ডাক্তারের ভগবান রূপ:
Doctor Registration Number— এই একটা বিষয়ে আমরা এখনও সচেতন নই,
প্রায়ই খেয়াল করি না, গুরুত্ব দিই না।
মানুষ যখন অসুস্থ হয়, অসহায় বোধ করে—
তখন সে সবটুকু সমর্পণ করে একজন ডাক্তারের কাছে গিয়ে দাঁড়ায়।
সাদা অ্যাপ্রন পরা সেই মানুষটার ওপর আমাদের বিশ্বাস এতটাই অগাধ যে,
অপারেশন থিয়েটারের ফর্মে সই করার আগে আমরা একবারও ভাবিনা—
কারণ আমরা বিশ্বাস করি।
অর্থাৎ আমাদের জীবন তাঁর হাতে সঁপে দিতে দুবার ভাবি না।
প্রেসক্রিপশনের নিচে ডাক্তারের সই মানে ভরসা, নিরাপত্তা, জীবনের দায়িত্ব।
মুখে বলি—
“ডাক্তারবাবু আপনি ভগবান, আপনিই বাঁচিয়ে দেবেন।”

কিন্তু সাম্প্রতিক একটা খবর সেই বিশ্বাসের ভিত নাড়িয়ে দিয়েছে।
প্রশ্ন উঠছে, আমরা ভবিষ্যতে যাদের কাছে চিকিৎসা করাতে যাব,
তাঁদের যোগ্যতার মাপকাঠি কি তবে কেবল সংখ্যাতত্ত্বের খেলায় আটকে পড়েছে?
তাঁদের যোগ্যতার বিচার কি তবে দায়সারাভাবে হচ্ছে?
নেগেটিভ নম্বর বিতর্ক:
আসল সত্যিটা কি?
সাম্প্রতিক সময়ে NEET PG পরীক্ষায় নেগেটিভ নম্বর নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে।
প্রশ্ন হয়ে উঠছে—
- ডাক্তারের মান কি ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে?
- ভবিষ্যতে আমরা কাদের হাতে চিকিৎসা নেব?
- তা কতটা সুরক্ষিত?
আসুন আগে জেনে নিই—
- NEET PG কি?
- ডাক্তারের PG (Post Graduate) ভর্তি প্রক্রিয়া কিভাবে হয়?
NEET PG হল MD (Doctor of Medicine), MS (Master of Surgery) ইত্যাদি পোস্ট গ্রাজুয়েট
মেডিকেল কোর্সে ভর্তির জন্য জাতীয় স্তরের পরীক্ষা।
এই পরীক্ষা পরিচালনা করে—
‘ন্যাশনাল বোর্ড অব এক্সামিনেশন্স’ বা National Board of Examinations (NBE).
মেডিকেল শিক্ষার নিয়ন্ত্রক সংস্থা—
‘ন্যাশনাল মেডিকেল কমিশন’ বা National Medical Commission (NMC).

পরীক্ষার কাঠামো (সরকারি নিয়ম অনুযায়ী):
- মোট প্রশ্ন ২০০ টা।
- প্রতিটা সঠিক উত্তরে +৪ নম্বর।
- ভুল উত্তরে –১ নম্বর।
- সর্বোচ্চ নম্বর ৮০০.
অর্থাৎ কেউ যদি বেশি ভুল উত্তর দেয়, তাহলে মোট নম্বর শূন্যের নিচে (নেগেটিভ) যেতে পারে।
এটা পরীক্ষার নিয়মের অংশ, নতুন কিছু নয়।
ভর্তির যোগ্যতা
নির্ধারিত হয় কিসের ভিত্তিতে?
