেখযোগ্য উপজাতি!)

ফটোগ্রাফার নিকোলাই আর্তেমভ কি সত্যিই কোনো অজানা অস্তিত্ব ক্যামেরায় ধরে ফেলেছিলেন?
কিংবা সেই অস্তিত্ব কি তাকে দেখেছিল– এবং শেষ পর্যন্ত তাকে থামিয়ে দিয়েছিল?

উত্তর নেই।
শুধু একটা কঙ্কাল, একটা ক্যামেরা, আর ৩টে ছবি;
যেগুলো যেন সময়ের বুক থেকে চাপা কণ্ঠে বলে–

“সত্যি সবসময় চোখে দেখা যায় না– 
কিন্তু সবসময় তাকিয়ে থাকে।”

আর এ কারণেই নিকোলাই আর্তেমভ রহস্য–
মানুষের কাছে আজও অমীমাংসিত এক কাহিনী হয়েই জীবিত আছে।

(বিঃদ্রঃ সমস্ত ঘটনাটা কাল্পনিক হয়ে আছে।

ইন্টারনেটে এর কোনো তথ্য Articlesবাংলা খুঁজে পায় নি।
সাইবেরিয়া সরকার এই সমস্ত ছবির কোনো অস্তিত্ব গ্রহণ করে নি।)

ইমেইল আইডি দিয়ে যুক্ত হন

We don’t spam! Read our privacy policy for more info.

About Articlesবাংলা

Welcome to Articlesবাংলা – a vibrant hub of words, ideas, and creativity. This website is the personal archive and creative expression of Tanmoy Sinha Roy, a passionate writer who has been exploring the art of writing for more than seven years. Every article, prose-poem, and quotation you find here reflects his journey, experiences, and dedication to the written word. Articlesবাংলা aims to inspire readers by offering thought-provoking insights, celebrating the richness of Bengali language and literature, and creating a space where ideas, imagination, and culture connect. Whether you are seeking literary reflections, prose-poems, diverse articles, or meaningful quotations, you are invited to explore, reflect, and be inspired.

Check Also

জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রযুক্তির বিভ্রম এবং প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কাল্পনিক দৃশ্য।

জলবায়ু সংকট চরমে: গাছ লাগালেও কি শেষ রক্ষা পাবো আমরা?

গত এক দশকে— “জলবায়ু পরিবর্তন ও বৃক্ষরোপণ” বা “গাছ লাগান পৃথিবী বাঁচান”— এই বাক্যটা প্রায় …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *