তৃপ্তি না দীর্ঘমেয়াদী বিষ?
সাময়িক আরামের আড়ালে এক ভয়ঙ্কর রাসয়নিক সমীকরণ।
গরমের দিনগুলোতে আমরা সবাই চাই গলার একটু আরাম।
তপ্ত দুপুরে মাথার ওপর যখন সূর্য আগুন ঢালে,
তখন এক গ্লাস কনকনে ঠান্ডা Pepsi Cola বা অন্যান্য Pepsi Cola Products,
Cold drinks হিসেবে যেন স্বর্গীয় অনুভূতি নিয়ে আসে।
প্লাস্টিকের বোতলটা খুললেই যে ‘ফিস’ শব্দটা হয়,
তাতেই অর্ধেক তৃষ্ণা মিটে যায়।
অফিসের বিরতি,
স্কুলের ছুটি বা রোদে হাঁটার পর একটা কোমল পানীয় যেন মুহূর্তেই মনকে সতেজ করে
এবং শরীরকে কিছুটা আরাম দেয়।

এ যেন ধীরে ধীরে আমাদের এক নেশায় পরিণত হয়েছে।
কিন্তু এই সাময়িক আরাম পেতে গিয়ে কখনও কি ভেবে দেখেছেন,
এই কোমল পানীয়গুলো আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য ঠিক কতটা বিপজ্জনক?
গ্লাসের ভেতরে নাচতে থাকা ওই স্বচ্ছ বুদবুদগুলো কি কেবলই কার্বন-ডাই-অক্সাইড,
নাকি ওগুলো আমাদের স্বাস্থ্যের বারোটা বাজানোর সংকেত?
শুধু কি তাই?
এই Pepsi Cola-এর মত পানীয়গুলো আজ যেন আমাদের সংস্কৃতি
ও সামাজিক মর্যাদার অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিরিয়ানির সাথে Coca Cola Bottle না হলে চলে না।
আবার বন্ধুদের আড্ডায় কিংবা ঘরোয়া অনুষ্ঠান 7 Up বা Fanta প্রয়োজন,
কিন্তু নিছক সাময়িক সতেজকারী, তৃপ্তিদায়ক পানীয়টার আড়ালে লুকিয়ে আছে
এক ভয়ংকর রাসায়নিক সমীকরণ,
যা আপনার লিভার, কিডনি এবং হাড়কে তিলে তিলে ক্ষয় করছে।
এটা স্বাভাবিকভাবে আমাদের পক্ষে বোঝা সম্ভব নয়।
Pepsi Products এর উপাদান:
PepsiCo বা The Coca Cola Company-এর মত বিশ্বখ্যাত কোম্পানিগুলোর তৈরি
Pepsi Cola Products কোমল পানীয় হিসেবে মূলত কিছু নির্দিষ্ট উপাদান নিয়ে তৈরি,
যা প্রতিটা গ্লাসের স্বাদ এবং সংরক্ষণ নিশ্চিত করে।
- কার্বনেটেড জল:
পানিয়কে সেই ঝাঁঝ এবং ঠান্ডা অনুভূতি দেয়। - চিনি বা সুইটনার:
স্বাদ বাড়ায় এবং মিষ্টি স্বাদ নিশ্চিত করে। - ফ্লেভার ও রঙ:
ব্র্যান্ডের আলাদা স্বাদ এবং রঙ প্রদান করে। - অ্যাসিড (ফসফরিক বা সাইট্রিক অ্যাসিড):
পানীয়ের pH নিয়ন্ত্রণ করে এবং সংরক্ষণে সহায়ক।
pH মিটারের আতঙ্ক:
Pepsi Cola বনাম
টয়লেট ক্লিনার
রসায়ন বা কেমিস্ট্রির ভাষায় কোনও তরলে কতটা অ্যাসিড আছে,
তা মাপা হয় pH স্কেলে।
বিশুদ্ধ জলের pH হল ৭ (নিউট্রাল)।
কিন্তু আপনি জানলে চমকে উঠবেন যে,
Pepsi Cola Products -এর pH মাত্রা সাধারণত ২.৪ থেকে ২.৮ এর মধ্যে হয়।
গাণিতিক সত্য:
যেহেতু pH স্কেলটা লগারিদমিক (ধাপে ধাপে বা গুণিতকভাবে হ্রাস বা বৃদ্ধি হওয়া),
তাই ৭ থেকে ২.৪-এ নামা মানে,
এটা সাধারণ জলের তুলনায় প্রায় ৪০,০০০ গুণ বেশি অ্যাসিডিক।
আসল ব্যাখ্যা:
বাজারে প্রচলিত টয়লেট ক্লিনারের pH-ও ২.০ থেকে ২.৫ এর আশেপাশে থাকে।
তবে ক্লিনারে থাকে হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড, যা সরাসরি ক্ষয় ঘটায়।
অন্যদিকে Cold Drinks এ থাকে ফসফোরিক অ্যাসিড।
যদিও সংখ্যায় তারা সমান,
কিন্তু ক্লিনারের মত এটা আপনার পাকস্থলী তাৎক্ষণিক পুড়িয়ে দেবে না,
কারণ আমাদের পাকস্থলীর নিজস্ব অ্যাসিডের pH আরও শক্তিশালী (১.৫ থেকে ২.০)।
তবে এই অতিরিক্ত অম্লতা দীর্ঘমেয়াদে শরীরের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট করার জন্য যথেষ্ট।
7 Up, Sprite, Fanta, Mirinda,
Maaza কি নিরাপদ?
অনেকে মনে করেন—
Pepsi বা Cola Coca-Cola কালো বলে ক্ষতিকর,
কিন্তু স্বচ্ছ বা ফলের ছবি দেওয়া পানীয়গুলো বোধহয় নিরাপদ।
এটা একটা বড় ভুল ধারণা।
রঙের পরিবর্তন হলেও শরীরের ওপর এদের বিষক্রিয়া প্রায় একই।
স্বচ্ছ পানীয়
(7Up, Sprite):
7 Up (PepsiCo-এর পণ্য) এবং Sprite.
এতে ফসফোরিক অ্যাসিডের বদলে থাকে সাইট্রিক অ্যাসিড।
শুনতে প্রাকৃতিক মনে হলেও,
এই কৃত্রিম সাইট্রিক অ্যাসিড দাঁতের এনামেল ক্ষয় করার ক্ষেত্রে
Pepsi-এর চেয়েও বেশি শক্তিশালী।
রঙিন পানীয়
(Fanta, Mirinda):
Mirinda (PepsiCo-এর পণ্য)।
এই রঙিন পানীয়গুলো আলাদা স্বাদ আর রঙের কারণে জনপ্রিয়।
পাশাপাশি বিপজ্জনক।
এর উজ্জ্বল কমলা রং তৈরি করতে ‘Sunset Yellow’ বা ‘Tartrazine’-এর মত
কৃত্রিম রঙ ব্যবহার করা হয়।
কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, এসব কৃত্রিম রঙ সংবেদনশীল কিছু শিশুর ক্ষেত্রে
অতি চঞ্চল আচরণ বাড়াতে পারে।
ফলের টক স্বাদ অনুকরণ করতে এসব পানীয়তে উচ্চমাত্রার যোগ করা চিনি
ব্যবহার করা হয়।
ফলের পানীয়
(Maaza, Slice):
Slice (PepsiCo-এর পণ্য)।
আমরা মনে করি এগুলো ফলের রস,
কিন্তু আসলে এগুলো মূলত সুগার ড্রিঙ্কস (Sugar Drinks).
এক বোতল Maaza-তে আমের পাল্প থাকে খুবই সামান্য,
আর বাকিটাই হল চিনি মিশ্রিত জল, কৃত্রিম ফ্লেভার এবং প্রিজারভেটিভ।
আপনি ফলের স্বাদে মূলত অতিরিক্ত চিনিই পান করছেন,
যা সরাসরি লিভারে চর্বি জমায়।
অর্থাৎ রঙ যাই হোক বা বোতলের গায়ে ফলের ছবি থাকুক—
এই পানীয়গুলো আপনার লিভার, কিডনি এবং ইনসুলিন সিস্টেমের জন্য
একইভাবে ক্ষতি করে।
তাই Coca Cola, Pepsi বাদ দিয়ে যারা এগুলো বেছে নিচ্ছেন,
তাঁরা মূলত— ‘এক বিষ থেকে অন্য বিষ গ্রহণ করছেন।’
এত ক্ষতি সত্ত্বেও
কেন এগুলো নিষিদ্ধ হয় না?