ভর্তির যোগ্যতা নির্ধারিত হয় পার্সেন্টাইলের ভিত্তিতে, নির্দিষ্ট নম্বরের ভিত্তিতে নয়।
সাধারণ নিয়ম:
- জেনারেল ক্যাটেগরি: ৫০তম পার্সেন্টাইল।
- এস সি/এস টি/ওবিসি: ৪০তম পার্সেন্টাইল।
এগুলো সাধারণত ধরা হয়।
কিছু বছরে (যেমন কোভিড পরবর্তী সময়ে) আসন ফাঁকা থেকে যাওয়ার কারণে
সরকার কাট-অফ পার্সেন্টাইল কমিয়েছে।
যদি পরীক্ষায় সামগ্রিকভাবে ছাত্রদের নম্বর কম হয়,
তাহলে ৪০তম পার্সেন্টাইলে থাকা ছাত্র-ছাত্রীর নম্বর নেগেটিভও হতে পারে।
গুরুত্বপূর্ণ সত্য:
নেগেটিভ নম্বর মানে এই নয় যে, কেউ পড়াশোনা না করেও ডাক্তার হতে পারবে।
তিনি ইতিমধ্যেই ৫.৫ বছরের [৪.৫ বছরের অ্যাকাডেমিক (৯টা সেমিস্টার)
ও ১ বছরের বাধ্যতামূলক রোটেটরি ইন্টার্নশিপ] এমবিবিএস (MBBS) শেষ করা
একজন স্বীকৃতি চিকিৎসক।
বিতর্কিত তথ্য,
–৪০ নম্বর ও পাসের ছাড়পত্র:
ন্যাশনাল বোর্ড অব এক্সামিনেশনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।
NEET PG পরীক্ষায় –৪০ নম্বর পেলেও নির্দিষ্ট সংরক্ষিত শ্রেণীর প্রার্থীরা
পোস্ট গ্রাজুয়েটে ভর্তির যোগ্য হতে পারেন।
৮০০ নম্বরের পরীক্ষায় কাট-অফ ব্যাপকভাবে কমিয়ে আনায় তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক।
এটা কিভাবে সম্ভব?
এ তো ভবিষ্যতের সর্বনাশের দরজা পুরোপুরি খুলে দেওয়া।
১০০ নয়, ৫০ নয়, এমনকি পাস মার্ক বা ০, তাও নয়।
উল্টে –৪০?
বিশেষজ্ঞ বা স্পেশালিস্ট কোর্সে ভর্তির প্রবেশিকা পরীক্ষায় –৪০?
কি সাংঘাতিক সিদ্ধান্ত!

বিভিন্ন চিকিৎসক সংগঠন প্রশ্ন তুলেছে—
সংরক্ষণ একটা সামাজিক নীতি বা অধিকার হতে পারে,
কিন্তু তার প্রয়োগ কি এমন হওয়া উচিত,
যাতে হাজার হাজার মানুষের জীবন নিয়ে ছেলেখেলা করা যায়?
জনস্বাস্থ্যের ওপর এটা কি একটা বড় প্রশ্ন চিহ্ন নয়?
Doctor Registration Number:
নকল ডাক্তারের রেকর্ড
অন্ধকার দিক:
যোগ্যতার এই বিতর্কের মাঝেই আরেক ভয়ঙ্কর বিপদ হল ভূয়ো চিকিৎসকদের দৌরাত্ম।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম সূত্র, সিআইডি, পুলিশি অভিযান
ও ন্যাশনাল মেডিকেল কমিশনের পর্যবেক্ষণে এক ভয়াবহ ও উদ্বেগজনক ছবি ফুটে ওঠে:
রেকর্ড কি বলছে?
ভারতে এমন সব ভুয়ো ডাক্তার বা চক্র আনাচে-কানাচে থেকেই যায়,
যেখানে সেইসব ব্যক্তি কোনো বৈধ ডিগ্রী ছাড়াই ডাক্তারের পরিচয় দিয়ে প্র্যাকটিস করছেন।
বিশেষ করে গ্রাম বা মফস্বলের প্রত্যন্ত এলাকায় এই সংখ্যাটা বেশি।
সেখানে বিশেষজ্ঞ বা এমবিবিএস ডাক্তারের নিদারুণ অভাব ও মানুষের অজ্ঞতা
ও সরলতাকে পুঁজি করেই এই ভুয়ো চিকিৎসক তাঁদের রমরমা কারবার ফেঁদে বসেছে।
Doctor Registration Number:
জাল সার্টিফিকেটের জাল:
সিআইডি (CID) এবং পুলিশি অভিযানে প্রায়ই এমন সব চক্র ধরা পড়ে,
যারা অন্যের রেজিস্ট্রেশন নম্বর চুরি করে বা বিদেশের জাল সার্টিফিকেট ব্যবহার করে
বড় বড় ও সাজানো গোছানো চেম্বার খুলে বসে আছে।
আস্থার সংকট:
যখন আসল ডিগ্রির মানদণ্ড –৪০শে নেমে আসে,
তখন এই নকল চিকিৎসকরা সেই সুযোগে সাধারণ মানুষকে আরও বেশি
বিভ্রান্ত করার ,সর্বনাশ করার সুযোগ পায়।
কিন্তু দুর্ভাগ্যবশতঃ কেন্দ্র বা রাজ্য সরকার “ভুয়ো ডাক্তার” সম্পর্কিত কোনো বার্ষিক তথ্য,
সঠিক সংখ্যা বা সম্মিলিত মামলার রিপোর্ট প্রকাশ করে না।
——————-
( Healthcare Hospital : এমারজেন্সিতে সরকারি বা বেসরকারি
কোনো হাসপাতাল আপনাকে বা আপনার পরিবারের কাউকে
চিকিৎসা বা জরুরী পরিষেবা দিতে যদি অস্বীকার করে,
তখন মুহূর্তের মধ্যে জীবন বিপন্ন হয়ে উঠতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে আইন কি বলে?
আইন কিভাবে আপনার পাশে এসে দাঁড়াবে?
জেনে রাখুন বিস্তারিত…
পরিস্থিতি কখন ,কি হয়, তা আমরা কিন্তু আগে থেকে কেউ জানি না।
পড়ুন– Click: Healthcare Hospital: জরুরী চিকিৎসা অস্বীকার করলে কি করবেন? )
বিশ্বে
ভারতীয় ডাক্তারের মর্যাদা:
ভারতীয় চিকিৎসকদের বিশ্বজুড়ে এক অনন্য সম্মান রয়েছে।
আমেরিকা থেকে ইংল্যান্ড—
সব দেশের হাসপাতালেই ভারতীয় মেধাবী মাথা সুনামের সাথে কাজ করে।
কিন্তু দেশের ভেতরে যখন পোস্ট গ্রাজুয়েট এন্ট্রান্সে –৪০ নম্বর পেয়েও ভর্তির রাস্তা খোলা থাকে,
তখন সেই আন্তর্জাতিক সম্মানের কি দশা হবে?
বিশেষজ্ঞ বা স্পেশালিস্ট হওয়ার পথটা কেবল একটা প্রবেশিকা বা এন্ট্রান্স পরীক্ষা
দিয়ে বিচার করা ঠিক নয়।
তবে এই পরীক্ষাটা হল প্রথম ছাঁকনি।
যদি সেই ছাঁকনিতেই নেগেটিভ নম্বরকে জায়গা করে দেওয়া হয়,
তবে বহির্বিশ্বে আমাদের চিকিৎসা শিক্ষার বিশ্বাসযোগ্যতা বড় ধাক্কা খেতে পারে।
একজন ডাক্তারের দক্ষতা কেবল তাঁর ডিগ্রিতে নয়, বরং অর্জিত গভীর জ্ঞানে।

আর সেই জ্ঞানের পরীক্ষা যদি মাইনাস নম্বরেও সফল বলে গণ্য হয়,
তবে তা যথেষ্ট উদ্বেগের বিষয় বৈকি।
——————
( আপনি জানেন?
মাত্র কয়েক দশক আগের কথা—
এশিয়ায় Iran Country-এর মত এতটা খোলামেলা নগর সমাজ এক সময় খুব কমই ছিল।
১৯৭০ এর দশক পর্যন্ত দেশটা, বিশেষ করে তেহরানসহ বড় শহরগুলো
সামাজিকভাবে তুলনামূলকভাবে উন্মুক্ত ও আধুনিক ছিল।
কিন্তু আজ এই ইরান কেন দেখতে হল?
আমরা আজ ঠিক কোথায় দাঁড়িয়ে আছি, ধ্বংসের চক্রব্যূহে নয় তো?
