শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠান:
৩০০০ বছরের অভ্যাস,
প্রথা নাকি প্রজন্মের অন্ধত্ব?
হিন্দু শাস্ত্র মতে, শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠান মূলত পূর্বপুরুষের আত্মার সম্মান, শান্তি এবং তাঁদের আশীর্বাদ কামনায় দান-ধ্যান ও অতিথি ভোজন করানোর সামাজিক অনুষ্ঠান।
ঐতিহাসিকদের মতে, এই প্রথার শিকড় প্রোথিত রয়েছে বৈদিক যুগে (আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ১০০০-৫০০ অব্দ)।
অর্থাৎ প্রায় ২,৫০০-৩০০০ বছর ধরে এই নিয়ম আমাদের রক্তে মিশে আছে।
দীর্ঘদিনের এই অভ্যাস আজ আমাদের সমাজে এক মর্যাদাপূর্ণ প্রথায় পরিণত হয়েছে,
যাকে নির্দ্বিধায় এক ‘কুসংস্কার’ বলা যেতে পারে।
এবং শুধু তাই নয়, অনেকেই আজও এটাকে কুসংস্কার বলেই মানে।

পূর্বপুরুষ থেকে চলে আসা এই প্রথার প্রতি আমাদের আস্থা ও আবেগ এতটাই অন্ধ যে,
এর বিপক্ষে কেউ যুক্তি দিলে তাঁকে আমার-আপনার ‘বদ্ধ উন্মাদ’, ‘ভণ্ড’ বা ‘হিন্দু-বিরোধী’ মনে হতেই পারে।
আর মনে হওয়াটাই স্বাভাবিক।
কারণ ইতিহাসের প্রতিটা বাঁকে যখনই কেউ প্রচলিত অন্ধবিশ্বাসের মূলে কুঠারাঘাত করেছেন,
সমাজ তাঁকে এভাবেই আক্রমণ করেছে।
একবার ভাবুন তো—
রাজা রামমোহন রায়:
সতীদাহ প্রথা বন্ধের লড়াইয়ে তাঁকে তৎকালীন রক্ষণশীল সমাজ চরম অপদস্ত ও আক্রমণ করেছিল।
তিনি যদি সেদিন নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তার কথা ভেবে পিছিয়ে আসতেন, তবে আজ আমাদের সমাজ কোথায় দাঁড়িয়ে থাকত?
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
বিধবা বিবাহ প্রচলনের জন্য সেই রক্ষণশীল সমাজ দ্বারা তাঁকে অকথ্য গালিগালাজ ও অপমান সহ্য করতে হয়েছিল।
যদি তিনি তা ভেবে পিছিয়ে আসতেন?
গ্যালিলিও?
তিনি সমর্থন করেছিলেন নিকোলাস কোপারনিকাসের সেই তত্ত্বকে, যেখানে বলা হয়—
পৃথিবী নয়, সূর্য মহাবিশ্বের কেন্দ্রে এবং পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘোরে (হেলিওসেন্ট্রিক তত্ত্ব).
কিন্তু সেই সময়ে ইউরোপে অত্যন্ত শক্তিশালী ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান—
রোমান ক্যাথলিক চার্চ এই ধারণাকে ধর্মবিরোধী বলে ঘোষণা করে।
জীবনের শেষ সময়ে গৃহবন্দি হয়ে, এর ভয়াবহ মাশুলও গুনতে হয় গ্যালিলিওকে।
তিনি যদি এই পরিণামের বিষয়ে আঁচ করে চুপ থাকতেন, তবে বিজ্ঞানের জয়যাত্রা কি সম্ভব হত?
সক্রেটিস?
প্রাচীন গ্রিসের একজন কালজয়ী দার্শনিক।
তাঁর মহাদোষ কী ছিল?
প্রশ্ন ও যুক্তির মাধ্যমে সমাজকে নতুনভাবে ভাবতে শেখানো।
এর জন্য ‘যুবসমাজকে বিপথে চালিত’ করার অভিযোগে তাঁকে বিষপানে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
যদি তিনি তা না করতেন?
চার্লস ডারউইন?
তাঁর বিবর্তন তত্ত্ব প্রকাশের পর বহু ধর্মীয় গোষ্ঠী তাঁকে তীব্রভাবে আক্রমণ করে,
কারণ এতে মানুষের উৎপত্তি সম্পর্কে প্রচলিত বিশ্বাসকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছিল, অর্থাৎ তা ভেঙে গুঁড়িয়ে যাচ্ছিল।
তিনি সে সমাজে বিপদের কথা ভেবে যদি তাঁর তত্ত্ব প্রকাশ না করতেন?
