সরকারি শিক্ষাব্যবস্থা প্রসঙ্গ উঠলে বেরিয়ে আসে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা।
ভারতের শিক্ষাব্যবস্থা আজ এক অদ্ভুত বৈপরীত্যের সামনে দাঁড়িয়ে।
একদিকে রাজ্যজুড়ে, দেশজুড়ে আধুনিকীকরণের স্বপ্ন,
অন্যদিকে সরকারি স্কুলের বারান্দায় নামছে এক গভীর নিস্তব্ধতা।
এই সংকটের মূলে শুধু পরিকাঠামো নয়, বরং একাধিক বোর্ড, ভাষা ও সিলেবাসের সমন্বয়ে তৈরি একটা জটিল ব্যবস্থা।
এই কাঠামোগত ভারসাম্যহীনতাই আজ শিক্ষাব্যবস্থার মেরুদণ্ড নড়বড়ে করে দিচ্ছে।
শুরুটাই আলাদা:
এক দেশ, একাধিক বোর্ড
ভারতের ছাত্র-ছাত্রীরা মূলত তিনটে আলাদা পথে চলে, যাদের মধ্যে সুযোগের বিস্তর ফারাক লক্ষ্য করা যায়:
CBSE (NCERT ভিত্তিক):
- এই বোর্ড সরাসরি NCERT-এর সিলেবাস অনুসরণ করে।
- যা JEE, NEET বা CUET-এর সর্বভারতীয় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য আদর্শ।
- আর সে কারণেই এই বোর্ডে পড়া ছাত্রছাত্রীরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকে।
CISCE (ICSE/ISC):
- একটা আলাদা বোর্ড।
- এদের নিজস্ব বিস্তারিত সিলেবাস থাকে।
- ইংরিজি ভাষার ওপর দখল এবং গভীর বিশ্লেষণী ক্ষমতার ক্ষেত্রে এই বোর্ড বিশ্বমানের।
রাজ্য বোর্ড (WBBSE):
- পশ্চিমবঙ্গসহ বিভিন্ন রাজ্যের নিজস্ব বোর্ড।
- সিলেবাসে অনেক উন্নয়নের দাবি করা হলেও, বাস্তবে তা কতটা কার্যকরী করা হয়েছে,
তা শুধু সেই রাজ্যের মানুষই জানেন।
এখানে একটা গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য স্পষ্ট—
যারা NCERT ভিক্তির সিলেবাসে পড়াশোনা করে, বিশেষ করে ইংরিজি ও হিন্দি মাধ্যমে,
তাঁরা সর্বভারতীয় স্তরের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় রাজ্য বোর্ডের তুলনায় অনেক ভালো ফল করে।
এর কারণ কেবল মেধা নয়, বরং সিলেবাসের গঠন, ভাষা এবং আধুনিক শিক্ষণ পদ্ধতির অভাব।

সরকারি শিক্ষাব্যবস্থা:
পরিসংখ্যানে অশনি সংকেত–
কেন কমছে পরীক্ষার্থী?
পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষাচিত্রের দিকে তাকালে এক ভয়াবহ সত্য সামনে আসে।
২০১৬ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১১.৫ লাখ, যা ২০২৫ সালে কমে দাঁড়িয়েছে ৯.৮৪ লাখে।
উচ্চমাধ্যমিকেও ২০২৩ সালের ৮.৫ লাখ থেকে ২০২৫ সালে তা নেমে এসেছে মাত্র ৫ লাখে।
কারণ কী?
পড়াশোনা শেষ করে দীর্ঘ বেকারত্ব অথবা অনিচ্ছাকৃত নিম্নমানের চাকরি গ্রহণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে পড়াশোনার প্রতি অনীহা ও হতাশা তৈরি করছে।
প্রথাগত শিক্ষার চেয়ে জীবন যুদ্ধ যেখানে বড় হয়ে ওঠে, সেখানে খাতা-কলম অর্থহীন হয়ে পড়ে।
সেখানে সবুজ সাথী প্রকল্পের অধীনে ২০১৫ সাল থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ৪০ লক্ষের কাছাকাছি সাইকেল বিতরণ এবং ২০২০-২১ থেকে ২০২৪-২৫ পর্যন্ত দফায় দফায় ট্যাব বা স্মার্টফোন কেনার জন্য সর্বমোট প্রায় ৫৪ থেকে ৫৫ লক্ষ ছাত্র-ছাত্রীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ১০ হাজার টাকা করে দিয়ে লেখাপড়ার প্রতি গভীর আগ্রহ তৈরি করা যেন সব জলে গেল, এমনই অবস্থা।
তবে এই প্রবণতার পেছনে শুধু বেকারত্বই নয়, বরং একাধিক সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণও কাজ করে— যার ফলে ধীরে ধীরে প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি আগ্রহ কমে যাচ্ছে।
মোট সাইকেল বিতরণ:
(২০১৫-২৬)
১.৩৮ কোটি।
যার মোট আর্থিক মূল্য— ৪,০০০- প্রায় ৫,০০০ কোটি টাকা।
মোট ট্যাব/ স্মার্ট ফোন বিতরণ:
(২০২০-২৫)
প্রায় ৫৪-৫৫ লক্ষ।
যার মোট আর্থিক মূল্য— ৫,৪০০-৫,৫০০ কোটি টাকা।
অর্থাৎ ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য সর্বমোট খরচ—
(প্রায় ৫,০০০+৫,৫০০) = প্রায় ১০,৫০০ কোটি টাকা।
সরকারি শিক্ষাব্যবস্থা:
পরিকাঠামগত প্রহসন–
স্কুল আছে, ছাত্র নেই
সাম্প্রতিক UDISE+ ২০২৪-২৫ রিপোর্ট ভারতের শিক্ষা প্রশাসনের এক কঙ্কালসার চেহারা প্রকাশ করে দিয়েছে।
শূন্য ছাত্রের স্কুল
(Zero Enrollment):
দেশজুড়ে প্রায় ৭,৯৯৩ টা স্কুলে একজনও ছাত্র-ছাত্রী নেই, এর মধ্যে সবচেয়ে শোচনীয় অবস্থা পশ্চিমবঙ্গের—
সেখানে ৩,৮১২ টা স্কুলে কোনো ছাত্র-ছাত্রীই নেই।
এরপর রয়েছে তেলেঙ্গানা (২,২০০+) ও মধ্যপ্রদেশ (৪৬৩).
একক শিক্ষকের স্কুল
(Single Teacher’s Schools):
ভারতে এখনও ১ লক্ষের বেশি স্কুল আছে, যেখানে মাত্র একজন শিক্ষক সব বিষয় সামলাচ্ছেন।
অর্থাৎ কোথাও শিক্ষক আছে কিন্তু ছাত্র নেই, আর কোথাও ছাত্রের ভিড়ে একজন শিক্ষক দিশেহারা।
এই বণ্টনের অসামঞ্জস্যই ভারতের শিক্ষার মেরুদণ্ড ভেঙে দিচ্ছে।
অথচ এই ভারতই—
- নালন্দা, তক্ষশিলার ভারত।
- এই ভারতই স্বামী বিবেকানন্দের ভারত।
- এই ভারতই নেতাজী, আর্যভট্ট,
চাণক্য, (দেখুন) ড. শ্রীকান্ত জিচকর ও ড. এপিজে আব্দুল কালামের ভারত।
চীন মডেল:
কোচিং নিয়ন্ত্রণের
কঠোর বার্তা
ভারতের প্রতিটা গলিতে যখন কোচিং সেন্টারের রমরমা,
তখন প্রতিবেশী দেশ চীন এক কঠোর ও নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিয়েছে।
২০২১ সালে চালু হওয়া (দেখুন) Double Reduction Policy-এর মাধ্যমে সিলেবাস ভিত্তিক প্রাইভেট কোচিংয়ে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়।
ফলে বহু কোচিং সংস্থা কার্যত বন্ধ হয়ে যায় এবং এই খাতকে Non-Profit করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এর লক্ষ্য ছিল—
শিক্ষাকে কোচিং-নির্ভর প্রতিযোগিতার বাজার থেকে সরিয়ে আবার স্কুলকেই শিক্ষার কেন্দ্রবিন্দু করে তোলার প্রচেষ্টা।
যদিও বাস্তবে কিছু কোচিং এখনও সীমিত বা আন্ডারগ্রাউন্ডভাবে চালু রয়েছে,
তবুও চীনের এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপ একটা স্পষ্ট বার্তা দেয়—
শিক্ষা যেন শুধুমাত্র অর্থসম্পন্নদের একচেটিয়া সুযোগ না হয়ে ওঠে।
প্রশ্নটা তাই থেকেই যায়—
ভারতেও কী এমন কোনো সাহসী সিদ্ধান্তের প্রয়োজন নেই, যেখানে শিক্ষা কেনা-বেচার পণ্য হবে না?