জেনে নিন ভেতরের সেই কাহিনি, যা হয়তো এই প্রথম আপনি জানবেন।
পড়ুন– Click: Iran Country: কি ছিল, কি হল– কেন হল ইরানের এ পরিস্থিতি? )
গ্রামীণ স্বাস্থ্যব্যবস্থা—
পাস নম্বর কমানোর যুক্তি:
সরকার যখন কাট-অফ পার্সেন্টাইল কমায়, তখন সাধারণত তাদের প্রধান যুক্তি থাকে—
“ভারতের গ্রামীণ এলাকায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের চরম অভাব।”
সিট খালি পড়ে থাকা মানে হল কয়েক বছর পর দেশে বিশেষজ্ঞ বা স্পেশালিস্টের
(কিডনি, লাং, আই ইত্যাদি) সংখ্যা কমে যাওয়া।
কিন্তু প্রশ্ন হল—
সংখ্যার খাতিরে কি গুণগত মানের সঙ্গে আপস করা যায়?
গ্রামীণ ভারতের মানুষও উন্নত চিকিৎসা পাওয়ার অধিকারী।
সেখানেও দক্ষ ডাক্তারের প্রয়োজন, আধা-শহর এলাকায়ও সার্জন, গাইনোকোলজিস্ট
বা অ্যানেস্থেটিস্টের মত বিশেষজ্ঞের আকাল।
সরকারের যুক্তি হল—
যদি কাট-অফ কমিয়ে বেশি সংখ্যক ছাত্র-ছাত্রীকে পিজিতে (PG) ভর্তির সুযোগ দেওয়া হয়,
তবে আগামী কয়েক বছরে দেশে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংখ্যা বাড়বে,
যা পরোক্ষভাবে গ্রামীণ স্বাস্থ্য-ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করবে।
কিন্তু প্রশ্ন হল—
সংখ্যার অভাব মেটাতে গিয়ে মেধার মানদণ্ড কি ভারতের মত দেশে শোভা পায়?
ইতিহাস কি বলে?
যদি নেগেটিভ নম্বর পাওয়া প্রার্থী কিংবা কম মেধাসম্পন্ন ব্যক্তিরা স্পেশালিস্ট হয়ে
প্রত্যন্ত এলাকায় যান, তবে শহরের তুলনায় গ্রামের মানুষ আরো বেশি ঝুঁকি
বা বিপদের মুখে পড়বেন।
মেধার বিকেন্দ্রীকরণ হওয়া উচিত, কিন্তু মানদণ্ড নামিয়ে এনে নয়।
সচেতন নাগরিক হিসেবে
আপনার দায়িত্ব কি?
চিকিৎসা ব্যবস্থার এই গোলকধাঁধায় নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে সাধারণ মানুষের কিছু করণীয় রয়েছে।
মনে রাখবেন কেবল সাদা অ্যাপ্রন, গলায় স্টেথোস্কোপ বা চেম্বার দেখে
বিশ্বাস করার দিন শেষ হয়েছে।
আপনার পরিবারের বিপদ, ঝুঁকি, সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে নিজের পদক্ষেপগুলো নিন:
১. Doctor Registration Number
যাচাই:
ডাক্তার আসল না নকল—
কিভাবে যাচাই করবেন?
ডিগ্রীর মান নিয়ে বিতর্কের এই আবহে সাধারন মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে
একটা স্বচ্ছ ব্যবস্থা রয়েছে।
আপনার ডাক্তারের যোগ্যতা নিয়ে মনে কোনো সন্দেহ থাকলে আপনি নিজেই তা
অনলাইনে যাচাই করতে পারেন:
অফিসিয়াল পোর্টাল:
ভারতের প্রতিটা স্বীকৃত চিকিৎসকের তথ্য থাকে ন্যাশনাল মেডিকেল কমিশনের
(NMC) ডেটাবেসে।
Doctor Registration Number
যাচাই করার পদ্ধতি:
- ১. ন্যাশনাল মেডিকেল কমিশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট
(Click:) nmc.org.in-এ গিয়ে ‘Information Desk’ থেকে
(Click:) ‘National Medical Register’ (NMR) ট্যাবে ক্লিক করুন। - ২. সেখানে Home বারে ডান দিকে (Click:) Search Doctor-এ চিকিৎসকের নাম,
রেজিস্ট্রেশন নম্বর, রেজিস্ট্রেশন সাল আর স্টেট মেডিকেল কাউন্সিল দিয়ে
সার্চ করলেই তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং তিনি প্র্যাকটিস করার যোগ্য কি না,
তা বিস্তারিত দেখতে পাবেন।
কেন করবেন:
যখন আসল ডিগ্রির কাট-অফ –৪০এ নামে,
তখন ভুয়ো ডাক্তারদের চিনে নেওয়া আপনার ও আপনার পরিবারের সুরক্ষার জন্য একান্ত প্রয়োজন।
২. সেকেন্ড ওপিনিয়ন
(Second Opinion):
কোনও বড় অস্ত্রোপ্রচার বা জটিল রোগের চিকিৎসার আগে
অন্তত ২-৩ জন ভিন্ন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
যদি দেখেন মতামতে বিস্তার ফারাক বা পার্থক্য, তবে তৃতীয় কারো শরণাপন্ন হন।
৩. প্রশ্ন করার অভ্যেস:
- আপনার রোগ কি?