এরপরেও রয়েছে—
জ্যোতিরাও ফুলে, ডক্টর বি আর আম্বেদকর ও মার্টিন লুথারের মত সব ব্যক্তিত্বরা।
শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠান:
এই উদাহরণ কী শেখায়?
১. মহৎ কাজের বিরোধিতা প্রথমে হবেই।
২. সমাজে প্রচলিত কোনো প্রথা বহু পুরনো হলেই যে তা সঠিক— এমন নয়।
৩. প্রথা কত বছরের পুরনো, এর গভীরতা মানুষের হৃদয়ে কত বড় জায়গা জুড়ে, তা বড় কথা নয়—
বরং প্রথাটা মানবিক ও যুক্তিযুক্ত কি না, সেটাই আসল বিচার্য।
৪. সমাজে বড় পরিবর্তন আনতে কিছু সাহসী মানুষের প্রয়োজন হয়, যারা প্রচলিত ধারণাকে প্রশ্ন করতে পারেন।
৫. ইতিহাসে যাঁদের এক সময় নিন্দা করা হয়েছে, পরবর্তীকালে তাঁরাই অনেক সময় সমাজের পথপ্রদর্শক হয়ে ওঠেন।
৬. অন্ধভাবে প্রথা মানার চেয়ে যুক্তি ও মানবিকতার আলোকে তা বিচার করা জরুরি।
মৃত্যু শোকের, মৃত্যু স্তব্ধতার!
কিন্তু আমাদের সমাজের মৃত্যু যেন এক আয়োজনের উপলক্ষ্য।
প্রিয়জনকে হারানোর দগদগে ক্ষত বুকে নিয়ে যখন একটা পরিবার শোক পালন করার কথা,
তখন তাঁদের ব্যস্ত থাকতে হয় বাজারের তালিকা, ক্যাটারারের মেনু আর নিমন্ত্রিতদের আপ্যায়নে।
প্রশ্ন জাগে, এই যে শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে শত শত মানুষকে ডেকে ঘটা করে খাওয়ানো—
এটা কি মৃত আত্মার প্রতি প্রকৃত সম্মান, আভিজাত্য প্রদর্শনের এক কুৎসিত সামাজিক মহড়া—
নাকি সামাজিক মর্যাদা রক্ষার এক অর্থহীন লৌকিকতা?
সময় এসেছে—
এই প্রথা নামক ‘অমানবিক বোঝা’টা ছুঁড়ে ফেলে দেওয়ার।
শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠান:
কেন এই ভোজ?
১. দান ও পুণ্য (শাস্ত্রীয় ভিত্তি):
এটা শাস্ত্রের একটা প্রতিষ্ঠিত দিক।
গরুড় পুরাণ বা মনুস্মৃতি অনুযায়ী—
শ্রাদ্ধে ব্রাহ্মণ বা দরিদ্রকে অন্ন দান করলে সেই দান সরাসরি বিদেহী আত্মার কাছে পৌঁছায় (তৃপ্তি দেয়)
এবং দাতার পুণ্য হয়।
তাই শাস্ত্রীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এই যুক্তিটা একদম সঠিক।
২. সামাজিক স্বীকৃতি
(ঐতিহাসিক ও প্রচলিত ভিত্তি):
আগেকার দিনে কোনও পরিবারের প্রধান মারা গেলে তাঁর উত্তরাধিকার কে হবেন বা পরিবারের দায়িত্ব কার হাতে গেল,
তা সমাজকে জানানোর জন্য শ্রাদ্ধই ছিল একমাত্র আনুষ্ঠানিক মাধ্যম।
একে ‘সামাজিক গেট-টুগেদার’ হিসেবেও দেখা হত।
এই যুক্তিটাও ঐতিহাসিকভাবে নির্ভুল।
শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠান:
৩. আত্মার তৃপ্তি
(প্রচলিত লোকবিশ্বাস):
এটা মূলত একটা সাইকোলজিক্যাল বা মানসিক বিশ্বাস।
সাধারণ মানুষের মনে এই ধারণা গেঁথে দেওয়া হয়েছে যে, নিমন্ত্রিতরা খেয়ে, তৃপ্তি করে ঢেঁকুর তুললে,
তবেই মৃত আত্মা শান্ত হয়।
এটা শাস্ত্রীয় তত্ত্বের চেয়েও প্রচলিত বিশ্বাসের ওপর বেশি দাঁড়িয়ে আছে।
( আমাদের কলকাতার নিচে মাটির অবস্থা জানেন?
জানেন কী অবস্থায় আমরা সবাই বাস করছি?
কী হতে পারে যে কোনো সময়ে?
কলকাতা ও সুন্দরবন এলাকা জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মারাত্মক
বিপদের গ্রাসে ঝুলে আছে।
২৭ শে ফেব্রুয়ারী ২০২৬ এর ভূমিকম্প মনে পড়ছে?
এটা কিন্তু ছিল একটা আগাম বিপদ সংকেত!
সাতক্ষীরা থেকে ১৭ কিমি দূরত্বে মাটির গভীরে হওয়া এই কম্পন প্রমাণ করে যে
আমাদের পায়ের নিচের মাটি স্থির নেই।
তাই এখুনি জেনে নিন বিস্তারিত আর জানিয়ে সাহায্য করুন আপনার পরিচিতদের।
পড়ুন– Click: ভূমিকম্প কলকাতা (Earthquake Kolkata): কতটা ঝুঁকিতে আমাদের শহর? )
স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতী:
আর্য সমাজের প্রতিষ্ঠাতা তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘সত্যার্থ প্রকাশ’-এ দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেছিলেন যে,
মৃত মানুষের উদ্দেশ্যে ভোজ খাওয়ানো আসলে একপ্রকার সামাজিক ভণ্ডামি।
তাঁর মতে, জীবিত থাকাকালীন মানুষের সেবা করাই প্রকৃত ধর্ম।
মৃত্যুর পর পুরোহিতনির্ভর জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠান সমাজকে কেবল দুর্বলই করে।
আয়োথি থাস ও
স্বামী অচ্যুতানন্দ:
দক্ষিণ ভারতের এই মনীষীরা এবং উত্তর ভারতের আদি হিন্দু আন্দোলনের নেতারা স্পষ্টভাবে দেখিয়েছিলেন যে,
শ্রাদ্ধের এই উৎসবগুলো আসল মানুষের ওপর একপ্রকার সামাজিক চাপ।
বিশেষ করে দরিদ্র মানুষের ওপর এটা একটা অর্থনৈতিক অভিশাপ!
বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি:
শুধু ভারত নয়,
বিশ্বজুড়েই প্রতিবাদ
ব্যক্তিগত ও সামাজিক সংস্কারের আন্দোলনে পশ্চিমা চিন্তাবিদরাও এই অপচয় নিয়ে সরব হয়েছেন।
বার্ট্রান্ড রাসেল:
বিংশ শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ দার্শনিক যুক্তি দিয়েছিলেন যে,
ভয় এবং মৃতদের প্রতি অতিরিক্ত আচ্ছন্নতা মানুষকে যুক্তিহীন করে তোলে।
তাঁর মতে, শোক পালনের সবচেয়ে ভালো উপায় হল মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ, ভোজের আয়োজন নয়।
জর্জ বার্নার্ড শ:
তিনি মজার ছলে বলেছিলেন যে,
মানুষ মৃতদের সম্মানে নয় বরং নিজেদের পেট ভরাতেই শোকের বাড়ি যায়।
বেঁচে থাকতে যত্নহীন,
মৃত্যুর পরে ভোজ:
মানুষ বেঁচে থাকাকালীন—
আমরা তাঁর সঙ্গে কথা বলার, খোঁজ নেওয়ার সময় পাই না।
তাঁর চিকিৎসা বা একাকিত্বের খোঁজ নিই না।
কিন্তু মৃত্যুর পরে শত মানুষকে খাওয়াই।
এটা কি সত্যিই শ্রদ্ধা বলে?
আত্মার শান্তি কি শুধু খাওয়ানোর মাধ্যমেই?
ধরা যাক আত্মার শান্তি সত্যিই দরকার।

তাহলে—
- গরিবের চিকিৎসা করালে।
- একটা স্কুলে বই দিলে।
- কিছু গাছ লাগালে।
- কোনো ছাত্রের পড়াশোনার দায়িত্ব নিলে।
- কিংবা সেই টাকা দিয়ে হাসপাতালে অক্সিজেন সিলিন্ডার দান করলে।
আত্মার শান্তি কি হবে না?
তবে খাওয়াতেই হবে কেন?
প্রিয়জনের মৃত্যুর শোকের বাড়িতে যেখানে নিস্তব্ধতা আর স্মরণের প্রয়োজন ছিল,
সেখানে মশলার উগ্র গন্ধ আর খাওয়ার লাইন, এটা কি সত্যিই মানবিক?
সামাজিক পরীক্ষা:
একটা সহজ মনস্তাত্বিক ও সামাজিক পরীক্ষা করা যাক।
যাদের শ্রাদ্ধে ডেকে খাওয়ানো হবে, তাঁদেরকেই গিয়ে প্রশ্ন করা হোক—
যে মানুষটা আজ মৃত্যুর মুখে, তাঁর মৃত্যুর পর শত শত মানুষকে ডেকে খাওয়ানো কী বেশি জরুরী,
নাকি সেই টাকায় তাঁর জীবিত অবস্থাতেই আরও ভালো চিকিৎসা, যত্ন-আত্তি আর সেবা করা বেশি মানবিক?
সত্যি কথা বলতে কী, হয়ত অধিকাংশ মানুষই বলবেন—
মৃত্যুর পরের ভোজ নয়, জীবিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোই আসল কর্তব্য।
তবুও আশ্চর্যজনকভাবে সমাজে আমরা ঠিক এর উল্টোটাই করে চলেছি।
যেন এটা কোনো দৈববাণী, যাকে প্রশ্ন করাও অপরাধ।
কিংবা সংবিধান স্বীকৃত কোনো অটল বিধান।
( দেখুন: শ্রাদ্ধ বাড়ির অনুভূতি )
( আরও দেখুন: শ্রাদ্ধ বাড়ির Vlog )
( দেখুন: শ্রাদ্ধ বাড়ির খুশির রিল )
শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠান:
দরিদ্রের কান্না,
এক মরণ ফাঁদ
এই প্রথার সবচেয়ে নিষ্ঠুর শিকার হল সাধারণ গরিব মানুষ।
একটা মধ্যবিত্ত বা নিম্নবিত্ত পরিবারের প্রধান বা কেউ যখন মারা যান,
তখন পরিবারটা এমনিতেই অভিভাবক বা সদস্যহীন হয়ে পড়ে।
কিন্তু এই ‘লোকে কি বলবে’ এই ভয়ে তাঁদের জমি বন্ধক রেখে বা চড়া সুদে ঋণ নিয়ে কয়েকশ মানুষকে খাওয়াতে হয়।
যে মৃত আত্মার শান্তির জন্য এই আয়োজন,
সেই আত্মা কি তাঁর সন্তানদের বা প্রজন্মের এই দুর্দশা দেখে শান্তিতে থাকতে পারেন?
এটা আসলে ধর্মের নামে একটা ‘অর্থনৈতিক শোষণের ফাঁদ’, যেখানে পা না দিলে সমাজ একঘরে করার ভয় দেখায়।

ঠিক মতন খোঁজখবর নিলে হয়ত পরিসংখ্যান জানা যাবে—
গ্রামাঞ্চলে এ ধরনের ঘটনা ঠিক কি পরিমাণে ঘটেছে বা ঘটে চলছে।
শুধু একটা কারণে— ‘সমাজ কী বলবে?’
ধরা যাক একজন দরিদ্রের বাবা মারা গেছেন।
সমাজ বা পুরোহিত তাঁকে বলছে— “শ্রাদ্ধে ২০০ লোক খাওয়াতে হবে।”
ফল?
যে মানুষটা সারা জীবন কষ্ট করে সংসার চালিয়েছেন,
তাঁর মৃত্যুর পরে তাঁর পরিবারের ওপর নেমে আসে নতুন অর্থনৈতিক দুর্দশা!
এটাই কি শ্রদ্ধা?
এটা অনুভব করে তিনি কী খুশি হন?
শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠান:
অন্ধ প্রথা বনাম
জাগ্রত বিবেক
শ্রাদ্ধের ভোজ আসলে শ্রদ্ধার চেয়েও বেশি এক ‘সামাজিক ভণ্ডামি।’
আমরা সেই জাতি, যারা জীবিত অবস্থায় মানুষকে অবহেলা করি,
অথচ মৃত্যুর পর তাঁর নামে কয়েকশ মানুষকে খাইয়ে পূণ্য খুঁজি।
বিবেককে জাগিয়ে একবার ভালো করে ভাবুন—
- অন্যের উদরপূর্তি কীভাবে বিদেহী আত্মার মুক্তির কারণ হতে পারে?
- শোকের বাড়িতে রান্নার উগ্র গন্ধ আর পাতের মাছ নিয়ে নিমন্ত্রিতদের অভিযোগ কি মৃত ব্যক্তির স্মৃতির প্রতি চরম উপহাস নয়?
আমাদের লড়াই ধর্মের বিরুদ্ধে নয়।
ধর্মের নামে চলার শোষণের বিরুদ্ধে।
সতীদাহ প্রথাও একসময় ‘সনাতন’ ছিল, কিন্তু আজ তা অপরাধ।
একইভাবে, শোকার্ত পরিবারকে ঋণের দায়ে ডুবিয়ে লোক খাওয়ানো কোনো ধর্ম হতে পারে না।
যে ঈশ্বর সৃষ্টি করেন,
তিনি কি সত্যিই একটা পরিবারের হাহাকার আর ঋণের বিনিময়ে কাউকে শান্তি দেন?
তাই আসুন মানুষ হয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াই।
ভোজের টাকা দিয়ে একটা অভাবী শিশুর পড়াশোনার খরচের দায়িত্ব নেওয়া হোক,
হোক গাছ লাগানো বা অন্য কোনও মানবিক কাজ।

সমাজ কী বলবে সেই ভয় ভুলে আজই পরিবর্তনের পথে চলুন হাঁটি।
নচেৎ এই তথাকথিত প্রথার বলি হয়ে আগামীতে আরও লক্ষ লক্ষ দরিদ্র পরিবার সর্বশান্ত হবে।
—————–
অন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু:
( আপনি নিশ্চয়ই শাহরুখ খান বা রণবীর কাপুরকে চেনেন।
আবার এদিকের রুপোলি পর্দার মহাতারকা দেব, জিৎ কিংবা অনির্বাণ ভট্টাচার্যের
প্রত্যেকটা সিনেমার আপডেট আপনার নখদর্পনে।
তাঁদের স্টাইল, সংলাপ আমাদের ড্রয়িংরুমের আলোচনার অবিচ্ছেদ্য অংশ।
কিন্তু কিঙ্করি দেবীকে চেনেন কি?
জানেন, এই দলিত, অক্ষরজ্ঞানহীন, প্রান্তিক মহিলা কীভাবে হাইকোর্ট থেকে বিশ্বমঞ্চ কাঁপিয়ে ছেড়েছিলেন?
কী ছিল তাঁর সেই অবিশ্বাস্য সংগ্রাম?
ভাবতে পারেন একজন মানুষের অদম্য জেদ তাঁকে কোথায় নিয়ে যেতে পারে?
পড়ুন– Click: পরিবেশ রক্ষায় মাফিয়াদের বিরুদ্ধে এক দলিত নারীর রুদ্ধশ্বাস লড়াই! )
[ আরও এমনই বিভিন্ন দুর্দান্ত টপিকের ওপরে এরকমই সব
বিশ্লেষণধর্মী লেখা পেতে নিয়মিত আমাদের পেজে চোখ রাখুন।
এবং তা আপনার, আপনার প্রতিবেশি, বন্ধুবান্ধব, আত্মীয় তথা সমাজের জন্য।
এ বিষয়ে আপনার গুরুত্বপূর্ণ মতামত জানার অপেক্ষায় রইলাম।
লেখাটা প্রয়োজনীয় মনে হলে অবশ্যই শেয়ার করে
সমাজের অন্যদেরও পড়তে, জানতে সুযোগ করে দেবেন।
ইমেইল আইডি দিয়ে আমাদের বাঙালির পরিবারের একজন
প্রিয় মানুষ হয়ে উঠুন।
চলুন বাঙালিকে বিশ্বের দরবারে সবাই মিলে একসাথে বারবার তুলে ধরি
চিন্তা, চেতনা আর শব্দের শক্তিতে—
একসাথে, সবাই মিলে।
বিশ্ব জানুক—
আমাদের ভারত কি?
বাঙালি কি?
বাংলা শব্দের ক্ষমতাই বা কি? ]
Articlesবাংলা Bangla Articles, Quotes & Prose-Poetry / বাংলা প্রবন্ধ, উক্তি ও গদ্য-কবিতা।