সরকারি শিক্ষাব্যবস্থা:
শিক্ষকদের দ্বিচারিতা ও
‘গরিবের বাচ্চার’ ভবিষ্যৎ
সবচেয়ে বড় ট্রাজেডি হল আস্থার অভাব।
পশ্চিমবঙ্গ, পাঞ্জাব, তামিলনাড়ুসহ অন্যান্য বেশ কিছু রাজ্যে সরকারি স্কুলের ওপর ভরসা খোদ সরকারি শিক্ষক-শিক্ষিকারাই করতে পারছেন না।
ফলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাঁরা তাঁদের ছেলে-মেয়েদের বেসরকারি স্কুলে পাঠাতেই বেশি আগ্রহী।
আর ধনীদের কথা নয় বাদই দেওয়া যাক।
এখন প্রশ্ন ওঠে—
তবে যাদের ক্ষমতা নেই?
সেই গরিব পরিবারের সন্তানরা ওই সরকারি ব্যবস্থার ওপরই নির্ভরশীল থাকতে বাধ্য হচ্ছে,
যে ব্যবস্থার ওপর স্বয়ং শিক্ষক-শিক্ষিকারাই আস্থা রাখেন না।
এর ফলে তৈরি হচ্ছে এক বিশাল ‘অদক্ষ শ্রমিক শ্রেণী’, যারা ডিগ্রি পাচ্ছে ঠিকই,
কিন্তু আধুনিক বিশ্বের সাথে পাল্লা দেওয়ার মত দক্ষতা অর্জন করতে পারছে তো না-ই।
উপরন্তু ঠিক এভাবেই বহু বিশেষত মেধাবী, গরীব ছাত্র-ছাত্রীর জীবন অন্ধকারের অতল গহব্বরে তলিয়ে যাচ্ছে।
শিক্ষার অন্তঃসারশূন্যতা:
এক অচল প্রজন্মের রূপরেখা
ভিত্তিহীন উত্তরণ:
নবম শ্রেণী পর্যন্ত পাশ ফেল প্রথা না থাকায় শিক্ষার্থীদের লড়াই করার মানসিকতার শুরুতেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে;
ফলে দশম শ্রেণীতে যখন তাঁরা প্রথমবার বাস্তব মূল্যায়নের মুখোমুখি হয়,
তখন নড়বড়ে ভিতের কারণে দরিদ্র পরিবারের ছাত্র-ছাত্রীদের একটা বড় অংশ পড়াশোনা থেকে ছিটকে পড়ছে।
সিলেবাসের অসারতা:
বর্তমান পাঠক্রম JEE, NEET বা CUET-এর মত প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার তুলনায় অনেক বেশি মুখস্ত নির্ভর;
ফলে ছাত্রছাত্রীরা নম্বর পেলেও তাঁদের মধ্যে আধুনিক দক্ষতা গড়ে উঠছে না।
পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের বর্তমান পাঠক্রম মূলত তথ্য মুখস্ত করে পরীক্ষায় নম্বর পাওয়ার একটা মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা শিক্ষার্থীর জ্ঞান-বুদ্ধির প্রকৃত বিকাশ ঘটায় না।
বিশেষত ইতিহাস বা বাংলার মত বিষয়ে যে ধরনের জীবনবোধ,
সাহসী মানসিকতা এবং ন্যায়-নীতি বোধ তৈরির প্রয়োজন ছিল, তার পরিবর্তে একঘেয়ে তথ্যের ভারে ছাত্রছাত্রীরা পিষ্ট হচ্ছে।
এমনকি দশম শ্রেণীর বিজ্ঞানের ‘পরিবেশের জন্য ভাবনা’ বা ভূগোলের ‘বায়ুমণ্ডল’ অধ্যায়গুলোতে
(এখুনি দেখুন) গ্লোবাল ওয়ার্মিং নিয়ে কেবল তাত্ত্বিক তথ্য দেওয়া হয়েছে; কিন্তু বাস্তব জীবনের সেই সংকট রুখতে একজন ছাত্র ব্যক্তিগতভাবে বা সামাজিকভাবে কিভাবে নেতৃত্ব দেবে, সেই সাহসী ও আত্মবিশ্বাসী করে তোলার মত কোনো দিশা সেখানে নেই।
পরিবেশ রক্ষার বিষয়টা কেবল পরীক্ষায় নম্বর পাওয়ার পড়া হিসেবেই রয়ে গেছে।
ছাত্র-ছাত্রীদের মজ্জায় নৈতিক দায়িত্ব ও সামাজিক কর্তব্য হিসেবে ঢুকিয়ে দেওয়ার মত আধুনিক শিক্ষণ পদ্ধতির (যেমন প্রোজেক্ট বেস লার্নিং বা কমিউনিটি সার্ভিস) চরম অভাব আজ স্পষ্ট।
ফলে আধুনিক প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় যেমন তাঁরা পিছিয়ে পড়ছে, তেমনই প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার রসদ ও সিলেবাস থেকে অধরাই থেকে যাচ্ছে।
সরকারি শিক্ষাব্যবস্থা:
শিক্ষক আছেন,
কিন্তু কোথায়?
UDISE+ রিপোর্টে যে চিত্র উঠে এসেছে তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
কোথাও স্কুলে শিক্ষক আছে ছাত্র নেই।
আবার কোথাও একজন শিক্ষককেই একাধিক শ্রেণী ও বিষয় সামলাতে হচ্ছে।
এই বৈপরীত্য স্পষ্ট করে—
সমস্যা শুধু রিসোর্সের অভাব নয়, সমস্যা এর সঠিক বণ্টনে।
যখন একজন শিক্ষককেই গণিত বিজ্ঞান, ভাষা—
একাধিক বিষয় সামলাতে হয়, তখন বিষয়ভিত্তিক গভীরতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।
এখানেও একই বৈষম্য দেখা যায়—
- সচ্ছল পরিবার— আলাদা স্পেশাল টিউটরের সাহায্য নেয়।
- দরিদ্র পরিবার— সম্পূর্ণ নির্ভর করে সেই একমাত্র শিক্ষকের ওপর।
ফলে অনেক ক্ষেত্রে তাঁদের বিষয়ভিত্তিক ভিত্তি দুর্বল থেকে যায়, যা উচ্চশিক্ষার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
আস্থার সংকট ও নীরব দ্বিচারিতা:
সবচেয়ে অস্বস্তিকর প্রশ্নটা এখানেই।
যে ব্যবস্থার ওপর ভিত্তি করে শিক্ষক-শিক্ষিকারা জীবিকা নির্বাহ করছেন,
তাঁদের সন্তানতুল্য ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়া শেখাচ্ছেন— সেই ব্যবস্থার ওপর তাঁদের নিজেদের আস্থা কতটা?
অর্থাৎ যে শ্রেণীকক্ষে শিক্ষক-শিক্ষিকা আছেন, কিন্তু সেই ব্যবস্থার প্রতি তাঁদের নিজেদেরই পূর্ণ আস্থা নেই—
সেই শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার মান কেমন হবে, সেটাই বড় প্রশ্ন।
আর এর প্রভাব পড়ে ছাত্র-ছাত্রীদের মনেও—
- হীনম্মন্যতা।
- আত্মবিশ্বাসের অভাব।
- ধীরে ধীরে আগ্রহ হারানো।
- ফলে প্রতি বছর কেবল ‘জ্ঞানহীন, ডিগ্রিধারী বেকার’ তৈরি হচ্ছে হাজার হাজার।
( আপনি কি জানেন?
দীর্ঘদিনের এই অভ্যাস আজ আমাদের সমাজে এক মর্যাদাপূর্ণ প্রথায় পরিণত হয়েছে,
যাকে নির্দ্বিধায় এক ‘কুসংস্কার’ বলা যেতে পারে।
এবং শুধু তাই নয়, অনেকেই আজও এটাকে কুসংস্কার বলেই মানে।
এই প্রথার সবচেয়ে নিষ্ঠুর শিকার কিন্তু সাধারণ গরিব মানুষ।
ভেবেছেন, আগামীতে ঠিক কত গরীব মানুষ এই প্রথার শিকার হয়ে সর্বশান্ত হবে?
পড়ুন ভেতরের সেই অজানা কাহিনি, আর জানান আপনার কী মতামত।
এই প্রথা কী এভাবেই চলা উচিত?
Click: …প্রথা নাকি ৩০০০ বছরের এক সামাজিক শোষণ? )
উপহার বনাম মেধা গঠন:
অগ্রাধিকারের পরিবর্তন
পশ্চিমবঙ্গে বিভিন্ন সময়ে:
- সাইকেল।
- ট্যাব।
- স্কলারশিপ।
এ ধরনের প্রকল্প চালু হয়েছে।
এগুলো নিঃসন্দেহে সহায়ক—
- স্কুলে আসা সহজ হয়েছে।
- ডিজিটাল অ্যাক্সেস বেড়েছে।
কিন্তু প্রশ্নটা অন্য জায়গায়—
এই উদ্যোগগুলো কী শিক্ষার গুণগতমানের বিকল্প হতে পারে?
যখন:
- শ্রেণিকক্ষে মানসম্মত পাঠ দান নেই।
- সিলেবাস বাস্তবতার সাথে সংযুক্ত নয়।
- শিক্ষক বণ্টন অসম।
তখন শুধুমাত্র উপহার দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি মেধা তৈরি করা যায় কি?
এগুলো অনেক সময়:
- এনরোলমেন্ট ধরে রাখার কৌশল।
- কিন্তু শিক্ষার ভিত মজবুত করার সমাধান আদৌ নয়।
এক সাধারণ প্রশ্ন:
সবশেষে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ওঠে যে—
বিত্তবানদের জন্য তো বিকল্প শিক্ষার হাজারো দরজা খোলা।
কিন্তু গরিব মানুষের ছেলেমেয়েদের
ভবিষ্যৎ তবে কী?

কারণ শিক্ষা যদি গরিবের পেটের ভাত আর সম্মানের পথ না দেখাতে পারে,
তবে সেই ব্যবস্থা ঠিক কেমন ব্যবস্থা হিসেবে বিচার্য?
(যে কোনো দেশের স্বাস্থ্যসেবার মূল দায়িত্ব সরকারের।
নাগরিকের জন্য বিনামূল্যে ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করা এটাই সরকারের অন্যতম প্রধান কর্তব্য,
পাশাপাশি উন্নত সরকারি পরিকাঠামো ও হাসপাতালের পরিবেশ নিশ্চিত করাও সমানভাবে জরুরি।
কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত কোনো সরকারই দেশের প্রতিটা নাগরিকের জন্য
এ ধরনের মানসম্মত চিকিৎসাব্যবস্থা এখনও সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি।
ফলস্বরূপ ব্যাঙের ছাতার মত গজিয়ে উঠছে বেসরকারি হাসপাতাল।
আর এই বেসরকারি হাসপাতাল থেকেই শুরু হয় চিকিৎসার ব্যবসা।
যাদের পকেটে লাখ টাকা নেই,
সেই সাধারণ বা গরিব মানুষগুলো কি তবে এভাবেই লড়ে যাবে?
পড়ুন ভেতরে তুলে ধরা সেই বাস্তব ও অজানা কাহিনি, যা আপনার জেনে রাখা অত্যন্ত জরুরি।
একবার হলেও ভাবিয়ে তুলবে আপনাকে।
Click: ভারতের সরকারি হাসপাতাল: ভেতরে কী ঘটে জানলে চমকে উঠবেন! )
[ আরও এমনই বিভিন্ন দুর্দান্ত টপিকের ওপরে এরকমই সব
বিশ্লেষণধর্মী লেখা পেতে নিয়মিত আমাদের পেজে চোখ রাখুন।
এবং তা আপনার, আপনার প্রতিবেশি, বন্ধুবান্ধব, আত্মীয় তথা সমাজের জন্য।
এ বিষয়ে আপনার গুরুত্বপূর্ণ মতামত জানার অপেক্ষায় রইলাম।
লেখাটা প্রয়োজনীয় মনে হলে অবশ্যই শেয়ার করে
সমাজের অন্যদেরও পড়তে, জানতে সুযোগ করে দেবেন।
ইমেইল আইডি দিয়ে আমাদের বাঙালির পরিবারের একজন
প্রিয় মানুষ হয়ে উঠুন।
চলুন বাঙালিকে বিশ্বের দরবারে সবাই মিলে একসাথে বারবার তুলে ধরি
চিন্তা, চেতনা আর শব্দের শক্তিতে—
একসাথে, সবাই মিলে।
বিশ্ব জানুক—
আমাদের ভারত কি?
বাঙালি কি?
বাংলা শব্দের ক্ষমতাই বা কি? ]
Articlesবাংলা Bangla Articles, Quotes & Prose-Poetry / বাংলা প্রবন্ধ, উক্তি ও গদ্য-কবিতা।





