Articlesবাংলায় আপনাকে স্বাগত!এই ওয়েবসাইট আপনাদের জন্য একদম নতুন ও আধুনিক ভাবনায় সাজানো হয়েছে।এই একই ওয়েবসাইটে আপনি পাবেন নানান বিষয়ের ওপর গভীর বিশ্লেষণধর্মী, বোধকে নাড়িয়ে দেওয়ার মত দুর্দান্ত ও ব্যতিক্রমী সব লেখা।এখানে প্রতিটা লেখা শুধু পড়ার জন্যে নয়– ভাবনার গভীরে ডুবে যাওয়ার জন্যে। প্রতিটা সৃষ্টি আপনাকে নতুন করে ভাবাবে।আইন থেকে সমাজ। রাজনীতি থেকে প্রযুক্তি। বিজ্ঞান থেকে দর্শন। মনস্তত্ত্ব থেকে ইতিহাস। প্রেম, বিরহ, রহস্য, রোমাঞ্চ। মহাকাশ থেকে মানবমনের গভীর অন্ধকার— অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের অজানা সেইসব সত্য এখানে আলোচনার বিষয়।এই প্ল্যাটফর্মের প্রতিটা লেখা এক একটা যাত্রা। যে যাত্রায় আমাদের বাঙালি পরিবারের প্রিয় ও গুণী পাঠক শুধু দর্শক নয়—সহযাত্রী।একজন প্রকৃত বাঙালি হয়ে, যদি বাংলা শব্দের সেই অনন্ত শক্তিকে জানতে চান, চিনতে চান ও মন-প্রাণ দিয়ে উপলব্ধি করতে চান— তাহলে আপনি একদম ঠিক জায়গাতেই এসেছেন।এখানে কোনো পক্ষপাত নেই। কোনো অন্ধবিশ্বাস নেই। কোনো রাজনৈতিক বা ধর্মীয় চশমা নেই। আছে কেবল যুক্তি, মনন, এবং মানুষের মঙ্গলচিন্তা।তাই পাশে থাকুন, সাথে থাকুন আমাদের সঙ্গে জুড়ে ‘বাঙালির পরিবার’ হয়ে এক আত্মায়।একজন প্রকৃত বাঙালি হয়ে মানুষের উপকারের স্বার্থে, লেখাগুলোকে এত শেয়ার করুন, যে সমাজের অন্যান্যরাও জানতে পারে, বুঝতে পারে, সচেতন হতে পারে।ইমেইল আইডি দিয়ে "বাঙালি পরিবারের" ঘরের মানুষ হন।চলুন বাঙালিকে বিশ্বের দরবারে বারে বারে তুলে ধরি একসাথে, সবাই মিলে।বিশ্ব জানুক–বাঙালি কি? ভারত কি? বাংলা শব্দের শক্তিই বা কতটা?প্রতিনিয়ত বাঙালির পেজে চোখ রাখুন নতুন নতুন সব গভীর বিশ্লেষণধর্মী লেখা পেতে।ধন্যবাদ!! 🤝 🙏 🙋‍♂️ 👍
Breaking News

আর জি কর কাণ্ড: অভয়াই কি এই রহস্যময় খুনের প্রথম শিকার?

আর জি কর কাণ্ড:

অভয়া ও অন্ধকার সিন্ডিকেট

আর জি কর কাণ্ড যেন আবারও প্রমাণ করে দিল—
কিছু ঘটনা শুধুমাত্র সময়ের সঙ্গে হারিয়ে যায় না।

রাজনীতি হয়, পাল্টা রাজনীতি হয়, বিতর্ক হয়, মানুষের মনোযোগ অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টাও চলে;
তবুও কিছু প্রশ্ন থেকে যায় জীবন্ত হয়ে।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ঘটনাটাকেও মানুষের মন থেকে মুছে ফেলার এক সূক্ষ্ম চেষ্টা হয়েছিল বলেই বহু মানুষের অভিযোগ।

