মুনাফার রাজনীতি:
কর্পোরেট লাভের
নেপথ্য কাহিনি
ধরুন আপনার সেকেন্ডে গড় ইনকাম ২০,০০০+ টাকা এবং দিনে প্রায় ১৬৫-২২০ কোটি টাকার মত।
সেক্ষেত্রে এমন রাজকীয় আয়ের মালিক হয়েও আপনি কি সামান্য ২০ বা ৩০ টাকা
ব্যবসায়িক মুনাফা বাড়ানোর জন্য সাধারণ মানুষের দিকে হাত বাড়াবেন?
নিশ্চয়ই বলবেন না।
আর এখানেই তো সাধারণ ব্যবসায়ীদের সাথে কর্পোরেট জগতের জায়েন্ট শিল্পপতিদের আকাশ-পাতাল পার্থক্য।
তাঁরা ২০/৩০ টাকা নয়, বরং ৫০ পয়সাকেও ব্যবসায় বিশেষভাবে গুরুত্ব দেয়।
স্কেল অর্থনীতি:
বিপুল গ্রাহকভিত্তিক প্রভাব
এই বিশাল আয়ের নেপথ্যে রয়েছে স্কেল অর্থনীতি (Economics of Scale) এবং বিশাল মানব সম্পদের (গ্রাহক ভিত্তির) নিপুণ ব্যবহার।
ভারতে আনুমানিক মোট জিও ইউজার যদি ৪৫-৫০ কোটি হয়,
এর মধ্যে যদি ১০ কোটি মানুষও এই ট্যারিফ প্ল্যানটা গ্রহণ করেন,
তবে মোট লাভের অঙ্ক মাসে গিয়ে দাঁড়ায়— ৫০ কোটি গুণ ৩০ = ১,৫০০ কোটি।
অর্থাৎ, সাধারণ মানুষের পকেট থেকে বের করে নেওয়া এই সামান্য কয়েকটা টাকা যখন কোটি কোটি মানুষের অঙ্কে যোগ হয়,
তখন রিলায়েন্সের মত বড় কর্পোরেট হাউসের লাভের ঘরে প্রতি মাসে ১,৫০০ কোটি টাকা করে অতিরিক্ত লাভ জমা হয়।
শিল্পপতিদের দর্শন:
ক্ষুদ্র পুঁজির সম্মিলিত শক্তি
বড় ব্যবসায়ীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হল এই স্কেল।
আপনার-আমার কাছে যেটা মাত্র ২০ বা ৩০ টাকা, তাঁদের কাছে সেটা কোটি কোটি মানুষের সম্মিলিত এক বিশাল মূলধন।
এভাবেই ছোট ছোট অঙ্ক যোগ করে তাঁরা সেকেন্ডে হাজার হাজার টাকা আয়ের (দেখুন) সাম্রাজ্যকে বলিষ্ঠ দু’বাহুতে প্রাণপণে আঁকড়ে ধরে রাখেন।
সেখানে সাধারণ মানুষের প্রতি আবেগ বা সহানুভূতি দেখাবারও বিশেষ অবকাশ থাকে না।
জিও রিচার্জ প্ল্যান ২০২৬:
ট্যারিফ কাঠামো,
বাধ্যতামূলক বাজার কৌশল:
জিও-এর যে প্ল্যানটা আগে ২৪৯ টাকার ছিল,
তা বন্ধ করে আজ ২৯৯ টাকা রিচার্জ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
বিনিময় গ্রাহককে দেওয়া হচ্ছে নামমাত্র অতিরিক্ত ০.৫ জিবি ডাটা,
যা অনেকের মতে এক কৌশলগত জোর প্রয়োগের উদাহরণ।
প্রয়োজন না হলেও তাকে বেশি দাম দিতে বাধ্য করা হচ্ছে।
সামাজিক বাস্তবতা:
সাধারণ মানুষের অসহায়ত্ব
এখন কথা হল—
যখনই কোনও অবিচার বা অন্যায় সাধারণ মানুষের গলায় ফাঁস হয়ে ঝুলে থাকে,
তখন একতাই একমাত্র সম্বল।
কারণ:
- সাধারণ মানুষের কাছে সাধারণত পর্যাপ্ত টাকা থাকে না,
আর থাকলেও তা রক্ত-ঘাম জল করা উপার্জিত টাকা। - থাকে না কোনও রাজনৈতিক ক্ষমতা।
- আর না থাকে নীতিনির্ধারণী মহলে কোনও প্রভাব।
সেই সুযোগেই বাজারের শক্তি বা (দেখুন) বড় কোম্পানির কৌশল তাঁদের ওপর এক ধরনের চাপ সৃষ্টি করে।
আর সাধারণ মানুষকে তখন শুধু মুখ বুঝে সেসব সহ্য করতে হয়।
আজ আমরা সেই প্রসঙ্গ নিয়ে জানবো—
কীভাবে জিও তার মার্কেট ক্যাপচার ক্ষমতা ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের অভ্যাস তৈরি করেছে,
এবং সেই অভ্যাস থেকে তাদের ওপর প্রভাব বিস্তার করেছে।
টেলিকম ইতিহাস:
অনেকেই আজ জিও-এর একচ্ছত্র আধিপত্য দেখে হয়ত অবাক হন।
কিন্তু ইতিহাস বলছে— শোষণ আগেও ছিল।
জিও আসার আগে ভারতী এয়ারটেল, ভোডাফোন বা হাচের মত কোম্পানিগুলো
সাধারণ মানুষের ওপর একপ্রকার সিন্ডিকেট চালাত।
আর মানুষ তাঁদের সুবিধার্থে বাধ্য হয়ে সেই অত্যাচার দিনের পর দিন সহ্যও করেছিল।
অতীতের শোষণ ও
বিকল্পের খোঁজ:
সেই সময় 2G/3G ডেটার খরচ ছিল তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি—
অনেক ক্ষেত্রেই ১ জিবি ডেটার জন্য প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত খরচ করতে হত,
যা সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য যথেষ্ট ব্যয়বহুল ছিল।
এমনকি উৎসবের সময় ফ্রি এসএমএস (SMS) পরিষেবায়ও সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হত,
ফলে ব্যবহারকারীদের অতিরিক্ত খরচ করতে হত।
পাশাপাশি এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে গেলে রোমিং চার্জ প্রযোজ্য ছিল,
যা সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি করত।
এই পুরনো লুটের হাত থেকে বাঁচতে বা বলা যায়,
উচ্চমূল্যের এই পরিষেবা কাঠামোর চাপে সাধারণ মানুষ ধীরে ধীরে ক্লান্ত হয়ে পড়ছিল।
কারণ তাঁরা সস্তা, সহজ এবং স্বস্তির একটা বিকল্প খুঁজছিল, যেমন জনগণ বিকল্প সরকার খোঁজে।
দেবদূতরূপে জিওর আগমন:
ঠিক তখনই দেবদূতের মত জিও তাদের ৬-৭ মাসের ফ্রি অফার নিয়ে আমাদের মাথায় আশীর্বাদ হয়ে নেমে আসে।
আর মানুষ স্বভাবতই তখন ফ্রি পরিসেবার দিকে ঝুঁকে এক স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছিল।

আর এটাই ছিল জিও-এর সাইকোলজিক্যাল মাস্টারস্ট্রোক।
- প্রথমে ফ্রী পরিষেবায় অভ্যস্ত করা।
- ডেটার ব্যবহার বেড়ে গেল কয়েকগুণ।
- ফলে ইন্টারনেটে পড়ে থাকার নেশা বেড়ে গেল।
- ইউটিউব, ফেসবুক, OTT সব দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠল।
- এরপর সস্তা প্ল্যান।
- নেশা একই থাকল।
- শেষে ধীরে ধীরে সেই প্ল্যানগুলোর পরিবর্তন।
- নেশা ছাড়া মুশকিল হয়ে পড়ল।
ডিজিটাল নির্ভরতা:
এক সাইকোলজিক্যাল
মাস্টারস্ট্রোক
এখানে প্রথম ধাপটা সম্পূর্ণ হয় Dependence Creation (নির্ভরতা তৈরি) দিয়ে।
আর এই ধারাবাহিকতার মধ্যেই বোঝা যায়, জিওর লক্ষ্য শুধু প্রতিযোগিতা বা প্রতিশোধ নয়,
বরং বাজারের ওপর একধরণের শক্তিশালী প্রভাব বিস্তার করা।
এখানেই প্রশ্নটা উঠে আসে—
যখন কোটি কোটি মানুষ একটা নির্দিষ্ট পরিষেবার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে,
তখন সেই নির্ভরতা কি শুধুই সুবিধা, নাকি সেটাই হয়ে ওঠে নতুন ধরনের বাধ্যবাধকতা?
আর এখন ইন্টারনেটের প্রতি মানুষের আসক্তি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে,
একদিন জল খেয়েও থাকতে বেমালুম রাজি, কিন্তু ইন্টারনেট ছাড়া নয়।
আর এই মনস্তত্ত্বকে কাজে লাগিয়েই আজ জিও সফল।
এমন সফল যে, যার ক্ষমতা নেই, সেও কোথাও না কোথা থেকে ঠিক জোগাড় করে ইন্টারনেট চালাচ্ছে।
এটা মূলত সাধারণ ব্যবহারকে এক ধরণের নেশায় রূপান্তরিত করার সুপরিকল্পিত কৌশল।
জিও রিচার্জ প্ল্যান ২০২৬:
বাধ্যতামূলক ব্যয়
ও বাস্তবতা
কিন্তু কথা হল—
যে মানুষটার আদৌ ইন্টারনেট দরকার নেই, তাঁকে সাধ্য বা ইচ্ছে না থাকলেও বাধ্য হয়ে নিতে হবে—
- জিও: ৪৪৮/- —> ৮৪ দিন (কল + এসএমএস)
- এয়াটেল: ৪৬৯/- —> ৮৪ দিন (কল + এসএমএস)
- ভি (Vi): ৪৭০/- —> ৮৪ দিন (কল + এসএমএস)
সব আনলিমিটেড কলিং, কিন্তু এগুলো মিনিমাম।
আর এই প্ল্যানগুলো আগে ছিল না।
টেলিকম রেগুলেটরি অথরিটি অব ইন্ডিয়া (TRAI) বাধ্য করার পর এসেছে।
এইসব কোম্পানিতে ইন্টারনেট ছাড়া রিচার্জ থাকলেও, সেগুলো কিন্তু সহজে আপনার চোখে পড়বে না।
বাজার ও প্রতিযোগিতা:
একাধিপত্যের আশঙ্কা
ভারতে এক সময় ২০ থেকে ৩০ টা টেলিকম কোম্পানি কার্যকরভাবে বাজারে প্রতিযোগিতা করত।
এয়ারটেল, ভোদাফোন, আইডিয়া, টাটা ডোকোমো, ইউনিনর ইত্যাদি—
এসব কোম্পানি ব্যবহারকারীর জন্য বিকল্প সৃষ্টি করত।
কিন্তু আজ?
বাজারে বিকল্প বলতে মূলত—
- জিও।
- এয়ারটেল।
- ভোদাফোন-আইডিয়া (Vi).
- বিএসএনএল।
এই (দেখুন) চার মোবাইল অপারেটরই বাজারে সক্রিয়।
এর মধ্যে সরকারি বিএসএনএল-এর অবস্থা অপেক্ষাকৃত দুর্বল।
প্রাইভেট কোম্পানির সাথে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে।

আর এটাই অতি স্বাভাবিক বাস্তবতা।
সরকারি মানেই ঝিমিয়ে, গড়িমসি করে, না করে।
আপনি তাকিয়ে দেখুন সরকারি হাসপাতাল।
আপনি দেখুন সরকারি স্কুল।
তবুও বিএসএনএলটা আজও বেঁচে আছে তারা ৮ থেকে ১০ কোটি ব্যবহারকারী নিয়ে।
তবে এভাবেই যদি চলতে থাকে, একসময় বিএসএনএলকে আর বাঁচানো যাবে না।
তখন মার্কেট জুড়ে দাদাগিরি করবে জিও, এয়ারটেল এবং ভোদাফোন-আইডিয়া।
সে সময়ে দেখার আরও বেশি করে, যে কে, কাকে, কীভাবে মারছে।
জিও রিচার্জ প্ল্যান ২০২৬:
ট্যারিফ কৌশল,
বাধ্যতামূলক ব্যয়
ও বিপণন কারসাজি
২৪৯/- থেকে ২৯৯/-, ছোট পরিবর্তন, বড় প্রভাব।
আগে সাধারণ মানুষ ১৯৯/- থেকে ২৪৯/- রেঞ্জে কাজ চালাত।
এখন কার্যত ২৯৯/–ই এন্ট্রি লেভেল।
৫০/- (টাকা) বাড়ানো হয়েছে প্রফিট বাড়ানোর জন্য।
প্রয়োজন অনুযায়ী ডেটা নেই এমন ব্যবহারকারীকেও বাধ্য করা হচ্ছে।
Forced Upselling-এর উদাহরণ স্পষ্ট।
আপনি কি কখনও খেয়াল করেছেন?
যখনই কোনও টেলিকম অ্যাপ খুলবেন, সামনে কেন দামি ‘রেকমেন্ডেড‘ প্ল্যানগুলোই সাজিয়ে রাখা হয়?
এটা একটা সুপরিকল্পিত ব্যবসায়িক কৌশল।
সস্তা প্ল্যানগুলোকে এমনভাবে ‘সার্চ’ অপশনের আড়ালে বা তালিকার শেষে লুকিয়ে রাখা হয়,
যাতে সাধারণ মানুষের চোখে তা না পড়ে।
২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসের শেষের দিকে জিও বাধ্য হয়ে ৪৪৮/- টাকার (৮৪ দিন)
‘ভয়েস অনলি’ (শুধুমাত্র কল ) প্ল্যান নিয়ে এসেছিল।
কিন্তু প্রশ্ন হল, যার এককালীন ৪৪৮/- (টাকা) দেওয়ার ক্ষমতা নেই,
তিনি কী করবেন, তিনি কি তবে যোগাযোগের অধিকার হারাবেন?
না অন্য কোম্পানির দিকে যাবেন?
অন্য কোম্পানিতে তো আরও খারাপ অবস্থা!
এয়ারটেল মিনিমাম শুরু ৪৬৯/-,
এদিকে ভোদাফোন-আইডিয়া মিনিমাম শুরু ৪৭০/-.
তাও এই তিন কোম্পানি মূলত TRAI -এর নির্দেশে এবং নিয়ম রক্ষার খাতিরে এই প্ল্যানগুলো বাজারে এনেছে,
গ্রাহকদের সুবিধার্থে নয়।
নিয়ম অনুযায়ী ১৪ এপ্রিল ২০২৬-এর মধ্যে এই সস্তা প্ল্যানগুলো সামনে আনার ডেডলাইন থাকলেও,
বাস্তবে কোম্পানিগুলো ডিজিটাল ইন্টারফেসের মারপ্যাঁচে সাধারণ মানুষকে ধোঁকা দিচ্ছে বলেই
অনেক ব্যবহারকারী মনে করেন।
বাজারের একাধিপত্য ও
বিপন্ন প্রতিযোগিতা:
এই একচ্ছত্র আধিপত্যের প্রভাবেই এয়ারটেল বা ভোদাফোনের মত কোম্পানিগুলো আজ কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে।
এদিকে বিএসএনএল দীর্ঘদিন ধরেই প্রযুক্তিগত আপগ্রেড ও পরিকাঠামোগত পিছিয়ে থাকার সমস্যায় ভুগছে।
যখন বাজারে প্রতিযোগিতা সীমিত হয়ে আসে, তখনই ধীরে ধীরে তৈরি হয় এক ধরনের একাধিপত্য।
আর এই পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়ে সাধারণ ব্যবহারকারীর ওপর—
যেখানে পছন্দ কমে যায়, আর খরচ বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।
এটা ভবিষ্যতের জন্য এক দুশ্চিন্তার কারণও বটে।
জিও রিচার্জ প্ল্যান ২০২৬:
সচেতনতাই একমাত্র বিকল্প
আজকের এই ডিজিটাল লড়াইয়ে সাধারণ মানুষ যেন কেবলই দাবার গুটি।
কোম্পানি আগেকার হোক বা এখনকার—
সবারই লক্ষ্য সাধারণ মানুষের অসহায়ত্বকে মূলধনের রূপান্তর করা।
বড় বড় ব্যবসায়ী, কর্পোরেট গোষ্ঠী বা শিল্পপতিরা তাদেঁর লাভের সাম্রাজ্য করুক, তাতে ক্ষতি নেই।
ক্ষতি সেখানেই—
যখন তা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে দুর্বিষহ করে তোলে।

আমাদের একতা আর সচেতনতার অভাবেই আজ শিল্পপতিরা সাধারণ মানুষকে কাজে লাগিয়ে
সেকেন্ডে কোটি কোটি টাকার সাম্রাজ্য গড়ছেন।
এদিকে সাধারণ মানুষ দু’ বেলা কথা বলার জন্য রিচার্জের টাকা জোগাতে হিমশিম খেয়ে যাচ্ছেন।
এই সচেতনতা ও একতাবোধ যদি আমাদের মধ্যে ধীরে ধীরে ক্ষয় হতে থাকে,
তবে আগামীদিনে আমাদের ব্যক্তিগত রুচি থেকে শুরু করে পকেটের টাকা—
সবই নিয়ন্ত্রণ করবে এই কর্পোরেট দুনিয়া।
( বিঃ দ্রঃ এই আর্টিকেলে ব্যবহৃত ছবি শুধুমাত্র লেখার বিষয়বস্তুকে সহজভাবে বোঝানোর উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে।
এই ওয়েবসাইটের উদ্দেশ্য কোনও ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা গোষ্ঠীকে অসম্মান, ব্যঙ্গ বা আঘাত করা নয়।
অনুগ্রহ করে ছবিগুলো ও লেখাটাকে তথ্যভিত্তিক ও বাস্তব বিশ্লেষণ হিসেবে বিবেচনা করবেন। )
অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ:
( আপনি একজন স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নাগরিক হিসেবে একবার গভীর চিন্তা করে দেখুন তো—
সার্বিক উন্নয়ন আপনি কাকে বলবেন?
উন্নয়ন শব্দটা আমাদের এখানে যতটা না মাটির স্পর্শে থাকে,
তার চেয়ে বেশি কি ভাসতে থাকে না মাইকের শব্দতরঙ্গে?
অথচ ঠিক উল্টো মেরুতে দাঁড়িয়ে থাকা এক শহরের নাম দুবাই।
গত বিশ বছরে এই শহরটা যেন বিশ্বের চোখের মণি হয়ে উঠেছে।
উন্নয়ন শব্দটা আমাদের কাছে অনেকটা ‘মানত’ করার মত নয় কি?
আমরা ভাবি একদিন হবে।
কোনও এক শুভক্ষণে ওপর থেকে আশীর্বাদ হয়ে ঝরে পড়বে।
কিন্তু আমাদের ঠিক পাশের দেশ চীন দেখুন—
বুঝিয়ে দিয়েছে যে, উন্নয়ন আসলে কোন দৈব ঘটনা নয়, এটা হল এক জেদি ইঞ্জিনিয়ারিং।
একজন মানুষ তাঁর অদম্য জেদ আর ইচ্ছাশক্তির জোরে,
চাইলে ঠিক কতদূর পৌঁছাতে পারে, জেনে অবাক হবেন তাঁর সেই অবিশ্বাস্য কাহিনি।
আসল সত্যিটা কোথায় জানেন?
আজ জেনে নিন, সেই সত্য, যা হয়ত আপনার মনকে ভেতরে ভেতরে ভারী করে তুলতে পারে।
পড়ুন: উন্নয়ন কী? কোনটাকে আপনি উন্নয়ন বলবেন? আসল সতিটা কোথায় লুকিয়ে? )
( সাথে জেনে রাখুন—
রাতের নিস্তব্ধতায় আপনার ফোনটা যখন টেবিলের ওপর শান্ত হয়ে শুয়ে থাকে,
তখনও কি সেটা আপনার অজান্তে কারও সাথে কথা বলছে?
রাত ২ টো, আপনি ঘুমাচ্ছেন,
আপনার সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল বা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট হয়ত তখন বিশ্বের অন্য কোনও এক অন্ধকার ঘরে নিলামে উঠছে।
এ সব ভয়ঙ্কর ঘটনা কিন্তু বহু মানুষের সাথেই ঘটেছে, তাই পরবর্তী টার্গেট আপনি নন তো?
ইন্টারনেটের গহীন অন্ধকার জগতে আপনার যাবতীয় তথ্য বিক্রি হচ্ছে না তো?
সেগুলোকে কাজে লাগিয়ে আপনার নামে অন্য কেউ ক্রাইম করছে না তো?
কেউ বড়সড় লোন নিয়ে বসে নেই তো?
জেনে নিন ডিটেইল, আর জানিয়ে রাখুন আপনার শুভাকাঙ্ক্ষীদের।
পড়ুন: ডিজিটাল জালিয়াতি: আপনার ফোন হ্যাক হয়নি আপনি নিশ্চিত? )
একটা বিশেষ নিবেদন:
[ Articlesবাংলা, আমার-আপনার পরিবার
আপনাদের জন্যেই এই ওয়েবসাইটের জন্ম।
তাই আরও বিভিন্ন দুর্দান্ত টপিকের ওপরে এরকমই সব
বিশ্লেষণধর্মী লেখা পেতে নিয়মিত আমাদের পেজে চোখ রাখুন।
আপনার প্রতিবেশি, বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়-স্বজন তথা সমাজের স্বার্থে
আপনার যে লেখাটা গুরুত্বপূর্ণ মনে হবে,
আপনি সেই লেখাকে শেয়ার করে পৌঁছে দিন তাঁদের কাছে,
যাতে তাঁরাও জানার, বোঝার সুযোগটুকু পান আপনাদের মাধ্যমে।
ইমেইল আইডি দিয়ে আমাদের বাঙালির পরিবারের একজন
প্রিয় মানুষ হয়ে উঠুন।
এরপর এই ওয়েবসাইটে যখনই কোনও লেখা প্রকাশিত হবে,
সবার আগে আপনি পেয়ে যাবেন নোটিফিকেশন—
সরাসরি আপনার ইনবক্সে।
এ বিষয়ে আপনার গুরুত্বপূর্ণ মতামত জানার অপেক্ষায় রইলাম।
চলুন বাঙালিকে বিশ্বের দরবারে সবাই মিলে একসাথে বারবার তুলে ধরি
চিন্তা, চেতনা আর শব্দের শক্তিতে—
একসাথে, সবাই মিলে।
বিশ্ব জানুক—
আমাদের ভারত কি?
বাঙালি কি?
বাংলা শব্দের ক্ষমতাই বা কি? ]
Articlesবাংলা Bangla Articles, Quotes & Prose-Poetry / বাংলা প্রবন্ধ, উক্তি ও গদ্য-কবিতা।




