Articlesবাংলায় আপনাকে স্বাগত!এই ওয়েবসাইট আপনাদের জন্য একদম নতুন ও আধুনিক ভাবনায় সাজানো হয়েছে।এই একই ওয়েবসাইটে আপনি পাবেন নানান বিষয়ের ওপর গভীর বিশ্লেষণধর্মী, বোধকে নাড়িয়ে দেওয়ার মত দুর্দান্ত ও ব্যতিক্রমী সব লেখা।এখানে প্রতিটা লেখা শুধু পড়ার জন্যে নয়– ভাবনার গভীরে ডুবে যাওয়ার জন্যে। প্রতিটা সৃষ্টি আপনাকে নতুন করে ভাবাবে।আইন থেকে সমাজ। রাজনীতি থেকে প্রযুক্তি। বিজ্ঞান থেকে দর্শন। মনস্তত্ত্ব থেকে ইতিহাস। প্রেম, বিরহ, রহস্য, রোমাঞ্চ। মহাকাশ থেকে মানবমনের গভীর অন্ধকার— অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের অজানা সেইসব সত্য এখানে আলোচনার বিষয়।এই প্ল্যাটফর্মের প্রতিটা লেখা এক একটা যাত্রা। যে যাত্রায় আমাদের বাঙালি পরিবারের প্রিয় ও গুণী পাঠক শুধু দর্শক নয়—সহযাত্রী।একজন প্রকৃত বাঙালি হয়ে, যদি বাংলা শব্দের সেই অনন্ত শক্তিকে জানতে চান, চিনতে চান ও মন-প্রাণ দিয়ে উপলব্ধি করতে চান— তাহলে আপনি একদম ঠিক জায়গাতেই এসেছেন।এখানে কোনো পক্ষপাত নেই। কোনো অন্ধবিশ্বাস নেই। কোনো রাজনৈতিক বা ধর্মীয় চশমা নেই। আছে কেবল যুক্তি, মনন, এবং মানুষের মঙ্গলচিন্তা।তাই পাশে থাকুন, সাথে থাকুন আমাদের সঙ্গে জুড়ে ‘বাঙালির পরিবার’ হয়ে এক আত্মায়।একজন প্রকৃত বাঙালি হয়ে মানুষের উপকারের স্বার্থে, লেখাগুলোকে এত শেয়ার করুন, যে সমাজের অন্যান্যরাও জানতে পারে, বুঝতে পারে, সচেতন হতে পারে।ইমেইল আইডি দিয়ে "বাঙালি পরিবারের" ঘরের মানুষ হন।চলুন বাঙালিকে বিশ্বের দরবারে বারে বারে তুলে ধরি একসাথে, সবাই মিলে।বিশ্ব জানুক–বাঙালি কি? ভারত কি? বাংলা শব্দের শক্তিই বা কতটা?প্রতিনিয়ত বাঙালির পেজে চোখ রাখুন নতুন নতুন সব গভীর বিশ্লেষণধর্মী লেখা পেতে।ধন্যবাদ!! 🤝 🙏 🙋‍♂️ 👍
Breaking News

ফুটপাতের মানুষ: এঁরা কি সত্যিই আমাদের কেউ নয়?

ফুটপাতের মানুষ:

ওরা কি আমাদের কেউ নয়?

ফুটপাতের মানুষ—
এঁরা আসলে আর কেউ নয়, আমাদের সভ্যতার ব্যর্থতার এক জ্বলন্ত প্রতিচ্ছবি।

পশ্চিমবঙ্গের ফুটপাত থেকে শুরু করে দিল্লির ফ্লাইওভারের তলা—
রাস্তার ধারের দৃশ্যগুলো সব একই।
এক বিষণ্ণ সমান্তরাল রেখা।

ছেঁড়া ত্রিপল, ধুলোবালি মাখা শরীর আর ক্ষুধার্ত এক জোড়া চোখ।
আমাদের যাপিত জীবনের চাকচিক্যের ঠিক পাশেই তাঁরা বেঁচে থাকে বা বলা ভালো, স্রেফ টিকে থাকে।

শহর জুড়ে যখন নিয়ন আলোর রোশনাই, তখন সেই আলোর নিচেই পড়ে থাকে এক একটা জ্যান্ত কঙ্কাল।

ফুটপাত, রেলস্টেশন, বাজারের কোণা—
এখানেই তাঁদের জীবন, আর মরণও এখানেই।
কেউ দেখে না, কেউ না দেখে ফেললেও তাঁরা চুপচাপ কেবল দিন কাটায়।

 

( দেখুন সেই বাস্তব দৃশ্য– Click: ফুটপাতের মানুষ )

( বাস্তবতা দেখুন– Click: অসহায় মানুষ )

( দেখুন সেই নির্মমতা– Click: এ কেমন পরিস্থিতির শিকার? )

রবিবারের রাজভোগ

ও বেঁচে থাকার স্বপ্ন:

রবিবার মানেই আমাদের ড্রয়িংরুমে কষা মাংসের সুগন্ধ কিংবা ধোঁয়া ওঠা বিরিয়ানির সুবাস।
মধ্যবিত্তের ডাইনিং টেবিলে এদিন যেন এক ছোটখাটো উৎসব।

আমাদের স্বপ্নগুলো আবর্তিত হয় থালার চারপাশেই।

কিন্তু কোনো এক রবিবারে যখন কোনো এক সাধারণ পথিক,
নিজের পাত থেকে একমুঠো সাদা ভাত আর একটু তরকারি নিয়ে ফুটপাতের ওই নোংরা দেহের মানুষগুলোর দিকে বাড়িয়ে দেয়,
তখন তাঁদের চোখে যে খুশি, আনন্দ ফুটে ওঠে—
তা কোনো পঞ্চব্যঞ্জন খাওয়ার তৃপ্তি নয়, ওটা তাঁদের কাছে এক অলীক ‘রাজভোগ।’
যেন বহুদিনের এক অসাধ্য স্বপ্নপূরণ।

একজন বাবার চোখে যখন সন্তানের ক্ষুধার্ত চাওয়াটা মেলে,
আর তিনি হাত পাতেন এক টুকরো রুটি কিংবা ভাতের জন্য—
তখন হয়ত সেই ছোট্ট ভাতের থালা এক পরম সৌভাগ্য হয়ে তাঁদের কাছে নেমে আসে।

ছোট্ট সাহায্য, ছোট্ট খেয়াল— এটাই তাঁদের স্বপ্নের আকার।

স্বপ্নের মাপকাঠি

ও আভিজাত্যের দেওয়াল:

স্বপ্ন তো সবাই দেখে, কিন্তু সেই স্বপ্নের সাহসটা নির্ধারিত হয় আমাদের পকেটের মাপ আর সামাজিক অবস্থান দিয়ে।

ধনীদের স্বপ্ন:

  • এদের আকাঙ্ক্ষার কোনো আকাশ নেই।
  • আজ নতুন মডেলের গাড়ি তো কাল বিদেশের কোন দ্বীপে ছুটি কাটানো।
  • তাঁদের স্বপ্ন মানে সম্পদের পাহাড়কে পর্বতে রূপান্তর করা।

মধ্যবিত্তের স্বপ্ন:

  • লড়াইটা আজীবন টেনেহিঁচড়ে চলার।
  • ভাঙাচোরা সাইকেলটা যেন কোনোমতে একটা বাইক হয়।
  • মাথার ওপরের একতলা ছাদটা একটু টেনেহিঁচড়ে যেন বড়জোর দু’তলা ছোঁয়।

ফুটপাতের মানুষ

ও ব্রিজের নিচের মানুষ:

  • এদের কোনো স্বপ্ন থাকতে নেই।
  • এদের স্বপ্ন মানে স্রেফ একটা আস্ত ত্রিপল, যাতে বর্ষার জল না ঢোকে।
  • কিংবা কনকনে শীতে এক টুকরো চট, যাতে হাড়কাঁপানো হাওয়াটাকে অন্তত আটকানো যায়।
  • আর কষা মাংস ও বিরিয়ানি তো তাঁদের কাছে রীতিমতন বিলাসিতার আরেক নাম।

পরিসংখ্যানের নির্দয় আয়না:

সরকারি নথিতে এরা স্রেফ কিছু সংখ্যা, কিন্তু এই সংখ্যার আড়ালে লুকিয়ে আছে চরম মর্মান্তিকতা:

গৃহহীন জনসংখ্যা:

২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, ভারতে আনুমানিক ১৭.৭ লক্ষ মানুষ গৃহহীন ছিল।

বিভিন্ন বেসরকারি ও এনজিও-এর রিপোর্ট অনুযায়ী,
বর্তমান (২০২৩ থেকে ২৪) এই সংখ্যা ২৫ থেকে ৩০ লক্ষ বা তার বেশি হতে পারে।

এই বৃদ্ধি মূলত নগরায়ণ, দারিদ্র এবং ভাড়ার উচ্চমূল্যের কারণে।

ফুটপাতের মানুষ: মরণফাঁদ

ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর (NCRB) তথ্য অনুযায়ী,
প্রতিবছর বহু মানুষ অপুষ্টি, অবহেলা, ঠান্ডা বা গরম এবং স্বাস্থ্যসেবার অভাবে রাস্তায় মারা যায়।

অর্থাৎ গৃহহীন মানুষের মৃত্যু শুধুমাত্র দুর্ঘটনা নয়, বরং প্রতিরোধযোগ্য সামাজিক ব্যর্থতা।

সম্পদ বৈষম্য:

অক্সফাম (Oxfam) রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতে ১% ধনীর হাতে দেশের প্রায় ৪০% সম্পদ কুক্ষিগত।

আর রাস্তার ধারের মানুষের জন্য সরকারের ‘নাইট শেল্টার’ প্রকল্প, অন্যান্য হোমলেস হেল্পলাইন বা আবাসন প্রকল্প অধিকাংশ রাজ্যে পর্যাপ্ত নয় বা অসম্পূর্ণ।

সম্পদের সীমারেখা:

শেষ কোথায়?

একজন ধনী বা শিল্পপতির আয় যেন এক সীমার বাইরে না যায়—
এই ধারণা অনেকের কাছেই অস্বাভাবিক মনে হতে পারে।

কিন্তু বাস্তবতা হল—
সীমাহীন সম্পদ শুধু ব্যক্তি নয়, পুরো সমাজের জন্য অসাম্য সৃষ্টি করে।

ভারতে যখন ১% মানুষ নিয়ন্ত্রণহীন সম্পদের মালিক,
তখন রাস্তায় পড়ে থাকা শিশু বা বৃদ্ধ-বৃদ্ধার সংখ্যাটা দিনে দিনে বাড়ছে।

তাই বলা যায়, প্রতি ব্যক্তির আয়ের একটা সীমা থাকা উচিত,
যার ওপরে অতিরিক্ত সম্পদ সরাসরি সমাজসেবায় বা গৃহহীন, ক্ষুধার্ত মানুষদের কল্যাণে বিনিয়োগ করতে হবে।

ধরুন কোনো শিল্পপতি বছরে ১০০ কোটি টাকার বেশি আয় করলে,
এর কিছু অংশ বাধ্যতামূলকভাবে স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং আশ্রয় প্রকল্পে যাওয়া উচিত।

এভাবে শুধু কর ব্যবস্থাই নয়, এক ধরনের নৈতিক দায়িত্ববোধ সমাজে জন্ম নেবে।

ধনী হওয়া যাবে, কিন্তু সেই ধন সীমাহীনভাবে জমা হবে না।
এটা হবে সমাজের জন্য একটা ন্যায্য ভারসাম্য।

ফুটপাতের মানুষ:

বিলাসিতা বনাম অস্তিত্ব:

একজন শিল্পপতির ব্যক্তিগত জেটের খরচ দিয়ে অনায়াসেই কয়েকশ দুস্থ মানুষের মাথার ওপর এক চিলতে ছাদ তৈরি করা সম্ভব।

ব্যক্তিগত সম্পত্তির অধিকার কি সামাজিক দায়বদ্ধতার চেয়েও বড় হতে পারে?
কিন্তু ধনীদের আচার-আচরণ দেখে মনে হয়, হ্যাঁ পারে।

বাস্তব ক্ষেত্রে কেন

এটা নিয়ে বিতর্ক হয়?

(অর্থনৈতিক দিক)

তবে ব্যবস্থার ধারক-বাহকরা সাধারণত নিচের এই যুক্তিগুলো দিয়ে একে আটকানোর চেষ্টা করেন:

১. প্রতিভার অবমূল্যায়ন:

অনেকে যুক্তি দেন যে, যদি আয়ের ওপর সীমা থাকে,
তবে বড় বড় উদ্ভাবক বা শিল্পপতিরা নতুন কিছু তৈরি করার উৎসাহ হারিয়ে ফেলবেন।

তাঁরা ভাববেন— “বেশি খেটে আখেরে লাভ কী, যদি টাকাটাই রাষ্ট্র নিয়ে নেয়?”

