পৃথিবীর ICU: ধ্বংসের আগে চিৎকার
আমরা আজ পৃথিবীকে বাঁচানোর গল্প করি,
বিশেষত নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার স্বার্থে।
অথচ পৃথিবী ইতিমধ্যেই ICU-তে শুয়ে আছে।
শরীরে তার একফোঁটা রক্ত নেই, আছে সমুদ্রের ফুটন্ত জল।
(দেখুন) হিমবাহগুলো হাসপাতালের অক্সিজেন সিলিন্ডারের মত ফেটে যাচ্ছে,
একটার পর একটা।
তাই পড়ুন: ICU তে পৃথিবী– কেন মানুষ পরজীবী ব্যাকটেরিয়া?
আমরা ভাবছি, “এখনও তো সময় আছে।”
কিন্তু স্যাটেলাইট ডাটা চিৎকার করে বলছে–
২০ বছর নয়, বরং প্রতিদিন ১৫০ বিলিয়ন টন করে গলছে মানবসভ্যতা।
পৃথিবীর রক্তক্ষরণ– শ্বাস নেওয়ার ক্ষমতাঃ
আরেকটু গভীরে ডুব দেওয়া যাক–
এক একটা দিন মানে ১৫০,০০০,০০,০০০ টন বরফ।
এটা এমন যেন–
পৃথিবীর শরীর থেকে প্রতিদিন ১৫০ বিলিয়ন লিটার রক্ত বেরিয়ে যাচ্ছে।
এখানে যদি মানুষ হত–
এই পরিমান রক্তক্ষরণে এক সেকেন্ডও সে বাঁচত না।
কিন্তু পৃথিবী এখনও সহ্য করছে চুপ করে,
এখনও আছি তার ক্ষমার অন্তিম পর্বে।
আমরা ক্যালেন্ডারে দিন গুনি, বছর গুনি,
পৃথিবীও গুনছে আমাদের জন্যে।
এদিকে হিসেব রাখছে–
কিভাবে প্রত্যেকটা দিন একটু একটু করে কমে আসছে,
তার শ্বাস নেওয়ার ক্ষমতা।
( সভ্যতার অহংকার যখন প্রকৃতির সহিষ্ণুতার সীমাকে লঙ্ঘন করে,
তখন পৃথিবী আর সংলাপ করে না, ঘোষণা করে “রায়।”
কি হবে তবে মানুষের ভবিষ্যৎ?
পড়ুন– Click: কি হবে কোলকাতার ভবিষ্যৎ? উত্তরবঙ্গ থেকে ধরালী– সতর্কতা! )
৮২৫ কোটি মানুষ– সত্যিটা জানে ক’জন?
জাতিসংঘের জনসংখ্যা বিভাগ এবং ইউনাইটেড স্টেটস ক্যালকুলেশন ব্যুরো-এর,
২০২৫-এর অক্টোবর মাসের, প্রথম সপ্তাহের আনুমানিক হিসেব অনুযায়ী–
বর্তমান পৃথিবীতে মোট জনসংখ্যা ৮২৫ কোটি।
এখন এই ৮২৫ কোটির মধ্যে কমপক্ষে ২০০ কোটি সাধারণ মানুষ কি জানে,
পৃথিবীটা বর্তমানে ঠিক কি ভয়ানক স্বাস্থ্য সংকটে আছে?
তাঁরা কি মন্দির-মসজিদ-গীর্জায় প্রার্থনা, দোয়া করে পৃথিবীর জন্যে?
প্রণামী, ফুল দেয় ঈশ্বরকে?
বুকটা কি ভারী হয়ে ওঠে কখনও মা-পৃথিবীর জন্যে?
মানুষঃ পৃথিবীর পরজীবী ব্যাকটেরিয়া
তাঁরা কি জানে–
যে পৃথিবী তার বুকে বসিয়ে, ভালোবেসে,
২ থেকে ৩ লক্ষ বছর ধরে আমাদের যত্নে লালন করে আসছে,
সেই পৃথিবীর বুকের ভিতরেই আজ আমরা পরজীবী ব্যাকটেরিয়া?