- কেন এই ওষুধ দেওয়া হচ্ছে?
- এই অস্ত্রোপ্রচার কেন জরুরী?
এসব আপনার চিকিৎসকের কাছে বিনম্র কিন্তু স্পষ্টভাবে জানতে চান।
সাধারণত একজন প্রকৃত মেধাবী চিকিৎসক সব সময়ই রোগীকে রোগ সম্পর্কে
বুঝিয়ে বলতে আগ্রহী থাকেন।

মনে রাখবেন—
এগুলো আপনার মৌলিক অধিকার।
নো এডিট অপশন
(No Edit Option):
ডাক্তারি পেশায় ভুলের কোন ‘এডিট’ অপশন নেই।
একটা ছোট্ট ভুলের মাশুল দিতে হয় জীবন দিয়ে।
যদিও গাণিতিক নিয়মে মাইনাস নম্বর পাওয়া সম্ভব,
তবুও সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের স্বার্থে প্রশ্ন থেকেই যায়—
জীবন-মৃত্যুর লড়াইয়ে কি মেধার মানদণ্ড আরো কঠোর হওয়া উচিত নয়?
আগামী দিনে আপনি যখন কোনো চেম্বারে ঢুকবেন,
তখন ডিগ্রীর জৌলুশ ছাপিয়ে আপনার মনে কি এই প্রশ্নটা আসবে না—
“আমার জীবন কি সঠিক হাতে যেতে চলেছে?”
নাকি এই –৪০ এর কাঁটাটা আপনার বিশ্বাসের ভিতটাই নাড়িয়ে দিয়ে যাবে?
——————–
( আপনি কি জানেন?
সারা বিশ্বে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ মানুষ ল্যাবরেটরির কোন ভাইরাস বা জটিল রোগে নয়,
বরং প্রাণ হারাচ্ছেন স্রেফ ‘অস্পষ্ট হাতের লেখা’ আর ‘অচেনা ভাষার’ গোলকধাঁধায়।
প্রতি বছর প্রায় ৭০০০ মানুষ ডাক্তারের খারাপ হাতের লেখা ও বানান ভুলের
কারণে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
জেনে নিন ভেতরের সেই আসল রহস্য!
এখুনি পড়ুন– Click: Medical Prescription ইংরাজিতেই শুধু কেন?– বিপদ কি কমবে? )
[ এ বিষয়ে আপনার গুরুত্বপূর্ণ মতামত জানার অপেক্ষায় রইলাম।
লেখাটা প্রয়োজনীয় মনে হলে অবশ্যই শেয়ার করে
সমাজের অন্যদেরও পড়তে, জানতে সুযোগ করে দেবেন।
ইমেইল আইডি দিয়ে আমাদের বাঙালির পরিবারের একজন
প্রিয় মানুষ হয়ে উঠুন।
চলুন বাঙালিকে বিশ্বের দরবারে বারবার তুলে ধরি—
চিন্তা, চেতনা আর শব্দের শক্তিতে— একসাথে, সবাই মিলে।
বিশ্ব জানুক—
আমাদের ভারত কি?
বাঙালি কি?
বাংলা শব্দের ক্ষমতাই বা কি? ]
Articlesবাংলা Bangla Articles, Quotes & Prose-Poetry / বাংলা প্রবন্ধ, উক্তি ও গদ্য-কবিতা।