২. মূলধন চলে যাওয়া

(Capital Flight):

যদি ভারত সরকার এমন নিয়ম করে যে বছরে ১০০ কোটির বেশি আয় করা যাবে না,
তবে ধনী শিল্পপতিরা তাঁদের ব্যবসা অন্য দেশে (যেমন দুবাই বা সিঙ্গাপুর) সরিয়ে নিয়ে যাবেন।

এতে দেশের কর্মসংস্থান কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

৩. কর ফাঁকি:

যখনই আয়ের ওপর কড়া সিলিং দেওয়া হয়, তখন মানুষ তা লুকোনোর চেষ্টা করে।
এতে কালো টাকার পরিমাণ বাড়তে পারে।

সেক্ষেত্রে তাঁদের এই মন্তব্যের পাল্টা যুক্তি হিসেবে লেখা যেতে পারে:

১. প্রতিভার অবমূল্যায়ন

(নাকি লোভের সমর্থন?)

যুক্তি:

আয়ের সীমা থাকলে উদ্ভাবকরা কাজ করবেন না।

পাল্টা যুক্তি:

আইন্সটাইন, স্টিফেন হকিং, স্বামী বিবেকানন্দ, স্যার এপিজে আবুল কালামের কথা মনে করলেই বোঝা যায়—
সত্যিকারের সৃষ্টি বা প্রতিভা শুধু টাকার লোভে জন্মায় না।

তাঁরা ব্যবসায়ী ছিলেন না, কিন্তু তাঁদের কাজ প্রমাণ করে—
মানুষের জন্য কিছু করার তাগিদই আসল চালিকাশক্তি, শুধুমাত্র মুনাফার নেশায় বুঁদ হওয়া নয়।

ইতিহাসে বহু উদ্ভাবক, বিজ্ঞানী ও চিন্তাবিদ আছেন, যারা কোটি টাকার লোভে নয়,
বরং সমাজকে কিছু দেওয়ার তাগিদে কাজ করেছেন।

সত্যিকারের প্রতিভা বা আবিষ্কার মানুষের কল্যাণের নেশায় হয়,
স্রেফ ব্যাঙ্ক-ব্যালেন্স বাড়ানোর জন্য নয়।

যারা বলেন আয়ের সীমা থাকলে উৎসাহ হারিয়ে ফেলবেন,
তাঁরা আসলে সৃজনশীলতা নয়, বরং লোভকেই পূর্ণ সমর্থন করেন।

মনে রাখবেন—
যে প্রতিভা কেবল টাকার মাপকাঠিতে চলে, সেই প্রতিভা সমাজের জন্য আশীর্বাদ নয়, বরং অভিশাপ!”

২. মূলধন চলে যাওয়া বা

ক্যাপিটাল ফ্লাইট

(হুমকি নাকি বাস্তবতা?)

যুক্তি:

ধনীরা অন্য দেশে ব্যবসা নিয়ে চলে যাবেন।

পাল্টা যুক্তি:

এটা অনেকটা ব্ল্যাকমেইলের মত।
একটা দেশের সম্পদ, বাজার আর সস্তা শ্রমিক ব্যবহার করে বড় হয়ে, বিপদের দিনে ‘অন্য দেশে চলে যাব’ বলাটা কি দেশপ্রেম?

এ ধরনের টাকা দিয়ে যদি দেশপ্রেমকে চাপা দিয়ে রাখা যায়,
তবে এ ধরনের শিল্পপতি বা ধনীদের দেশে না থাকাই ভালো।

যদি আন্তর্জাতিকভাবে (Global Minimum Tax) এই নিয়ম করা যায়, তবে পালানোর পথ বন্ধ হবে।

৪. কর ফাঁকি:

(চরিত্রের অভাব নাকি আইনের?)

যুক্তি:

সিলিং থাকলে মানুষ টাকা লুকোবে।

পাল্টা যুক্তি:

মানুষ কর ফাঁকি আজকেও দেয়।
আয়ের সীমা থাকুক, আর না থাকুক।

কালো টাকার পাহাড় আজও তৈরি হচ্ছে।
এটা আইনের কঠোরতা আর মানুষের সততার অভাব, সিস্টেমের ভুল নয়।

পুঁজিবাদের বিষদাঁত:

অক্সফাম রিপোর্ট বলছে, ভারতের ধনকুবেরদের সম্পদ যে হারে বাড়ছে,
সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতা সেই হারে কমছে।

এই সীমাহীন আয়ের অধিকার আসলে দরিদ্রকে আরও দরিদ্র করার এক অদৃশ্য চাবিকাঠি।

সরকার কেন শিল্পপতিদের সেই আভিজাত্যের পাহাড় ছেঁটে ফেলার আইন আনতে পারে না?