কিন্তু বাস্তব হল—
অভয়ার মৃত্যু, সেই রাতের রহস্য আর তথ্য-প্রমাণ লোপাটের অভিযোগ,
হাসপাতাল ঘিরে ওঠা অসংখ্য প্রশ্ন এবং অন্ধকার চক্রের আশঙ্কা আজও মানুষের মনে দগদগে হয়ে রয়ে গেছে।

যারা এই অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে,
তারা হয়তো ভেবেছিল—
সবকিছু পরিকল্পনা করেই সামলে ফেলা যাবে।

বন্ধ ঘরের বৈঠক, ফোনে মিটিং, ক্ষমতার প্রভাব, প্রশাসনিক যোগাযোগ, ভয় দেখানো, প্রমাণ নষ্ট করা—
সব মিলিয়ে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাটাকে যেমন ধামাচাপা দিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে,
তেমনই অবাধে ছাড় পেয়ে যাবে অপরাধীরা।

হয়তো তাদের বিশ্বাস ছিল, কয়েকদিন শোরগোল হবে, তারপর নতুন কোনো রাজনৈতিক বিতর্ক,
নতুন কোনো খবর, নতুন কোনো ইস্যুর ভিড়ে মানুষ সব ভুলে যাবে।

কিন্তু বাস্তবটা অন্যরকম হয়ে দাঁড়ালো।
“পাপ কখনো বাপকেও ছাড়ে না।”
এটাই যেন অপরাধীদের জীবনের সত্যি হতে চলেছে।

আর কিছু ঘটনা শুধু খবর হয়ে থাকে না—
সেগুলো মানুষের মনে ক্ষত হয়ে থেকে যায়।

(দেখুন) আর জি কর কাণ্ড নিয়ে দেশজুড়ে যে তোলপাড় তৈরি হয়েছিল,
তার রেশ আজও পুরোপুরি কাটে তো নিই,
বরং প্রসঙ্গটা ধীরে ধীরে মানুষের মন থেকে মুছে না গিয়ে আরও একবার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে জনসাধারণের সামনে উঠে এসেছে, তা সে রাজনৈতিক কারণেই হোক বা সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে।

কিন্তু এখনো হয়তো বহু মানুষ জানেন না—
এই ঘটনার ভেতরে লুকিয়ে থাকা সেই ভয়ঙ্কর সিন্ডিকেট, মাফিয়ারাজ, সীমাহীন দুর্নীতি আর বহু বছরের অন্ধকার অপরাধচক্রের কথা।

শুধুই একটা অপরাধ,

নাকি আরও বড় কিছু?

আর জি করের অভয়ার মৃত্যুকে প্রথমে শুধুমাত্র একটা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা হিসেবেই দেখা হচ্ছিল।

কিন্তু তদন্ত যত এগোতে থাকে, ততই সামনে আসতে থাকে একের পর এক অস্বাভাবিক তথ্য,
পুরনো অভিযোগ এবং বহু বছরের জমে থাকা সন্দেহ।

মানুষের মনে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে—
এটা কি শুধুই একজন বিকৃত মানসিকতার ব্যক্তির অপরাধ?
নাকি এর পেছনে রয়েছে আরও বড় কোনো সংগঠিত চক্র?

অভয়া কি জেনে ফেলেছিলেন নিষিদ্ধ সত্য?

এখন প্রশ্ন হল—

  • কেন অভয়াকে এত নৃশংসভাবে ধর্ষণ ও খুন হতে হল?
  • তিনি কি এমন কিছু জেনে ফেলেছিলেন, যা তাঁর জন্য বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়িয়েছিল?
  • এর আগেও কি এমন ঘটনা ঘটেছিল?
  • কার সঙ্গে ঘটেছিল?
  • তাঁকেও কি একইভাবে চুপ করিয়ে দেওয়া হয়েছিল?
  • কতদিন ধরে চলছে আর জি করের এই অন্ধকার সাম্রাজ্য?
  • কারা জড়িয়ে রয়েছে সঙ্গে?

