বকুল গাছের তলায় শেষ দৃষ্টি
আর না-পাওয়ার হাহাকার
ক্ষীন দৃষ্টি আর পাতলা হয়ে গুটিয়ে আসা চামড়ার জঙ্গলে,
ভারসাম্যহীন দেহটাকে ডালপালার মতন টেনে হিঁচড়ে-
আমি আজও আসি
তোমার-আমার প্রিয় সেই বকুল গাছটার তলায়-
(পড়ুন– আমি ছুঁয়েছি স্বর্গকে: ভালোবাসাই স্বর্গ!)
যদি শেষবার রেখে যেতে পারি
তোমার সেই কাজল কালো চোখে
আমার এই দৃষ্টি,
যে দৃষ্টি শুধুমাত্র চিনতে পারবে তুমি।
যে দৃষ্টিতে থাকবে একবুক হাহাকার ব্যাকুলতা ও
না-পাওয়ার তীব্র বেদনা!
থাকবে হতাশা
ও আকাশ-পাতাল আন্দোলিত করা
নীরব এক আর্তনাদ!

যদি একবার শুনতে পারি তোমার শব্দ,
যদি ছুঁতে পারি শেষবারের মতন তোমার হাতটা,
( কথা ছিল জীবনটা শেষ পর্যন্ত কাটাবো একসাথে,
কিন্তু এ কি খেলা বিধাতার?
কেন আমায় রেখে গেলে একা?
প্রতিদিন আমি মরছি একটু একটু করে।
পড়ুন– Click: দ্বিতীয় নিঃশ্বাস!)
মৃত্যুর ওপারে ভালোবাসা:
একমাত্র স্বর্গে ছুঁয়ে দেখা
যদি ভুল করেও আসো চলে,
মৃত্যুকে বলে দেব চোখ রাঙিয়ে–
“তোকে আর ভয় পাইনা আমি,
স্বর্গসুখ পেয়েছি আমি,
আমি ছুঁয়েছি স্বর্গকে!”
তখন মৃত্যুও হবে কেবল এক প্রহরী,
যে দরজা খুলে দেবে তোমার কাছে ফেরার।
অশ্রুর ভিতর দিয়ে আলো হয়ে তুমি হাসবে,
আর আমি বিশ্বাস করবো-
ভালোবাসাই হল একমাত্র স্বর্গ,
যেখানে আমি সত্যিই ছুঁয়েছি তোমায়।
ভালোবাসার পরেও যা বেঁচে থাকে
তারপরও জানি, বকুল গাছের নিচে দাঁড়িয়ে থাকা
এই শরীরটা একদিন আর আসবে না।
পাতা ঝরার মতন ঝরে যাবে আমার নাম,
আমার স্পর্শ, আমার অপেক্ষা।
তবু ভালোবাসা ঝরে না–
সে মাটির ভিতরে ঢুকে শিকড় হয়ে থাকে।

হয়তো আর কেউ চিনবে না এই পথ,
হয়তো তোমার কাজল-কালো চোখও
আমাকে ভুলে যাবে সময়ের অনিবার্যতায়।
তবু বিশ্বাস করো,
যেখানে তোমার নিঃশ্বাস একবার থেমেছিল,
সেখানেই আমার ভালোবাসা জ্বলে থাকবে
নিভে না-যাওয়া প্রদীপের মতো।
যদি কখনও অকারণে বুক ভারী হয়ে আসে,
যদি অজান্তে চোখ ভিজে ওঠে,
ভেবো–
আমি তখনও তোমার পাশেই আছি।
নামে নয়, দেহে নয়–
শুধু সেই অনুভবে,
যা মৃত্যু পার হয়েও
ভালোবাসা হয়ে ফিরে আসে।
(জানিনা মা,
তুমি কোন ঠিকানায় গেছো।
মৃত্যুরও কি কোনো পোস্টাল কোড থাকে?
কোনো গলি,
কোনো দরজা,
কোনো নামফলক–
যেখানে লেখা থাকে,
“এখানে একজন মা থাকেন?”
পড়ুন– Click: যে ঠিকানাটা আর জানা হলো না!)
Articlesবাংলা Bangla Articles, Quotes & Prose-Poetry / বাংলা প্রবন্ধ, উক্তি ও গদ্য-কবিতা।