এর পেছনে রয়েছে কিছু ঐতিহাসিক ও অর্থনৈতিক কারণ:
- ইতিহাস ও কর্মসংস্থান:
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় থেকে ছড়িয়ে পড়া এই কোম্পানিগুলোর (যেমন PepsiCo ও Coca-Cola)
সাথে লক্ষ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান ও গ্লোবাল ইকোনমি জড়িত। - বাণিজ্যিক ভারসাম্য:
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক সম্পর্কের খাতিরে সরকার এগুলো সরাসরি বন্ধ করতে না পারলেও
আমাদের উচিত নিজেদের সচেতন হওয়া ও মানুষকে সচেতন করা।
কারণ সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে ১৯ থেকে ২০ হলেই সরকারি হাসপাতাল
সাধারণত একমাত্র সহায়-সম্বল, আর সরকারি হাসপাতাল মানেই
সেই তিক্ত অভিজ্ঞতা, ভয়ঙ্কর বাস্তবতা।
আর যদি সরকারি হাসপাতালের ওপরে বিরক্ত ও দিশেহারা হয়ে
একবার ঢুকে পড়েছেন বেসরকারি হাসপাতালে তো নিঃস্ব অবধারিত!
পড়ুন সেই ভেতরের আসল কাহিনী, যা জেনে রাখা আপনার অত্যন্ত জরুরী
Click: সরকারি হাসপাতাল: সাধারণ মানুষের চিকিৎসা কি সত্যিই নিরাপদ?
( Food adulteration: ভারতের খাদ্যদ্রব্যের সবচেয়ে বড় সংকট আজ
ভেজাল ও প্রতারণা নয়— নজরদারিতে ভেজাল।
যার মাশুল প্রতিদিন গুনতে হচ্ছে আমাকে, আপনাকে আর আমাদের সন্তানদের।
কেলগসের বিজ্ঞাপন যখন কাজলের মত জনপ্রিয় তারকারা
মোটা টাকার বিনিময়ে গুছিয়ে পরিবেশন করে,
সাধারণ মানুষের আস্থা তখন ২-৩ গুণ বেড়ে যায়।
আমরা ভেবে বসি—
এ তো সাধারণ কোনো প্রোডাক্ট নয়, তাও আবার কেলগস ব্র্যান্ড—
নিশ্চই অসাধারণ!
অপরদিকে বড় বড় সংস্থাগুলো তাদের মুনাফা বাড়িয়ে চলেছে।
কিন্তু মুদ্রার উল্টোপিঠ হল—
জেনে রাখুন ভেতরের সেই আসল কাহিনী।
পড়ুন–
Click: Food adulteration: ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপনে ভুলে কোনো ফাঁদে পা দিচ্ছেন না তো? )
ফসফোরিক অ্যাসিড:
হাড়ের নীরব ঘাতক
Cold Drinks- এর সেই পরিচিত ঝাঁঝালো স্বাদ আসে ফসফোরিক অ্যাসিড থেকে।
ভাবুন, যে ফসফোরিক অ্যাসিড আপনি আরামে পান করছেন,
তা শিল্প-কারখানায় লোহায় মরিচা পরিষ্কার করতে ব্যবহার করা হয়।
প্রভাব:
নিয়মিত উচ্চ ফসফেটযুক্ত কোমল পানীয় গ্রহণ করলে শরীরে
ক্যালসিয়াম-ফসফরাসের ভারসাম্য বিঘ্নিত হতে পারে।
বিশেষ করে যদি খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম না থাকে,
তাহলে দীর্ঘমেয়াদে হাড়ের ঘনত্ব কমার ঝুঁকি তৈরি হয়।
পরিণতি:
এর ফলে হাড়ের ঘনত্ব কমে গিয়ে অস্টিওপোরোসিস (Osteoporosis)
বা হাড় ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়,
এবং অল্প বয়স থেকেই জয়েন্টে জয়েন্টে ব্যথা ও হাড়ের দুর্বলতা প্রকট হয়ে ওঠে।
চিনির সুনামি:
ইনসুলিনের ঝাপটা
এক ক্যান (৩০০ মিলি) Cold Drinks- এ প্রায় ৩৯-৪০ গ্রাম চিনি থাকে,
যা ১০ চা চামচের সমান।
কেন আমরা বমি করি না?
সাধারণত এত চিনি একসাথে খেলে স্বাভাবিকভাবেই মিষ্টি লাগার কথা,
কিন্তু Cold Drinks- এ থাকা ফসফোরিক অ্যাসিড বা সাইট্রিক অ্যাসিড
ওই তীব্র মিষ্টতাকে ভারসাম্যপূর্ণ করে দেয়।
ফলে স্বাদটা সহনীয় হয়ে ওঠে,
আর আমরা অজান্তেই বিপুল পরিমাণ চিনি পান করে ফেলি।
শরীরে কি ঘটে?
পান করার ১৫-৩০ মিনিটের মধ্যে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা দ্রুত বেড়ে যায়।
এর প্রতিক্রিয়ায় ইনসুলিন হরমোন সক্রিয় হয়ে কোষে গ্লুকোজ প্রবেশ করাতে সাহায্য করে।
যদি শরীরের তাৎক্ষণিক শক্তির চাহিদা কম থাকে এবং লিভারের গ্লাইকোজেন ভাণ্ডার
পূর্ণ থাকে, তাহলে অতিরিক্ত শর্করা—
বিশেষ করে ফ্রুক্টোজ অংশ, লিভারে বিপাক হয়ে চর্বি তৈরির প্রক্রিয়ায়
(De novo lipogenesis) অংশ নিতে পারে।
এটা তাৎক্ষণিক “চর্বিতে রূপান্তর” নয়, বরং বাড়তি শক্তি সামলানোর একটা জটিল
জৈব-রাসয়নিক প্রক্রিয়া।
কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি অতিরিক্ত গ্রহণের ফলে ফ্যাটি লিভার, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স
এবং (দেখুন) টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি নিঃসন্দেহে বাড়াতে পারে।
ক্যাফেইন ও আসক্তির মরণ ফাঁদ:
এতে থাকা ক্যাফেইন মস্তিষ্কে ‘ডোপামিন’ হরমোন বাড়িয়ে দেয়।
এটা এক ধরনের কৃত্রিম আনন্দ তৈরি করে, যা ড্রাগের আসক্তির মত কাজ করে।
আসক্তি না মেটালে মাথা ব্যথা বা খিটখিটে মেজাজ তৈরি হয়।
ক্যান্সারের যোগসূত্র:
কারামেল কালার রহস্য
Coca Cola বা Pepsi-এর সেই পরিচিত গাঢ় খয়েরি রংয়ের আড়ালে লুকিয়ে আছে
এক বিতর্কিত রাসয়নিক প্রক্রিয়া।
আমরা অনেকেই ভাবি এই রং হয়তো চিনি পুড়িয়ে তৈরি করা হয়,
কিন্তু বাস্তবতা বেশ ভয়াবহ।
এই রং মূলত ‘কারামেল কালার IV (E150d),
যা তৈরি হয় অ্যামোনিয়া ও সালফাইট যৌগের উপস্থিতিতে
চিনি উত্তপ্ত করার নিয়ন্ত্রিত রাসয়নিক প্রক্রিয়ায়।
এই প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন হয় 4-MEI (4-Methylimidazole) নামক এক উপজাত,
যা নিয়ে বিশ্ব জুড়ে উদ্বেগের শেষ নেই।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গবেষণায় এই রাসয়নিকের সাথে
(দেখুন)মারণ ক্যান্সারের সরাসরি যোগসূত্র পাওয়া গেছে।

এই ভয়ের কারণেই উন্নত বিশ্বের অনেক দেশে এই রঙের ব্যবহারে
কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে ফলে কোম্পানিগুলো সেখানে
এর মাত্রা কমিয়ে আনতে বাধ্য হয়েছে।
কিন্তু আমাদের বিশ্বে এ চিত্রটার বেশিরভাগই উল্টো।
এখানে এসব বিষাক্ত উপাদান অবাধে দৌড়াচ্ছে।
সেখানে নেই কোনও বিধিনিষেধ, নেই কোনও সতর্কতা;
উল্টে বিজ্ঞাপনের চমকে বিপুল অনুপ্রেরণার মোড়কে এসব ক্ষতিকর
পানীয়র বিক্রি বাড়িয়েই চলেছে কোম্পানিগুলো।
যদিও ভারতবর্ষে এই পানীয়গুলো নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই।
২০০৬ সালে দিল্লির ‘সেন্টার ফর সায়েন্স এন্ড এনভায়রনমেন্ট’
এক চাঞ্চল্যকর রিপোর্টে জানায় যে, এসব পানীয়তে অনুমোদিত মাত্রার চেয়ে
প্রায় ২৪ গুণ বেশি বিষাক্ত কীটনাশক রয়েছে।
এই রিপোর্টের পর কেরালা সরকার রাজ্যজুড়ে Pepsi, Coca Cola উৎপাদন
ও বিক্রি নিষিদ্ধ করেছিল।
এছাড়া বিভিন্ন সময়ে তামিলনাড়ু, গুজরাট ও রাজস্থানসহ বেশ কিছু রাজ্যে
প্রাতিষ্ঠানিক ও রাজনৈতিক বয়কটের মুখে পড়ে এই কোম্পানিগুলো।
এমনকি পাঞ্জাবের ‘লাভলি প্রফেশনাল ইউনিভার্সিটি’র (LPU) মত বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও
তাদের ক্যাম্পাসে এসব পানীয় নিষিদ্ধ করে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নজির করেছে।
কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে?
বিতর্কিত পরীক্ষা:
টয়লেট (Toilet) বনাম
Cold Drinks
অনেকেই Pepsi Cola Products দিয়ে টয়লেটের দাগ পরিষ্কার করেন।
এটা কাজ করে কারণ এর অ্যাসিড জেদি ক্যালসিয়াম বা মরিচার দাগ তুলতে সক্ষম।
সংশোধনী:
পাকস্থলী এই অ্যাসিড সহ্য করতে পারলেও, আমাদের দাঁতের এনামেল তা পারে না।
এটা দাঁতের সুরক্ষা আবরণকে সরাসরি ক্ষয় করে দেয়,
যা টয়লেটের প্যান পরিষ্কার হওয়ার মতই বাস্তব।
কিডনির আর্তি:
রক্তে উচ্চমাত্রার চিনি ও ফসফোরিক অ্যাসিড ফিল্টার করতে
কিডনিকে স্বাভাবিকের চেয়ে ১০ গুণ বেশি খাটতে হয়।
এই অতিরিক্ত চাপের কারণে কিডনি স্টোন বা দীর্ঘমেয়াদি কিডনি
রোগের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।
বৈজ্ঞানিক সতর্কতা:
সংখ্যা বনাম
প্রভাবের পার্থক্য
অনেকে প্রশ্ন তুলতে পারেন,
লেবুর রসের pH-ও তো ২.৫-এর আশেপাশে, তাহলে Pepsi কেন ক্ষতিকর?
এখানে একটা সূক্ষ্ম বৈজ্ঞানিক সত্য আমাদের বুঝতে হবে।
Pepsi এবং টয়লেট ক্লিনারের অ্যাসিড (HCL) মাংসপেশি বা চামড়া পুড়িয়ে দিতে পারে,
কারণ এটা একটা সবল অ্যাসিড।

অন্যদিকে Pepsico- এর অ্যাসিড (ফসফোরিক অ্যাসিড), যা হল দুর্বল অ্যাসিড।
এটা আপনার শরীর তাৎক্ষণিক পুড়িয়ে দেবে না,
বরং ধীরগতিতে শরীরের খনিজ ক্ষয় করবে।
এটা অনেকটা একবারে বড় ধাক্কা না দিয়ে প্রতিদিন তিলে তিলে
হাড় আর দাঁতের ক্যালসিয়াম চুরি করার মত।
( আমাদের দাদু-ঠাকুমাদের সময়ে খাওয়া-দাওয়া, জীবনযাত্রা ছিল সাধারণ,
পুষ্টিসমৃদ্ধ, শৃঙ্খলাপূর্ণ।
দুপুরে নিয়মিত ভাত-ডাল, সবজি, প্রয়োজনে মাছ, মাংস, ঘি, দুধ।
পেট ভরলেই যেন তাঁরা তৃপ্তি পেতেন।
জীবন যাত্রায় ছিল স্বাভাবিক ছন্দ।
ঘরোয়া খাবারই তখন ছিল একমাত্র ভরসা বা প্রাধান্যের জায়গা।
আর আজ?
ব্যস্ততম জীবনে এখন পেট ও মন দুই ভরা জরুরী হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে স্ট্যাটাস।
আজ অনেক বদলে গেছে আমাদের জীবন।
কাজের চাপ, অ্যাংজাইটি, রাত জাগার প্রবণতা, দৈহিক পরিশ্রম কম,
ফাস্ট ফুডে আসক্তি– সব মিলিয়ে আমাদের পেটের মধ্যে ধীরে ধীরে
জন্ম নিচ্ছে এক অদৃশ্য শত্রু: গ্যাস।
সাবধান, এক মুহূর্তেই বদলে যেতে পারে সব কিছু– জেনে রাখুন।
পড়ুন– Click: গ্যাস: বর্তমান খাদ্যাভাসে লুকানো এক অদৃশ্য ঘাতক– সাবধান! )
পাকস্থলীর সহনশীলতা
ও আসল বিপদ:
আমাদের পাকস্থলী প্রাকৃতিকভাবে Cold Drinks-এর চেয়েও শক্তিশালী
অ্যাসিড (pH ১.৫-২.০) ধারণ করে খাবার হজম করার জন্য।
তাই Pepsi খেলে পাকস্থলী ফুটো হয়ে যাবে—এই যুক্তিটা বৈজ্ঞানিকভাবে পুরোপুরি সঠিক নয়।
আমাদের পাকস্থলী এই অ্যাসিড সামলাতে অভ্যস্ত।
কিন্তু সমস্যাটা পাকস্থলীতে নয়,
সমস্যাটা হয় যখন এই অ্যাসিড রক্তে মেশে এবং মেটাবলিজমে আঘাত করে।
আসল ক্ষতিটা হয় আপনার দাঁতের (দেখুন) এনামেল,
হাড়ের ঘনত্ব এবং লিভারের ওপর।
আমাদের শরীর যখন এই কৃত্রিম অ্যাসিড আর চিনির লোড নিতে পারে না,
তখনই ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বা ডায়াবেটিসের মত মারণব্যাধি বাসা বাঁধে।
লেবুর রস বনাম Pepsi:
একটা ভুল ধারণা
অনেকেই লেবুর রসের অম্লীয় স্বাদের সাথে Cold Drinks-এর তুলনা করেন।
দুটোর pH কাছাকাছি হলেও তাদের পুষ্টিগত প্রভাব এক নয়।
কিন্তু মনে রাখবেন, লেবুতে থাকা সাইট্রিক অ্যাসিড Vitamin C এবং মিনারেল
শরীরে বিপাকিত হওয়ার পর শক্তি উৎপাদন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট প্রতিরক্ষায় ভূমিকা রাখে।
এতে অতিরিক্ত চিনি থাকে না (যদি আলাদা করে যোগ করা না হয়),
ফলে এটা কেবল অ্যাসিডিটির প্রশ্নে বিচারে করা যায় না।
বিপরীত চিত্র:
Cold Drinks-এ থাকা ফসফোরিক অ্যাসিড ও উচ্চমাত্রার যোগ করা চিনি
শরীরে ক্যালোরি লোড ও বিপাকীয় চাপ বাড়ায়।

এটা সরাসরি রক্তের pH পরিবর্তন না করলেও,
নিয়মিত অতিরিক্ত গ্রহণ ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, ফ্যাটি লিভার ও খনিজ ভারসাম্যের
সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
অর্থাৎ, স্বাদের মিল থাকলেও পুষ্টিগত প্রভাব এক নয়।
প্রাকৃতিক লেবুর রস (চিনি ছাড়া) শরীরের জন্য তুলনমূলকভাবে নিরাপদ বিকল্প,
যেখানে উচ্চ-চিনিযুক্ত কৃত্রিম পানীয় দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
অর্থাৎ যারা এই ধরনের Drinks কে অভ্যাসে বা নেশায় পরিণত করেছে,
তাঁদের জন্য বিপদ বহুগুণে বেশি।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত:
বিকল্পে ফিরুন, সুস্থ থাকুন
আমরা অভ্যাসের দাস, কিন্তু সেই অভ্যাস যদি মৃত্যুর কারণ হয়,
তবে তা বদলে ফেলাই বুদ্ধিমানের কাজ।
গরমে শান্তিতে Cold Drinks-এর বদলে প্রকৃতির দেওয়া বিশুদ্ধ
এবং সজীব পানীয় বেছে নিন:
- ডাবের জল: যা প্রাকৃতিক ইলেট্রোলাইট এবং খনিজ লবণের খনি।
- তাজা লেবুর শরবত: যা কোনও কৃত্রিম অ্যাসিড ছাড়াই আপনাকে দেবে
সজীবতা এবং Vitamin C. - ঘোল বা মাঠাঁ: যা আপনার অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়া বাড়ায়
এবং হজমে দারুণ সহায়তা করে।
শেষ কথা:
তৃষ্ণা মেটাতে জলের কোনও বিকল্প নেই।
বড় বড় কোম্পানিগুলো তাদের চাকচিক্যময় বিজ্ঞাপনে Pepsi Cola Products
পানে আপনার স্বাস্থ্যের ঝুঁকি বা বিপদের কথা কখনই ভুলেও বলবে না।

এক মুহূর্তের সাময়িক প্রশান্তির বিনিময়ে সারা জীবনের জন্য দুরারোগ্য ব্যাধি
নিজের হাতে বরণ করে নেবেন কি না, সেই সিদ্ধান্ত একান্তই আপনার।
আপনার শরীরের মালিক আপনি নিজে।
তাই বিষ আর অমৃতের পার্থক্য বোঝার দায়িত্বটাও আপনারই।
( বিঃ দ্রঃ- কিছু কারণবশত আর্টিকেলে ইংরাজি, ইংরাজিতে+বাংলা উচ্চারণে লেখা হয়।)
( একটা রাজ্য যখন তার সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান “বঙ্গবিভূষণ” ঘোষণা করে,
তখন সেটা কেবল কয়েকটা পদক বা মানপত্র দেওয়া নয়—
সেটা হল সেই রাজ্যের রুচি ও অগ্রাধিকারের পরিচয়।
এই সম্মান বলে দেয় আমাদের রাজ্যের সমাজ আজ
কোন আদর্শকে সবার ওপরে রাখছে।
কিন্তু ইদানিং পুরস্কারের তালিকায় বিনোদন জগতের চেনা মুখদের ভিড় দেখে
একটা মৌলিক কিন্তু জরুরী প্রশ্ন মনে জাগে:
রাজ্যের কাছে আসল দাম কার?
দু ঘণ্টার আমোদ-প্রমোদের,
না কি কয়েক প্রজন্মের টিকে থাকার লড়াইয়ের?
পড়ুন ভেতরের সেই বাস্তব সত্য, যা আপনাকে ভাবিয়ে তুলবে।
Click: পশ্চিমবঙ্গের বঙ্গবিভূষণ ২০২৬: সিদ্ধান্ত কি ১০০ ভাগই নির্ভুল? )
আপনি কি আমাদের সাথে এক মত?
অবশ্যই জানাবেন আপনাদের মূল্যবান মন্তব্য।
[ লেখাটা প্রয়োজনীয় মনে হলে অবশ্যই শেয়ার করে
সমাজের অন্যদেরও পড়তে, জানতে সুযোগ করে দেবেন।
ইমেইল আইডি দিয়ে আমাদের বাঙালির পরিবারের একজন
প্রিয় মানুষ হয়ে উঠুন।
চলুন বাঙালিকে বিশ্বের দরবারে বারবার তুলে ধরি—
চিন্তা, চেতনা আর শব্দের শক্তিতে— একসাথে, সবাই মিলে।
বিশ্ব জানুক—
আমাদের ভারত কি?
বাঙালি কি?
বাংলা শব্দের ক্ষমতাই বা কি? ]
Articlesবাংলা Bangla Articles, Quotes & Prose-Poetry / বাংলা প্রবন্ধ, উক্তি ও গদ্য-কবিতা।