আয়ের একটা নির্দিষ্ট সীমা বেঁধে দিয়ে বাড়তি অর্থ যদি বাধ্যতামূলকভাবে জনকল্যাণে ব্যয় হত,
তবে হয়ত কোন শিশুকে ফুটপাতের ধুলোয় ক্ষুধার্ত বসে যন্ত্রণায় কাঁদতে হত না।

মাটিতে নামার সাহস,

ধনীর মধ্যে বিরল:

একটু মনে করে দেখুন তো,
শেষ কবে কোনো বড় সেলিব্রেটি বা ধনকুবেরকে ফুটপাতের ধুলোয় বসে ওই কঙ্কালসার মানুষগুলোর সাথে কথা বলতে দেখেছেন?

উত্তরটা আপনার জানা— হয়ত কোনদিনও না।

আর যারা নামেন, তাঁরা ব্যতিক্রম।
এমন মানুষ হাতে গুনে বলা যায়।

সেলিব্রেটি পার্টি, বিলাসবহুল হোটেল, ফরেন ট্যুর, গাড়ি পরিবর্তন, শো— এটাই তাঁদের জীবনের পরিধি।

তাঁরা মাটির গন্ধটুকুও কেমন,
তা জানেন না।

আর যদিও জানেন, তা হয়ত ফটোশুট বা চ্যারিটি ইভেন্ট, যা প্রায়ই পাবলিসিটির জন্য হয়।

মানবিকতা যখন ব্যবসা:

কাদের কাছে?

সহজ কথায় বলতে গেলে এই ‘মানবিকতা’ আজ একটা পরিকল্পিত ব্যবসা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সেলিব্রেটির এমনিতেই লক্ষ লক্ষ ফ্যান-ফলোয়ার্স।
তাঁদের জনপ্রিয়তার আকাশছোঁয়া দাপট।

তার ওপর যেদিন খবর রটে যে,
“অমুক তারকা আজ ৫০০ জন পথশিশুকে জামাকাপড় দান করেছেন”—
সেদিন লাভের পাল্লাটা তাঁদের দিকেই বেশি ঝুঁকে থাকে।

বিষয়টা তলিয়ে দেখলে বোঝা যায়:

৫০০ জন শিশুকে জামাকাপড় দেওয়াটা অবশ্যই মহৎ কাজ।

কিন্তু সেই খবরের আড়ালে আসল উদ্দেশ্য থাকতে পারে নিজের ‘ব্র্যান্ড ভ্যালু’ বাড়ানো।
এক একটা দান তাঁদের কাছে বিনিয়োগের মত।

জনপ্রিয়তা, লক্ষ লক্ষ লাইক, কমেন্ট।

সাধারণ মানুষ যখন কাউকে সাহায্য করে, তখন সাধারণত তাঁর কোনো লাভ তেমন থাকে না,
কিন্তু তারকার ক্ষেত্রে সাহায্যটুকু করার পর তাঁর ইমেজের যে উন্নতি হয়,
তাতে তাঁর পরবর্তী সিনেমা বা বিজ্ঞাপনের বাজারদর আরও বেড়ে যায়।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায়,
কোনো বড় সেলিব্রিটি যখন রাস্তায় নেমে দুস্থদের সাহায্য করেন,
তখন তাঁর আগে পিছে পাঁচ-দশটা হাই ডেফিনেশন ক্যামেরা চলে।

এক প্যাকেট বিস্কুট বা একটা সস্তা কম্বল দেওয়ার দৃশ্যটা দশবার রিটেক নিয়ে শুট করা হয়।

অনেক সময় তাঁদের পিআর (Public Relations) টিম ব্র্যান্ডিং এজেন্সিগুলোই এই ধরনের ‘চ্যারিটি ইভেন্ট’ সাজায়, যাতে ফ্যান-ফলোয়ার্স সংখ্যা বাড়ে বা তাঁদের নিয়ে পজিটিভ চর্চা হয়।

তাঁরা আদতে চান সাধারণ মানুষের কাছে তাঁরা যেন সবসময় দেবদূতের মত হয়ে থাকেন।
তাই মাটির ধুলোয় মেশার চেয়েও বড় লক্ষ্য থাকে ক্যামেরার লেন্সে নিজেকে মানবিক প্রমাণ করা।

আসলে এটা একটা সিঁড়ি মাত্র।

ফুটপাতের মানুষ:

ব্যতিক্রম কি নেই?