আমরা নিজেদের ধর্মে অটল, দৃঢ়বিশ্বাসী, শ্রদ্ধাবনত,
কিন্তু পৃথিবীর বুকে আমাদের ধর্ম হোস্টের রক্ত-মাংস খাওয়া, রোগ সৃষ্টি করা।
এরপর হোস্টের সাথে নিজেদেরও মৃত্যুকে বরণ করা।
পৃথিবী চেয়েছিল সহাবস্থান, কিন্তু যত সভ্য হতে থাকলো মানুষ,
ধীরে ধীরে বদলে গেল তাঁদের আচরণ, বেড়ে গেল ঔদ্ধত্য।
অ্যান্টার্কটিকা গলে যাওয়াঃ
মৃত্যুপরোয়ানায় স্বাক্ষর
আমরা জানি বিশ্ব উষ্ণায়ন-এর কারণে, অ্যান্টার্কটিকায় বরফ গলছে,
ফলে বাড়ছে সমুদ্রের জলের উচ্চতা,
যা সমগ্র মানবজাতির জন্যে আজ এক বড় হুমকি।
কিন্তু সত্যি হল– অ্যান্টার্কটিকায় বরফ গলা মানে,
প্রথমে তলিয়ে যাবে সমুদ্র তীরবর্তী শহর বা অঞ্চলগুলো।
এরপর মুছে যাবে ভূমি, বন, নদী এবং সীমানা।
শেষে বদলে যাবে গোটা পৃথিবীর মানচিত্রই।
অর্থাৎ– বরফ গলা মানেই,
এক একটা শহর, গ্রাম এবং উপকূলীয় অঞ্চলের মৃত্যুপরোয়ানায় সই হয়ে যাওয়া।
ধীরে ধীরে বিস্ফোরিত হচ্ছে পৃথিবীঃ
আমরা ভাবি বোমা মানে যা শব্দে ফেটে যায়।
কিন্তু এ এক নীরব পরমাণু বোমা, যার বিস্ফোরণ ধীর,
কিন্তু অভিঘাত হাজার গুণ বেশি।
বরফ গলা মানে শুধু সমুদ্রের জল বেড়ে যাওয়া নয়–
সাজানো প্রকৃতি ধীরে ধীরে ভয়ঙ্কর বিকৃত রূপ ধারণ করা।
প্রতিদিন ১৫০ বিলিয়ন টন বরফ গলা মানে–
সমুদ্রপৃষ্ঠ প্রায় ০.৪ মিলিমিটার করে উপরে উঠছে।
০.৪ মিলিমিটারটা শুনতে হয়তো ছোটো মনে হচ্ছে,
কিন্তু, ১ বছরে তা হয়– প্রায় ১৫ সেন্টিমিটার,
আর ১০ বছরে প্রায় ১৫ সেন্টিমিটার।
অর্থাৎ, এক প্রজন্মের জীবনে,
শহর ও উপকূলীয় অঞ্চলগুলোর অর্ধেকই চলে যাবে সমুদ্রের গর্ভে।

ধীরে ধীরে এগিয়ে আসা মৃত্যু কিন্তু মানুষ আজ সরাসরি দেখতে পাচ্ছে না,
মানুষ ব্যস্ত তাঁদের স্বার্থ নিয়ে।
কিন্তু প্রকৃতির এই নীরব রক্তক্ষরণ আজও আমাদের সতর্ক করে চলেছে,
দিয়ে চলেছে ঈঙ্গিত।
বলে চলেছে– “সময় হাতে নেই বেশি, এখনও সাবধান হও, সচেতন হও।”
পাশাপাশি প্রত্যেকটা গাছ, পশু, পাখী, কীট-পতঙ্গ,
মানুষের উদ্দেশ্যে বলে চলেছে–
কোন অধিকারে তোমরা বিপন্ন করতে চলেছো আমাদের জীবন,
বাঁচার অধিকার?
তোমাদের ভুলের মাশুল কেন গুনবো আমরা?
তোমরা না কি এ গ্রহের সর্বশ্রেষ্ঠ জীব?
একদিকেঃ
- Prevention of Cruelty to Animals Act, 1960.
- Wildlife Protection Act,1972.
- Animal Welfare Act, 1966.
- Animal Welfare Act, 2006.
- Animal Welfare Act, 2019.
- EU Directive and National Laws.
এসব সাজিয়ে রেখেছো আমাদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্যে,
আবার সেই তোমরাই মৃত্যু ফাঁদ তৈরি করে রাখছো আমাদের জন্যে।
কোন কোন শহরের ভবিষ্যৎ
অন্ধকারে ডোবার আশঙ্কা?
উপযুক্ত পদক্ষেপ না নিলে বা বাড়ালে,
পরবর্তী কয়েক দশকে যে সব শহর নিশ্চিহ্ন হতে পারে পৃথিবীর বুক থেকে–
- কোলকাতা
- মুম্বাই
- ঢাকা
- চেন্নাই
- আমস্টারডাম
- নিউইয়র্ক
- সিডনি
- সাংহাই।
এই শহরগুলোর মধ্যে কিছু ইতিমধ্যেই জলাবদ্ধতা ও বন্যার সম্মুখীন হচ্ছে।
ভবিষ্যতে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা আরও বৃদ্ধি পেলে,
পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে।
তবে এই শহরগুলোর মধ্যে থাকা উন্নত অবকাঠামো,
ও প্রস্তুতি কিছুটা ঝুঁকি কমাতে পারে।
সমুদ্র গরমঃ ধ্বংসের শক্তি সঞ্চিত হচ্ছে
মানুষ ভাবে, “ওসব তো অনেক দূরের মহাদেশে হচ্ছে, আমাদের কি?”
আর এই প্রশ্নটাই আমাদের সবচেয়ে বড় অন্ধকার।
বরফ গলছে, সমুদ্র গরম হচ্ছে, ঝড়ের তীব্রতা বাড়ছে।
অ্যান্টার্কটিকা ও গ্রীনল্যান্ডের বরফ গলে,
সমুদ্রের লবণাক্ততা ও তাপমাত্রা পরিবর্তিত হয়,
যা সামুদ্রিক প্রবাহ ও আর্দ্রতা বিপর্যস্ত করে।
এই পরিবর্তনগুলো সরাসরি সমুদ্র গরম মনে না হলেও,
সমুদ্রে শক্তি সঞ্চিত হচ্ছে।
ফলে ভবিষ্যতে বাড়াতে পারে ঝড়ের তীব্রতা।
ঘূর্ণিঝড় বা হ্যারিকেনের শক্তি–
মূলত সমুদ্রের গরম জলের শক্তি থেকেই জন্ম নেয়।
সমুদ্রের তাপমাত্রা বাড়ে, ঝড়ের শক্তি, বৃষ্টি ও ঘূর্ণনও বাড়ে।
আমরা ইতিমধ্যেই দেখেছি–
মোখা, আম্ফান, ইয়াস প্রত্যেকটা আগের তুলনায় শক্তিশালী।
প্রকৃতির এই রূপক শক্তি আমাদের সতর্ক করেছে।
এদিকে ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধি এমন শক্তি তৈরি করে,
যা আনুমানিক ৬ লাখ হিরোশিমা বোমার সমান।
এক্ষেত্রে স্মরণ করা যাক– ৬ ই আগস্ট, ১৯৪৫,
জাপানের হিরোশিমা শহরে আছড়ে পড়ল মানব সভ্যতার অভিশাপ “Little Boy.”
এর ক্ষমতা ছিল ১৫ কিলোটন TNT সমতুল্য।
পরিণাম–
মুহূর্তে মারা যায় ৭০ থেকে ৮০ হাজার মানুষ,
পরে প্রভাব পড়ে আরও বেশি।
এরকম ৬ লক্ষ Little Boy-এর সমান শক্তি তৈরি করে,
সমুদ্রের মাত্র ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে।
পৃথিবী কি ইতিমধ্যে–
“পয়েন্ট অব নো রিটার্ন” ছুঁয়ে ফেলেছে?
বিজ্ঞানীরা সতর্ক করছেন–
আমরা খুব কাছে চলে এসেছি ‘টিপিং পয়েন্ট’
( এমন এক সীমা, যেখানে ছোট পরিবর্তনও বড় ধ্বংসাত্মক প্রভাব আনতে পারে )
-এ, মানে– এখনই পদক্ষেপ না নিলে, আর থামানো সম্ভব নয়।
বরফ গলছে এত দ্রুত হারে, যে তা নিজেই নিজেকে গলাতে থাকবে।
গাড়ি একবার পাহাড়ের ঢাল বেয়ে খুব দ্রুত নামতে শুরু করলে,
তখন ব্রেক ফেইল করে, নিয়ন্ত্রণ হারানোর সম্ভাবনা থাকে।
( পশু-পাখী, কীটপতঙ্গ নয়,
মানুষের তাণ্ডবে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে প্রকৃতি!
কিভাবে?
পড়ুন– Click: অক্সিজেনের অভাবে তবে কি ছটফট করবে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম? )
রাষ্ট্রপ্রধানদের ভূমিকাঃ
এ পৃথিবীকে গলিয়ে দিচ্ছে কোনো কারখানা নয়,
মূলত রাষ্ট্রপ্রধানদের অবহেলা, উদাসীনতা।
আন্তর্জাতিক জলবায়ু সম্মেলন COP28, COP29– এসব বৈঠকে,
নেতারা শুধু গরম চা-কফি খান, কিন্তু প্রতিশ্রুতি দেন ঠান্ডা।
একেকজন মন্ত্রী বলেন– ২০৫০-এর মধ্যে কিছু করবো।
তাহলে তো সে সময়ে সংসদে ঢুকতে হয় নৌকায়।
সাধারণ মানুষের কর্তব্যঃ
আমরা ভাবি, “সবকিছু সরকারের কাজ,” তা ঠিক নয়।
ইতিহাসে কোনও বিপ্লব প্রথমে মন্ত্রীসভা থেকে শুরু হয়নি।
শিল্প বিপ্লব জনগণ করেছে।
ফরাসি বিপ্লব জনগণ করেছে।
জলবায়ু বিপ্লবও জনগণই আনবে।
বিদ্যুৎ কম খরচ করা উচিত।
একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বর্জন করা উচিৎ।
বৃক্ষরোপণকে অনুষ্ঠান নয়, উৎসব বানানো উচিৎ।
এরপরেও কি এগুলো যথেষ্ঠ?
না, পরিবেশের স্বার্থে প্রয়োজন হলে–
মন্ত্রী, মেয়র, কাউন্সিলরকে প্রশ্ন করতে হবে,
সচেতন করতে হবে, উদ্যোগ নেওয়ার জন্যে বলতে হবে।
গণতন্ত্রকে দুর্বল আমরাই করেছি নিজেদের স্বার্থে।
নিজেদের স্বার্থেই হারিয়েছি গণতন্ত্রের সংজ্ঞা।
কিছু প্রকৃত সত্যঃ
মানুষ হয়তো ভাবে–
আমি একলা আর কি বা করতে পারি?
আমি ছাড়া কি আর কেউ নেই?
আমি কিছু পদক্ষেপ না নিলেই কি পৃথিবী বিপদের কবলে পড়বে?
কি উত্তর দেবে সেই মানুষটা, যখন পরবর্তী প্রজন্ম প্রশ্ন করবে,
প্রশ্ন করবে সমাজ সচেতন, পরিবেশ প্রেমী মানুষ,
সর্বোপরি নিজের বিবেক?
উত্তর কি এটা হবে– হোয়াটসঅ্যাপে মিম শেয়ার করছিলাম,
আর নিজের দুনিয়ায় বুঁদ হয়ে জীবন কাটিয়েছি?
আবার সেই মানুষই ১৫ ই আগস্ট,
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নাতি-নাতনিকে মুখস্থ করাবে?
অ্যান্টার্কটিকার কিছু প্রশ্নঃ
অ্যান্টার্কটিকা একবার যদি প্রশ্ন করে বসে–
“ও হে! বিশিষ্ট ব্যক্তিরা, সর্বশ্রেষ্ঠর দল-বল,
আমি গলছি প্রতিদিন, তোমরা নও কেন?
পৃথিবী গরম হচ্ছে– তোমরা AC চালাচ্ছো, আমি গরম হচ্ছি, কি চালাবো?
COP সভায় বসে যত প্রতিশ্রুতি দাও, সেগুলো কি ডুবে গেলে ভাসবে?
না কি লাইফ জ্যাকেট কিনে দেওয়ার পরিকল্পনা আছে?
তোমাদের অর্থনীতি নাকি ডুবে যাবে,
আমার বরফ ডোবার আগে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে রাখবো?
বিশ্ব উষ্ণায়ন-এর দায় কার?
আমার, না কি সেইসব গরু, মুরগী, শূকর আর মাছেদের,
যাদের ভাগ্যে ছিল মিথেন ছাড়ার আগেই তোমাদের গ্রিলে পুড়ে বার্গার হওয়া?
পৃথিবী বাঁচানোর নামে–
তোমরা বছরে একদিন আলো নিভিয়ে “Earth Hour” পালন করো,
আমি কি তাহলে একদিনের জন্যে বরফ গলাটা বন্ধ করে রাখব?
আর কত অপেক্ষা?
যখন গঙ্গার জল বিছানায় উঠে আসবে?
যে সময় শিশুদের ক্লাসরুমে মাছেরা সাঁতার কাটবে?
যখন সংসদের মাইক্রোফোনে শামুক বসবে?”
একটা দৃশ্যের কল্পনাঃ
একদিন ভোরে মানুষ ঘুম থেকে উঠে দেখল–
মোবাইলে কোনো নেটওয়ার্ক নেই।
বিদ্যুৎ নেই।
পানীয় জল নেই।
চারপাশে কেবল অনন্ত জল।
হন্যে হয়ে, আতঙ্কে পায়ের নিচে মাটি খুঁজছে,
কিন্তু এক কণাও মাটি আর পাওয়া যাচ্ছে না।
এটা কি সম্ভব?
হ্যাঁ সম্ভব, এটা কবিতা বা রূপকথার কাহিনী নয়,
এটা বিজ্ঞানসম্মত ভবিষ্যদ্বাণী।
সর্বশেষ উঠে আসেঃ
অ্যান্টার্কটিকার বরফ আসলে বরফ নয়–
ওগুলো আমাদের ভবিষ্যৎ, ভালোবাসা, গান আর আমাদের স্মৃতি।
সেগুলো গলে যাচ্ছে মানে, গলে যাচ্ছি আমরা।
গলছে মানুষের মর্যাদা, সভ্যতা, মুখোশ।
আমরা পৃথিবীর কাছে দায়বদ্ধ, ঋণী এতটাই– যে ঋণ বাস্তবে তো দূর,
কল্পনাতেও শোধ করা মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়।
পৃথিবীর আর্তনাদ কি নেতা-মন্ত্রীর কানে দিনরাত বাজে,
যেভাবে বাজে তাঁদের ভাষণ?
অন্তত বছরে একবার?
কি অবস্থা মানুষের আজ– পৃথিবী রক্ষার জন্যে নাকি আন্দোলন করতে হবে।
সচেতন করতে হবে, প্রচার বাড়াতে হবে, দিতে হবে উপদেশ, জ্ঞান।
Articlesবাংলা Bangla Articles, Quotes & Prose-Poetry / বাংলা প্রবন্ধ, উক্তি ও গদ্য-কবিতা।