আজকের এই আর্টিকেলে আমরা শুধু একটা ঘটনার কথা বলবো না।
বরং তুলে ধরব সেই বহু বছরের জমে থাকা অন্ধকার বাস্তবকে—
যেখানে হাসপাতাল, মর্গ, ক্ষমতা, দুর্নীতি, যৌন বিকৃতি, লাশ পাচার, পর্নোগ্রাফি চক্র ও রহস্যমৃত্যুর অভিযোগ বারবার ফিরে এসেছে।

প্রায় ২৫ থেকে ৩০ বছর ধরে চলতে থাকা এক সীমাহীন দুর্নীতি অপরাধচক্রের অভিযোগ—
যেখানে কেউ মুখ খুলতে গেলেই তাকে চুপ করিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বারবার।

অথচ সেই চক্রের মাথারা আজও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অধরা।

২০০১ সালে সৌমিত্র বিশ্বাসের মৃত্যুকে ঘিরেও ঠিক এমনই বহু প্রশ্ন উঠেছিল—
তিনি কি এমন কিছু জেনে ফেলেছিলেন, যা তাঁকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছিল?

দুই দশকের বেশি সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও যখন আর জি করকে ঘিরে একই ধরনের অভিযোগ,
রহস্য আর আতঙ্ক বারবার সামনে আসে, তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে—
অভয়াও কি তেমনি কোনো অন্ধকার সত্যের সামনে পৌঁছে গিয়েছিলেন,
যার মূল্য তাঁকে জীবন দিয়ে দিতে হল?

  • এটাই কি তবে আমাদের প্রশাসনের বাস্তব চিত্র?
  • এটাই কি আইন, রাজনীতি আর ক্ষমতার প্রকৃত মুখ?

২৫ বছরের অন্ধকার:

একই চিত্রনাট্য, ভিন্ন সময়

অনেকে মনে করছেন আর জি করের এই ঘটনা নতুন।
কিন্তু ইতিহাসের পাতা উল্টালে দেখা যায়, আর জি কর কাণ্ড কোনো একক বা বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়।

গত ২৫ থেকে ৩০ বছর ধরে এক সীমাহীন দুর্নীতি ও অপরাধচক্র এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে গ্রাস করে রেখেছে।

নিয়মটা খুব সহজ—
হয় এই চক্রের অংশ হও, নয়তো প্রতিবাদ করলে প্রাণ দাও।

২০০১ সালের আগস্ট মাসের কথা।
আর জি কর মেডিকেল কলেজের ললিত মেমোরিয়াল হোস্টেলের ঘর থেকে উদ্ধার হয়েছিল চতুর্থ বর্ষের এক ছাত্র সৌমিত্র বিশ্বাসের ঝুলন্ত দেহ।

অভয়া কাণ্ডের মতই প্রথমে ঘটনাটাকে আত্মহত্যা বলে হালকাভাবে নেওয়া হয় ও সেইমতো কেস বন্ধ করা হয়।
কিন্তু পরে পরিবারের অভিযোগে তদন্ত আবার শুরু হয়।

এরপরই সামনে আসে ভয়ংকর সব দাবি।

অভিযোগ ছিল—

  • হোস্টেলের ভেতরে সংগঠিত পর্ণোগ্রাফি চক্র চলত।
  • বিশেষ করে উইকেন্ডে যৌনকর্মীদের আনা হতো।
  • হোস্টেলের নির্দিষ্ট ঘরে অশ্লীল ভিডিও শ্যুট করা হতো।

কিন্তু সবচেয়ে ভয়ংকর অভিযোগ ছিল অন্য জায়গায়।

এমনকি যৌনকর্মীরা কখনও আসতে অস্বীকার করলে,
মর্গের মৃতদেহর সাথে করা হতো পর্ণোগ্রাফির ভিডিও শ্যুট।
পরে এডিট করে সেই মৃতদেহের মুখের জায়গায় বসিয়ে দেওয়া হতো অন্য কোনো মেয়ে বা নারীর মুখ।

কিন্তু সৌমিত্র বিশ্বাসকে কেন খুন হতে হয়েছিল?