হ্যাঁ অবশ্যই আছে, তবে তা হাতে গোনা কয়েকজন।
যারা সত্যিই নিঃশব্দে কাজ করেন।
কিন্তু তাঁরা সমুদ্রে এক ফোঁটা জলের মত।
বাকিদের কাছে সমাজসেবা মানেই বড় বড় ইভেন্ট আর মিডিয়া কভারেজ।

যাদের আয়ের ভিত্তি দাঁড়িয়ে আছে সাধারণ মানুষের ট্যাক্স আর ভালোবাসার ওপর,
তাঁরাই আজ সাধারণের থেকে যোজন দূরে।

তাঁরা সোশ্যাল মিডিয়ায় দুঃখের ইমোজি দিতে পারেন, কিন্তু মাটির মানুষের সাথে বসে একমুঠো অন্ন ভাগ করার মত ‘মানসিক আভিজাত্য’ তাঁদের নেই।

মনে রাখবেন সমাজ কোনোদিন দামি গাড়ির মডেল মনে রাখে না, সমাজ মনে রাখে সেই হাতটাকে,
যা অন্ধকারের বুক চিরে ফুটপাতের মানুষের ভরসা হয়ে নেমে এসেছিল।

পর্দার নয়, মাটির নায়ক:

আভিজাত্যের অহংকার আর সেলিব্রিটিদের ক্যামেরার ফ্ল্যাশের বাইরেও এক অন্য জগৎ আছে।
সেখানে কিছু সাধারণ মানুষ আছেন, যারা প্রতিদিন নিজেদের সাধ্যমতন ফুটপাতের এই ভাঙাচোরা মানুষগুলোর পাশে গিয়ে দাঁড়াচ্ছেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় আজ এই সাধারণ মানুষের করা ছোট ছোট মানবিক কাজের ছবি যখন ছড়িয়ে পড়ছে,
তখন তা কেবল লাইক কমেন্টের জন্য নয়, বরং এক নীরব বিপ্লব ঘটিয়ে দিচ্ছে।

( দেখুন সেই দৃশ্য– Click: মানুষ মানুষের জন্য )

( দেখুন মাটির বাস্তব– Click: স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার মানবিক হাত )

( কাকে নায়ক বলবেন– Click: একটু সহানুভূতি কি মানুষ পেতে পারে না? )

( নিজের চোখে দেখুন– Click: এই উপহার মাথায় নিলাম )

এই দৃশ্যগুলো দেখেই আজ পাড়ায় পাড়ায় তরুণ প্রজন্ম অনুপ্রাণিত হচ্ছে, তৈরি হচ্ছে ছোট ছোট সামাজিক গোষ্ঠী।
আভিজাত্যের কাঁচের দেওয়াল ভেঙে সাধারণ মানুষই আজ সাধারণের ভরসা হয়ে উঠছে।

এই নিঃস্বার্থ হাতগুলোই প্রমাণ করে দেয়—
মানুষ আজও আছে, আর সমাজটা এখনও এই সাধারণের কাঁধেই টিকে আছে।

অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ:

( পশ্চিমবঙ্গ, পাঞ্জাব, তামিলনাড়ুসহ অন্যান্য বেশ কিছু রাজ্যে সরকারি স্কুলের ওপর ভরসা খোদ সরকারি শিক্ষক-শিক্ষিকারাই করতে পারছেন না।

ফলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাঁরা তাঁদের ছেলে-মেয়েদের বেসরকারি স্কুলে পাঠাতেই বেশি আগ্রহী।

আর ধনীদের কথা নয় বাদই দেওয়া যাক।

এখন প্রশ্ন ওঠে—
তবে যাদের ক্ষমতা নেই?

সেই গরিব পরিবারের সন্তানরা ওই সরকারি ব্যবস্থার ওপরই নির্ভরশীল থাকতে বাধ্য হচ্ছে,
যে ব্যবস্থার ওপর স্বয়ং শিক্ষক-শিক্ষিকারাই আস্থা রাখেন না।

তবে তাঁদের কি ঠিকমতন সুযোগ-সুবিধা, শিক্ষা, গাইডেন্স পাওয়ার অধিকার নেই?

নাকি তা শুধুই কথায় আছে, বাস্তবে নেই?

গরীবের মেধা কি ভবিষ্যতে গোটা বিশ্বকে পরিবর্তন করতে পারে না?

ইতিহাসে কি এর উদাহরণ নেই?

পড়ুন সেই অজানা সব তথ্য, কাহিনি, যা আপনার জেনে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

জানুন আর মানুষের কাছে যথাসম্ভব পৌঁছে দিন তাঁদের উপকারের স্বার্থে।

পড়ুন– Click: সরকারি শিক্ষাব্যবস্থা: দেশের গরীব ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যৎ তবে কী? )

 

( হাসপাতালে যাচ্ছেন?
যান, তবে এই ওয়েবসাইটে হাসপাতাল সংক্রান্ত সব আর্টিকেলগুলো মন দিয়ে পড়ে, এরপর যান।

কেন?

সবগুলো পড়ার পরে নিজেই বুঝতে পারবেন, আপনার জীবনে ঠিক কতটা উপকার হল।

কী কী সাবধানতা পেলেন।

আপনার পরিবার কোন ভয়ঙ্কর বিপদের হাত থেকে বেঁচে যেতে পারে বা বাঁচবে।

তাই এখুনি সবগুলো পড়ে জেনে রাখুন আর জানিয়ে দিন সব সাধারণ মানুষকে সচেতনতার স্বার্থে। 

পড়ুন– Click: হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আগে এগুলো না জানলে বিপদে পড়তে পারেন! )


[ আরও এমনই বিভিন্ন দুর্দান্ত টপিকের ওপরে এরকমই সব বিশ্লেষণধর্মী লেখা পেতে
নিয়মিত আমাদের পেজে চোখ রাখুন।

এবং তা আপনার, আপনার প্রতিবেশি, বন্ধুবান্ধব, আত্মীয় তথা সমাজের জন্য।

এ বিষয়ে আপনার গুরুত্বপূর্ণ মতামত জানার অপেক্ষায় রইলাম।

লেখাটা অবশ্যই শেয়ার করে সমাজের অন্যদেরও পড়তে, জানতে সুযোগ করে দেবেন।

ইমেইল আইডি দিয়ে আমাদের বাঙালির পরিবারের একজন
প্রিয় মানুষ হয়ে উঠুন।

চলুন বাঙালিকে বিশ্বের দরবারে সবাই মিলে একসাথে বারবার তুলে ধরি
চিন্তা, চেতনা আর শব্দের শক্তিতে—

একসাথে, সবাই মিলে।

বিশ্ব জানুক—

আমাদের ভারত কি?

বাঙালি কি?

বাংলা শব্দের ক্ষমতাই বা কি? ]

"প্রতিটা নতুন লেখা– সরাসরি ও সবার আগে আপনার ইনবক্সে।

ইমেইল দিয়ে যুক্ত হন বাঙালির পরিবারে।"

We don’t spam! Read our privacy policy for more info.

About Articlesবাংলা

Articlesবাংলা
Welcome to Articlesবাংলা – a vibrant hub of words, ideas, and creativity.This website is the personal archive and creative expression of Tanmoy Sinha Roy, a passionate writer who has been exploring the art of writing for more than seven years.Every article, prose-poem, and quotation you find here reflects his journey, experiences, and dedication to the written word.Articlesবাংলা aims to inspire readers by offering thought-provoking insights, celebrating the richness of Bengali language and literature, and creating a space where ideas, imagination, and culture connect.Whether you are seeking literary reflections, prose-poems, diverse articles, or meaningful quotations, you are invited to explore, reflect, and be inspired.

Check Also

ভারতের সরকারি শিক্ষাব্যবস্থা ও আধুনিক ও ডিজিটাল শিক্ষার এক বৈষম্যমূলক চিত্র।

সরকারি শিক্ষাব্যবস্থা: দেশের গরীব ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যৎ তবে কী?

সরকারি শিক্ষাব্যবস্থা প্রসঙ্গ উঠলে বেরিয়ে আসে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা। ভারতের শিক্ষাব্যবস্থা আজ এক অদ্ভুত বৈপরীত্যের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *