মায়ের মৃত্যু কবিতা:
মায়ের মৃত্যু কবিতা: এক সু-সন্তানের অব্যক্ত যন্ত্রণা!
এই লেখাটা অনেকের কাছে হয়ত শুধুই এক কবিতা।
কিন্তু আজ যার জীবনে মা নামক পৃথিবীটা আর নেই–
তাঁর কাছে এটা একটা নিঃশব্দ আর্তনাদ।
যে মাকে একদিন বুক ভরে ভালোবেসেছিল, আজও ঠিক ততটাই ভালোবাসে–
সময় বদলালেও ভালোবাসা বদলায়নি।
মায়ের মুখ, কণ্ঠ, মায়ের হাতের স্পর্শ, স্নেহ, মমতা–
স্মৃতির ভেতরে আজও যেন জীবন্ত হয়ে আছে।
চিরবিদায়ের সেই দিনের আগুন নিভে গেলেও, আজও জ্বলে হৃদয়ের গভীরে।
কেউ দেখে না, কেউ বোঝে না, মনও কথা শোনে না–
তাই ভেতরে এক অবিরত রক্তক্ষরণ।
মানুষ ভাবে সময় ক্ষত সারিয়ে দেয়;
কিন্তু মা হারানোর শূন্যতা কোনও সময়েরও সাধ্য নেই তা পূরণ করার।
এই কবিতা কেবল শব্দের সাজ নয়–
এটা এক সন্তানের ভাঙা বুকের স্বীকারোক্তি।
যে সন্তানের কাছে মা-ই ছিল নিরাপদ আশ্রয়, শেষ ঠিকানা, শেষ আলো।
আজ সেই আলোই নিভে গেছে, কিন্তু অন্ধকারের মাঝেও তাঁর ভালোবাসা
এখনও জ্বলছে নিঃশব্দ প্রদীপ হয়ে।
মায়ের প্রতি শোকের আর্তি
তুমি কি সত্যিই শুয়ে আছো
ঐ কাঠের ওপরে, মা?
ঐ আগুন– সত্যি?
নাকি এ শুধু এমন এক দুঃস্বপ্ন–
যেখান থেকে ঘুম ভাঙতে এখনও দেরি আছে?
আমার চোখের সামনে নির্দয় আগুন–
কেমন উঠছে, আরও ওপরে–
আর তোমার চেনা শরীর
ধীরে ধীরে অচেনা হয়ে যাচ্ছে।
আমি তাকিয়ে আছি।
কেউ আমাকে শেখায়নি
মায়ের দাহ দেখা কিভাবে সহ্য করতে হয়।
মায়ের শেষ আশ্বাস:
মা– তুমি তো সব জানতে।
কে না খেয়ে আছে,
কার চোখে জল জমেছে,
কার বুক ভেঙে গেছে চুপচাপ।
আজ আগুন তোমাকেই গ্রাস করছে–
যে আগুনে তুমি একদিন
ভক্তি ভরে (দেখুন) সন্ধ্যা আরতি করতে।
আর আমি প্রথমবার বুঝেছি
অসহায়তা কতটা ভারী হতে পারে।
আমি দাঁড়িয়ে আছি–
এক ছেলেমানুষ হয়ে।
চিৎকার করতে চাই–
কিন্তু গলা ওঠে না।
আমার সমস্ত সাহস,
তোমার সাথেই
ঐ আগুনে পুড়ছে।

আশ্বাস হারানোর কষ্ট
(ঘনীভূত)
তুমি বলেছিলে–
“আমি না থাকলে নিজেকে সামলাতে শিখবি।”
কিন্তু তবুও তুমি ছিলে–
আর ছিলে বলেই
আমি কখনও শেখার প্রয়োজন বোধ করিনি।
আজ বুঝছি–
ভরসা চলে গেলে
হৃদপিণ্ড কত দ্রুত অন্ধকার হয়।
যেখানে আর
কোনও আলো ঢোকে না।
( একদিন থেমে যাবে সবকিছু—
আমরা শুধু সময়ের কাছে ক্ষণিক।
অসমাপ্ত কথা আর ছিঁড়ে যাওয়া স্বপ্নই জীবনের সত্য।
সময় আমাদের হাতে নেই, আমরা শুধু এক-একটা শ্বাসের মত অস্থির।
যে দৌড় আজ জরুরি মনে হয়, যা আজ আপন মনে হয়—
একদিন থেমে যাবে সবকিছু, আর ফিরে আসবে না।
ফাঁকা ঘরের নীরবতাতে ঝুলে থাকবে আমাদের অসমাপ্ত আশা।
প্রতিটা হাসি, প্রতিটা স্পর্শ, প্রতিটা অভিমান, সবই ক্ষণস্থায়ী,
তবু হৃদয়ে গেঁথে থাকে।
সময় তখন আমাদের হাতে থাকবে না,
আমরা থাকব সময়ের হাতে।
অসম্পূর্ণতাই জীবনের প্রকৃত পূর্ণতা।
তাই পড়ুন এ নিয়ে গভীর অনুভূতিপ্রবণ লেখাটা,
দেখবেন কিছুক্ষণের জন্য সবকিছু হিসেব যেন উল্টে পাল্টে গেল।
পড়ুন– Click: একদিন থেমে যাবে সবকিছু! )
মায়ের মৃত্যু কবিতা:
অচেনা আগুন
তোমার ভাত মাখানো হাতটা কোথায় মা?
এই আগুনটাকে একবার বকো না।
এখনই উঠে এসে বলতে পারছ না–
“এই আগুন মিথ্যে… এই তো আমি!”
তুমি ছিলে আমার শেষ ঠিকানা।
আজ সেই ঠিকানাই
ধোঁয়া হয়ে উড়ে যাচ্ছে–
অন্য কোনো ঠিকানায়।
আমি হাত বাড়াই–
ধরি শুধু শূন্যতা।
ধোঁয়ার ভেতর ভেসে আসে
শেষ নিঃশ্বাসের গন্ধ।
বাস্তব না দুঃস্বপ্ন?
বাস্তব না দুঃস্বপ্ন?
এই আগুন, এতটাই বাস্তব–
তবু কেন মনে হচ্ছে, এটা এক নির্মম ভুল?
একটা আস্ত শরীর নিয়ে আগুনটা
ওপরে উঠছে–
ফুঁ দিয়ে নিভিয়ে দাও, মা।
এসে বলো আমায়–
মৃত্যুটা ভুল ছিল খোকা।
ফিরে এসো, সব ভুল শুধরাতে।

মায়ের মৃত্যু কবিতা:
শেষ বিদায়
কেউ বলল– কাজ শেষ।
কেউ ফুল ছুঁড়ল।
কেউ প্রণাম করল।
আর আমি–
তখনও তাকিয়ে দেখছি
এই মুহূর্তটার দিকে।
তুমি আগুনে,
আর আমি অবিশ্বাসে।
দেখলাম–
আজ শুধু তুমি নও
আমার ভেতরের শিশুটাও দাহ হল।
কেউ তা দেখল না।
কেউ জানল না।
শুধু আমি জানি–
আমার ভেতরেও জ্বলেছে একটা চিতা,
যার আগুন নিভবে না কোনোদিন।
ভয় হয়ে ওঠা নতুন, মা:
তোমার মতন কেউ আর বলবে না–
“ভয় পাস না খোকা– আমি তো আছি।”
এখন এই ভয়টাই আমার নতুন মা!!
(জানিনা মা,
তুমি কোন ঠিকানায় গেছ।
মৃত্যুরও কি কোনো পোস্টাল কোড থাকে?
কোনো গলি,
কোনো দরজা,
কোনো নামফলক–
যেখানে লেখা থাকে,
“এখানে একজন মা থাকেন?”
পড়ুন– Click: যে ঠিকানাটা আর জানা হলো না!)
(Articlesবাংলা – আমাদের, আপনাদের পরিবার।
ইমেল আইডি দিয়ে আমাদের সাথে যুক্ত হন।
ফলে যখনই এই ব্লগে কোনো নতুন লেখা পোস্ট করা হবে,
সবার আগে আপনিই পাবেন নোটিফিকেশন।
লেখাটা ভালো লাগলে,
শেয়ার করে বন্ধুদের পড়ার সুযোগ করে দিন।
মূল্যবান মন্তব্যে জানান কেমন লাগলো।)
Articlesবাংলা Bangla Articles, Quotes & Prose-Poetry / বাংলা প্রবন্ধ, উক্তি ও গদ্য-কবিতা।