নীরব ঈশ্বর, হিসেবি মানুষ:
একদিন নীরব ঈশ্বর, হিসেবি মানুষ মুখোমুখি হল-
ঈশ্বর ফিরে তাকালেন না,
তাঁর চোখের পাতা পড়ল না-
আর ঠিক সেইদিনই মানুষ হয়ে উঠল ঈশ্বর।
সে বানাল (পড়ুন) ন্যায়-নীতি, সাজালো বিচার,
লিখে ফেলল পাপের সংজ্ঞা।
(সত্যি ভালোবাসার প্রভাব একজন মানুষের জীবনের
শেষ পর্যন্ত প্রভাব ফেলতে পারে ঠিক কি পরিমাণে?
জানতে হলে পড়ুন– Click: আমি ছুঁয়েছি স্বর্গকে!)
ঈশ্বর বনাম মানুষ:
কিন্তু ইশ্বর হতে গিয়ে মানুষ ভুলে গেল-
ইশ্বর ছিলেন নিঃশর্ত; মানুষ নয়।
মানুষ চায় পূজা, প্রতিদান,
চায় জবাবদিহি।
তাই আজ ‘ভালো কাজ’ও হয় ক্যামেরার ফ্ল্যাশে,
আর প্রার্থনা দাঁড়ায় এক অলিখিত লেনদেন হয়ে।
তুমি দাও, আমি মানি।
তুমি চুপ থাকো,
আমি অন্য ভগবান খুঁজি।
নীরবতার ভয়:
আমরা বিশ্বাস করি না ইশ্বরে-
আমরা ভয় পাই ঈশ্বরহীনতায়।
কারণ তাঁর অনুপস্থিতিই প্রমাণ করে-
আমরা আসলেই সম্পূর্ণ একা, ভয়ঙ্করভাবে একা!
মানুষ ও উপাসনার সীমা:
তাই আমরা গড়ে তুলি মন্দির,
গড়ি মসজিদ, গির্জা।
পাথরের দেওয়ালে বন্দি করি
অদৃশ্য সত্ত্বাকে।
কিন্তু গভীর রাতে, নীরবতার ভিতরে,
আমাদের কান কাঁপে নিজের হৃদস্পন্দনের শব্দে-
যেন সেটাই একমাত্র প্রার্থনা, একমাত্র ঈশ্বর।
নীরব ঈশ্বর, হিসেবি মানুষ: প্রশ্ন?
আমরা প্রশ্ন করি, উত্তর পাই না-
তবুও প্রশ্ন করাটাই যেন আমাদের ধর্ম।
কারণ নীরব ঈশ্বরের অভাবে,
আমরা ভেঙে পড়ি
নিজের ভিতরের শূন্যতায়,
যা কোনও মন্দির,
কোনো প্রার্থনায় ভরাট হয় না।
নীরব ঈশ্বর, হিসেবি মানুষ:
শেষ মুখোমুখি
হয়তো একদিন মানুষ ক্লান্ত হবে
হিসেব করতে করতে।
পাপ-পুণ্যের খাতায় সংখ্যা মিলবে না,
প্রার্থনার অঙ্কে ঘাটতি থাকবে।
সেদিন সে বুঝবে–
ঈশ্বরকে পাওয়া যায়নি বলে নয়,
ঈশ্বরকে ধরা যায়নি বলেই এই ব্যর্থতা।
কারণ ঈশ্বর কখনও প্রতিযোগীতা করেন নি
মানুষের সঙ্গে।
তিনি প্রমাণ করতে চাননি, স্বীকৃতি চাননি।
নীরব থেকে তিনি শুধু একটাই কথা বলেছেন–
শোনা যায় না বলে আমরা শুনতে চাইনি।
হয়তো ঈশ্বর ছিলেন সেই মুহূর্তে,
যখন কেউ কাউকে না দেখেও ক্ষমা করে দিয়েছে।
হয়তো তিনি ছিলেন সেই কাজে,
যার ছবি ওঠেনি, গল্প হয়নি,
যার জন্য কোনো পুরস্কারও মেলেনি।
আমরা তাঁকে খুঁজেছি শব্দে,
তিনি ছিলেন নীরবতায়।
আমরা তাঁকে বেঁধেছি নিয়মে,
তিনি ছিলেন প্রশ্নে।
একদিন মানুষ বুঝবে–
ঈশ্বর হারিয়ে যাননি,
আমরাই তাঁকে আমাদের হিসেবের বাইরে রাখতে পারিনি।
আর সেদিন,
নীরব ঈশ্বর আর হিসেবি মানুষ
আর মুখোমুখি দাঁড়াবে না।
কারণ তখন মানুষ আর ঈশ্বর হতে চাইবে না–
মানুষ হতে পারলেই যথেষ্ট হবে।
( বাতাস এসেছিল আজ আমার ঘরে,
বুঝিয়ে গেল- কিছু ফেরা হয় না।
কিন্তু সব হারায় না- কিছু ভালোবাসা রয়ে যায় উচ্চারণহীন।
তোমার শরীরে এখন নীরব সময়ের গন্ধ…
পড়ুন– Click: শূন্যে অপেক্ষা! )
(Articlesবাংলা – আমাদের, আপনাদের পরিবার।
ইমেল আইডি দিয়ে আমাদের সাথে যুক্ত হন।
ফলে যখনই এই ব্লগে কোনো নতুন লেখা পোস্ট করা হবে,
সবার আগে আপনিই পাবেন নোটিফিকেশন।
লেখাটা ভালো লাগলে,
শেয়ার করে বন্ধুদের পড়ার সুযোগ করে দিন।
মূল্যবান মন্তব্যে জানান কেমন লাগলো।)
Articlesবাংলা Bangla Articles, Quotes & Prose-Poetry / বাংলা প্রবন্ধ, উক্তি ও গদ্য-কবিতা।


