প্রেমের দ্বৈত নীতি
প্রেম মানুষকে পরিপূর্ণ করে,
আবার ভেঙেও দেয়–
এটাই প্রেমের দ্বৈত নীতি।
সব প্রেম তোমার জীবনের জন্য তৈরি নয়,
কিছু প্রেম,
শুধু শেখাতে আসে।
পরিচিত যখন অচেনা হয়
একসময় যার কণ্ঠস্বর ছিল তোমার প্রিয় সকালের প্রথম আলো;
আজ সেই মানুষটাই হয়ে দাঁড়ায় তোমার নীরবতার ঘন অন্ধকার।
কি অদ্ভুত মহাজাগতিক পরিহাস!
একই মানুষ, একই নাম, একই স্পর্শ,
অথচ হৃদয়ের গভীরে এদের সমস্ত অর্থ আজ বিপর্যস্ত, শূন্য।
কিভাবে একই চোখে চোখ রেখেও,
একদিন মানুষ অপরিচিত হয়ে যায়।
স্বপ্ন নিভে যাওয়া চোখে,
হৃদয়ে অন্ধকারের পর্দা
যে চোখে তুমি একদিন ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলে;
আজ সেই চোখই মুখের উপর নির্মমভাবে দরজা বন্ধ করে দেয়।
জানিয়ে দেয়–
আমাদের পথ এখানেই শেষ, সব আলো নিভে গেল;
স্বপ্নের ছাই-গন্ধটুকু বাতাসে ভেসে থাকে,
আর হৃদয়ের ভিতর নেমে আসে অন্ধকারের পর্দা।
যত্নহীন হৃদয়
প্রেম ভাঙার শব্দটা বড় নীরব।
তা কাঁচের মতো চিৎকার করে না;
শুধু শুকিয়ে যায়,
একটা শিশু গাছের মত যত্ন, পরিচর্যার অভাবে;
এরপর নেমে আসে অবধারিত মৃত্যু!
স্মৃতিতে ঝুলে থাকা করুণ নীরবতা
এই নীরবতা শুধু কথা না বলার নয়–
এ আত্মার এক করুণ নির্বাসন,
যেখানে প্রিয় মানুষটাও আর আশ্রয় নয়;
তুমি বাঁচো শুধু তারই স্মৃতিতে ঝুলে থেকে,
যেন নড়লেই মাটিটা ভেঙে যাবে।
একাকী হৃদয়ে থমকে থাকা শ্বাস
যেন অস্তিত্বটুকু টিকিয়ে রাখার শেষ চেষ্টায়,
প্রতিটা স্মৃতি আবার নতুন করে ভাঙে–
আর প্রতিটা নিঃশ্বাস মনে করিয়ে দেয়
তুমি একা;
তবুও তাকে ছাড়ার কথা ভাবলেই,
শ্বাসটা বুকের কাছে থমকে যায়।
প্রেম ভাঙার চিহ্ন আত্মায়
প্রেম ভাঙার যন্ত্রণা শরীরে লাগে না,
আত্মায় চিহ্ন কাটে।
যে মানুষটা একসময় তোমার হাসির কারণ ছিল,
সে-ই এখন তোমার শ্বাস নেওয়ার কারণকে,
বেদনাদায়ক করে তোলে।
( আজও রাতে দরজা খুলে রেখে ঘুমাই-
ভেবে নিই তুমি আসবে দেরিতে।
তোমার ফোন নম্বরটা ডিলিট করিনি-
কোনও দিন যদি কল আসে তোমার ঠিকানা থেকে!
পড়ুন– Click: চিঠি! )
নীরব রাতের ভয়
ঘুমোতে চাও,
সে-ও চোখে আসে না।
বালিশে মাথা রাখলেই;
স্মৃতিগুলো ছুরি হয়ে উঠে বসে বুকের উপর।
একা থাকা আজ ভয়ানক–
আর মানুষের ভিড়, এর চেয়েও ভয়ঙ্কর;
কারণ সেখানে নিজেকেই আরও বেশি অচেনা লাগে।
স্মৃতিতে ভরা বন্ধ ঘর
তুমি তখন মনে হও,
একটা বন্ধ ঘর–
যেখানে আলো আসতে চায়,
কিন্তু প্রতিটা ফাঁকায় উঁকি দেয় স্মৃতি;
যেন ওরাই শুধু ঢুকবে।
ভিতরের নীরব প্রতিধ্বনি
হতাশা আসে চিৎকার করে নয়–
শব্দহীন।
একদিন জেগে দেখো,
মনটা নিজের কাছেই অচেনা হয়ে গেছে।
বাইরে মানুষ হাসছে,
তুমি দেখছো, শুনছো–
কিন্তু ভিতরে এর কোনো প্রতিধ্বনি নেই।
নীরব আলোহীনতা
চোখে আলো পড়ে,
কিন্তু হৃদয়ে পৌঁছানোর আগেই,
সে আলো নিভে যায়–
যেন কেউ ইচ্ছে করে সুইচ অফ করেছে।
আত্মার ভিতরে অস্থিরতা
প্রেম ভাঙা মানে–
আত্মার নিচে জমে থাকা ভূমিকম্প।
বাইরে সবকিছু গোছানো,
স্বাভাবিক, পরিচ্ছন্ন–
কিন্তু ভিতরের ভিত্তি,
নিঃশব্দে চিরে গেছে।
ভালোবাসার অসম গণিত
জীবনের এক অদ্ভুত গণিত আছে–
তোমার দেওয়া ভালোবাসা,
সবার কাছে সমান হয়ে পৌঁছায় না।
তাই যার কাছে তুমি,
সবটুকু দিয়ে বসেছিলে,
সে-ই হয়তো–
তোমার অনুপস্থিতিতে,
হালকা নিঃশ্বাস ফেলে,
স্বস্তিতে বাঁচে।
অন্যের মুছে ফেলা ভবিষ্যৎ
আর তুমি?
তখনও তাঁর অনুপস্থিতিকে আঁকড়ে,
ভবিষ্যতের সম্ভাবনা খোঁজো;
যে ভবিষ্যৎ–
সে অনেক আগেই,
মুছে ফেলেছে নিজের ভিতর থেকে।
শেষ পর্যন্ত আমরা শিখি–
প্রেমের দ্বৈত নীতি কতটা নির্মম,
তবুও কত সত্য।
( রাজনীতির গন্ধ এখন পচে গেছে,
সেই গন্ধে লুকিয়ে আছে পচনের পুরোহিতরা,
যারা দিনে ভাষণ দেয় ন্যায় নিয়ে,
রাতে ভাগ করে নেয় অন্যায়ের কমিশন।
পড়ুন– Click: অভয়া নয়, মারা গেছে রাষ্ট্রের বিবেক! )
Articlesবাংলা Bangla Articles, Quotes & Prose-Poetry / বাংলা প্রবন্ধ, উক্তি ও গদ্য-কবিতা।