কারণ সেই চক্রের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে চেয়েছিলেন একমাত্র সৌমিত্র,
আর তার দাম দিতে হয়েছিল নিজের প্রাণ দিয়ে।

এখানে পার্থক্য ছিল শুধু একটাই—
সৌমিত্র বিশ্বাস ছেলে ছিল বলে হয়তো তাকে ধর্ষণের শিকার হতে হয়নি,
ডাইরেক্ট খুন।

বর্তমানে ২০২৪-২৫-এ দাঁড়িয়েও যখন সেই একই মর্গ, একই চক্র আর একই রকম রহস্যমৃত্যুর খবর পাওয়া যায়,
তখন বোঝা যায় সময় বদলেছে, শাসকের রঙ বদলেছে, কিন্তু অপরাধের ধারা পাল্টায়নি।

বরং তা এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে আরও শিকড় গেড়েছে।

রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ:

সেই সময় অভিযোগ উঠেছিল, আর আজও সেই একই অভিযোগ উঠছে—
এই চক্র শুধুমাত্র কয়েকজনের বিকৃত মানসিকতার ফল নয়, বরং এটা ছিল একটা সংগঠিত র্যাকেট।

দাবি এমনও করা হয়, প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের মদত ছাড়া এত বড় চক্র,
এতদিন ধরে চালানো কিভাবে সম্ভব।

কারণ ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে—
যেখানে বিপুল অবৈধ অর্থের গন্ধ থাকে, সেখানে অপরাধ একা কাজ করে না;
ক্ষমতার ছায়াও সেই লোভনীয় গন্ধে খুব দ্রুত সেখানে পৌঁছে যায়।

অভিযোগ—

  • ভয় দেখিয়ে মুখ বন্ধ রাখতে চাপ দেওয়া হতো।
  • তদন্তকে প্রভাবিত করা হতো।
  • প্রমাণ নষ্ট হয়ে যেত।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হল—
যদি এত গুরুতর অভিযোগ সত্যিই উঠে এসে থাকে, তাহলে এত বছরে কেন পুরো সত্য সামনে এলো না?

মৃত্যুর পরও থেকে গেছে প্রশ্ন:

সৌমিত্র বিশ্বাসের ঘটনার স্পষ্ট কোনও সমাধান হয়নি।

২০০৪ সালে রাজ্য পুলিশের রিপোর্টে বলা হয়েছিল, ঘটনার নির্দিষ্ট কুলকিনারা করা যায়নি,
যা বড় অদ্ভুত শুনতে লাগলেও, এটাই সত্যি।

কিন্তু প্রশ্ন আজও থেকে গেছে—

  • সেই মর্মান্তিক রহস্যমৃত্যুর পূর্ণ সত্য মানুষের সামনে আসেনি কেন?
  • তারপরও বছরের পর বছর একই ধরনের অভিযোগ কেন উঠে এসেছে?
  • সেই অপরাধচক্র বা সিন্ডিকেট রাজ ও দুর্নীতি ২০২৬ পর্যন্ত গড়ায় কীভাবে?
  • অপরাধীরা আজও অধরা কেন?

শুধু কি আর জি কর?

২০২৩ সালেও বর্ধমান মেডিকেল কলেজকে ঘিরে সিন্ডিকেট, লাশ পাচার ও দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসে।

ফলে প্রশ্নগুলো আরও বড় হয়ে দাঁড়ায়—
এই ধরনের চক্র কি বহু বছর ধরেই বিভিন্ন মেডিকেল প্রতিষ্ঠানের আড়ালে সক্রিয়?

বাংলা যা দেখেছিল সেই রাতে:

২০২৪ সালের আগস্টে বাংলা এমন কিছু দৃশ্য দেখেছিল, যা সাধারণ কোনো অপরাধের ঘটনার সঙ্গে মেলানো কঠিন।

একটা সরকারি মেডিকেল কলেজ।
সেখানে হাজারো ছাত্রছাত্রী, ডাক্তার, রোগী আর চিকিৎসা ব্যবস্থার কেন্দ্র—
সেই জায়গাই হঠাৎ পরিণত হয়েছিল আতঙ্ক, ক্ষোভ, সন্দেহ আর ধ্বংসস্তূপের প্রতীকে।

বাংলার মানুষ সেই সময়ে শুধু একটা খুনের খবর শোনেনি।

  • মানুষ দেখেছিল ভয়।
  • দেখেছিল তড়িঘড়ি করে কিছু চাপা দেওয়ার মরিয়া চেষ্টা।
  • দেখেছিল এমন এক অস্থিরতা, যা সাধারণ প্রশাসনিক ব্যর্থতার সীমা ছাড়িয়ে যায়।

তাই আজও সবচেয়ে বড় প্রশ্নটা একই রয়ে গেছে—

  • অভয়াকে কেন মরতে হল?
  • তিনি কি শুধুই একজন নির্যাতিতা?
  • নাকি এমন কেউ, যিনি এমন কিছু দেখে ফেলেছিলেন বা জেনে ফেলেছিলেন,
    যা সামনে এলে বহু মুখোশ একে একে খুলতে শুরু করতো?

সিন্ডিকেট, দুর্নীতি ও প্রশাসনিক যোগসাজশ:

ঘটনার পর থেকেই বারবার উঠে এসেছে দুর্নীতি, সিন্ডিকেট, টেন্ডার কেলেঙ্কারি, নিম্নমানের চিকিৎসা সরঞ্জাম,
ওষুধ সরবরাহে অনিয়ম, প্রশাসনিক যোগসাজশের অভিযোগ।

প্রশ্ন উঠেছে—

  • অভয়া কি এইসবের কোনো তথ্য জানতে পেরেছিলেন?
  • তিনি কি কোনো দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব হতে চেয়েছিলেন?
  • তিনি কি এমন কোনো চক্রের অস্তিত্ব বুঝে ফেলেছিলেন,
    যাদের প্রভাব হাসপাতালের ভেতর অনেক গভীর পর্যন্ত পৌঁছেছিল?

এই সমস্ত প্রশ্নগুলোর উত্তর এখনও স্পষ্ট নয় ঠিকই, কিন্তু যখন একের পর এক ঘটনা, অসঙ্গতি,
পুরনো অভিযোগ এবং বহু মানুষের স্বাভাবিক বিচারবোধ বারবার একই দিকে ইঙ্গিত করতে শুরু করে,
তখন সেই ইঙ্গিত অনেক সময় প্রকৃত তদন্তের ফলাফলের আগেই,
একপ্রকার তদন্তের নিশ্চিত ফলাফলের কাজও করে।

সেই রাতের অদ্ভুত সব ঘটনা:

ঘটনার রাতকে ঘিরে এখনও বহু প্রশ্নের উত্তর নেই।

  • কেন একজন নির্দিষ্ট সিভিক ভলান্টিয়ার গভীর রাতে সেমিনার রুমের দিকে গেল?
  • সেই রাতেই কেন ঘটে গেল নৃশংস অত্যাচার, ধর্ষণ ও খুন?
  • কেন ঘটনার পরপরই হাসপাতালের কিছু অংশে অদ্ভুতভাবে ভাঙচুর শুরু হয়?

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—
কোন জায়গাগুলো ভাঙা হয়েছিল?

এমন কিছু অংশ—

  • যেখানে গুরুত্বপূর্ণ ফরেন্সিক প্রমাণ থাকতে পারত।
  • যে সব জায়গায় হয়তো ডিএনএ নমুনা পাওয়া সম্ভব ছিল।
  • যেখানে হয়তো হামলাকারীদের উপস্থিতির চিহ্ন থেকে যেতে পারত।

সেই অংশগুলোই কেন দ্রুত নষ্ট করে দেওয়া হলো?
কেন এত তাড়াহুড়ো করে অভয়ার দেহের শেষকৃত্য করা হলো?

কারণ সময় যত এগোয়, প্রমাণও তত ফিকে হয়ে যায়—
এই সত্য অপরাধীরা হয়তো খুব ভালোভাবেই জানতো।

নৃশংসতার মাত্রা নিয়েও প্রশ্ন:

চিকিৎসকদের একাংশের দাবি অনুযায়ী,
নির্যাতিতার শরীরে যে নির্মমতার চিহ্ন পাওয়া গিয়েছিল, তা অত্যন্ত ভয়াবহ।

শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত, রক্তে ভেসে যাওয়ার মত অবস্থা, শ্বাসরোধের অভিযোগ—
সব মিলিয়ে ঘটনাটা কিন্তু সাধারণ যৌন নির্যাতনের চেয়েও অনেক বেশি নৃশংস ছিল।

আর প্রশ্ন ঠিক এখানেই—

  • এতটা নির্মমতা কেন?
  • শুধু খুন করাই কি উদ্দেশ্য ছিল?
  • নাকি এমন কোনো চূড়ান্ত, ভয়ংকর তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল,
    যার রাগ, আতঙ্ক ও প্রতিশোধ থেকেই এতটা হিংস্রতা নেমে এসেছিল অভয়ার  ওপরে?

সঞ্জয় রায়কে ঘিরে অসংখ্য প্রশ্ন:

গ্রেফতার হওয়া সঞ্জয় রায়কে যখন সামনে আনা হয়, তখন অদ্ভুতভাবে তাঁর শরীরেই বড় কোনো
আঁচড় বা প্রতিরোধের দাগ দেখা গেল না।

কেন?

অথচ প্রমাণ, অভিযোগ অনুযায়ী—
আর জি করের তরুণী ডাক্তার শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করেছিলেন বাঁচার জন্য।

ফরেন্সিক রিপোর্টে নখের নিচে টিস্যু পাওয়ার কথাও সামনে আসে।

তাহলে সেই টিস্যু কার?
এই প্রশ্নের পূর্ণ উত্তর এখনও সাধারণ মানুষের সামনে পরিষ্কার নয়।

( AI Generated ছবি, ভুল থাকতে পারে। )

তদন্ত নিয়েও কেন সংশয়?

সিবিআই তদন্ত শুরু হওয়ার পর মানুষের মধ্যে বিপুল আশা তৈরি হয়েছিল।
কিন্তু সময় যত গড়িয়েছে, সংশয়ও তত বেড়েছে।

কারণ বহু মানুষ মনে করছেন, এখনও পর্যন্ত অনেক প্রশ্নের সরাসরি উত্তর সামনে আসেনি।

এছাড়া দীর্ঘ ২৫ থেকে ৩০ বছরের এই মাফিয়াচক্র রহস্যের মুখোশ টেনে খুলে ফেলা তো আছেই।

সন্দীপ ঘোষ বিতর্ক:

তদন্তের কেন্দ্রে থাকা প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের অতীতও কালিমালিপ্ত।

২০১৭ সালে সরকারের টাকায় হংকংয়ে গিয়ে এক পুরুষ নার্সকে যৌন হেনস্তার অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে।

অদ্ভুতভাবে প্রমাণের অভাবে তিনি সেখান থেকে ছাড় পেয়ে দেশে ফেরেন এবং রাজকীয়ভাবে আর জি করের মসনদে বসেন।

প্রশ্ন এখানেও আসে—
একজন এমন অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোর পেছনের মদতদাতা কারা?

কেন বারবার তাঁর বিরুদ্ধে আঙুল উঠলেও প্রশাসন তাঁকে আড়াল করার মরিয়া চেষ্টা করেছে?

এই প্রশ্নগুলোই প্রমাণ করে যে, এটা কোনো ব্যক্তির একক অপরাধ নয়,
বরং একটা রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ছত্রছায়ায় লালিত পালিত এক ‘সিস্টেম।‘

মর্গ, ময়নাতদন্ত ও লাশের কারবার:

অভিযোগের পাহাড় এখানেই শেষ নয়।

হাসপাতালের মর্গ যেখানে শোক আর নীরবতার জায়গা হওয়ার কথা,
সেখানে রাতের অন্ধকারে চলত কোটি কোটি টাকার অবৈধ ব্যবসা।

বেওয়ারিশ মৃতদেহ, কঙ্কাল আর মানবদেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পাচারের এক ভয়ংকর স্বর্গরাজ্য হয়ে উঠেছিল আর জি কর।

(দেখুন) আর জি কর কাণ্ড প্রশ্ন তুলছে—

  • কেন রাতে ময়নাতদন্ত না হওয়া সত্বেও মর্গ খোলা থাকতো?
  • কেন সেখানে সিভিক ভলান্টিয়ার আর বহিরাগতদের অবাধ যাতায়াত ছিল?
  • ধৃত সঞ্জয় রায়ের মোবাইলে পাওয়া মৃতদেহের প্রতি বিকৃত যৌন লালসার ইঙ্গিত কি শুধুই ব্যক্তিগত বিকৃতি?
  • নাকি নেক্রোফিলিক পর্নোগ্রাফির কোনো আন্তর্জাতিক র্যাকেট কাজ করছিল পর্দার আড়ালে?

অপরাধ ও অপরাধীর কোনও ক্ষমা হওয়া উচিত নয়।

কারণ মানুষ যখন বারবার অনুভব করতে শুরু করে যে সত্য চাপা পড়ে যায়, বিচার দেরিতে আসে,
আর রাজনৈতিক ক্ষমতা বুক উঁচিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে আইনের ওপরে,
তখন ধীরে ধীরে ভেঙে পড়তে শুরু করে সমাজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি— বিশ্বাস।

আর সেই ভাঙনের শব্দ ও এর প্রতিক্রিয়া ভবিষ্যতের সভ্য সমাজের জন্য কিন্তু কখনই শুভ সংকেত নয়।

 

"প্রতিটা নতুন লেখা– সরাসরি ও সবার আগে আপনার ইনবক্সে।

ইমেইল দিয়ে যুক্ত হন বাঙালির পরিবারে।"

We don’t spam! Read our privacy policy for more info.

About Articlesবাংলা

Articlesবাংলা
Welcome to Articlesবাংলা – a vibrant hub of words, ideas, and creativity.This website is the personal archive and creative expression of Tanmoy Sinha Roy, a passionate writer who has been exploring the art of writing for more than seven years.Every article, prose-poem, and quotation you find here reflects his journey, experiences, and dedication to the written word.Articlesবাংলা aims to inspire readers by offering thought-provoking insights, celebrating the richness of Bengali language and literature, and creating a space where ideas, imagination, and culture connect.Whether you are seeking literary reflections, prose-poems, diverse articles, or meaningful quotations, you are invited to explore, reflect, and be inspired.

Check Also

জিতু মুন্ডা কাঁধে প্লাস্টিকে মোড়ানো দিদির কঙ্কাল নিয়ে গ্রামের পথ ধরে হাঁটছেন, কেউনঝর ওড়িশার মর্মান্তিক ঘটনা।

জিতু মুন্ডা: ওড়িশার কেউনঝরের সেই হাড় হিম করা ঘটনা আসলে কী ছিল?

অসহয়তার সীমা কোথায়? জিতু মুন্ডা— আদিবাসী সম্প্রদায়ের নিরক্ষর ও দরিদ্র মানুষ। তাঁর নামটা আজ হঠাৎ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *