সভ্যতার সংকট—
এক পঙ্গু সভ্যতার পদধ্বনি
মনুষ্যত্বের মৃত্যু
সভ্যতার সংকট কি তবে আমদেরই সন্তানদের এক গভীর অন্ধকারের দিকে নিঃশব্দে ক্রমশঃ ঠেলে দিচ্ছে?
বর্তমান সমাজের যে নৈতিক অবক্ষয় আর মূল্যবোধের অভাব আমরা প্রতিদিন দেখছি, তাতে আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ আজ বড় প্রশ্নচিহ্ণের মুখে।
আজকের আকাশ ছোঁয়া অট্টালিকা আর চকচকে ক্যারিয়ারের নিচে নিঃশব্দে পিষে দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে একটা জ্যান্ত শব্দ—“মনুষ্যত্ব।”
আমরা আর পাঁচজনের মত নিজেদের ও সন্তানদের জন্য এক নিরাপদ, নিস্তরঙ্গ ভবিষ্যতের নকশা আঁকতে ব্যস্ত।
আর এতটাই ব্যস্ত যে, এর আড়ালে (দেখুন) দাবানল হয়ে লুকিয়ে আছে যে কী বিপজ্জনক ভবিষ্যত,
তা হয়ত অনেকেই এখন বিশেষ টের পাচ্ছি না।
আমরা চাই—
- আমাদের সন্তান শিক্ষিত হোক।
- অর্থ উপার্জনের দক্ষ হোক।
- সমাজে মাথা উঁচু করে দাঁড়াক।
এটা স্বাভাবিক।
কিন্তু এই প্রতিষ্ঠা পাওয়ার ট্র্যাডিশনাল ইঁদুর দৌড়ে আমরা ভুলেই গেছি যে,
সমাজকে টিকিয়ে রাখার জন্য সবার আগে প্রয়োজন একজন ‘মানুষ।’
তবে কি আমরা এমন এক প্রজন্ম তৈরি করছি,
যারা সফল রোবট হতে পারে, কিন্তু সংবেদনশীল নাগরিক নয়?
যারা দক্ষ, কিন্তু দায়বদ্ধ নয়?

প্রত্যেকটা বাবা-মায়েরই একটা নির্দিষ্ট স্বপ্ন থাকে—
সন্তানের নিরাপদ, প্রতিষ্ঠিত ভবিষ্যৎ।
কিন্তু এই দীর্ঘদিনের চর্চিত চিন্তাধারার ভেতরেই রয়ে যাচ্ছে এক গভীর শূন্যতা—
“প্রকৃত মানুষ হয়ে ওঠা”—
এই শিক্ষাটা আমরা কতটা দিচ্ছি?
ফলে আজ এক অদ্ভুত বাস্তবতা তৈরি হয়েছে—
বেকারত্বের ভিড় যেমন বাড়ছে, তেমনই বাড়ছে তথাকথিত ‘প্রতিষ্ঠিত’ মানুষের সংখ্যাও।
তবু ‘প্রকৃত মানুষ’ খুঁজে পাওয়া ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে—
যেমন একদিন পেয়েছিলেন (পড়ুন) প্রভাবতী বসু, তারিণী দেবী অথবা বিশ্বনাথ দত্ত।
এই সংখ্যাটা ধীরে ধীরে কমে আসছে।
আর সভ্যতার সংকট হিসেবে এর ভবিষ্যত পরিণাম—
নীরব, ধীর, কিন্তু ভয়াবহ ধ্বংসের ইঙ্গিত বহন করছে।
জনসংখ্যার বিস্ফোরণ—
আদর্শের আকাল
ভারত আজ জনসংখ্যার নিরিখে বিশ্বের শীর্ষে।
প্রায় ১৫০ কোটির এই বিশাল দেশে মানুষের সংখ্যার অভাব নেই,
কিন্তু অভাব আছে মহৎ বা বৃহত্তর স্বার্থে ভাবতে পারে, এমন মানুষের।
বলা যায় এই বিশাল জনসংখ্যার মধ্যে হাতে গোনা কয়েকজন মানুষ আছেন,
যারা সমাজ, রাজ্য, দেশ, পরিবেশ, ভবিষ্যৎ— এই বৃহত্তর বিষয়গুলো নিয়ে ভাবেন।
বাকি আমরা?
আমরা অধিকাংশই—
নিজেদের জীবন, জীবিকা, সম্পর্ক, ভবিষ্যৎ—
এই ছোট গণ্ডির মধ্যেই হিসেব-নিকেশ করে ৬০-৬৫ বছরের সচেতন জীবন কাটিয়ে দিই।
সভ্যতার সংকট—
নিরাপদ খাঁচা,
রূঢ় বাস্তবতা
চতুর্দিকে তাকালেই আজ এক বিপন্ন সমাজের প্রতিচ্ছবি ফুটে ওঠে।
দুর্নীতি যখন আকাশের মত সমাজকে আষ্টেপৃষ্ঠে ঢেকে দেয়,
তখন তার প্রধান জ্বালানি হয়ে দাঁড়ায় আমাদের সমাজের মূল্যবোধহীন অশিক্ষা।
প্রকৃত শিক্ষার অভাবে মানুষ যখন অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার বদলে লোভে বা স্বার্থে অন্ধ হয়ে যায়,
তখনই দুর্নীতির শিকড় আরও গভীরে প্রবেশ করার সুযোগ পায়।
আর (দেখুন) ধর্ষণ, খুন কিংবা লুণ্ঠন যখন ‘ব্যতিক্রম’ থেকে দৈনন্দিন সংবাদে পরিণত হয়,
তখন বোঝা যায় আমাদের চারপাশের মানসিকতা কতটা বিকৃত হয়ে পড়েছে।
কিন্তু এই অন্ধকারের চেয়েও ভয়াবহ হল আমাদের আগামী প্রজন্মের প্রস্তুতি।
আমরা আমাদের সন্তানদের এক নিরাপদ, কৃত্রিম আবহে বড় করে তুলছি,
যেখানে অনেক ক্ষেত্রেই বাস্তবের এই নগ্ন অন্ধকারের সঙ্গে তাদের কোনও পরিচয়ই নেই।
আমরা তাদের মেধা দিচ্ছি, স্বাচ্ছন্দ্য দিচ্ছি,
কিন্তু প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করার মত মানসিক মেরুদণ্ড গড়ে দিচ্ছি না।
ফলে যখন তারা জীবনের কোনও এক মোড়ে এই রুঢ় বাস্তবতার মুখোমুখি হয়,
তখন তাদের সামনে মাত্র দুটো পথ খোলা থাকে—
- হয় নিঃশব্দে সব অন্যায় সহ্য করে নেওয়া।
- অথবা মানসিক চাপে পুরোপুরি ভেঙে পড়া।
আর ঠিক এই সন্ধিক্ষণেই শুরু হয় আমাদের সমাজের নীরব ধ্বংস।

এভাবেই সমাজ থেকে ক্রমশ ‘বিবেকসম্পন্ন’ মানুষ কমে যাচ্ছে।
আর চারিদিকে ভিড় বাড়ছে কেবল অস্তিত্ব রক্ষার তাগিদে বেঁচে থাকা কিছু প্রাণীর।
যে সমাজে প্রতিবাদের ভাষা হারিয়ে যায় আর মানিয়ে নেওয়ার গ্লানি জয়ী হয়,
সেখানে ধ্বংসের পদধ্বনি আর দূরে থাকে না।
সভ্যতার সংকট—
দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার
সহজ অজুহাত
আমরা প্রায় কোনওদিনই সময় বের করতে পারি না—
দুস্থ-অসহায় মানুষের জন্য, সমাজের জন্য, পরিবেশের জন্য।
কিন্তু প্রশ্নটা অন্য জায়গায়—
এই না-পারা, এই না-চাওয়াটাই কি আমরা আমাদের সন্তানদের শেখাচ্ছি না?
আমরা সরাসরি না বললেও, প্রতিদিন ওদের বুঝিয়ে দিই—
“ওসব করার জন্য আলাদা মানুষ আছে।”
আমরা বিশ্বাস করি—
সেই পথ কঠিন, জটিল, অমসৃণ।
আর ঠিক সেই বিশ্বাসটাই আমরা যত্ন করে ওদের ভেতরে ঢুকিয়ে দিই।
ফলে তারা বড় হয়—
দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়াকে স্বাভাবিক মনে করে,
নিজেকে গুটিয়ে রাখাকেই বুদ্ধিমত্তা বলে মনে করে।
আর ঠিক এই চিন্তাধারাই—
ধীরে ধীরে, নিঃশব্দে, (দেখুন) টেকটনিক প্লেটের মত আমাদের সমাজকে ভেতর থেকে ঠেলে নিয়ে যাচ্ছে এক অনিশ্চিত,
অন্ধকার ও ভয়ংকর ভবিষ্যতের দিকে।
এই ধ্বংসের শব্দ শোনা যায় না
সবচেয়ে ভয়ংকর ব্যাপারটা হল— এই পরিবর্তনটা হচ্ছে এত ধীরগতিতে,
যে বাইরে থেকে কিছুই টের পাওয়া যায় না।
আমরা ভাবছি—
“সব ঠিক চলছে।”
কিন্তু ভেতরে ভেতরে আমাদের সমাজ এক চরম ও ভয়াবহ বিপর্যয়ের দিকে এগিয়ে চলেছে।
সম্পূর্ণ ফাঁপা হয়ে যাচ্ছে সেই বাঙালি সমাজ, যে বাঙালি একদিন বিশ্বকে পথ দেখাত।
আর এই অন্তর্দৃষ্টির প্রখরতা সাধারণত সবার থাকে না।
আর যাদের থাকে—
ভাবুন তারাও যদি মুখ ফিরিয়ে নেন?
তাহলে এই ধ্বংস-প্রক্রিয়া আরও দ্রুত সম্পন্ন হবে, এ নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।
যদি বাবা মায়েরা—
সেদিন স্বার্থপর হতেন?
একবার ভেবে দেখুন তো,
প্রভাবতী বসু যদি তাঁর ছেলেকে নির্দেশ দিতেন—
“দেশের জন্য ভাবার অনেক লোক আছে সুভাষ, তুই বরং তোর আই সি এস চাকরিটা মন দিয়ে কর।
নিজের ভবিষ্যত আর সংসারটা গুছিয়ে নে”—
তবে আমাদের দেশটার ঠিক কী ভবিষ্যত হত?
যদি বিশ্বনাথ দত্ত নরেনকে ছোটবেলা থেকেই কেবল আত্মকেন্দ্রিক হতে শেখাতেন?
কিংবা চরম মানসিক, আর্থিক ও শারীরিক কষ্টকে উপেক্ষা করে স্বামী বিবেকানন্দ যখন শিকাগোর পথে পা বাড়াচ্ছিলেন, তখন যদি ভুবনেশ্বরী দেবী তীব্র আপত্তি জানিয়ে বলতেন—
“নিজের কথা ভাব, আমাদের কথা ভাব”—
তবে কি বিশ্ব হিন্দুধর্মের এই পুনর্জাগরণ দেখতে পেত?
কিংবা তারিণী দেবী যদি রামমোহনকে সতীদাহ প্রথার বিরুদ্ধে লড়াই করতে নিষেধ করে বলতেন—
“সুখে থাকতে ভূতে কিলিয়ে কী লাভ বাবা?
অথবা ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়িয়ে কি লাভটা পাবি?
এ আগুনের পথ, সমাজ তোকে ভালো থাকতে দেবে না।
তুই মৃতবৎ বেঁচে থাকবি”—
তবে হয়ত বাংলার নারীদের পোড়া গন্ধে বাংলার আকাশ-বাতাস অন্ধকারে আজও ঢেকে থাকত।
এই মহামানবদের মায়েরা জানতেন,
সন্তানকে কেবল নিজেদের স্বার্থে বড় করা মানে তাকে আদতে ছোট করা।
আর দেশের জন্য সমাজের জন্য উৎসর্গ করা মানেই তাঁকে অমর করা,
প্রকৃত মানব জন্ম স্বার্থক করা।
আদর্শকে বহন না করে—
ধারণ করা
আজ আমরা এঁদের আদর্শকে শুধু মুখে আর বইয়ে ধারণ করি—
কিন্তু বাস্তব জীবনে বহন করতে চাই না।
আমরা পর্দার নায়ক-নায়িকার ভিডিও মুহূর্তেই ভাইরাল করে দিই,
কিন্তু সেই জায়গায় যদি থাকে বিবেকানন্দ, নেতাজি, বা রামমোহন?
তখন আমরা স্ক্রল করে চলে যাই।
ভাইরাল সত্য নয়—
ভাইরালই সত্য হয়ে উঠেছে:
আজ আমরা মানুষকে না, চমককেই ভালোবাসি।
আমরা আজ সত্যকে না, ভাইরাল জিনিসকে বিশ্বাস করি।
অর্থাৎ প্রকৃত অর্থে আমরা স্বামী বিবেকানন্দ,
নেতাজী কিংবা রাজা রামমোহন রায়ের আদর্শকে ড্রইংরুমের শো-পিস বানিয়ে রেখেছি।
আমরা তাঁদের আদর্শকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করি (ধারণ করি),
কিন্তু জীবনের কঠিন পথে সেই আদর্শকে বয়ে নিয়ে যাওয়ার সাহস দেখাই না।
- তবে কি আমরা আর সেই আগের বাঙালি নেই?
- আমরা কি আসলেই বদলে গেছি?
- তবে কি অনেক আগেই শুরু হয়েছে বাঙালির বিনাশ পর্ব?
আমরা চাই—
“আমাদের সন্তান যেন থাকে দুধে-ভাতে!”
চাই—
অন্য কেউ আগুনের পথে হেঁটে, পুড়ে আমাদের জন্য ফুলের বিছানা পেতে দিয়ে যাক।
আর আমরা সেই পথে রাজার মত হাঁটবো, প্রয়োজনে সেই বিছানাকেও আমরা ছিঁড়ে-খুবলে দেব।
কিংবা বইয়ে পড়ে নেব সেই পথের কথা, কিন্তু নিজেরা এক পা-ও আগুনের দিকে বাড়াবো না।
আর আজকের দিনে দাঁড়িয়ে বিষয়টা তো বরং এমন—
একমাত্র বোকা বা নির্বোধরাই এইসব পথে যায়, বুদ্ধিমান বা চালাকরা নয়।
সাধারণ বনাম মহামানব—
পার্থক্য কোথায়?
চিন্তার পরিধি
সাধারণ মানুষের ভাবনা—
গতানুগতিক ও নিরাপদ বৃত্তের ভেতরেই সীমাবদ্ধ।
অসাধারণ মানুষের চিন্তা—
ব্যতিক্রমী, দূরদর্শী, সময়ের সীমানা পেরিয়ে এগিয়ে চলা।
পথ বেছে নেওয়ার সাহস
সাধারণ মানুষ কঠিন পথের সামনে এসে থেমে যায়—
ভয় পায়, পিছিয়ে আসে।
অসাধারণ মানুষ ঠিক এই পথকেই বেছে নেয়—
এগিয়ে যাওয়ার জন্য।
নিজেকে দেখার দৃষ্টি
সাধারণ মানুষ দাঁড়ায় নিজের আয়নার সামনে—
নিজের সীমা, নিজের স্বার্থ, নিজের ছোট জগৎ নিয়ে ব্যস্ত।
আর অসাধারণ মানুষ দাঁড়ায় বৃহত্তর বাস্তবতার সামনে—
নিজেকে নয়, পৃথিবীকে দেখার সাহস রাখে।
চিন্তার বিস্তার
সাধারণ মানুষের চিন্তা—
সীমিত, ক্ষুদ্র, ব্যক্তিগত প্রয়োজনের গণ্ডিতে আটকে।
পাশাপাশি অসাধারণ মানুষের চিন্তা—
মহৎ, বৃহৎ, সমাজ ও সময়কে স্পর্শ করার মত বিস্তৃত।
স্বার্থের সংজ্ঞা
সাধারণ মানুষের কাছে—
নিজের স্বার্থটাই সবচেয়ে বড়।
এদিকে অসাধারণ মানুষের কাছে—
সমাজের স্বার্থ, মানুষের মঙ্গল, ভবিষ্যতের দায়—
এসবই ব্যক্তিগত স্বার্থকে ছাপিয়ে যায়।
হিসেব বনাম সিদ্ধান্ত
সাধারণ মানুষ—
প্রতিটা পদক্ষেপে লাভ-লোকসানের হিসেব-নিকেশ কষে এগোয়।
অসাধারণ মানুষ—
পরিণামের কথা ভেবেও এগিয়ে চলে, নিজের পথ থেকে সরে আসে না।
এখন প্রশ্ন এখানেই যে—
- নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু।
- রাজা রামমোহন রায়।
- স্বামী বিবেকানন্দ—
তাঁরা কি তাঁদের দূরদর্শিতা দিয়ে ভবিষ্যৎ দেখতে পেতেন না?
সেইসব মহামানব কি জানতেন না—
এই পথ বেছে নিলে তাঁদের ব্যক্তিগত সুখ, স্বাচ্ছন্দ আর নিরাপত্তা—
সবকিছু কবর দিয়ে দিতে হবে?
তাঁরা কি জানতেন না—
অপমানের বিষ তাঁদের একদিন নীলকণ্ঠ করে তুলবে।
লাঞ্ছনা আর গঞ্জনা হবে নিত্যসঙ্গী।
তবুও তাঁরা এই পথ বেছে নিয়েছিলেন।

তবে কি তাঁরাও বোকা এবং নির্বোধ ছিলেন?
যদি উত্তর “না” হয়—
তবে আমি, আপনি কেন সাধারণভাবে ভাবতে পছন্দ করি, সেটাকেই ভালোবাসি?
কেন আমাদের সন্তানদের সাধারণভাবে বাঁচতে শেখাচ্ছি?
এর ভবিষ্যত পরিণাম কি সত্যিই আমরা কোনওদিন ভেবে দেখেছি?
সভ্যতার সংকট—
অন্তর্দৃষ্টির সময় এখনই
সবই ঠিক চলছে।
ওগুলো অন্যদের ভাবনা—
এই ভাবনাই আমাদের সবচেয়ে বড় ভুল।
কারণ ধ্বংস যখন আমাদের দরজায় এসে দাঁড়াবে, তখন আর ন্যূনতম সময়টুকু আমরা পাব না।
সে সময়ে আফসোস, অভিযোগ, অভিমান, রাগ, দুঃখ, যন্ত্রণা সব একসাথে মূল্যহীন হয়ে পড়বে।

এখনও সময় আছে—
আমরা চাইলে আমাদের সন্তানদের শুধু সফল নয়, সংবেদনশীল মানুষ হিসেবেও গড়ে তুলতে পারি।
কারণ সমাজের ভবিষ্যত গড়ে ওঠে ডিগ্রি বা অর্থ দিয়ে নয়—
মানুষ দিয়ে।
আর যে সময়ে মানুষই থাকবে না, সে ডিগ্রি আর অর্থের মূল্যই বা কী?
অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ:
( যে লেখাটা পড়লেন, এর একটা বাস্তব ও উল্লেখযোগ্য উদাহরণ জানবেন?
জেনে নিন।
আমাদের বাস্তবতা কিন্তু লজ্জাজনকভাবে পরিষ্কার—
মন্ত্রী নামলেই রাস্তা ফাঁকা।
মানে গুগল ম্যাপস্ও তখন ভাবতে শুরু করে—
Road closed due to ego traffic.
(অহঙ্কারের ট্রাফিকের কারণে রাস্তা বন্ধ।)
- সাধারণ মানুষ কাজের সর্বনাশ করে থেমে থাকে।
- গর্ভবতী রাস্তাতেই যন্ত্রণায় ছটফট করে।
- মুমূর্ষুপ্রায় রোগী অ্যাম্বুলেন্সে শুয়ে মৃত্যুর সাথে লড়াই করতে থাকে।
- পরীক্ষার্থী ঘড়ির কাঁটার সাথে দৌড়ে হেরে যায়।
- দিনমজুরের একদিনের রোজগার রাস্তার ধুলোর সাথে উড়ে যায়।
মানে তখন সবাই ও সবকিছুই প্রায় মূল্যহীন হয়ে পড়ে।
কারও সময়ের কোনও দামই থাকে না সে মুহূর্তে।
আমরা ‘স্ট্যাচু অব লিবার্টি’ হয়ে যার যার অবস্থানে দাঁড়িয়ে থাকি,
আর ওনাদের সময়— ‘ন্যাশনাল অ্যাসেট।’
অ্যাম্বুলেন্সটাও যেন স্বাভাবিকভাবে বলে ওঠে—
“আপনি মরবেন মরুন, দেখছেন না স্যার যাচ্ছে?”
সবচেয়ে বড় আশ্চর্যের বিষয় কী জানেন?
এটা আমাদের রাজ্য এবং দেশে স্বাভাবিক একটা বিষয়।
এটা শুধু অন্যায় নয়, একটা অসুস্থ ও বিকৃত ক্ষমতার প্রদর্শন।
ভিআইপি মানেই এখানে—
“আমি আলাদা, আমি বড়, আমি আইনের ঊর্ধ্বে।”
আর সংবিধান?
ওটা বোধহয় তখন সাধারণ মানুষের জন্য প্রিন্টেড কপি!
আরও জানতে চান, জেনে নিন ভেতরে লুকিয়ে থাকা সেই সত্যিটা,
যা আপনাকে আপনার সন্তানদের জন্য রীতিমতন ভাবাবে।
পড়ুন: নেপালের প্রধানমন্ত্রী এ কী সাংঘাতিক কাণ্ড করে বসলেন? আর আমরা? )
( আরও জেনে নিন সেই সত্যি, যা আপনার প্রিয় পরিবার ও সন্তানদের কথা মাথায় রেখে আজই জেনে নেওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন।
ভারতের মানচিত্রে নারী নিরাপত্তা আজ এক বিরাট প্রশ্নচিহ্নের মুখে দাঁড়িয়ে।
কেন জানেন?
সম্পূর্ণ জেনে নিন।
পড়ুন: ভারতে মেয়েদের নিরাপত্তা– এটা কি শুধুই এক বিশ্বাস? )
একটা বিশেষ নিবেদন:
[ Articlesবাংলা, আমার-আপনার পরিবার
আপনাদের জন্যেই এই ওয়েবসাইটের জন্ম।
তাই আরও বিভিন্ন দুর্দান্ত টপিকের ওপরে এরকমই সব
বিশ্লেষণধর্মী লেখা পেতে নিয়মিত আমাদের পেজে চোখ রাখুন।
আপনার প্রতিবেশি, বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়-স্বজন তথা সমাজের স্বার্থে
আপনার যে লেখাটা গুরুত্বপূর্ণ মনে হবে,
আপনি সেই লেখাকে শেয়ার করে পৌঁছে দিন তাঁদের কাছে,
যাতে তাঁরাও জানার, বোঝার সুযোগটুকু পান আপনাদের মাধ্যমে।
ইমেইল আইডি দিয়ে আমাদের বাঙালির পরিবারের একজন
প্রিয় মানুষ হয়ে উঠুন।
এরপর এই ওয়েবসাইটে যখনই কোনও লেখা প্রকাশিত হবে,
সবার আগে আপনি পেয়ে যাবেন নোটিফিকেশন—
সরাসরি আপনার ইনবক্সে।
এ বিষয়ে আপনার গুরুত্বপূর্ণ মতামত জানার অপেক্ষায় রইলাম।
চলুন বাঙালিকে বিশ্বের দরবারে সবাই মিলে একসাথে বারবার তুলে ধরি
চিন্তা, চেতনা আর শব্দের শক্তিতে—
একসাথে, সবাই মিলে।
বিশ্ব জানুক—
আমাদের ভারত কি?
বাঙালি কি?
বাংলা শব্দের ক্ষমতাই বা কি? ]
Articlesবাংলা Bangla Articles, Quotes & Prose-Poetry / বাংলা প্রবন্ধ, উক্তি ও গদ্য-কবিতা।





